News24x7

  • নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

    নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।

    এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।

    অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

  • সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন যত টাকা বেতন বাড়লো সরকারি চাকরিজীবীদের

    সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন যত টাকা বেতন বাড়লো সরকারি চাকরিজীবীদের

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এবারই প্রথম গ্রেড অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিছনের গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি হারে এ ভাতা পাবেন, আর সামনের গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন কম হারে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী:
    – ১ থেকে ৩য় গ্রেড: মূল বেতনের ১০%।
    – ৪ থেকে ১০ম গ্রেড: মূল বেতনের ২০%।
    – ১১ থেকে ২০ম গ্রেড: মূল বেতনের ২৫%।

    – সর্বনিম্ন বেতন বৃদ্ধি ৪,০০০ টাকা।
    – সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধি ৭,৮০০ টাকা।
    কোনো চাকরিজীবী ৪,০০০ টাকার কম মহার্ঘ ভাতা পাবেন না।

    মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হওয়ার পর, আগের সরকারের দেওয়া ৫% বিশেষ প্রণোদনা সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

    পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই মহার্ঘ ভাতা পাবেন। ইনক্রিমেন্টের সময় এটি মূল বেতনের সঙ্গে যোগ হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্ধিত ভাতার অর্থায়নের জন্য উন্নয়ন বাজেট কমানো হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গেই এ ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান নিশ্চিত করেছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট হারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ২০১৫ সালের পে-স্কেলের পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। কিন্তু এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণে গঠিত কমিটি জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর আওতায় মহার্ঘ ভাতার প্রযোজ্যতা ও প্রাপ্যতার বিষয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ করেছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্ধিত ভাতার অর্থায়নের জন্য উন্নয়ন বাজেট কমানো হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গেই এ ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান নিশ্চিত করেছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট হারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ২০১৫ সালের পে-স্কেলের পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। কিন্তু এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণে গঠিত কমিটি জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর আওতায় মহার্ঘ ভাতার প্রযোজ্যতা ও প্রাপ্যতার বিষয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ করেছে।

  • এবার এক লাফে যত কমলো স্বর্ণের দাম

    এবার এক লাফে যত কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে এক লাফে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

    এর আগে, সবশেষ গত ৩১ জানুয়ারি রাতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ভরিতে ভরিতে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকাএবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।

    এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ২০ বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৬ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

    স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ৩১ জানুয়ারি সকালে নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ২৯০ টাকায়।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৯৪০ টাকা ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বেচাকেনা হচ্ছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকায়।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৫ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

  • এপস্টেইন ফাইল কী? যে কারণে এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত

    এপস্টেইন ফাইল কী? যে কারণে এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত

    যৌন অপরাধী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নথিপত্র বা ‘এপস্টেইন ফাইলস’ বর্তমানে মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    গত কয়েক মাস ধরে এই ফাইলগুলো প্রকাশের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হচ্ছিল, এমনকি খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও স্বচ্ছতার দাবি ওঠে। দীর্ঘ সময় এসব গোপন নথি প্রকাশের বিরোধিতা করার পর অবশেষে সুর নরম করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে মানি-লন্ডারিং ও যৌন অপরাধে জড়িত জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করা হয়েছে।

    জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও বিতর্কিত। ২০০৮ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের বাড়িতে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয়। সে সময় প্রভাব খাটিয়ে প্রসিকিউটরদের সাথে একটি আপিল চুক্তির মাধ্যমে বড় সাজা থেকে বেঁচে গেলেও তাকে যৌন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

    তবে ১১ বছর পর পুনরায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন ব্যবসার নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হন। বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে কারাগারে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়, যাকে পরবর্তীতে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য এবং এপস্টাইনের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র ও ইমেইল সংগ্রহ করা হয়, যা এখন ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত।

    এই নথিপত্র নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম জড়ানোর মূল কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইন প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তিনি তার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং তার কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি জানতেন না।

    তবে হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাটরা সম্প্রতি এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া কিছু ইমেইল প্রকাশ করেছেন। সেখানে ২০১১ সালের একটি ইমেইলে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ থাকতে দেখা যায়।

    প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, এপস্টেইন ম্যাক্সওয়েলকে লিখেছিলেন যে জনৈক ভিক্টিম তার বাড়িতে ট্রাম্পের সাথে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ওই ভিক্টিম হলেন ভার্জিনিয়া গিফ্রে।

    তবে মজার ব্যাপার হলো, মৃত্যুর আগে গিফ্রে নিজেই জানিয়েছিলেন যে তিনি ট্রাম্পকে কোনো অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে দেখেননি। প্রকাশিত এই ফাইল বা ইমেইলগুলোতে ট্রাম্পের সরাসরি কোনো অন্যায়ের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পও বারবার দাবি করে আসছেন যে এপস্টেইনের অন্ধকার জগতের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। মূলত এই ফাইলগুলো জনসমক্ষে এলে আরও কত প্রভাবশালীর নাম বেরিয়ে আসবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

    সূত্র: বিবিসি।

  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি বৈঠক ডেকেছে

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি বৈঠক ডেকেছে

    আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের ঠিক আগে বাংলাদেশ দলের সমর্থন করে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের এমন ঘোষণায় বিপাকে পড়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি)।

    যে কারণে আজ ভার্চ্যুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার। একই খবর দিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও।

    সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, আইসিসি একটি মিটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করায় পাকিস্তানকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হতে পারে। আরেক সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ জানায়, এই মিটিং আগামীকাল কিংবা বৃহস্পতিবার হতে পারে।

    ভারতের সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাগরণ লিখেছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়টি এখনো আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পিসিবি। তবে পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে আজই আইসিসিকে ই-মেইল করার কথা পিসিবির।

    সূত্র মতে, পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে জয় শাহর নেতৃত্বধীন বোর্ড থেকে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর বাবা ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল রাতে পাকিস্তান সরকারের এক পোস্টে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়োন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিচ্ছে। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।’

    আইসিসি জানিয়েছে, (ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলা) এ বিষয়ে তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় আছে।

    তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান যদি বেছে বেছে কিছু ম্যাচে অংশ নেয়, তবে সেটি টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে। আইসিসি সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যেমন ভালো হবে না, তেমনি পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্যও তা হতাশার। আইসিসি পিসিবিকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছে।

    জিও সুপারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং ভবিষ্যতে আইসিসির টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা।

    সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যান্য শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সীমিত করা এবং পাকিস্তান সুপার লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে আইসিসি। পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার কারণে সম্প্রচারকারী সংস্থা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের যে ক্ষতি হবে, তার জন্য পিসিবিকে দায়ী করে তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও চাওয়া হতে পারে।

  • বিদেশে বসে বিচারপতির পদত্যাগ: সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়

    বিদেশে বসে বিচারপতির পদত্যাগ: সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়

    ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি বিচার কাজের বাইরে ছিলেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কানাডা থেকে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়েছেন।

    বিচারপতি মামনুন রহমান রাষ্ট্রপতি বরাবর তাঁর পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়েছেন, যা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে এসে পৌঁছেছে। তাঁর পারিবারিক সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানান, পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, বিনা ছুটিতে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ইতিপূর্বেই রাষ্ট্রপতির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল। উল্লেখ্য, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এর আগে হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতিকে অপসারণ করেছেন।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৯ জন বিচারপতি এখন আর দায়িত্বে নেই; কেউ কেউ তদন্তের পর বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন, কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, আবার কেউ স্বাভাবিক অবসরে চলে গেছেন।

    বাকি তিনজন বিচারপতি পদে থাকলেও তাঁরা বর্তমানে বিচারিক কাজে (বেঞ্চের দায়িত্ব) নিয়োজিত নেই। এ ছাড়া, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল হওয়ায় চলতি মাসে বিচারপতি এম আর হাসানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছুটিতে থাকা মোট ১৩ জন বিচারপতির বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের আরও দুই জন বিচারপতি স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন, যাঁদের একজন ছিলেন এই বিচারপতি মামনুন রহমান।

  • নির্বাচনের ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার

    নির্বাচনের ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র নয় দিন বাকি থাকায় দেশজুড়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও নানা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে কয়েকটি এলাকায় প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন হওয়ার তিন দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

    নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎসবের আমেজ। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সরকার বরাবরের মতোই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যেই আবার আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যু।

    সূত্র জানায়, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। মূলত গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলেও তখন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। এবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ত্যাগ করবেন। প্রথমে তারা জাপানে যাবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (বিজেপিএ) স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এরপর সেখান থেকেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

    এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সে দেশ থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এই সুবিধা মিললে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানিও বাড়বে।

    রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নির্ধারিত তারিখ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হবে।

    পাল্টা শুল্কের হার কত হতে পারে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে ২০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে একই হার কার্যকর আছে, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে আরও বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হলেও ৯ ফেব্রুয়ারির আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ ছাড়া এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    Jahan

  • পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবরের কথা জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ সভা শেষ হয়।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সূত্র অনুযায়ী, যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

    এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে পেনশন ও বেতন কাঠামোর নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি পেনশনভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।

  • নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ,যে ১০ আসনে থাকছে না বিএনপি

    নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ,যে ১০ আসনে থাকছে না বিএনপি

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১০টি আসনে বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ব্যবহার করা যাবে না। এর মধ্যে কুমিল্লার দুটি আসনে দলটির প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ায় সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে পারছেন না।

    কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির নেতা ও প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহের দায়ের করা ঋণখেলাপির অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে ২১ জানুয়ারি তা সরাসরি খারিজ হয়ে যায়। পরে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।

    অন্যদিকে, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন, যা গত ২২ জানুয়ারি খারিজ করে দেন আদালত। এরপর তিনি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে ওই দুই প্রার্থীর অংশগ্রহণের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।

    এদিকে, বিএনপি তার মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য মোট ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পেয়েছে ৪টি আসন। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং গণ অধিকার পরিষদ পেয়েছে একটি করে আসন।

    এই দলগুলোর প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

    জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক ‘খেজুরগাছ’ প্রতীক নিয়ে সিলেট-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই প্রতীক নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী নির্বাচনে লড়ছেন।

    অন্যদিকে, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ‘কোদাল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    এ ছাড়া পটুয়াখালী-৩ আসনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ এবং ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

    সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১০টি আসনে বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ থাকছে না।

  • এপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম, আরও যা জানা গেল

    এপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম, আরও যা জানা গেল

    যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত নতুন ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম।

    এবার ওইসব নথি থেকে বের হয়ে এসেছে বাংলাদেশের পলাতক ও দণ্ডিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও।

    হাসিনার সঙ্গে এপস্টেইনের টিমের যোগাযোগ ছিল। তবে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এর বদলে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

    মেইলে বলতে দেখা যায়, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ২০ বছর ধরে কাজ করা নারী সহকারী লেসলি গ্রোফ এক মেইলে জানিয়েছেন, কোনো একটি অজানা বিষয়ে তার টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। তবে বিষয়টি কী, তা বলা হয়নি।

    মেইলটি পাঠানো হয়েছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখ রাত ১টার দিকে। মেইলের বিষয়বস্তুর নাম ছিল- জেফরি এপস্টেইন।

    এদিকে শুধু শেখ হাসিনার নামই নয়- এপস্টেইন নথিতে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

    এপস্টেইনের ওই ইমেইলে উল্লেখ আছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার পরামর্শ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করেন। এপস্টেইন আরও দাবি করেন যে, ‘এটি কাজ করেছিল’।

    ২০১৭ সালে মোদি সত্যিই ইসরায়েল সফর করেন- যা ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর এবং তার কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে দেখা করেন।

    এপস্টেইনের সঙ্গে ভারতীয় ব্যবসায়ী অনিল আম্বানিরও যোগাযোগের উল্লেখ আছে নথিতে, যেখানে আম্বানি মোদির আমেরিকা সফরের আগে এপস্টেইনের সাহায্য চেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

    এপস্টেইন ছিলেন নিউইয়র্কের এক ধনী আর্থিক বিনিয়োগকারী, যিনি ছিলেন নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত।

    ২০০৮ সালে এপস্টেইন ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক তরুণীর সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও অত্যন্ত বিতর্কিত এক চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ১৩ মাসের হালকা শাস্তি ভোগ করে মুক্তি পান।

    পরে জানা যায়, সেই চুক্তিটি ছিল বিচার বিভাগ ও স্থানীয় প্রসিকিউশনের অস্বাভাবিক ছাড়, যা এপস্টেইনকে আরও বহু গুরুতর অভিযোগ থেকে রক্ষা করেছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে আবারও তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের মামলা হয়।

    এফবিআই ও ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, এপস্টেইন ‘বহু বছর ধরে’ ১৪–১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের বিশ্বজুড়ে তার বাড়ি ও ব্যক্তিগত বিমানে এনে শারীরিক নির্যাতন করতেন।

    তদন্তে উঠে আসে, তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের অপরাধমূলক চক্রকে দীর্ঘদিন আড়াল করে রেখেছিলেন।

    ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেডিকেল পরীক্ষায় এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, কারাগারের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি, নজরদারি ক্যামেরা বিকল হয়ে যাওয়া এবং প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলাসহ একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসায় তার মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

    এপস্টেইনের সহযোগী ঘিষলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০২১ সালে তিনি নাবালিকাদের যৌন পাচারসহ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে ঘিষলেইন ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।