Category: সারাদেশ

  • সহজ লক্ষণ এড়িয়ে মৃত্যু ডেকে আনছেন? কিডনির সমস্যা থেকে বাঁচাবে যে ৫ কাজ

    সহজ লক্ষণ এড়িয়ে মৃত্যু ডেকে আনছেন? কিডনির সমস্যা থেকে বাঁচাবে যে ৫ কাজ

    শরীরের স্বাভাবিক সুস্থতায় কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সুস্থতার প্রয়োজন। স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন ধরে রাখার জন্য, হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখা ও রক্তপরিশুদ্ধ রাখতে কিডনির সুস্থতা দরকার। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে প্রোসেসড ফুড, জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড-সহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বিভিন্ন মুখরোচক খাবার খাওয়া হয়। ফলে নীরবে নিজের অজান্তেই কিডনি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ জন্য দরকার সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

    এদিকে কিডনির ব্যাপারে চিকিৎসকরা বলছেন, অঙ্গটি সময়ে সময়ে ‘সাইলেন্ট কিলার’ হতে পারে, অর্থাৎ নীরব ঘাতক হতে পারে। এ জন্য কিডনি কতটা সুস্থ রয়েছে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। এ জন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার কথা জানিয়েছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানির বিখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ এনএস ভান্ডারি। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

    ৬-৮ গ্লাস পানি পান জরুরি:
    ডাক্তার এনএস ভান্ডারি বলেছেন, কিডনি রোগ দূরে রাখার জন্য দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান জরুরি। দিনভর শরীরকে বিভিন্ন ধরনের তরল খাদ্য দিতে হবে। ব্লাড সুগারের লেভেলও একটি নির্দিষ্ট পর্যাপ্ত দিকে রাখতে হবে। হাইপারটেনসিভ থাকলে রক্তের চাপ যেন সঠিক পর্যায়ে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদিও পানি পানের অভ্যাস পরিবেশ ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে, এরপরও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। আর সেটি ভারসাম্য বজায় রেখে।

    প্রতিদিন শারীরিক চর্চা:
    কেবল নিজেকে স্লিম হিসেবে উপস্থাপনের জন্য নয়, বরং কিডনির সুস্থতায়ও প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম প্রয়োজন। প্রতিদিনের শারীরিক ব্যায়াম রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, হৃদপিণ্ডের ক্ষমতা বাড়ায়। ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট বলতে শুধু জিমে যাওয়া নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন সকালে দৌঁড়ানো, সাইকেলিং বা কোনো নাচের স্টেপে কিছুক্ষণ কোমর দুলিয়ে নিলে শারীরিক চর্চা করা যায়। এতে কিডনি ভালো থাকে।

    ধূমপান করা যাবে না:
    ধূমপান করলে রেনাল সেল কার্সিনোমো তৈরির সম্ভাবনা থাকে। ফলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। ধূমপানের মাধ্যমে রক্তের স্বাভাবিক সঞ্চালন বিঘ্নিত হতে পারে। ধূমপানের অভ্যাস বাদ দিলেই কিডনির সুস্থতায় সুফল মিলে।

    কিডনির পরীক্ষা:
    ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যদি পারিবারিক ওবেসিটি থাকে, জন্মের সময় ওজন কম থাকে, হৃদরোগের সমস্যা থাকলে বা পারিবারিক ইতিহাসে কিডনির সমস্যা থাকলে কিডনির পরীক্ষা করা উচিত। এ ধরনের মানুষের কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ওটিসি পিল নেয়া কমাতে হবে:
    চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কেবল ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। ওটিসি পেন কিলারগুলো কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ গ্রহণে কোনো সমস্যায় সাময়িক পরিত্রাণ পেলেও পরবর্তীতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

  • ধেয়ে আসছে বন্যা, বিপৎসীমার ওপরে ৭ নদীর পানি

    ধেয়ে আসছে বন্যা, বিপৎসীমার ওপরে ৭ নদীর পানি

    দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। এরফলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    সোমবার (৪ মে) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ।

    পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটারি; হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটারি ও চাঁদপুর-বাগানে ৬১ মিলিমিটারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিনের তিনটি জেলার সাতটি নদীর ৮টি স্টেশন প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী ১১ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ সেমি ওপরে (জগন্নাথপুর), নেত্রকোনা জেলার ধনু-বাউলাই নদী ৯ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৮ সেন্টিমিটার ওপরে (জারিয়াজঞ্জাইল), সোমেশ্বরী নদী ১৪ সেমি হ্রাস পেয়ে ৫০ সেন্টিমিটার উপরে (কলমাকান্দা), ভুগাই-কংশ নদী ২২ সেমি হ্রাস পেয়ে ৬৭ সেন্টিমিটার উপরে (জারিয়াজঞ্জাইল), মগরা নদী ৫ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপরে (নেত্রকোনা), মগরা নদী ০ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে (আটপারা) প্রবাহিত।

    এদিকে হবিগঞ্জ জেলার কালনি নদী ১৫ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে (আজমিরিগঞ্জ), সুতাং নদী ২৩ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ সেন্টিমিটার ওপরে (সুতাং রেলব্রিজ), সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদীগুলোর পানির সমতল ঘণ্টায় ০ থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ছে।

    এদিকে ভারতের বিশেষ বুলেটিন থেকে জানা গেছে, মেঘালয় ও আসামে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

  • কফিনবন্দি লিমনের সঙ্গে ফিরল নতুন রহস্যের জট

    কফিনবন্দি লিমনের সঙ্গে ফিরল নতুন রহস্যের জট

    যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে ফেরার পর একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে দেহ উদ্ধার এবং ঘনিষ্ঠজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও আলোড়ন।

    সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লিমনের কফিনবন্দি মরদেহ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, লিমনের বাবা-মা এবং স্বজনরা। প্রিয়জনের নিথর দেহ দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    শোকে ভেঙে পড়া বাবা জহুরুল হক বলেন, সন্তানকে এভাবে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অনেক যত্নে দুই ছেলেকে বড় করেছেন, কখনো কষ্ট দেননি—এমন মর্মান্তিক পরিণতি তিনি কল্পনাও করেননি।

    আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ জামালপুরের মাদারগঞ্জে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়। এর আগে গাজীপুরের মাওনায় পারিবারিক বাসায় একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে মাগরিবের পর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এখনো হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। লিমনের মামার ভাষ্য, পরিবারের সঙ্গে বা রুমমেটের সঙ্গে কোনো সমস্যা ছিল—এমন কিছু লিমন আগে কখনো জানাননি। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

    তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, লিমন নিখোঁজ হওয়ার পর কয়েক দিনের অনুসন্ধানে ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে।

    এ ঘটনায় লিমনের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহ (২৬) কে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক বিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার উদ্দেশ্য উদঘাটনে সব ধরনের প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

    নিখোঁজ হওয়ার পর লিমনের মোবাইল ফোনের অবস্থান, চলাচলের তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে।

    এদিকে দেহাবশেষ উদ্ধারের বিষয়ে হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার জানান, মাছ ধরার সময় এক জেলের ছিপ ঝোপে আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে গিয়ে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ পান। পরে একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ খুলে মানবদেহের অংশ দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।

    পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি পচে যাওয়ায় শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগে। নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টির পরনের পোশাকের সঙ্গে মিল পাওয়ার পর ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় এটি বৃষ্টির মরদেহ।

    তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত হিশাম পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা করে। সে নিজের ফোন থেকে তথ্য মুছে ফেললেও ফরেনসিক বিশ্লেষণে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে দেখা যায়, সে বিভিন্নভাবে অপরাধ করার পদ্ধতি সম্পর্কে অনলাইনে খোঁজ করেছিল।

    পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ গাড়িতে করে উপকূলে এনে ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত হিশাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

    আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।

    লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুই দিন পর গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছশিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যেখানে জামিলের মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে, এলাকাটি এর কাছেই। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পায়। তবে খণ্ডিত অংশগুলো এমন অবস্থায় ছিল যে পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করতে পারছিল না। ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশ বৃষ্টির।

    আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।

    জামিল আহমেদ লিমন (২৭) যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তিনি ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। পরে এপ্রিলের শেষ দিকে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

    লিমনের শিক্ষাজীবনও ছিল উজ্জ্বল। তিনি গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ২০২৪ সালে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

    এদিকে লিমনের মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহল।

  • তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু, তদন্তে যা উঠে এলো

    তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু, তদন্তে যা উঠে এলো

    ভারতের মুম্বাইয়ে একটি পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক রহস্য দানা বেঁধেছে। শুরুতে ‘সংক্রমিত তরমুজ’ খাওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে গুজব ছড়ালেও তদন্তে উঠে আসছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    শুক্রবার (১ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃতদের শরীরে মরফিনের মতো শক্তিশালী রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

    ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে মুম্বাইয়ের একটি পরিবার আত্মীয়দের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করে, যেখানে মাটন পোলাও পরিবেশন করা হয়। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে পরিবারটি তরমুজ খায়। এরপর ভোর ৫টার দিকে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ও ডায়রিয়ার মতো একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়, যা প্রথমে খাদ্যে বিষক্রিয়া মনে করা হয়েছিল।

    কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চারজনের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গ সবুজাভ হয়ে গেছে, যা সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন আবদুল্লাহর শরীরে মরফিনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এই ব্যথানাশকটি কোনো চিকিৎসার অংশ ছিল নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করেছে, পুলিশ এখন তা খতিয়ে দেখছে।

    এদিকে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, তরমুজের মাধ্যমে মৃত্যু হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও মেলেনি। ওই রাতে উপস্থিত আত্মীয়রা পোলাও খেলেও অসুস্থ হননি, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ বর্তমানে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে পরিবারের মানসিক অবস্থা এবং অন্য কোনো বাহ্যিক বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা তদন্ত করছে।

    তদন্তকারীরা পরিবারের মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণও খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি তরমুজে কোনো বিষাক্ত পদার্থ বা ভেজাল ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা এখনো চূড়ান্ত মতামত দেননি। চারজনের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এই রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক কারণ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।

  • শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনা নিয়ে নতুন করে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনা নিয়ে নতুন করে যা বললেন আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। এসময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউশন টিমের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বৈঠক করলাম। এখানে কি কি সমস্যা আছে সেগুলো জানলাম। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এবং আমাদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সমস্যাগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করলাম এবং ভবিষ্যতে আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।’

    প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবগুলো বিষয়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রসিকিউশনের কারো বিরুদ্ধে এমন কোনো পদক্ষেপ আগে নেওয়া হয়েছে বলে নজির নেই। আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা সামনেও চলমান থাকবে।’

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্টের বিচারকক্ষে (এজলাশে) সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে না দেওয়া নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

    বিচারিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কেন নিয়েছেন সেটি তিনি ভালো জানেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধনের বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে এসেছে। প্রধান বিচারপতির নজরে এসেছে বলেও বিশ্বাস করি। তাই মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি এটি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আমি আশা করি।’

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বয়স ৬৭ থেকে কমিয়ে ৬৫ করার আলোচনা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মো. আসদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের একটা সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিষয়টা উত্থাপন করা হয়েছিল। আমরা বলেছি এ বিষয়ে আলোচনার ফোরাম এটা না। আমাদের সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যে কমিটি হবে সেই কমিটিতে এটা উত্থাপন করলে তখন আমরা আলোচনা করে দেখব। কারণ এটার সাথে সংবিধান সংশোধন জড়িত।’

    উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই মামলায় তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরো একাধিক মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বজ্র-শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা

    ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বজ্র-শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা

    টানা কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে দাপটে রয়েছে বৃষ্টি। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এ মাসে তীব্র কালবৈশাখীসহ কয়েক দফায় বজ্র ও শিলাবৃষ্টি হানা দিতে পারে।

    মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে দেশে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাসহ ৫ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি ও ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। এ ছাড়া, চলতি মাসে দেশে এক থেকে তিনটি মৃদু (৩৬-৩৭.৯° সে.) অথবা মাঝারি (৩৮-৩৯.১° সে.) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। যার মধ্যে একটি তীব্র রূপ (৪০-৪১.৯° সে.) নিতে পারে।

    একই সঙ্গে, চলতি মে মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোয় স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পানি সমতল সময়-বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল পাকিস্তান

    ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল পাকিস্তান

    আগামী ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেশটির চাঁদ দেখা সংক্রান্ত গবেষণা কাউন্সিল জানায়, আগামী ২৭ মে পাকিস্তানে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (২ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ।

    রুয়েত-ই-হিলাল রিসার্চ কাউন্সিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৬ ও ১৭ মে মধ্যবর্তী রাত ১টা ১৫ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। ১৭ মে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স ১৮ ঘণ্টার বেশি হবে এবং আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ওই দিন সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ওই দিন চাঁদ দেখা যায়, তবে ১৮ মে হবে জিলহজ মাসের প্রথম দিন এবং ১০ই জিলহজ অর্থাৎ ২৭ মে বুধবার দেশটিতে ঈদুল আজহা পালিত হবে।

    গবেষণা কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল খালিদ এজাজ মুফতি জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে এবার পাকিস্তান এবং সৌদি আরবে একই দিনে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৭ মে করাচি ও পেশোয়ারসহ বিভিন্ন শহরে সূর্যাস্তের পর প্রায় ৫৫ থেকে ৬৩ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তে দৃশ্যমান থাকবে, যা খালি চোখে দেখার জন্য যথেষ্ট সময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তবে চাঁদ দেখার বিষয়টি পুরোপুরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। যদি কোনো কারণে ১৭ মে চাঁদ দেখা না যায়, তবে জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে জিলহজ মাস শুরু হবে ১৯ মে এবং ঈদুল আজহা একদিন পিছিয়ে ২৮ মে বৃহস্পতিবার পালিত হবে।

  • নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোল সরকার

    নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোল সরকার

    সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আংশিক বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটের একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত হবে।

    জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার দুটি পদ্ধতি বিবেচনা করছে। একটি হলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, অন্যটি পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো।

    প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। পরবর্তী বছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। আর বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা তৃতীয় বছরে দুই ধাপে কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে।

    মূল্যস্ফীতি, সরকারি রাজস্ব আয় ও সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে। বাকি অর্থ ব্যয় হবে পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য।

    আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

    চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এতে রাজস্ব বাজেট ২৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হলেও উন্নয়ন বাজেট প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।

    বর্তমান অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য রাখা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।

    এর আগে নবম পে কমিশন চলতি বছর থেকেই আংশিকভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। সে অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও রেখেছিল। তবে রাজস্ব আহরণ কম হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়।

    নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে ২০টি গ্রেড থাকবে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে এ খাতে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই সময় প্রথমে মূল বেতন এবং পরের বছর বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়।

  • টিন সার্টিফিকেট ছাড়া যেসব সেবা নিতে পারবেন না

    টিন সার্টিফিকেট ছাড়া যেসব সেবা নিতে পারবেন না

    বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিন বা টিআইএনধারী আছেন। তাদের মধ্যে এ বছর সাড়ে ৪২ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন দিয়েছেন। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া আমরা অনেক কাজ করতে পারব না। তাই টিআইএন নেওয়া জরুরি। তাই অনেকেই শুধু সেবা নেওয়ার জন্য টিআইএন নিতে বাধ্য হন। অনেক বছর শেষে রিটার্নও দেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন নেওয়া যায়।

    এবার দেখা যাক, টিআইএন বা টিন ছাড়া কারা কী কী কাজ বা সেবা নিতে পারবেন না। সার্বিকভাবে প্রায় ৪০ ধরনের কাজে টিআইএন লাগবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো

    ১. চাকরিজীবী

    সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

    ২. ব্যবসায়ী

    সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা পুনর্নিবন্ধন নিতে হলে টিআইএন লাগবে।

    ৩. জমি-ফ্ল্যাটের মালিক

    সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা নির্দিষ্ট এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক হলে টিআইএন থাকতে হবে। কারণ, টিআইএন ছাড়া এসব সম্পদ নিবন্ধন নেওয়া যাবে না।

    ৪. গাড়ির মালিক

    গাড়ির মালিকদের টিআইএন লাগবে। টিআইএন ছাড়া গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন—এসব হবে না।

    ৫. পেশাজীবী

    ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনবিআরের নিবন্ধনভুক্ত যেকোনো পেশাজীবীর সনদ নিতে টিআইএন লাগবে।

    ৬. আমদানি-রপ্তানিকারক

    যারা ঋণপত্র (এলসি) খোলেন বা ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, তাদের টিআইএন লাগবে।

    ৭. দরপত্রে অংশগ্রহণকারী

    সরকারি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দরপত্র জমা দিতে টিআইএন লাগে।

    ৮. ক্রেডিট কার্ডধারী

    টিআইএন ছাড়া ক্রেডিট কার্ড নেওয়া যাবে না। ক্রেডিট কার্ডধারীদের টিআইএন থাকতে হবে।

    ৯. অভিজাত ক্লাবের সদস্য

    ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের মতো অভিজাত ক্লাবের সদস্য হতেও টিআইএন দরকার হবে। আবার ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে চাইলে অভিভাবকের টিআইএন লাগবে।

    ১০. ছোট-বড় ব্যবসায়ী

    ছোট-বড় ব্যবসা করতে টিআইএন লাগবে। যেমন মুঠোফোনের রিচার্জের ব্যবসা, মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক এজেন্সি, বিভিন্ন ধরনের পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ, সিকিউরিটি সার্ভিস।

    ১১. নির্দিষ্ট কিছু সেবাগ্রহণকারী

    বেশ কিছু সেবা নিতে আপনার টিআইএন লাগবে। যেমন ঋণপত্র স্থাপন, রপ্তানি নিবন্ধন সনদ নেওয়া, বীমা জরিপ প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, হিসাববিদসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, কোম্পানির পরিচালক ও স্পনসর শেয়ারহোল্ডার, বিবাহ নিবন্ধনকারী বা কাজি, ড্রাগ লাইসেন্সধারী।

    ১২. ঋণ গ্রহণকারী

    ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিলেও টিআইএন থাকতে হবে।

    ১৩. নির্বাচনে প্রার্থী

    জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে টিআইএন থাকতে হবে।

  • স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস

    স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল জ্বালানি তেলের বাজার। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

    সোমবার (৪ মে) লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই মূল্যবান এ ধাতুর দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

    মূলত ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের বদলে এখন ডলারের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

    রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য নেমে এসেছে ৪ হাজার ৫৫৩ ডলার ৫৩ সেন্টে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার বা ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বর্তমানে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৫ ডলার ৪০ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

    এ উত্তজেনার প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বায়বিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের বাজার ধাক্কা খেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণের বদলে মার্কিন ডলারকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।’