‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’ স্ট্যাটাসে কী বুঝাচ্ছেন মনিরা শারমিন?

‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’ খুবই পরিচিত একটি উক্তি। উক্তিটি এসেছে কবি ভুসুকুর পদ থেকে। চর্যাপদে সংগৃহীত আছে পদটি। কারো সৌন্দর্য যখন তার জন্য ক্ষতিকর কিছু হয়, তখন আমরা উক্তিটি ব্যবহার করি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন এই উক্তি নিয়ে আজ রবিবার (৩ মে) রাতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফেসবুকের নিজের ওয়ালে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’’।

ঠিক একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বৈধতার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

একই সময়ে স্ট্যাটাস ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়া নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোলাইমান কবির সুমন নামে একজন স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, আপনার জন্য কষ্ট হচ্ছে,তবুও শুভকামনা রইলো আগামীতে ভালো কিছু হবে।

নাইম হোসেন নামে আরেকজন স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, নুসরাত তাবাসসুম ভুল করল। সংসদে আপনাকেই দরকার ছিল।

এর আগে আজ মনিরা শারমিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি বর্তমানে হাইকোর্টে প্রক্রিয়াধীন। আদালতের সিদ্ধান্ত আসার আগে নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হলে তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

আগামী ৪ মে এই রিটের শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। তাই বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, রাতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থী মোছা. নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগ গত ২৭ এপ্রিল আদেশে প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র আদালতের আদেশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রহণপূর্বক বাছাইয়ের নির্দেশনা থাকায় ২ মে বাছাই কার্যক্রমের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১০ এর উপধারা (৮) অনুসারে বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের নামের তালিকা প্রকাশ করা হলো।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে আপিলেও তা খারিজ হয়ে গেলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। অন্যদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে গ্রহণ না করা হলেও আদালতের নির্দেশে তা বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং বর্তমানে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকায় রয়েছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *