News24x7

  • নতুন স্পিকার হিসেবে সবচেয়ে আলোচনায় যিনি

    নতুন স্পিকার হিসেবে সবচেয়ে আলোচনায় যিনি

    বিদায়ী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। তার সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

    সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার নতুন স্পিকার নির্বাচনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। তবে বর্তমান স্পিকারের পদত্যাগের কারণে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এখনো কোনো সরকারি দায়িত্ব পাননি।

    এ কারণে স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভা ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেলেও প্রবীণ এই নেতা এখনো সরকারের বাইরে রয়েছেন।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ড. আবদুল মঈন খানকে সংসদের সম্মানজনক কোনো পদে রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

    ড. মঈন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়। অনেকের মতে, তাকে স্পিকার করা হলে তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

  • বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্তের পথে। বেতন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে নতুন স্কেল কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়েছে।

    সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা এরইমধ্যে চূড়ান্ত করেছে। আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন জমার পর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    এবারের পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপারিশমালা অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থাকলেও তা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে, যাতে বেতন বৈষম্য কমে আসে।

    নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যয়ের সংস্থান নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি আংশিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
    উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় ১০ বছর পর নতুন এই বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

    দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

    দেশের বাজারে মার্চ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার আলোকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার ১ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও বর্তমান দর

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা দরেই বিক্রি হবে। এছাড়া পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১২ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারিত এই মূল্যহার পুরো মার্চ মাস জুড়ে কার্যকর থাকবে।

    স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি

    সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের দাম সমন্বয় করতে ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’ অনুসরণ করছে। প্রতি মাসে এই পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। তবে মার্চ মাসের জন্য দাম না বাড়িয়ে আগের হারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা

    জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও কৃষি খাতের ওপর প্রভাব বিবেচনা করে সরকার এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সেচ মৌসুম ও পণ্য পরিবহনে যাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

  • ইরান সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) এর ১০ টি ভবিষ্যদ্বাণী!

    ইরান সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) এর ১০ টি ভবিষ্যদ্বাণী!

    ইসলামের ইতিহাসে পারস্য বা বর্তমান ইরানের ভূমিকা অত্যন্ত গভীর। আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পারস্যের অধিবাসীদের জ্ঞান, ঈমান এবং শেষ জামানায় তাদের ভূমিকা নিয়ে এমন কিছু কথা বলে গেছেন, যা আজও গবেষকদের বিস্মিত করে। হাদিসের আলোকে ইরান ও পারস্য সম্পর্কিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. ঈমান ও জ্ঞানের উচ্চ শিখরে আরোহণ

    সহিহ মুসলিমের একটি বিখ্যাত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) সালমান ফারসি (রা.)-এর ওপর হাত রেখে বলেছিলেন, যদি ঈমান থুরাইয়া তারকায় (মহাকাশের একটি নক্ষত্রপুঞ্জ) গিয়েও পৌঁছায়, তবে পারস্যের কিছু লোক সেখান থেকেও তা অর্জন করে নিয়ে আসবে। এই ভবিষ্যৎবাণী সত্য হয়েছে মধ্যযুগে, যখন ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু হানিফা এবং ইবনে সিনার মতো পারস্য বংশোদ্ভূত মনীষীরা ইসলামি জ্ঞান ও বিজ্ঞানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    ২. সালমান ফারসি (রা.) ও আহলে বাইত

    পারস্যের সন্তান হযরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন সত্যের সন্ধানী এক মহান সাহাবী। নবীজি (সা.) তাকে এতোটাই সম্মান দিতেন যে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, সালমান আমার পরিবারের (আহলে বাইত) অন্তর্ভুক্ত। তার হাত ধরেই পারস্যে ইসলামের জয়যাত্রা এবং নবীজির বিশেষ দোয়ার সূচনা হয়।

    ৩. খোরাসান ও কালো পতাকাবাহী দল

    হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, শেষ জামানায় খোরাসান (যার বড় অংশ বর্তমান ইরানে অবস্থিত) থেকে কালো পতাকাবাহী একটি দল বের হবে। তারা সত্যের পক্ষে লড়াই করবে এবং ইমাম মাহদীর আগমনের পথ প্রশস্ত করবে। বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা অনেককে এই হাদিসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ৪. দাজ্জাল ও আসফাহানের ৭০ হাজার অনুসারী

