News24x7

  • আরও ৬ নেতাকে দুঃসংবাদ দিল বিএনপি

    আরও ৬ নেতাকে দুঃসংবাদ দিল বিএনপি

    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৬ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আফজল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ওসমান খাঁন, অরুয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাড. মনোয়ার হোসেন রাসেল, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য জাকির হোসেন, মুলুক হোসেন, কালীকচ্ছ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিএনপির ৪৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন- গাইবান্ধা জেলাধীন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মতলেবুর রহমান রেজা, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. এনামুল হক শিল্পী ও সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য মোছা. মুনমুন রহমান, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মাসুক আহমদ, সদস্য রিপন আহমদ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়েছ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান পারভেজ, কোষাধ্যক্ষ আবুল বাশার, ২নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসেন নিমারসহ অন্যরা।

  • টানা ৪ দিন ব্যাংক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, কবে থেকে শুরু?

    টানা ৪ দিন ব্যাংক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, কবে থেকে শুরু?

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশে কার্যরত সব তপশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।

    এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৫ জানুয়ারির এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি। উক্ত ২ দিন বাংলাদেশে কার্যরত সব তপশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যরত সব তপশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    এদিকে, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি, বুধ ও বৃহস্পতিবার। এরপর পরের ২ দিন ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারি, শুক্র ও শনিবার। এই ২ দিনও ব্যাংক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে টানা ৪ দিন বন্ধ থাকছে ব্যাংক।

  • নির্বাচন উপলক্ষে আরও বাড়লো সাধারণ ছুটি

    নির্বাচন উপলক্ষে আরও বাড়লো সাধারণ ছুটি

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই লম্বা ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। সে উপলক্ষে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।

    এ অবস্থায় কেবল এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের ছুটি কাটানো যাবে। কেননা এর পরের দুদিন যথাক্রমে ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) ও ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। সুতরাং মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ক্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    সে উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দুদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ এখানে মিলছে টানা চার দিনের ছুটি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।’ অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারে পড়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারিত হয়েছে।

    সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

  • জানা গেল পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ

    জানা গেল পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে কার্যকর হতে পারে। আর পূর্ণাঙ্গভাবে এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

    বিজ্ঞাপন
    অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেবে বেতন কমিশন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

    এর আগে গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। ২১ সদস্যের এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশমালা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে।
    কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।

    বিজ্ঞাপন

    সুপারিশকৃত কাঠামোতে নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থাকলেও সেটি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন।

  • ১৪ হাজার সাংবাদিকের ‘তথ্য ফাঁস’, যা বললো ইসি

    ১৪ হাজার সাংবাদিকের ‘তথ্য ফাঁস’, যা বললো ইসি

    আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড সংগ্রহের জন্য তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট থেকে ১৪ হাজার সংবাদকর্মীর তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কমিশন দাবি করেছে, এটি কোনো হ্যাকিং বা তথ্য ফাঁস নয়, বরং ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের সময় কিছু তথ্য সাময়িকভাবে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল।

    শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

    ইসি জানায়, প্রথমবারের মতো অনলাইন পোর্টালে (pr.ecs.gov.bd`) আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করলে সাংবাদিকরা নানা জটিলতায় আপত্তি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন আবেদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, “যখন পর্যবেক্ষকদের আবেদনের পথটি বন্ধ করা হচ্ছিল, তখন কারিগরি কারণে কিছু সময়ের জন্য ড্যাশবোর্ড ও অ্যাডমিন প্যানেল দৃশ্যমান ছিল। তবে সেখানে কোনো তথ্য ডাউনলোডের সুযোগ ছিল না।”

    পেশাদার ফার্মের বদলে এআই ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরির যে সমালোচনা উঠেছে, সে বিষয়ে ইসি জানায়, সাইটটি তাদের নিজস্ব প্রোগ্রামাররা তৈরি করেছেন। এআই দিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়টি তিনি নাকচ করে দেন।

    তথ্য নিরাপত্তা এবং সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে ইসি তার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য আগের মতো ‘ম্যানুয়ালি’ আবেদন যাচাই-বাছাই করে কার্ড বা পাস দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবরের কথা জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ সভা শেষ হয়।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সূত্র অনুযায়ী, যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

    এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে পেনশন ও বেতন কাঠামোর নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি পেনশনভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।

  • নির্বাচন কি স্থগিত হচ্ছে, যা জানাল কমিশন

    নির্বাচন কি স্থগিত হচ্ছে, যা জানাল কমিশন

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে বা আইনি জটিলতায় প্রার্থিতা বাতিল হলে ওই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার বিধান রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর সংশোধিত বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমন পরিস্থিতিতে নতুন তফশিল ঘোষণা করবে।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিলের আইনি বিধান

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭(১) অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন কিংবা অনুচ্ছেদ ৯১ক ও ৯১ঙ অনুযায়ী কারও প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করবেন। আইন অনুযায়ী, নির্বাচন বাতিল হলে কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং কমিশন নতুন নির্বাচনি তফশিল ঘোষণা করবে।

    এছাড়া যারা আগের তফশিলে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র বা জামানতের টাকা জমা দিতে হবে না বলেও জানিয়েছে ইসি।

    নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, আইনে যেহেতু বলা আছে বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে তফশিল বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই তফশিলে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, উনি এখনো বৈধ প্রার্থী হননি। এছাড়া খালেদা জিয়ার অবস্থা বিবেচনায় বিএনপি উনার আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে। কাজেই এটা নিয়ে সমস্যা হবে না বলে আমার মত।

    নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়টা নিয়ে আমাকে আরপিও দেখে বলতে হবে।

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর তিনটি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়। আসনগুলোতে বিএনপির পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থীও মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

  • নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকেই পড়েছে সরকার

    নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকেই পড়েছে সরকার

    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিপাকেই পড়েছে সরকার। নির্বাচিত নতুন সরকার এসে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে, সরকারের এমন ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    সরকার বলছে, অর্থ সংকটের কারণে এবং সময় স্বল্পতার জন্য নতুন পে-স্কেল এখন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা একটা সুপারিশ দিয়ে যাবেন নির্বাচিত সরকারের কাছে। নতুন সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবে।

    কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটা ঝুলে যেতে পারে। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারকেই তা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

    অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মতো আর্থিক সক্ষমতা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। এজন্য অন্তত ৮০ থেকে ১০৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। আবার নির্বাচনের জন্যও সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে খরচ বাড়ছে। ফলে সব দিক দিয়েই আর্থিক চাপে আছে সরকার। এজন্য তারা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে।
    গত মঙ্গলবার জ্বালানি উপদেষ্টা বলেছেন, নতুন পে-স্কেল এই সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এর আগে অবশ্য অর্থ উপদেষ্টা একাধিকবার বলেছেন, তারা পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবেন না, তবে একটা সুপারিশ করে যাবেন।
    এ নিয়ে সচিবালয় ও এর বাইরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্দোলনে নামারও হুমকি দিয়েছেন। যদিও তারা নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রাপ্য হচ্ছেন। কিন্তু সেটাকে তারা যথেষ্ট মনে করছেন না।

    একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করার দাবি, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাবে। বর্তমানে রাজস্ব আদায়ে কাক্সিক্ষত গতি না থাকায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নির্বাচন পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যয় সংকোচনের চাপ আরও বেড়েছে।

    সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, বিদ্যমান পে-স্কেলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যম ও নিম্ন স্তরের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে।
    অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, পর্যাপ্ত রাজস্ব সংস্কার ছাড়া বড় পরিসরে বেতন বাড়লে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার বিকল্প পথ খুঁজছে বলে জানা গেছে। ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন, নির্ধারিত ভাতা বৃদ্ধি অথবা নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার মতো প্রস্তাব আলোচনায় আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ডক্টর জাহিদ হোসেন বলেন, পে-স্কেল ইস্যুতে সরকার কঠিন সমীকরণের মুখে রয়েছে। জনকর্মচারীদের ন্যায্য দাবি মেটানো আর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাঝখানে সঠিক সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, বিদ্যমান পে-স্কেলে বর্তমান বাজারমূল্যে জীবনধারণ করা কঠিন। খাদ্যপণ্যের দাম, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বেতন-ভাতা বাড়েনি। এতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন।

    একাধিক সংগঠনের নেতারা জানান, দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার বিকল্প থাকবে না। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম স্তম্ভ সরকারি কর্মচারীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগলে প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
    অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কাঠামোগত রাজস্ব সংস্কার ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা জোরদার না করে বড় পরিসরে বেতন বাড়ালে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার হয়তো ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে পারে। বিকল্প হিসেবে নির্বাচিত ভাতা বৃদ্ধি, নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়া বা সময়সীমা নির্ধারণ করে আংশিক বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

  • স্বর্ণের দাম কমছে যে কারণে

    স্বর্ণের দাম কমছে যে কারণে

    স্বর্ণের দাম কমছে যে কারণে

    বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় ব্যাপকভাবে এই নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যমে টাকা ঢালছেন বিনিয়োগকারীরা।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ধাতুটি প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি (৩১ দশমিক ১০৩ গ্রাম প্রায়) পাঁচ হাজার ডলারের সীমা অতিক্রম করে এবং অল্প সময়ের জন্য পাঁচ হাজার ৫০০ ডলারের ঘর ছুঁয়ে ফেলে। রুপা ও প্লাটিনামের দামও একইভাবে বেড়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শুক্র ও শনিবার (৩০-৩১ জানুয়ারি) দুই দফায় ভরিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা কমেছে দাম।

    এরপর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললে এসব ধাতুর দাম দ্রুতই নেমেও আসে, যদিও গত বছরের এই সময়ের তুলনায় দাম এখনো অনেক উঁচুতে।

    যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য করতে আগ্রহী হলেও যেসব দেশকে অনুকূল মনে করেন না, সেসব দেশের পণ্যের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তা বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

    যুক্তরাজ্যের আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ এমা ওয়াল বলেন, ‘ট্রাম্পের এই বাণিজ্যনীতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, যা সোনার দামের উল্লম্ফনে ভূমিকা রাখছে।

    জানুয়ারিতে সোনা ও রুপার দাম রেকর্ড উচ্চতায় ওঠে। কিন্তু শেয়ারবাজার পড়ে যায়। কারণ বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় অনমনীয় থাকা আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকিতে প্রতিক্রিয়া জানায়।

    ক্যাপিটাল ইকনমিক্সের অর্থনীতিবিদ হামাদ হোসেন বলেন, ‘ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি ও আর্থিক নীতির ঝুঁকির বিপরীতে স্বর্ণকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এ কারণেই এই মূল্যবান ধাতুটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।’

    ইউক্রেন ও গাজায় যুদ্ধ সামগ্রিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও ঘনভূত করেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার ঘটনা স্বর্ণের দামকে আরও উপরের স্তরে নিয়ে যায়।

    গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে এবং ডলারের প্রতি আস্থা কমে যায়; ফলে বিনিয়োগকারীরা অধিক নিরাপদ হিসেবে মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকে পড়েন। ট্রাম্পের ক্ষমতাকালে ডলারের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে গত বসন্তে ঘোষিত তার তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কনীতির পর।

    এমা ওয়াল বলেন, “দুনিয়া যখন অস্থির হয়ে উঠে, স্বর্ণ তখন তার স্বভাবসুলভ কাজটাই করে। বাণিজ্যিক উত্তেজনা, ভূরাজনৈতিক ফাটল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে লাফিয়ে দাম বাড়ায়।’

    তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, এমনকি ওয়াশিংটনে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও স্বর্ণের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারী এবং বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণকেই রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে প্রাধান্য দিচ্ছে। কারণ তারা বিশ্বাস করে এতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ভরতা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার ডলারভিত্তিক সম্পদ ইউক্রেনের সমর্থক বৈশ্বিক শক্তিগুলোর দ্বারা বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চয়ই কিছু দেশ লক্ষ করেছে এবং তারপর থেকেই তারা স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরপেক্ষ রিজার্ভ হিসেবে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছে।”

    হুসেইন বলেন, ‘যদিও ২০২২ সালের পর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় এখনো বেশি স্বর্ণ কিনছে। ধারণা করা হয় যে, ২০২৫ সালে তাদের চাহিদা কিছুটা কমে এসেছে।’

    অন্যান্য ক্রেতার মধ্যে রয়েছে চীন, যারা সবচেয়ে বড় স্বর্ণ ক্রেতা— যেখানে চাহিদা আসে ব্যক্তিগত গয়না ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী উভয়ের কাছ থেকে। পশ্চিমা দেশগুলোতেও বাড়ছে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা, বিশেষ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্বর্ণভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে।

    হুসেইন আরও বলেন, ‘বাজারে নতুন ক্রেতারাও বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ কিনছে, যা সাম্প্রতিক নাটকীয় মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।’

    উদাহরণ হিসেবে তিনি টেথারের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি একটি ডিজিটাল মুদ্রা কোম্পানি, যারা এত বেশি স্বর্ণ কিনেছে যে তাদের মজুত এখন কিছু ছোট দেশের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়।’

    সম্প্রতি স্বর্ণ ও রুপার দাম কেন কমেছে?

    গত কয়েক দিনে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। এর একটি কারণ বা আশঙ্কা ছিল যে, ট্রাম্প এমন একজন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে পারেন যিনি তার সুদের হার কমানোর দাবিতে নতি স্বীকার করবেন। এতে ডলারের দরপতন এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এসব পরিস্থিতিতে স্বর্ণ কেনাকে সুরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু পরে যখন খবর আসে যে প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ার্শকে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যিনি অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল বলে বিবেচিত, তখন স্বর্ণ, রুপা ও প্লাটিনামের দাম হঠাৎই কমে যায়।

    চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিদ্যমান শুল্ক এবং ট্রাম্পের আরও শুল্ক আরোপের হুমকি, পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সংঘাত— এসব কারণে মূল্যবান ধাতুর দাম এখনো গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ খুঁজতে থাকা বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ ও রুপার আকর্ষণ আগের চেয়ে আরও বেশি।

    স্বর্ণের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো এর তুলনামূলক দুর্লভতা।

    এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বাজার প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, ‘আপনি যখন স্বর্ণের মালিক হন, এটি কারও ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকে না। যেমন, বন্ড বা শেয়ারে কোম্পানির পারফরম্যান্সের মান ঠিক করে দেয়। অতি অনিশ্চিত সময়ে এটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম।’

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা, নির্বাসনে হাসিনা: টিকে থাকবে আওয়ামী লীগ?

    নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা, নির্বাসনে হাসিনা: টিকে থাকবে আওয়ামী লীগ?

    বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের রাজবাড়ী জেলার মাঝি রিপন মৃধা। প্রমত্ত পদ্মা নদীতে রাতভর মাছ ধরার পর ভোরে পা ধুতে ধুতে কাছাকাছি জায়গার একটি বাজারের দোকানের দেয়াল ও শাটারে চোখ বুলিয়ে নেন তিনি। কিছু দিন আগেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের চেহারাসংবলিত বড় বড় পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো ছিল সেখানে। কিন্তু আজ সেসব চিহ্ন আর সেখানে নেই।

    ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের প্রায় কোনো চিহ্নই আর সেখানে নেই বললেই চলে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনার সেই কঠোর শাসনের অবসান হয়। উৎখাত হওয়ার পর তিনি তার ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রতিবেশী দেশ ভারতে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন।

    অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় এক হাজার চার শর বেশি মানুষ হত্যার ঘটনায় তার ভূমিকার জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

    হাসিনাকে উৎখাতের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজীবন আওয়ামী লীগের ভোটার রিপন মৃধা জানান, তিনি যে দলকে সমর্থন করেন, সেই দলকে নিষিদ্ধ করার পর নির্বাচন নিয়ে তার তেমন আগ্রহ নেই। এরপরও তিনি হয়তো ভোট দেবেন। কিন্তু ব্যালটে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক না থাকায় কোন দলকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে এখনো দোটানায় আছেন। আলজাজিরার রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে।

    হাসিনার শাসনামলে আওয়ামী লীগের প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী পদ্ধতিগত নিপীড়নের শিকার হয়েছে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দলটির কয়েক নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও ছিলেন। গত ডিসেম্বরে তিনি মারা গেছেন। তার ছেলে এবং বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ডিসেম্বরেই দেশে ফিরেছেন।

    বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলার মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত হচ্ছে। এতে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। যেসব এলাকায় একসময় আওয়ামী লীগ আধিপত্য ছিল, সেখানে দলটির পুরোনো সমর্থকদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা যায়, তাদের মনোভাব বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে জানালেও অন্যরা আদৌ ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

    গোপালগঞ্জে রিকশাচালক সোলায়মান মিয়া বলেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বছর ভোট দেবেন না। তার ভাষায়, ‘ব্যালটে নৌকা ছাড়া নির্বাচন কোনো নির্বাচন না।’ গোপালগঞ্জের অনেক বাসিন্দা তার সঙ্গে একমত।

    আওয়ামী লীগ কি ফিরবে?

    ঢাকার কেন্দ্রস্থল গুলিস্তান এলাকায় রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় সেখানে ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়। এর পর থেকে পরিত্যক্ত ওই ভবনে গৃহহীনেরা আশ্রয় নিয়েছেন। ভবনের কিছু অংশ গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    কার্যালয়ের বাইরে হকার আবদুল হামিদ বলেন, কয়েক মাস ধরে এই এলাকার আশপাশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে আওয়ামী লীগের কোনো সমর্থককে পাবেন না। কেউ সমর্থক হলেও তা কখনো স্বীকার করবে না। আওয়ামী লীগ আগেও সংকটে পড়েছে, কিন্তু কখনো এ রকম প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়নি।’

    কাছেই আরেকজন হকার সাগর, উলের তৈরি মাফলার বিক্রি করছেন, যেগুলোতে বিএনপি এবং তার সাবেক মিত্র ও বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক রয়েছে।

    সাগর বলেন, ‘এই দলগুলোর মাফলার ভালোই বিক্রি হচ্ছে।’ তবু এরপর আওয়ামী লীগ কিছু সমর্থক দলের ফিরে আসার বিষয়ে আশাবাদী।

    ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আরমান বলেন, ‘দল হয়তো কৌশলগত নীরবতা পালন করে থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক দূরের বিষয়।’

    আরমান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। আর যখন ফিরবে, শেখ হাসিনাকে নিয়েই ফিরে আসবে।’

    তবে ঢাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জবান ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি এতটা নিশ্চিত নন। তিনি মনে করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের টিকে থাকা কঠিন হবে।

    রেজাউল করিম রনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যদি আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন হয়ে যায়, তাহলে তাদের ভোটাররা ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে একধরনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। তারা স্থানীয়ভাবে মিশে যাবে, যে দল বা শক্তি তাদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করবে, তাদের সঙ্গে মিশে যাবে। এভাবে তারা দৈনন্দিন জীবন সাজাতে শুরু করবে।’

    রেজাউল করিম বলেন, এতে একবার নির্বাচন হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের জন্য তার সমর্থকদের ফিরে পাওয়া কঠিন হবে। তিনি বলেন, যদিও দলের সমর্থকদের একটি অংশ এখনো হাসিনা ছাড়া দলের ভবিষ্যৎ দেখতে পান না, তারপরও দলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তার শাসনামলে কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে হতাশ।

    রেজাউল করিম বলেন, ‘সমর্থকেরা বিভক্ত থাকায়, হাসিনা থাকুক বা না থাকুক, আওয়ামী লীগের জন্য আগের রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরে আসাটা অত্যন্ত কঠিন—প্রায় অসম্ভব।’

    ‘রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন মনে হচ্ছে’

    অন্য বিশ্লেষকেরা যুক্তি দিচ্ছেন, আপাতবিরোধী মনে হলেও জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থনের সাম্প্রতিক জোয়ারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পুনরুত্থানের এক ধরনের প্রাসঙ্গিকতা পাওয়া যেতে পারে।

    ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় জামায়াত পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। শেখ হাসিনাসহ দলটির সমালোচকেরা তাদের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বারবার এই ভূমিকার কথা টেনে আনছেন।

    জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে দুবার নিষিদ্ধ হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে দলটির শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবু দলটি টিকে আছে এবং জনমত জরিপ অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারা তাদের ইতিহাসের সেরা ফল করার সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক তৎপরতা, প্রভাব ও দৃঢ় অবস্থান, যাকে এমনকি আধিপত্যের প্রদর্শন বলা যেতে পারে, তা বিস্ময়করভাবে আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখা যেতে পারে।’

    অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আগ্রহ দলটির আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কাঠামোর চেয়েও অনেক গভীরে বিস্তৃত। ফলে রাজনীতি থেকে দলটির পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানে শুধু দলটির নেতৃত্ব নয়। দলটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও যুক্ত।

    গণতান্ত্রিক শাসন নিয়ে কাজ করা মার্কিন চিন্তন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি নির্বাচনপূর্ব জরিপ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের এখনো প্রায় ১১ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে।

    যদিও চলমান নির্বাচনি প্রচারে দলটির কোনো উপস্থিতি নেই। বরং তাদের নেতাদের ভারত থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি বিতর্কিত ভাষণও রয়েছে। আগে ধারণ করা শেখ হাসিনার এই অডিও ভাষণ ছিল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তার প্রথম বক্তব্য।

    এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় তারা ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত’।

    দেশের মাটিতে শেখ হাসিনার দল তাদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, যা দলটির টিকে থাকা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান যুক্তি দেখিয়েছেন, শেখ হাসিনার তদারকিতে চালানো দমন-পীড়ন এবং নির্বাচনি মাঠ নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার অতীতের অপচেষ্টার কারণে অনেক বাংলাদেশির চোখে আওয়ামী লীগ একটি বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য হওয়ার অধিকার হারিয়েছে।

    ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে শেখ হাসিনা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিলেন। এসব নির্বাচনে কারসাজি হয়েছিল বলে ধরে নেওয়া হয়। বিরোধী দলগুলো এসব নির্বাচন বর্জন করে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল।

    তবু কুগেলম্যান মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার বংশানুক্রমিক নেতৃত্বে পরিচালিত রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য এমন যে, তারা খুব কমই বিলুপ্ত হয়।

    কুগেলম্যান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন খুব খারাপ অবস্থায় থাকলেও এবং বাংলাদেশে তারা রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছিটকে পড়লেও ভবিষ্যতে তাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে অবশ্যই উড়িয়ে দেওয়া উচিত হবে না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।’

    আওয়ামী লীগের বর্তমান সংকটকে দলটির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির দুঃসময়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন কুগেলম্যান। হাসিনার শাসনামলে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি কার্যকর কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাচনি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছিল, বর্তমানে ক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দলটি ফিরে এসেছে।

    কুগেলম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ সম্ভবত একটি ‘অপেক্ষা করার কৌশল’ অবলম্বন করবে। যত দিন শেখ হাসিনা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন, তিনি হয়তো ‘রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই থাকতে’ চাইবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন।

    কুগেলম্যান বলেন, ‘এতে সময় লাগতে পারে। এই অঞ্চলের রাজনীতির ধরন বিবেচনা করলে দেখা যায়, তা বেশ অস্থির ও পরিবর্তনশীল। ভবিষ্যতে যদি কোনো সুযোগ তৈরি হয় এবং আওয়ামী লীগ একটি কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে নামার মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারে, তবে দলটি ভালোভাবে ফিরে আসতে পারে। তবে আপাতত দলটি কার্যত পুরোপুরি স্থবির বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’

    তথ্যসূত্র: আল জাজিরা