দেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলক ঘিরে যা জানা যাচ্ছে

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে দেখা মিলেছে রহস্যময় উজ্জ্বল আলোর ঝলক। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে ভোলা, বরগুনা ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আকাশে দীর্ঘ আলোর রেখা ও আগুনের গোলার মতো উজ্জ্বল বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় হঠাৎ আকাশে একটি উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়। অনেকের কাছে সেটি ক্ষেপণাস্ত্র বা মহাকাশযানের আলোর মতো মনে হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া সেই আলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে মিলিয়ে যায়।

সৈকতে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়রা মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও একই ধরনের আলো দেখার খবর আসতে থাকে।

ভোলার মনপুরা উপজেলায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেঘনা নদীর ওপর পশ্চিম-দক্ষিণ আকাশে কয়েক সেকেন্ডের জন্য উজ্জ্বল আলোর ঝলক দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেটি ছিল অনেকটা আগুনের গোলার মতো, যা দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মিলিয়ে যায়।

একই সময়ে বরগুনা ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াতেও রহস্যময় এই আলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এমন দৃশ্য দেখা যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

তবে আকাশে দেখা যাওয়া আলোর প্রকৃত উৎস বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি আবহাওয়া অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে।

কেউ কেউ এটিকে উল্কাপিণ্ড বা মহাকাশীয় কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার অংশ বলে ধারণা করছেন। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গেও ঘটনাটিকে যুক্ত করছেন।

এর মধ্যেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভারত বঙ্গোপসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৬-এর পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারে। এ জন্য ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘নোটিশ টু এয়ারম্যান’ (নোটাম) জারি করা হয়েছে।

যদিও ভারতের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাওয়া আলোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

হঠাৎ আকাশে এমন অস্বাভাবিক আলোর ঝলক দেখে কেউ রোমাঞ্চিত হয়েছেন, আবার অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও রহস্যের অনুভূতি। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *