News24x7

  • এবার আরেক বিএনপি প্রার্থীর কপাল পুড়ল

    এবার আরেক বিএনপি প্রার্থীর কপাল পুড়ল

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পর এবার বিএনপির আরেক প্রার্থীর কপাল পুড়েছে। কুমিল্লা-১০ আসনে (লালমাই-নাঙ্গলকোট) প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির মনোনীত মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অভিযোগকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী। ইসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

    গত ২০ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিল করায় হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া।

    আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। এরপর গত ১৮ জানুয়ারি বিকালে নির্বাচন কমিশন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল করে।

    এর আগে গতকাল (২১ জানুয়ারি) কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট খারিজ করেন হাইকোর্ট।

    গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিক বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন একই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।

    হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ ছিল, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এনসিপি প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে। ইসির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। আবেদনে তিনি ইসির ওই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, কিন্তু উচ্চ আদালত তার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

  • নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

    নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। এবার এই ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে করা সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি। প্রেস সচিব বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। যা আগেই ঘোষণা করা হয়। আজকে উপদেষ্টা পরিষদ সভায় ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। আর ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। শ্রমিকরা তিন দিন ছুটি পাবেন।’

    তিনি বলেন, ‘আজকের সভায় ১৩টি এজেন্ডা ছিল। বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের আইন রোহিত আইন খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন-২০২৬ এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব। শফিকুল বলেন, ‘জুয়া প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের প্রস্তাব নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনও হয়েছে।’

    ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ-২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড-২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জুয়া প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ এ ১৯ প্রকারের জুয়াকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, অপরাধ অনুযায়ী ১৫ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা এবং দণ্ড ১০ বছর। ম্যাচ ফিক্সিংসহ এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এই আইন।’ তথ্য অধিকার আইনে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রতিবেদন কীভাবে করা হবে, সেই বিষয়েও বলা হয়েছে। তথ্য অধিকার সংরক্ষণ করবে এই আইন।’

  • স্বামী-স্ত্রী একে অপরের দ্বারা হ’স্তমৈথুন করা কি জায়েজ: ইসলামের স্প’ষ্ট বিধান…

    স্বামী-স্ত্রী একে অপরের দ্বারা হ’স্তমৈথুন করা কি জায়েজ: ইসলামের স্প’ষ্ট বিধান…

    স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হ’স্ত দ্বারা মৈ’থুন করা কি জায়েজ:

    ইসলামের স্পষ্ট বিধান

    স্বামী স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমন মৈ’থুন অবৈধ নয়। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, “(সফল মু’মিন তারা,) যারা নিজেদের যৌ’ন অ’ঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নি অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যাতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালঙ্ঘকারী।” (মু’মিনূনঃ ৫-৭, মাআরিজঃ ২৯-৩১)

    সীমালঙ্ঘকারী।” (মু’মিনূনঃ ৫-৭, মাআরিজঃ ২৯-৩১)

    সুতরাং অবৈধ হল নিজের হাতে নিজের বীর্যপাত। স্বামী স্ত্রীর একে অন্যের হাত দ্বারা বী’র্যপাত অবৈধ নয়।

    আর মহানবী (সঃ) ঋতুমতী স্ত্রীর সাথে যৌনাচার করার ব্যপারে বলেছেন, “সঙ্গম ছাড়া সব কিছু কর।” (মুসলিম ৩০২ নং)

  • রইল না বিএনপির কোনো প্রার্থীই!

    রইল না বিএনপির কোনো প্রার্থীই!

    শেরপুর-২ বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও অপর এক বিএনপি নেতার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় হতাশায় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।

    ঋণখেলাপি থাকায় বাতিল করা হয় জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়ন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী না থাকায় ভোটে লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে।

    তবে এ দুই দল নির্বাচনি জোট করায় আসন সমঝোতা হলে কোনো একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে । তবে সবকিছুর জন্য আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সেদিন আপিল আদালতে বিএনপি প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে । বিএনপির প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেলে ভোটের লড়াই বেশ জমে উঠবে।

    জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আশা-নিরাশার দোলাচলে অনেকটা দ্বিধাগ্রস্ত শেরপুর-২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা। গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাইবাছাইকালে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করায় দলের নেতাকর্মীরা এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন। একই আসন থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস খান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও দলীয় মনোনয়ন সংযুক্ত না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়নপত্রে প্রার্থী ইলিয়াস খান স্বাক্ষর নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ফলে শেষ পর্যন্ত ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতা আপিলে বহাল থাকবেন, নাকি ইলিয়াস খান দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আপিলে শেষ ভরসা হবেন- এমন সমীকরণে ভোটের মাঠে বিএনপি নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে ১০ দলীয় জোটের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়ার মধ্যে ভোটে লড়াই হবে না, সমঝোতা হবে।

    নির্বাচনি হাওয়া শুরু হওয়ার পর থেকে শুধু বিএনপিতেই প্রার্থীর দেখা মেলে আটজন। এরমধ্যে পাঁচজন প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা মাঠে ছিল সরব। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন মিলে সর্বমোট ১২টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করেন পাঁচজন। এরা হলেনÑবিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপি, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল এবং দলীয় মনোনয়ন না পেলেও বিএনপি প্রার্থী দাবিদার ইলিয়াস খান। গত ৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যাচাই-বাছাইকালে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় প্রথমে স্থগিত এবং পরবর্তীতে বাতিল করা হয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন। দলীয় মনোনয়ন সংযুক্তি না থাকায় বাতিল করা হয় বিএনপি নেতা হিসেবে দাখিলকারী ইলিয়াস খানের মনোনয়ন। ঋণখেলাপী থাকায় বাতিল করা হয় জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়ন। ফলে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ।

    তবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলছে, ইলিয়াস খান তার দাখিলকৃত মনোনয়ন ফরমে নিজে স্বাক্ষর করেছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    যদিও দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। তবে পরবর্তীতে কেউ অভিযোগ দিলে এবং প্রার্থিতা বহাল থাকলে বিষয়টি যাচাই যোগ্য হবে।

    এমতাবস্থায় বিএনপির শেষ ভরসা কে হবেন, এ নিয়ে নেতাকর্মী, সমর্থক, এমনকি ভোটারদের মাঝে আশা-নিরাশার দোলাচল এবং হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

    এসব বিষয়ে মতামত নিতে ফাহিম চৌধুরী ও ইলিয়াস খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে বারবার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনের রিসিভ কপি দিয়ে আপিলে টিকলে ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকবে। একইভাবে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করে আপিলে টিকলে ইলিয়াস খানের প্রার্থিতাও ফিরে পাবেন। কাজেই এখনো বিএনপিতে প্রার্থিতার আশার আলো রয়েছে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ আপিল বিভাগের আওতাধীন।

    এদিকে জোটের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ আল কায়েশ প্রার্থী হিসেবে টিকে থাকতে চেষ্টার পাশাপাশি, স্বপ্ন বুনছেন এমপি হওয়ার। অন্যদিকে জোটের পক্ষে গোলাম কিবরিয়া চূড়ান্ত হবেন এবং বিজয়ী হবেনÑএমন আলোচনাও জোরালো সমর্থকদের মাঝে। যদিও আপীল শেষে ৯ জানুয়ারি ভাগ্য নির্ধারণ হবে শেরপুর-২। ফাহিম চৌধুরী ও তার নেতাকর্মীরা মনে করেন, গত ২৬ ডিসেম্বর পাঠানো অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন এরই মধ্যে গৃহীত হবে এবং আপিলে তার প্রার্থিতা বহাল থাকবে। তবে বিএনপির আরেক অংশ মনে করছেন, ফাহিম চৌধুরী এত অল্প সময়ে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনের গৃহীত কপি সংগ্রহে ব্যর্থ হবেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রাখতে বিএনপি ইলিয়াস খানকে দলীয় মনোনয়ন দেবে এবং আপিলে তিনিই হবেন শেষ ভরসা।

  • ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মরদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

    ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মরদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

    নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি ডোবা থেকে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) নামের সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের ডোবাটি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া ওই এলাকার মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বেলাব উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি পোলট্রি খামারের ব্যবসা করতেন।

    বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আমানউল্লাহ মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “রাত ৮টার দিকে মরদেহটি তার খামারের পাশে একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি অনেক আগে ছাত্রলীগ করতেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর বলা যাবে।”

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি নিজ এলাকার পোলট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে খুঁজে পাননি।

    পরদিন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নিহতের ভাগিনা মো. উমর ফারুক বাদী হয়ে বেলাব থানায় একটি জিডি করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন আগে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া তার খামারে কাজের জন্য দুইজন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাদের একজনের নাম রুবেল, তবে অপরজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

  • ব্রেকিং: রোজায় স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    ব্রেকিং: রোজায় স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    ব্রেকিং: রোজায় স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে।

    সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

    নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়ত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখবার অভ্যাস হতে দূরে থাকার সম্ভাবনা দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। রমজান মাসে স্কুল বন্ধ না রাখলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

    সম্প্রতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগের বছরের তুলনায় ১২ দিন ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসের প্রায় পুরোটা সময় বিদ্যালয় খোলা থাকবে, যা নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    অন্যদিকে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এবার ১২ দিন ছুটি কমেছে। শবে মেরাজ, জন্মাষ্টমী, আশুরাসহ বেশ কয়েকটি দিনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসের অর্ধেকের বেশি সময় স্কুল খোলা রাখা হবে। তবে সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী- এতে ৭২ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পবিত্র রমজান মাসের পুরো সময় কলেজ বন্ধ থাকবে।

  • জেনে নিন অধিক স’হবাস করলে কি ক্ষতি হয়, অনেকেই জানেন না

    জেনে নিন অধিক স’হবাস করলে কি ক্ষতি হয়, অনেকেই জানেন না

    মাত্রাতিরিক্ত কোনো জিনিসই ভালো না। সহবাস করার ক্ষেত্রে ও তেমন। আবে হায়াতও অধিক পান করা ভালো নয়, অন্যথায় এটা বিষ হয়ে যায়। অতিরিক্ত কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক বর্ণিত মহব্বতই প্রশংসা যোগ্য।

    সুতরাং সর্বক্ষেত্রেই মধ্যম্পন্থা অবলম্বন করা চাই। বিশেষ করে সুস্বাদু ও মজাদার বস্তু খাওয়ার মাঝে কখনোই অতিরিক্ত করা ঠিক নয়। অধিক সহবাসের কারণে গর্ভধারণের শক্তিও হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা অধিক সহবাসে পুরুষের বীর্য ও মহিলার ধাতু পাতলা হয়ে যায়। যুবক-যুবতীরা তাদের যৌবনকালে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে দিওয়ানা হয়ে সহবাসের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে অমূল্য সম্পদ বীর্যকে নষ্ট করে ফেলে। তাদের খেয়ালই নেই যে, এক ফোটা বীর্য সত্তুর ফোটা রক্তের নির্যাস। এক ফোটা বীর্য উৎপাদন হতে সত্তর ফোটা রক্ত ব্যয় হয়। এই দামী জিনিসকে মাত্রাতিরিক্ত সহবাস করে নষ্ট করে দিচ্ছে। এক সময় তাদের অবস্থা এমন হয় যে, মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে হবে।

    অবশেষে কোনোভাবে সহবাসের জন্য বিভিন্ন হেকিম-ডাক্তারদের স্মরণাপন্ন হয়ে ওষুধের মাধ্যমে সহবাস করতে হবে। অথচ নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সহবাস করলে তাকে এসব জ্বালা সহ্য করতে হবে না। নিজেকে ধিক্কার ও দিতে হবে না কোনো দিন।

  • কেন থামছে না স্বর্ণের দাম, জানা গেল পেছনের কারণ

    কেন থামছে না স্বর্ণের দাম, জানা গেল পেছনের কারণ

    দেশে স্বর্ণের বাজারে একের পর এক রেকর্ড দাম সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্ন জাগিয়েছে— স্বর্ণের ভরি কি খুব শিগগিরই ৩ লাখ টাকা ছাড়াবে? আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাসে প্রথমবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়ানোর পর দেশের বাজারেও তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

    সর্বশেষ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষিত দরে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে স্বর্ণের ভরি ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানো এখন আর অসম্ভব কোনও কল্পনা নয়। তবে এর গতি ও সময় নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের অবস্থান এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার ওপর।

    বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার, স্থানীয় কাঁচামাল (তেজাবি স্বর্ণ) ও কর কাঠামোর সম্মিলিত প্রভাবেই এই উচ্চতায় পৌঁছেছে দেশীয় স্বর্ণের দাম।

    আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশীয় বাজারে রূপান্তর

    আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয় ডলার প্রতি আউন্স হিসাবে। ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে যখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে, তখন ডলারের বাজারদর গড়ে ১২০ টাকা ধরলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের টাকার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ লাখ টাকা।

    এক আউন্সে থাকে ৩১.১০৩৫ গ্রাম স্বর্ণ। আর বাংলাদেশের প্রচলিত হিসাবে এক ভরি স্বর্ণের ওজন ১১.৬৬৪ গ্রাম। সে হিসাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ হাজার ডলার দরের স্বর্ণের প্রতি ভরির মৌলিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি।
    তবে আন্তর্জাতিক দরের এই মৌলিক মূল্যের সঙ্গে দেশীয় বাজারে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় যুক্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে— স্থানীয় বাজারে তেজাবি (রিফাইন্ড) স্বর্ণের দাম, স্বর্ণ আমদানির খরচ ও ঝুঁকি প্রিমিয়াম, ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি কর, বাজার ব্যবস্থাপনা ও মজুত ব্যয়। সব ব্যয় যোগ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

    দেড় বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি

    পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আশপাশে। সেখান থেকে দেড় বছরের ব্যবধানে দাম বেড়ে এখন ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে—অর্থাৎ এই সময়ে ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

    এই বৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে আন্তর্জাতিক বাজারের লাগাতার ঊর্ধ্বগতির কারণে। একই সময়ে দেশে ডলারের উচ্চ বিনিময় হার ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিও দাম বাড়ার পথ সুগম করেছে।

    কেন থামছে না দাম

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে যে কারণগুলো কাজ করছে—ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার নিয়ে সংশয় ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা—সেগুলোর দ্রুত অবসান হচ্ছে না। ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের সংশোধনের সম্ভাবনা আপাতত কম।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডলার বাজারে চাপ অব্যাহত থাকায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের মতো স্বর্ণের দামও ঊর্ধ্বমুখী থাকছে। এর প্রভাব পড়ছে বিয়ের মৌসুম ও খুচরা বাজারে।

    প্রধান তিন কারণে বাড়ছে স্বর্ণের দাম

    অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই দ্রুত ঊর্ধ্বগতির পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে।

    প্রথমত, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপে নিরাপত্তা উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বড় শক্তিগুলোর পারস্পরিক টানাপোড়েন বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়।

    দ্বিতীয়ত, সুদের হার কমার প্রত্যাশা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রানীতি শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। সাধারণত সুদের হার কমলে বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানতের রিটার্ন কমে যায়। ফলে স্বর্ণের মতো বিকল্প বিনিয়োগের চাহিদা বেড়ে যায়।

    তৃতীয়ত, ডলারের দুর্বলতা। ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠে, যা বৈশ্বিক চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েন ও ইউরোর বিপরীতে ডলারের দরপতন স্বর্ণবাজারকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

    এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক স্বর্ণ ক্রয়ও বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে চীন টানা ১৪ মাস ধরে স্বর্ণ কিনে যাচ্ছে। একইসঙ্গে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ– ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড বিনিয়োগ প্রবাহ স্বর্ণের দামকে আরও ওপরে ঠেলে দিচ্ছে।

    বিশ্ববাজারে রেকর্ড, দেশের বাজারে চাপ

    আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের উল্লম্ফনের প্রভাব সরাসরি পড়ে দেশের বাজারে। বাজুস আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় এনে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে বাজুস সর্বশেষ ঘোষণায় ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাঁড়ায় ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। একইসঙ্গে ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম যদি ৫ হাজার ডলারের ওপরে স্থিতিশীল থাকে বা আরও বাড়ে, তাহলে দেশের বাজারে নতুন করে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হবে।

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান টানাপোড়েন এবং ভেনিজুয়েলা ঘিরে সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

    খাদ্যদ্রব্য বাজার
    এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘‘ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট দ্রুত সমাধান না হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনিজুয়েলা ও ইরানের চলমান টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।’’

    ডা. শাহীন আরও জানান, স্বর্ণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে স্বর্ণের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কমতে কমতে প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ খাত এড়িয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, কিংবা ভেনিজুয়েলা সংকটের মতো ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের প্রতি চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়।’’

    শিক্ষা ঋণ
    ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার নিম্নমুখী থাকলেও স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কারণ, সুদের হার কমলে অন্যান্য বিনিয়োগের রিটার্ন কমে যায় এবং ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর সরাসরি প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজার হয়ে দেশের বাজারেও পড়ে।’’

    সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

    স্বর্ণের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর। বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণের ব্যবহার কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। অনেক পরিবার গয়নার ওজন কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ স্বর্ণ কেনার সিদ্ধান্তই পিছিয়ে দিচ্ছেন।

    একইসঙ্গে স্বর্ণভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা, কারিগর ও জুয়েলারি শিল্পেও মন্দাভাবের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও স্বর্ণের বাজারে এখন চরম মন্দাভাব। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের গয়নার ক্রেতা কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আগে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা উপহার হিসেবে স্বর্ণের গয়না দেওয়ার যে প্রচলিত রীতি ছিল, তা এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। দুই হাজার, পাঁচ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকায় ভালো মানের একটি গয়না তৈরি করে উপহার দেওয়ার সুযোগ এখন আর নেই।

    পাবনার স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “যেভাবে স্বর্ণের দাম বাড়ছে, তাতে আগামী তিন মাসের মধ্যেই প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম তিন লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে।” তিনি জানান, স্বর্ণের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় দেশে স্বর্ণ কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে গত এক বছরে স্বর্ণের বেচাবিক্রি অন্তত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

    তার ভাষায়, “পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন নতুন করে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা খুবই কম। যারা দোকানে আসছেন, তাদের বেশিরভাগই পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি না করে তা দিয়ে নতুন গয়না তৈরি করাচ্ছেন।”

    আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমিত ঘোষ বলেন, ‘‘সামগ্রিকভাবে অন্যান্য ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভালো থাকলে স্বর্ণের কেনাবেচাও স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে সার্বিক মন্দাভাব বিরাজ করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়।’’ তিনি বলেন, “স্বর্ণের দাম যত বাড়ছে, দেশীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ততই সংকটে পড়ছেন। উচ্চ দামের কারণে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বেচাবিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।”

    অর্থনীতির জন্য কী বার্তা দিচ্ছে স্বর্ণের দাম

    বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত। সাধারণত যখন মুদ্রাস্ফীতি, আর্থিক অস্থিরতা বা রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ে, তখনই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অর্থাৎ স্বর্ণের এই উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে— বিশ্ব অর্থনীতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

    ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম বছরে ৬৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।

    তাহলে কি ভরি ৩ লাখ টাকা ছুঁবে?

    বিশেষজ্ঞদের অভিমত—বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা, ডলারের দুর্বলতা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে স্বর্ণের ভরি ৩ লাখ টাকা ছোঁয়ার আলোচনা আরও জোরালো হবে।

    তবে তারা এটাও বলছেন, যদি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে, ডলার শক্তিশালী হয় বা সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকে—তাহলে স্বর্ণের দামে সাময়িক সংশোধন বা স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

    সব মিলিয়ে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু গয়নার বাজারের গল্প নয়, এটি বৈশ্বিক ও দেশের অর্থনীতির ভেতরের চাপ, অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের মানসিকতারই প্রতিফলন। তাই প্রশ্নটি এখন আর শুধু কৌতূহলের নয়—স্বর্ণের ভরি ৩ লাখ ছাড়াবে কিনা, সেটিই হয়ে উঠেছে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ইঙ্গিতের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

  • পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবরের কথা জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ সভা শেষ হয়।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সূত্র অনুযায়ী, যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

    এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে পেনশন ও বেতন কাঠামোর নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি পেনশনভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।

  • মেয়েদের যে আট ভুলের কারনে হচ্ছে স্তন ক্যান্সার!

    মেয়েদের যে আট ভুলের কারনে হচ্ছে স্তন ক্যান্সার!

    বর্তমানে সারা বিশ্বের মহিলাদের কাছেই স্তন ক্যান্সার একটি আতঙ্কের নাম। আর এর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং ক্যানসারের প্রচলিত ওষুধে কাজ হচ্ছে না। প্রচলিত বেশির ভাগ কেমোথেরাপিও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাই স্তন ক্যান্সার দিনে দিনে আরও চিন্তা বাড়াচ্ছে চিকিৎসকদের।

    কিন্তু জানেন কি? দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের ভুলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়? আসুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই ৮টি খারাপ অভ্যাসের কথা, যেগুলো স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

    ১। স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার না করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

    স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    ২। সারাক্ষণ ব্রা পরে থাকার কারণে ঘাম হবার অসুবিধে, আর্দ্রতা জমে থাকা, সব মিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ঘরে থাকার সময় টুকুতে ব্রা ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

    ৩। প্লাস্টিকের বক্সে খাবার রাখা এবং বিশেষত সেটিতেই ওভেনে গরম করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিতে পারে। এর চেয়ে কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন। আর প্লাস্টিক ব্যবহার করতে চাইলে তা ফুড গ্রেড কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

    ৪। ঘামের দূর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন প্রায় সবাই! কিন্তু এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন কী কী উপাদান আছে এতে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ডিওডোরেন্ট যেহেতু আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তাই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া বিশেষ জরুরি।

    ৫। চুল পেকে যাওয়া বা হাল ফ্যাশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চুলে নানা রঙের ব্যবহার, যেটিই হোক না কেন, দোকান থেকে সস্তার চুলের রং কিনে আনবেন না। এতে চুল তো পড়ে যেতে পারেই, সেই সঙ্গে এতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারণে হতে পারে স্তন ক্যান্সারও। তাই ভালও ব্র্যান্ডের ভেষজ চুলের রং ব্যবহার করুন।

    আর সবচেয়ে ভাল হয় মেহেন্দি ব্যবহার করতে পারলে। মেহেন্দি একদিকে যেমন চুলের জন্যে ভাল, সেই সঙ্গে এতে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

    ৬। ঘরের দূর্গন্ধ দূর করতে এয়ার ফ্রেশনারের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু এতে থাকা প্যাথালেট নামক প্লাস্টিসাইজিং রাসায়নিক যা সুগন্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে, তার সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

    এর চেয়ে ফুটন্ত জলেতে এক টুকরো দারচিনি ফেলে দিন। এবার দেখুন, ঘরময় কি সুগন্ধই না ছড়াচ্ছে! আলমারির কাপড়চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে নেপথলিন তো আমরা ব্যবহার করেই থাকি। অনেকে আবার বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনে, সিঙ্কেও নেপথলিন ফেলে রাখেন।

    কিন্তু এটি পুরোটাই ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরী, যা কেবল পোকামাকড়কে দূরেই রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। এর চেয়ে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন। একই উপকার পাবেন।

    রান্নাঘরের সিঙ্ক বা কেবিনেট যে রঙিন তরল ক্লিনার দিয়ে আপনি পরিস্কার করছেন, তাতে থাকা কেমিকেল কেবল আপনার স্তন ক্যান্সারই নয়, মাইগ্রেন ও অ্যালার্জির প্রকোপও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কেমিকেলযুক্ত এই ক্লিনার ব্যবহার না করে ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে পরিস্কার করতে পারেন।