মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ভোলার দুই হেভিওয়েট নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন সরকার গঠন এবং শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করা হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা চলছে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে। কারা মন্ত্রী হচ্ছেন, কারা কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন—এসব নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলার রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে তুমুল আলোচনা। স্থানীয় বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নেতাকর্মীদের দাবি, ভোলার দুই প্রভাবশালী নেতা এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

তাঁরা হলেন—মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। ভোলার রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে হাফিজ উদ্দিন ও পার্থ ভোলা জেলা বিএনপি ও বিজেপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় বিভিন্ন বৈঠক, কর্মীদের আড্ডা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ।

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য এই দুই নেতা নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন এবং তাঁদের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম: অভিজ্ঞ নেতা ও পরীক্ষিত মন্ত্রী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩(লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একজন নেতা। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পরিচিতি বিবেচনায় এবারও তিনি মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন।

আন্দালিভ রহমান পার্থ: জোট রাজনীতির শক্তিশালী মুখ বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১ (ভোলা সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি এর আগেও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আইন পেশায় তাঁর অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোট এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে এবার তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন।

সম্ভাব্য মন্ত্রণালয় নিয়েও আলোচনা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শুধু মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নয়, বরং কোন মন্ত্রণালয় পেতে পারেন—তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পেতে পারেন— পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয় অথবা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় অন্যদিকে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের জন্য সম্ভাব্য মন্ত্রণালয় হিসেবে আলোচনায় রয়েছে— কৃষি মন্ত্রণালয় অথবা আইন মন্ত্রণালয়

উল্লেখ্য, ভোলা একটি নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জেলা হওয়ায় পানিসম্পদ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ভোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কৃষি ও আইন মন্ত্রণালয়ও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিজেপি সভাপতির প্রত্যাশা: “ভোলার উন্নয়নে পার্থর মন্ত্রী হওয়া জরুরি”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব রাইসুল আলম বলেন, “ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ,মন্ত্রী হোক এটা আমরা চাই এ ছাড়া ভোলাবাসীরও দাবি এটি, এই জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর মন্ত্রী হওয়া দরকার। তিনি এই দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য। তিনি আরও বলেন, পার্থ মন্ত্রী হলে ভোলার অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন আমাদের ভোলার এই দুই নেতা মন্ত্রী হলে ভোলার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলবে ইনশাআল্লাহ, ভোলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জেলা ছাত্রদল নেতা নুর মোহাম্মদ রুবেল বলেন ভোলার সন্তান মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রী হলে তাঁদের মাধ্যমে ভোলার শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

এলাকার মানুষের ভালো-মন্দ এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা থাকবে। এতে উপকূলীয় জেলার উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলেও আমি মনে করছি। আমি তাঁদেরকে সাধুবাদ জানাই। মিঃ রুবেল আরও বলেন, উপকূলীয় জেলার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন, যোগাযোগ সংকট, স্বাস্থ্যসেবা এবং চরাঞ্চলের অবহেলিত অবস্থা। এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে মন্ত্রিসভায় ভোলার প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোলাবাসীর প্রত্যাশা: উন্নয়নের গতি বাড়বে

ভোলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি ভোলার এই দুই নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তবে জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের পথ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে— নদীভাঙন রোধ চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো নির্মাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পাঞ্চল গঠন এসব ক্ষেত্রে ভোলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

অপেক্ষা নতুন মন্ত্রিসভার ঘোষণা সব মিলিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর পর ভোলার রাজনীতিতে আশাবাদের নতুন আলো দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞ ও জাতীয়ভাবে পরিচিত দুই নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রী হলে উপকূলীয় জেলা ভোলার উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। এখন ভোলাবাসীর দৃষ্টি ঢাকার দিকে—নতুন মন্ত্রিসভায় সত্যিই কি ভোলার এই দুই নেতা স্থান পাচ্ছেন?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *