Category: সারাদেশ

  • নতুন নিয়ম, যত বছর খাজনা না দিলে জমি খাস হয়ে যাবে

    নতুন নিয়ম, যত বছর খাজনা না দিলে জমি খাস হয়ে যাবে

    জমির মালিকদের ‘ভূমি মালিকানা সনদ (সার্টিফিকেট অব ল্যান্ড ওনারশিপ-সিএলও)’ দেবে সরকার। কিউআরকোড বা ইউনিক নম্বরসংবলিত এই ‘ভূমি স্মার্ট কার্ড’ বা সনদই ভূমির মালিকানা নির্ধারণে চূড়ান্ত দলিল বলে গণ্য হবে। ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দিতেও ব্যবহার হবে এই কার্ড। কোনো কারণে টানা তিন বছর কেউ খাজনা না দিলে তার জমি বাজেয়াপ্ত ও খাস করা হবে। এ ছাড়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কারও জমি অবৈধভাবে দখল করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এসব বিধান রেখে ‘ভূমি মালিকানা ও ব্যবহার আইন, ২০২৩’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
    বিষয়টি নিশ্চিত করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. খলিলুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই আইনের অধীনে সরকার প্রত্যেক জমির মালিককে ‘ভূমির মালিকানা সনদ’ দেবে। ভূমির মালিকানা নির্ধারণে এই সনদ চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য হবে। এই সনদের মাধ্যমে সহজেই ওই জমিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা যাবে। ভূমির ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইনের খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, অনুমোদনের জন্য শিগগির খসড়াটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এই আইন তিন পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, জমি হস্তান্তরের পর নামজারির মাধ্যমে রেকর্ড হালনাগাদ করা বা সিএলও বা সনদ তৈরি করে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হবে।

    মালিকানা ও স্বত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভূমির মালিকানা সনদও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। এর জন্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হবে জমির মালিককে। ভূমি হস্তান্তর দলিল বা ওয়ারিশান বা আদালতের আদেশ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশে স্বত্ব ও মালিকানা প্রতিষ্ঠার পর বা জরিপে প্রণীত রেকর্ডের পর বিদ্যমান আইনে ভূমির স্বত্ব ও মালিকানা প্রতিবছর নবায়ন করার বিধান না থাকায় খাজনা পরিশোধের বিনিময়ে যে দাখিলা দেওয়া হয়, তা মালিকানার ধারাবাহিকতা বহাল থাকার অফিশিয়াল প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

    খসড়ায় কৃষিজমি অধিগ্রহণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারের জরুরি উন্নয়নমূলক কাজে কৃষিভূমির প্রয়োজন হলে অপেক্ষাকৃত অনুর্বর জমি নির্বাচন করতে হবে। দুই বা তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে দুই বা তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। জমি দুই না তিন ফসলি, তা নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত কমিটি সিদ্ধান্ত দেবে।

    ভূমির শ্রেণিবিন্যাস প্রসঙ্গে খসড়ায় বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট ইমেজ ধারণের মাধ্যমে সরকার ভূমির ব্যবহারভিত্তিক অঞ্চল নির্ধারণ করে ডিজিটাল ম্যাপ প্রণয়ন করবে। জমির ব্যবহারভিত্তিক মাটির গুণ, প্রকৃতি ও ব্যবহার বিবেচনায় কৃষি, অকৃষি, আবাসিকসহ ভূমির নানা শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে ব্যক্তিমালিকানার জমির এক বিঘা পর্যন্ত শ্রেণি পরিবর্তনে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। এর ব্যত্যয় হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হবে।

    খসড়ায় বলা হয়েছে, অঞ্চলভিত্তিক ডিজিটাল ম্যাপ অনুযায়ী কৃষিজমি সরকারের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। যেকোনো শিল্পকারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস ভবন, বাসস্থান এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত অনুর্বর কৃষিজমি ব্যবহার এবং ভূমির সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে। কৃষিজমি সুরক্ষা দিতে গ্রামাঞ্চলে বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে গৃহঋণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেলে পক্ষরা আলোচনা বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতায় বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে ন্যূনতম চলাচলের পথ দিতে হবে। কোনো পক্ষ রাজি না হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ জন্য এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হবে।

  • দেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলক ঘিরে যা জানা যাচ্ছে

    দেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলক ঘিরে যা জানা যাচ্ছে

    বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে দেখা মিলেছে রহস্যময় উজ্জ্বল আলোর ঝলক। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে ভোলা, বরগুনা ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আকাশে দীর্ঘ আলোর রেখা ও আগুনের গোলার মতো উজ্জ্বল বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় হঠাৎ আকাশে একটি উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়। অনেকের কাছে সেটি ক্ষেপণাস্ত্র বা মহাকাশযানের আলোর মতো মনে হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া সেই আলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে মিলিয়ে যায়।

    সৈকতে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়রা মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও একই ধরনের আলো দেখার খবর আসতে থাকে।

    ভোলার মনপুরা উপজেলায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেঘনা নদীর ওপর পশ্চিম-দক্ষিণ আকাশে কয়েক সেকেন্ডের জন্য উজ্জ্বল আলোর ঝলক দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেটি ছিল অনেকটা আগুনের গোলার মতো, যা দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মিলিয়ে যায়।

    একই সময়ে বরগুনা ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াতেও রহস্যময় এই আলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এমন দৃশ্য দেখা যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

    তবে আকাশে দেখা যাওয়া আলোর প্রকৃত উৎস বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি আবহাওয়া অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    কেউ কেউ এটিকে উল্কাপিণ্ড বা মহাকাশীয় কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার অংশ বলে ধারণা করছেন। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গেও ঘটনাটিকে যুক্ত করছেন।

    এর মধ্যেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভারত বঙ্গোপসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৬-এর পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারে। এ জন্য ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওড়িশার আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘নোটিশ টু এয়ারম্যান’ (নোটাম) জারি করা হয়েছে।

    যদিও ভারতের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাওয়া আলোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

    হঠাৎ আকাশে এমন অস্বাভাবিক আলোর ঝলক দেখে কেউ রোমাঞ্চিত হয়েছেন, আবার অনেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও রহস্যের অনুভূতি। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

  • সেই স্ত্রীকে আবারও তালাক দিলেন আবু ত্বহা আদনান, যা জানা গেল

    সেই স্ত্রীকে আবারও তালাক দিলেন আবু ত্বহা আদনান, যা জানা গেল

    আবারও ভেঙে গেছে আলোচিত তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারার সংসার । গত বছরের ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাত্র ৪ মাসের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

    গত রমজানের চাঁদরাতেই আবু ত্বহা আদনান তার স্ত্রীকে তালাক দিলেও বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল বলে জানা গেছে। শনিবার (৯ মে) সাবিকুন্নাহার সারা নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ​সারা জানান, গত রমজানের চাঁদরাতেই তাদের মধ্যে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। আবু ত্বহা আদনান তাকে তালাক দেন।

    ​উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ২১ অক্টোবর আবু ত্বহা-সারা দম্পতির প্রথমবার বিচ্ছেদ ঘটেছিল। পরবর্তীতে ২ ডিসেম্বর তারা আবারও ঘটা করে বিয়ে করেন। তবে দ্বিতীয় দফার এই দাম্পত্য জীবনও স্থায়ী হলো না।

    রংপুরের তরুণ ইসলামিক বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ২০১৭ সালে ইউটিউবে বক্তৃতা শুরু করে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার আলোচনায় কিয়ামতের আলামত, দাজ্জাল, সামাজিক সমস্যা এবং মুসলিম সমাজের চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

    তিনি ‘জিন নুরাইন অনলাইন মাদ্রাসা’ ও পরিচালনা করেন এবং দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পাশাপাশি দ্বীনি বিষয়ে স্বশিক্ষিত।

    ২০২৩ সালের জুনে, আদনান তার তিন সঙ্গী এবং গাড়িচালকসহ ঢাকায় যাওয়ার পথে হঠাৎ নিখোঁজ হন। আট দিন পর তিনি রংপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন।

    পুলিশ জানায়, তিনি ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে, আদনান দাবি করেছিলেন যে তাকে শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনী ‘গুম‘ করে আয়নাঘরে আটকে রেখেছিল। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তার পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

  • ৯ দিন বৃষ্টির আভাস

    ৯ দিন বৃষ্টির আভাস

    বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) দেশের উত্তর জনপদ ও সিলেট বিভাগে তীব্র বজ্রপাতসহ বৃষ্টির আগাম বার্তা দিয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে বিডব্লিউওটি এ তথ্য জানায়।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হলেও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই বৃষ্টি বলয়টি প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, আবহাওয়ার এ বিশেষ পরিস্থিতি আগামী ১২ বা ১৩ মে দেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এ বৃষ্টি বলয়টি ১২ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি টানা না হয়ে মধ্যে মধ্যে বিরতি দিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব ফেলবে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এ বলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে। এ সময়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে তীব্র বজ্রপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

    এছাড়া রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় মধ্যে মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বিভাগগুলোতে বড় কোনো এলাকা জুড়ে বা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।

    সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে এ বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব তেমন একটা পড়বে না। সেখানে আবহাওয়া প্রায় স্বাভাবিক থাকতে পারে; তবে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একদিন সামান্য বজ্রবৃষ্টি হলেও তা উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনবে না।

  • লাশগুলোর ওপর ছিল অভিযোগপত্র, যা লেখা ছিল

    লাশগুলোর ওপর ছিল অভিযোগপত্র, যা লেখা ছিল

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। পাঁচটি লাশের ওপর পাওয়া গেছে কম্পিউটারে টাইপ করা অভিযোগ। পাঁচটিই একই অভিযোগের কপি, গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা।

    সেই অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছে কি না বা দিলেও গ্রহণ করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান।

    লাশের ওপর রাখা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী শারমিন খানম স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছেন। এছাড়া তিনি খালাতো ভাই রাজুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। জানাজানি হওয়ার পর দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। ৫ মে স্ত্রী শারমিন খানম ও তার প্রেমিক রাজু আহমেদ স্বামী ফোরকানকে বেধড়ক মারধর করেন।

    শুক্রবার (৮ মে) রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার চালক পলাতক স্বামী ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেয়ে মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিহা (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়ার (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    শনিবার (৯ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ঘাতক পলাতক ফোরকান মিয়ার গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটকদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিন সন্তানের গলা কাটা লাশ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের লাশ ছিল বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

    প্রতিবেশীরা বলছেন, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। ওই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে যেতে পারেন।

    কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম জানান, ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে এ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন।

    গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযানে নেমেছে।

  • কাউরে বাঁচাইয়া রাখি নাই, ৫ খুনে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

    কাউরে বাঁচাইয়া রাখি নাই, ৫ খুনে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ ঘরে এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার রাউৎকোনা (পূর্বপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    গতকাল শনিবার (৯ মে) সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহতরা হলেন—ওই বাড়ির গৃহকর্তা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩২), তার তিন মেয়ে মিম (১৪), হাবিবা (১০), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)।

    নিহত শারমিনের ভাগনে সাকিব জানান, শ্যালক রসুলকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় ফোনে ডেকে নিয়ে আসেন দুলাভাই ফোরকান। পরে রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে স্ত্রী, শ্যালক এবং তিন মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেন। ফোরকান ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন।

    অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। ফোরকানের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর ধরে গাজীপুরের রাউৎকোনা গ্রামের ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। ফোরকান প্রাইভেটকার চালাতেন। আর তার শ্যালক রসুল গাজীপুর সদরের একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

    নিহতদের স্বজনের দাবি, শুক্রবার রাত ১২টায় ফোরকান তার আত্মীয় মিশকাতকে ফোন করে বলেন, ‘সবাই মরে গেছে, কাউরেই বাঁচাইয়া রাখি নাই।’ এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

    নিহত শারমিনের আরেক ফুফু ইভা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মাইরা ফেলছি। আমারে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে তারা পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে তারা মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা কাপাসিয়া থানায় রওনা হন।

    আরেক বিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য: ইভা আক্তারের দাবি, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। শারমিন স্বামীকে জানিয়েছিলেন, তার সন্তানদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাই স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান।

    ইভা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাতিজিসহ বাকি সবাইকে ফোরকান মিয়া হত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।’

    পুলিশ বলেছে, ঘটনার পর স্বজনদের কাছে ফোনকলের তথ্য তারা পেয়েছে এবং সেটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ফোরকানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও ফরেনসিক টিম। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে।

    ‘স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না’: নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা জানান, ফোরকান ও শারমিনের দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ ছিল। প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। কিছুদিন আগে শারমিন অসুস্থ হয়ে বাবার বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকাকালে ফোরকান হুমকি দিয়েছিলেন—‘স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবেন না।’ পরিবার তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, শারমিনকে আর স্বামীর কাছে পাঠানো হবে না। কিন্তু পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবার সংসার শুরু করেন তারা।

    স্বজনদের দাবি, ঘটনার আগের দিন ফোরকান ফোন করে শ্যালক রসুলকে কাপাসিয়ায় ডেকে নেন। রাজেন্দ্রপুরের একটি পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে বাসায় আনা হয়। সন্ধ্যার দিকে রসুল সেখানে পৌঁছান। এরপর রাতেই ঘটে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

    বিদেশে পালানোর পরিকল্পনা: স্বজনদের ভাষ্য, ফোরকান সম্প্রতি তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে মাসিক ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু গাড়ি কিংবা টাকার কোনো খোঁজ মিলছিল না। পরিবারের সন্দেহ, হত্যাকাণ্ডের আগেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। তার পাসপোর্ট প্রস্তুত ছিল এবং শনিবার বিদেশ যাওয়ার কথাও স্বজনরা শুনেছেন।

    ছোট্ট শিশুদের মৃত্যুতে এলাকায় শোক: স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার বিকেলেও শিশু তিনটি বাড়ির সামনে খেলাধুলা করেছিল। সকালে মানুষের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরের ভেতরে একের পর এক মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। কিন্তু ছোট ছোট শিশুদের এভাবে হত্যা করবে, এটা কেউ ভাবতে পারেনি।’

    বর্তমানে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কাপাসিয়ার মানুষ এখন একটাই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানদের এত নির্মমভাবে হত্যা করতে পারে?

    গোপালগঞ্জে শারমিনের পরিবারে মাতম: নিহত শারমিন আক্তার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লা চৌকিদারের মেয়ে। শাহাদাত মোল্লা ও ফিরোজা বেগম দম্পতির চার মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে শারমিন ছিলেন তৃতীয় ও রসুল সবার ছোট। তাদের বড় মেয়ে কয়েক বছর আগে মারা যান। এবার একসঙ্গে আরও দুই সন্তানকে হারাল পরিবারটি।

    গতকাল সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নিহত শারমিন আক্তার ও রসুল মোল্লার মা ফিরোজা বেগম। বুক চাপড়ে বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, ‘আমার বাবারে মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার ধনডারে শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচমু…।’

    শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। জ্ঞান ফিরতেই বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমার বাজান গতকাল (শুক্রবার) নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। সেই জামা পইরা হাসতে হাসতে বোনের বাসায় গেছে। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! আমার রসুল, আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে…।’

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় মামলাটি করেন। মামলায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি শাহিনুর আলম।

    এদিকে ঘটনাস্থল থেকে একটি লিখিত কাগজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে পারিবারিক বিরোধ, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় দেওয়া বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • অবশেষে যতদিন হলো ঈদুল আজহার ছুটি

    অবশেষে যতদিন হলো ঈদুল আজহার ছুটি

    এবারের ঈদুল আজহার ছুটি ৭ দিন নির্ধারণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ ঘোষণা আসে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে ছুটি থাকবে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (২৩ মে) অফিস করতে হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।স্থানীয় সংবাদ

    মন্ত্রিপরিষদের ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদুল আজহার ছুটিতে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না। সূত্র বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটিতে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি থেকে জানা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটি, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১৬ দিনের ছুটি থাকছে স্কুল ও কলেজে। আর ২১ দিনের ছুটি থাকছে মাদরাসায়।

    শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদু ছুটি শুরু হচ্ছে আগামী ২৪ মে (রবিবার) থেকে। ছুটি শেষ হবে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার)। এই ছুটির আগে ও পরে রয়েছে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
    ফলে টানা ১৬ দিনের ছুটি থাকছে স্কুলে।

    কলেজে ঈদুল আজহার ছুটি ১২ দিনের। এই ছুটিরও আগে পরে যুক্ত আছে সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে টানা ১৬ দিনের ছুটি থাকছে কলেজে।

    এদিকে মাদরাসায় গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪ মে (রবিবার) থেকে ছুটি শুরু হচ্ছে আর শেষ হবে ১১ জুন।

    তবে ছুটির আগের দুদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা ২১ দিন ছুটি থাকছে মাদরাসায়।

  • আবু ত্বহার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে এবার মুখ খুললেন সাবিকুন নাহার

    আবু ত্বহার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে এবার মুখ খুললেন সাবিকুন নাহার

    আলোচিত তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তার স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারার ফের বিচ্ছেদ হয়েছে। দ্বিতীয়বার বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ হলো। শনিবার (৯ মে) সাবিকুন নাহার সারা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    সাবিকুন নাহার জানান, পারিবারিক অশান্তি ও মতবিরোধের জেরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন তারা।

    তিনি বলেন, ‘আমরা নতুনভাবে সংসার শুরু করার চেষ্টা করেছিলাম। দুই পরিবারও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে সেই সম্পর্ক আর টেকেনি। শেষ পর্যন্ত রমজানের চাঁদরাতে আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।’

    বিচ্ছেদের পর গত বছরের ২ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবু ত্বহা আদনান ও সাবিকুন নাহার। প্রথম বিচ্ছেদের পর দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উদ্যোগে তাদের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটে। নতুন করে সংসার শুরু করলেও সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হলো না।

  • আসছে বিপদ, ঢাকাবাসীকে ঘরের জানালা বন্ধ রাখার অনুরোধ

    আসছে বিপদ, ঢাকাবাসীকে ঘরের জানালা বন্ধ রাখার অনুরোধ

    জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। এক সতর্কবার্তায় ঢাকাবাসীকে ঘরের জানালা বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

    ঢাকার বাতাস ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে মেগা সিটি ঢাকা বায়ুদূষণের কবলে। কিছুদিন ধরে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম দিকেই রয়েছে রাজধানী ঢাকা।

    রোববার সকালে শহরটির বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রতিষ্ঠান একিউআই তথ্য অনুযায়ী ৩৯৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা।

    সতর্কবার্তায় ঢাকাবাসীর উদ্দেশ্যে একিউআই-এর পরামর্শ বাইরে বের হলে সুস্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে। খোলা স্থানে ব্যায়াম করা যাবেনা। আরো একটি পরামর্শ ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হবে।

  • হাসিনা বাদ! আ’লীগের নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই নেতা, জেনে নিন তাদের নাম

    হাসিনা বাদ! আ’লীগের নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই নেতা, জেনে নিন তাদের নাম

    বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে এবার ভারতে গোপন বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা।আর এই অস্থিতিশীল করার জন্য করা হয়েছে কমিটি জে কমিটির প্রধান জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং বাহাউদ্দিন নাসি. হাসিনাকে বাদ দেওয়া হয় গত ১৫ই জানুয়ারি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও জানা গেছে, সম্প্রতি।

    আল জাজিরার অনুসন্ধানে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বৈঠকের কথা জানান তিনি।জুলকারনাইন সায়ের জানান, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সহিংসতায় যুক্ত হওয়া শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের একটি গোপন বৈঠক গত ১৫ জানুয়ারি কলকাতার পার্ক হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটিতে শুধু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাই নয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক এবং বর্তমান নেতাদেরও উপস্থিতি দেখা গেছে।বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, অসীম কুমার উকিল, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেন, আল নাহিয়ান খান জয়, গোলাম রাব্বানী, লেখক ভট্টাচার্য, শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, সিদ্দিকী,নাজমুল আলম।

    এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মেহের আফরোজ শাওন এবং চিত্রনায়িকা সোহানা সাবা। গোপনে বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বৈঠকে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং বাহাউদ্দিন নাসিমকে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে আন্দোলন ও ধ্বংসাত্মক কাজের সমন্বয়কের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে তবে হাসিনাকে এখানে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নায় । ছাত্রলীগ নেতা হাসিনার ড্রাইভারের ছেলে মোহাম্মদ রুবেলকে গণভবন কোয়ার্টার, আদাবর প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।হাজারিবাগ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মৃত তোরাব আলীর ছেলে লিটন সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে নেপাল ভ্রমণে গিয়ে সেখান থেকে কলকাতা গিয়ে বৈঠকে অংশ নেন।

    তাকে দেশে এসে হাজারিবাগ, ধানমণ্ডিসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নাশকতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নানকের কথিত ছেলে মোহাম্মদপুর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেকুজ্জামান রাজীব এবং সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাগ্নে আসিফকে মোহাম্মদপুর ও আশপাশ এলাকার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সাবেক এমপি যুবলীগের মোহাম্মদ মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে পুরান ঢাকা চাঁনখারপুল উত্তরাসহ সমগ্র ঢাকায় নাশকতা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে তার লোকজন দিয়ে, মগবাজার, গুলিস্তান, তেজগাঁও, বাড্ডা এবং বনশ্রী এলাকায় নাশকতার সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।সাবেক এমপি ওয়াখিল উদ্দিনের লোকজনকে দিয়ে বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় নাশকতা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু কে বনানী মিরপুর এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আলো আসবে গ্রুপের অ্যাডমিন চিত্রনায়িকা সুহানা সাবাকে, ভারতীয় কূটনীতিক ও বিভিন্ন লোকজনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, অভিনেত্রী গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন কে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।