সহজ লক্ষণ এড়িয়ে মৃত্যু ডেকে আনছেন? কিডনির সমস্যা থেকে বাঁচাবে যে ৫ কাজ

শরীরের স্বাভাবিক সুস্থতায় কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সুস্থতার প্রয়োজন। স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন ধরে রাখার জন্য, হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখা ও রক্তপরিশুদ্ধ রাখতে কিডনির সুস্থতা দরকার। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে প্রোসেসড ফুড, জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড-সহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বিভিন্ন মুখরোচক খাবার খাওয়া হয়। ফলে নীরবে নিজের অজান্তেই কিডনি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ জন্য দরকার সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

এদিকে কিডনির ব্যাপারে চিকিৎসকরা বলছেন, অঙ্গটি সময়ে সময়ে ‘সাইলেন্ট কিলার’ হতে পারে, অর্থাৎ নীরব ঘাতক হতে পারে। এ জন্য কিডনি কতটা সুস্থ রয়েছে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। এ জন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার কথা জানিয়েছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানির বিখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ এনএস ভান্ডারি। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

৬-৮ গ্লাস পানি পান জরুরি:
ডাক্তার এনএস ভান্ডারি বলেছেন, কিডনি রোগ দূরে রাখার জন্য দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান জরুরি। দিনভর শরীরকে বিভিন্ন ধরনের তরল খাদ্য দিতে হবে। ব্লাড সুগারের লেভেলও একটি নির্দিষ্ট পর্যাপ্ত দিকে রাখতে হবে। হাইপারটেনসিভ থাকলে রক্তের চাপ যেন সঠিক পর্যায়ে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদিও পানি পানের অভ্যাস পরিবেশ ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে, এরপরও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। আর সেটি ভারসাম্য বজায় রেখে।

প্রতিদিন শারীরিক চর্চা:
কেবল নিজেকে স্লিম হিসেবে উপস্থাপনের জন্য নয়, বরং কিডনির সুস্থতায়ও প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম প্রয়োজন। প্রতিদিনের শারীরিক ব্যায়াম রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, হৃদপিণ্ডের ক্ষমতা বাড়ায়। ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট বলতে শুধু জিমে যাওয়া নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন সকালে দৌঁড়ানো, সাইকেলিং বা কোনো নাচের স্টেপে কিছুক্ষণ কোমর দুলিয়ে নিলে শারীরিক চর্চা করা যায়। এতে কিডনি ভালো থাকে।

ধূমপান করা যাবে না:
ধূমপান করলে রেনাল সেল কার্সিনোমো তৈরির সম্ভাবনা থাকে। ফলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। ধূমপানের মাধ্যমে রক্তের স্বাভাবিক সঞ্চালন বিঘ্নিত হতে পারে। ধূমপানের অভ্যাস বাদ দিলেই কিডনির সুস্থতায় সুফল মিলে।

কিডনির পরীক্ষা:
ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে যদি পারিবারিক ওবেসিটি থাকে, জন্মের সময় ওজন কম থাকে, হৃদরোগের সমস্যা থাকলে বা পারিবারিক ইতিহাসে কিডনির সমস্যা থাকলে কিডনির পরীক্ষা করা উচিত। এ ধরনের মানুষের কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ওটিসি পিল নেয়া কমাতে হবে:
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কেবল ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। ওটিসি পেন কিলারগুলো কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ গ্রহণে কোনো সমস্যায় সাময়িক পরিত্রাণ পেলেও পরবর্তীতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *