News24x7

  • এক বছরেই তিন ঈদ! দুইবার কোরবানির ঈদ, একবার রোজার ঈদ

    এক বছরেই তিন ঈদ! দুইবার কোরবানির ঈদ, একবার রোজার ঈদ

    সমগ্র মুসলিম বিশ্ব সামনে একটি বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। একই গ্রেগরিয়ান বছরে তখন উদযাপিত হবে তিনটি ঈদ—দুইবার ঈদুল আজহা এবং একবার ঈদুল ফিতর।

    গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিদ বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল্লাহ আল মিসনাদ জানান, ইসলামিক হিজরি বর্ষ চাঁদের গতিবিধির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি গ্রেগরিয়ান বর্ষের তুলনায় প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন কম হয়। এই সময়ের ব্যবধান থেকেই এমন বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

    তার হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের শুরুতেই ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে আগামী ৬ জানুয়ারি কোরবানির ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিন হিজরি ক্যালেন্ডারে তারিখ হবে ১৪৬০ হিজরির ১০ জিলহজ। তবে এটি ওই বছরের একমাত্র ঈদুল আজহা নয়।

    প্রায় এক বছর পর চাঁদভিত্তিক হিজরি বর্ষের পূর্ণ চক্র সম্পন্ন হবে এবং নতুন হজ মৌসুম শুরু হবে। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরে আবারও ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৬ ডিসেম্বর। ওই দিন হিজরি তারিখ হবে ১৪৬১ হিজরির ১০ জিলহজ। অর্থাৎ, ২০৩৯ সালে মক্কায় দুটি আলাদা হজ মৌসুম এবং দুইবার কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হবে।

    এই দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে পালিত হবে ঈদুল ফিতর। জ্যোতির্বিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রমজানের ঈদ উদযাপিত হতে পারে।

    এ ছাড়া এর আগেই মুসলিম বিশ্ব একই খ্রিষ্টীয় বছরে দুইবার রমজান মাস পাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। ২০৩০ সালে জানুয়ারি ও ডিসেম্বর মাসে রমজান শুরু হবে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এই বিরল চক্র আবার ফিরে আসছে।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি বর্ষের দৈর্ঘ্য ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন এবং গ্রেগরিয়ান বর্ষের দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন হওয়ায় প্রতি বছর দুই ক্যালেন্ডারের মধ্যে এই ব্যবধান তৈরি হয়। এই পার্থক্যের কারণেই কখনো কখনো একই গ্রেগরিয়ান বছরে একাধিক বড় ইসলামিক উৎসব একসঙ্গে পড়ে যায়।

    এ কারণে ২০৩৯ সাল শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়, মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস ও স্মৃতিতেও একটি বিশেষ বছর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • দেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু; নতুন যে বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ

    দেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু; নতুন যে বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ

    রাজপথ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সর্বত্রই এখন নির্বাচনী স্লোগানের গুঞ্জন। জুলাইয়ের রক্তঝরা অভ্যুত্থানের পর ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই জনপদে আবারও বেজে উঠেছে পরিবর্তনের সুর। উত্তপ্ত রাজপথ পেরিয়ে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। চারদিকে সাজ সাজ রব, প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে, আর সাধারণ মানুষের চোখে নতুন ভোরের প্রত্যাশা।

    তবে এবারের নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নয়; আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজরদারিতেও রয়েছে ঢাকার রাজপথ। গণতন্ত্রের এই অগ্নিপরীক্ষায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারবে কি না—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বিশ্বমঞ্চে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বহুল আলোচিত জুলাই সনদে গণভোট। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

    সম্প্রতি জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, জাতিসংঘ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। একই সঙ্গে তিনি নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই মত প্রকাশ করতে পারে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পান।

    এই আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যেই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ে কমনওয়েলথ একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছে। ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদোর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের এই দলে রয়েছেন আইন, গণমাধ্যম ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। দলটি শুধু ভোটগ্রহণ নয়, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দিক মূল্যায়ন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই যাত্রায় এবারই প্রথম বড় পরিসরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথের সতর্ক নজরদারি মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়—বরং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মর্যাদার এক নতুন পরীক্ষা।

  • অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ!

    অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ!

    বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এইচআইভি বা এইডস সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২১৯ জন। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, নতুন আক্রান্তদের ৪২ শতাংশই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশেরও বেশি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এবং একাধিক সঙ্গীর সংস্পর্শে আসার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ তরুণদের এই মরণব্যাধির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে যশোর অঞ্চলে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। যশোরের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, কৌতূহলবশত ভুল পথে পা বাড়ানোই শিক্ষার্থীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ও পরিবারে খোলামেলা আলোচনার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    ইউএনএইডসের তথ্যমতে, ২৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, যা সচেতনতার অভাবে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদের মতে, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং সামাজিক বন্ধন শিথিল হওয়ার ফলে তরুণদের আচরণে পরিবর্তন আসছে। অন্যদিকে ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আশ্বস্ত করেছেন যে, সময়মতো শনাক্ত হলে এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করলে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই সময়মতো পরীক্ষা করাতে অনীহা প্রকাশ করেন।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মহামারি রুখতে কেবল চিকিৎসা যথেষ্ট নয়; বরং ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন। স্কুল পর্যায়ে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু করা, ইনজেকশনের সুচ ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা এবং নিরাপদ জীবনযাপনের গুরুত্ব প্রচার করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

  • জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি দল, নতুন সঙ্গী কে?

    জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি দল, নতুন সঙ্গী কে?

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হচ্ছে লেবার পার্টি। ১১ দলীয় জোটের ঘোষণা দিলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্তে আসন সমঝোতায় সমাধান না আসায় ইসলামী আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত না হলে জোটটি ১০ দলের হয়েছিল। তবে, আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) লেবার পার্টি যুক্ত হলে আবার ১১ দলীয় জোটই হবে।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নে আয়োজিত পথসভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেছেন, আজ দুইটি ধারায় বিভক্ত হয়েছে গোটা জাতি। একদিকে বাংলাদেশের ১১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, ১০ দল… আমি আগাম ঘোষণা দিলাম, শনিবার আরও একটি দল যুক্ত হবে। সে কারণে আমাদের ১১ দলীয় ঐক্য। যদিও তিনি তার বক্তৃতায় বলেনি, কোন দলটি যুক্ত হচ্ছে তাদের জোটে। তবে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের লেবার পার্টিই তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

    বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে দলটির দীর্ঘদিনের মিত্র ছিল লেবার পার্টি। কিন্তু নির্বাচনে প্রত্যাশিত আসন ছাড় না পাওয়ায় আগেই বিএনপির সঙ্গ ছাড়ার কথা জানিয়েছিল দলটি। এবার তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধতেছে।

  • মূল ও বিভিন্ন ভাতাসহ কোন স্কেলের বেতন কত?

    মূল ও বিভিন্ন ভাতাসহ কোন স্কেলের বেতন কত?

    অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের কাঙ্ক্ষিত নতুন পে স্কেল ঘোষিত হয়েছে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। এতে ২০তম গ্রেডভুক্তদের বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন বাড়ানোর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

    উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও চাকরিজীবীদের বিশেষ প্রণোদনা দেয় বর্তমান সরকার। তবে এবার বেতনও বাড়ছে সরকারি চাকুরিজীবীদের।

    পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশকৃত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য ভাতার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট নিচে তুলে ধরা হলো। সাধারণত সরকারি নিয়মে মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসেবে দেওয়াএই রিপোর্টে ধরা হয়েছে যে, আগের নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের প্রায় ৩৫% থেকে (শহর ভেদে) বাড়ি ভাড়া এবং একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের চিকিৎসা ভাতা ও যাতায়াত ভাতা যোগ হবে। ৫০% হয়।

  • কারাফটকে ছাত্রলীগ নেতা মিনিট পাঁচেক দেখলেন স্ত্রী-সন্তানের লাশ

    কারাফটকে ছাত্রলীগ নেতা মিনিট পাঁচেক দেখলেন স্ত্রী-সন্তানের লাশ

    স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পাননি বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এ কারণে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে দূর থেকে তাকে শেষবার স্ত্রী সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

    কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, মরেদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের নিকট ছয় সদস্যকে কারা ফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে। দীর্ঘ সময় পর স্ত্রীকে শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখেন এবং জীবনে প্রথমবারের মতো নিজের মৃত সন্তানকে কোলে তুলে নেন তিনি। এ সময় উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের মধ্যে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

    গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই পাশেই নিথর অবস্থায় পড়েছিল স্বর্ণালীর ৯ মাসের শিশু নাজিমের নিথর দেহ।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। পুলিশ জানায়, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করেছে। সুবর্ণার স্বামী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর পর কারাগারের জেলরের সাথে যোগাযোগ করেন সাদ্দামের স্বজনেরা। প্যারোলে মুক্তির আবেদনও করেছিলেন তারা। তবে জেলার তাদের আবেদন নাকচ করেন। বাধ্য হয়ে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ জেল ফটকে আনার ব্যবস্থা করেন সাদ্দামের স্বজনেরা।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদ্দামের স্বজনেরা আসেন। তাদের সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন আসেন। সকল কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছয়জন পরিবারের নিকট সদস্যসহ মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারাকর্তৃপক্ষ। পাঁচ মিনিট পর তাদের আবারও বাইরে বের করে দেওয়া হয়। মর্মান্তিক এই খবরে গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া কারাগারের সামনে বসাবসরত অনেক স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ করা গেছে। হৃদয় বেদনায়ক এই দৃশ্য দেখে বাইরে অপেক্ষামান স্বজনদের আহাজারিতেও বাতাস ভারী হয়ে যায়।

    সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উনি তো মার্ডার মামলার আসামি না। রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয় জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি। সাদ্দাম যে ক্লান্তিলগ্নে তার পরিবারটাই নাই। তার এই দুঃসময়ে আমাদের দেখলে ভালো লাগতো। তবে আমাদের ঢুকতে দেয়নি কারাকর্তৃপক্ষ। সাদ্দামের সাথে এই ধরনের ঘটনা নির্দয়, দুঃশাসন। মানবিক দিক থেকেও আজ প্যারোলে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।

    সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করতে করতে সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘এই রাজনীতির এই পরিনাম হলো! সে তো খুনি না। রাজনৈতিক ছোট একটা মামলা। তাও প্রশাসন তাকে ছাড়লো না। সাদ্দাম আমার দুলাভাই না, বড়ভাই ছিল। সে কখনো কান্না করেনি। আজ তাকে কান্না করতে দেখেছি। তাকে কিছুক্ষণ জামিন দিয়ে স্ত্রী সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত ছিল।’

    সাদ্দামের স্বজনেরা জানান, প্রশাসন মুক্তি না দেওয়াতে বাগেরহাট থেকে যশোরে এসেছি। সড়কও খারাপ। বাদ এশা জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও গভীররাত হয়ে যাবে জানাজা। সাদ্দামের স্ত্রী ও তার সন্তানের জানাজা রাতেই করা হবে।

    যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, ‘কারাফটকে মরদেহ নিয়ে আসার পর আমরা ছয়জনকে প্রবেশ করতে দিই। পাঁচ মিনিট সাদ্দাম তার মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে পেরেছে। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি কারাফটকে আনে স্বজনেরা, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করি দেখতে দেই।’

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!