    সহিহ মুসলিমের ২৯৪৪ নম্বর হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে যে, শেষ জামানায় দাজ্জালের প্রধান অনুসারী হবে ইরানের আসফাহান শহরের ৭০ হাজার ইহুদি, যারা বিশেষ ধরনের চাদর পরিহিত থাকবে। আজও আসফাহানে একটি উল্লেখযোগ্য ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করে, যা নবীজির নবুয়তের এক জীবন্ত নিদর্শন।

    ৫. জ্ঞান বিজ্ঞানে অনারবদের আধিপত্য

    নবীজি (সা.)-এর ইঙ্গিত অনুযায়ী, আরবরা একসময় জ্ঞানচর্চায় পিছিয়ে পড়লেও অনারবরা (বিশেষ করে পারস্যের লোকরা) ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে ধরবে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সিহাহ সিত্তাহর (হাদিসের প্রধান ৬টি কিতাব) অধিকাংশ সংকলকই ছিলেন পারস্য অঞ্চলের।

    ৬. সিফফিনের যুদ্ধ ও পারস্যের ভূমিকা

    ইসলামের প্রাথমিক যুগের গৃহযুদ্ধ বা সিফফিনের যুদ্ধে পারস্যের নওমুসলিমরা হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। আলী (রা.) তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন যে, তারা এমন এক জাতি যাদের সম্পর্কে নবীজি (সা.) আগে থেকেই প্রশংসা করে গেছেন।

    ৭. ভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয়তা

    পারস্যের মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলেও নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেনি। বার্নার্ড লুইসের মতে, ইরান ইসলামি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা আরবি হয়ে যায়নি। নবীজির একটি ইশারায় জিব্রাইল (আ.) জানিয়েছিলেন যে, প্রতিটি জাতি তাদের নিজস্ব ভাষায় আল্লাহর প্রশংসা করতে পারে, যা পারস্যের নিজস্ব তাফসির ও সাহিত্যের ভিত্তি গড়ে দেয়।

    ৮. মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানো ও ইনসাফ

    হাদিসে ইমাম মাহদীর শাসনামলে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। ইরানের বর্তমান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইমাম মাহদীর আগমনের প্রতীক্ষা এবং একটি ইসলামি সমাজ গঠনের যে দাবি করে, তা অনেক ক্ষেত্রে এই আধ্যাত্মিক চেতনার সাথে সম্পর্কিত।

    ৯. শেষ জামানার মহাযুদ্ধ

    হাদিসে ফিতনা ও হত্যাকাণ্ডের যে আধিক্যের কথা বলা হয়েছে, আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির যুগে তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। পারস্য অঞ্চল এই সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে, যা কিয়ামতের আলামত হিসেবে বর্ণিত মহাযুদ্ধের (মালহামা) ইঙ্গিত হতে পারে।

    ১০. মুসলিম উম্মাহর ঐক্য

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক আলেমগণ সর্বদা মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, আরব বা অনারব কারো ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ায়। এই মূলমন্ত্রই ইরানসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের টিকে থাকার চাবিকাঠি।

    পরিশেষে, ইরান বা পারস্য সম্পর্কে এই ভবিষ্যৎবাণীগুলো আমাদের সতর্ক করার এবং ঈমান মজবুত করার জন্য। কিয়ামতের সঠিক সময় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না, তবে নবীজি (সা.)-এর প্রতিটি কথা যে ধ্রুব সত্য, তা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিই প্রমাণ করছে।

  • বাংলাদেশকে বড় নিষেধাজ্ঞা দিল সৌদি আরব

    বাংলাদেশকে বড় নিষেধাজ্ঞা দিল সৌদি আরব

    জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে কাঁচা মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। দেশটির খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ এক সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (বার্ড ফ্লু) এবং নিউক্যাসল রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশসমূহ

    বুধবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, এশিয়ার বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চীন ও জাপান এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ইউরোপের যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এবং উত্তর আমেরিকার মেক্সিকোসহ মোট ৪০টি দেশ এই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, কানাডা এবং মালয়েশিয়াসহ ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে।

    প্রক্রিয়াজাত পণ্যে ছাড়

    সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র কাঁচা মুরগি এবং কাঁচা ডিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তাপ-প্রক্রিয়াজাত (হিট প্রসেসড) মুরগির মাংস বা ডিম থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। শর্ত থাকে যে, এসব পণ্য উৎপাদনে সৌদি আরবের নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে। যথাযথ স্বাস্থ্য সনদ থাকলে এসব প্রক্রিয়াজাত পণ্য আমদানিতে কোনো সমস্যা হবে না।

    সাময়িক পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পুনর্বিবেচনা

    সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সাময়িক। বিশ্বজুড়ে বার্ড ফ্লু পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এবং ভাইরাসের ঝুঁকি কমে আসলে এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা হবে। মূলত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

    রপ্তানি খাতে প্রভাব

    হঠাৎ করে এই নিষেধাজ্ঞা আসায় বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পোল্ট্রি রপ্তানিকারকরা সাময়িক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে যারা মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে কাঁচা পোল্ট্রি পণ্য সরবরাহ করেন, তাদের এখন বিকল্প বাজার খোঁজা অথবা প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানির দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

  • শিক্ষকদের বাড়তি বেতন-ভাতা সুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

    শিক্ষকদের বাড়তি বেতন-ভাতা সুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

    রমজান মাসজুড়ে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ছুটির প্রজ্ঞাপন কবে জারি হবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনার অনুলিপি পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিঠি জারি করা হতে পারে।

    রমজানে স্কুল বন্ধ রাখা হবে, নাকি এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল করা হবে—তা নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা নির্দেশনার বিষয়ে অবগত থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। আগামী সোমবার বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে।

    রোববার দুপুরে বিচারপতি বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পুরো রমজান মাসে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

    আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল এবং অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

    রিট আবেদনের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিশ পাঠানো হয়।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রথা চালু রয়েছে, যা আইন, নীতি ও রীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কিছু করা যায় না এবং ১৫২(১) অনুচ্ছেদে ‘আইন’ বলতে প্রথা ও রীতিকেও বোঝানো হয়েছে। সে বিবেচনায় রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলা হয়।

    নোটিশে আরও বলা হয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত ও শ্রেণিকক্ষে অংশ নিয়ে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হতে পারে, ফলে ধর্মীয় অনুশীলনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি রমজানে বিদ্যালয় খোলা থাকলে শহরাঞ্চলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    নোটিশের জবাব না পাওয়ায় পরবর্তীতে রিট দায়ের করা হয়।

  • যেভাবে পাবেন ‘কৃষক কার্ড’, আবেদন করতে যা লাগবে

    যেভাবে পাবেন ‘কৃষক কার্ড’, আবেদন করতে যা লাগবে

    দেশের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্যোন্নয়নে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে সারা দেশে চালু হতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’। আনুমানিক ১২ লাখ কৃষককে উপকৃত করতে সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার সচিব নাসিমুল ঘনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি ছিল। ঋণ মওকুফ সুবিধা ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কৃষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

    তিনি বলেন, ‘দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সুদসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।বাংলাদেশের রাজনীতি

    সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা সরাসরি উপকৃত হবেন।

    কী কী সুবিধা পাবেন কৃষকরা?

    এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সরকারি সেবা ও প্রণোদনা সরাসরি পাবেন।

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন স্বপন বলেন, কার্ডটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে—সরাসরি ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া যায়। কৃষি ভর্তুকি ও সার-বীজ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছায়।

    কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা লিকেজ যেন সুযোগ না পায়। রাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষকের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়।

    কিভাবে কার্ডটি কাজ করবে

    পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্ডটিতে জমির আয়তন, ফসলের ধরন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ একটি ডিজিটাল প্রোফাইল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কার্ডটিতে যেসব বৈশিষ্ট্যগুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে—

    ১. ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর।

    ২. ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার, বীজ ও কীটনাশক সহজলভ্য করা।

    ৩. কৃষিঋণ সহজ ও সুসংগঠিত করা।

    ৪. আবহাওয়া, উৎপাদন এবং বাজারের প্রবণতা সম্পর্কিত এসএমএসভিত্তিক আপডেট।

    কৃষি স্মার্ট কার্ডের নিবন্ধন ইউনিয়ন পর্যায়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) মাধ্যমে অথবা চালুর পর নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

    নিবন্ধনে কী কী তথ্য লাগবে

    স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের বেশ কয়েকটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সেগুলো হলো,

    ১. এনআইডির একটি কপি।

    ২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

    ৩. রেজিস্ট্রেশন মোবাইল নাম্বার।

    ৪. জমির দলিল কিংবা ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র।

    ৫. ব্যাংক বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

    কৃষক কার্ড পাওয়ার ধাপসমূহ

    সরকার প্রধানত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই কার্ডটি পৌঁছে দেবে। আপনার যা করতে হবে :

    ১. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ : আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO)-এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তিনিই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন।

    ২. নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন : সরকার যখন আপনার এলাকায় ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা মূল প্রকল্প শুরু করবে, তখন আপনাকে একটি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে।

    ৩. তথ্য যাচাই : আপনার দেওয়া তথ্য (জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন ইত্যাদি) কৃষি অফিস থেকে সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

    ৪. ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি : আপনার এনআইডি এবং মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।

    ৫. কার্ড বিতরণ : যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে এই স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।

    কৃষি স্মার্ট কার্ড নিয়ে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে সরকার। কর্তৃপক্ষ বলছে, কার্ডটি বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে। কার্ডের জন্য কারো সঙ্গে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন করবেন না।

  • সৌদিতে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি

    সৌদিতে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি

    সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস।

    সোমবার (২ মার্চ) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশিদের শান্ত থাকার এবং গুজব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দি‌য়ে বলা হয়ে‌ছে, সৌদি আরবের স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও আপলোড, কোনো সংবাদ প্রচার, শেয়ার, লাইক বা কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

    আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা কিংবা ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সময়সূচি ও অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে ।

    যেকোনো জরুরি সেবার জন্য দূতাবাসের হটলাইন নাম্বার ৮০০১০০০১২৪ (কূটনৈতিক উইং), ৮০০১০০০১২৫ (শ্রম কল্যাণ উইং) ও ৮০০১০০০১২৬ (পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা) এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

  • ভিসা নিয়ে সুখবর দিল ভারত

    ভিসা নিয়ে সুখবর দিল ভারত

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা।

    সোমবার (২ মার্চ) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মন্ত্রণালয়ে আসেন ভারতের হাইকমিশনার।

    প্রণয় কুমার ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত। ভিসা কার্যক্রমও দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছেন। বর্ডার হাট, বেশ কয়েকটা স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে সামনে সেগুলো চালু হবে।

    তবে বৈঠকে ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন আব্দুল মুক্তাদির।

    এরআগে রোববার (১ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সচিবালয়ে এক বৈঠকে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম ভারত পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করবে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

    সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালুকরণ ও ভিসা দেওয়ার হার বাড়ানোর জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, আমরা পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দিচ্ছি। কিন্তু গত দেড় বছরে সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে আমাদের ভিসা সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ভিসা দেওয়ার হার কম ছিল।

    মন্ত্রী এ সময় ভারতীয় ভিসা সেন্টারসহ ভারতীয় স্থাপনাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে মর্মে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।

    হাইকমিশনার বলেন, ভারতীয় ভিসার আবেদন এখন অনলাইনে নেওয়া হয়। সেজন্য ওয়েবসাইটটি হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। মন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) নির্দেশ দেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক নয়।

    তিনি বলেন, আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে নবায়ন করতে চাই।

    তিনি আরও বলেন, আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার। দুদেশের পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে অভিন্ন স্বার্থ।

    বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। মন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। হাইকমিশনার এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা একসঙ্গে পারস্পরিক ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করতে চাই।

    তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় যেটি দুদেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে সেটি হলো সীমান্ত হত্যা। তিনি সীমান্তে হত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো অনেক উন্নত মানের। তিনি ভারতের আইটিইসি প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি হারে প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি হারে ভারতে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো হবে মর্মে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।

    বৈঠকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধে, কাউন্সেলর অভিজিৎ সপ্তর্ষি ও প্রথম সচিব অ্যান মেরি জর্জ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফাঁস হলো খামেনি হত্যার নীলনকশা

    ফাঁস হলো খামেনি হত্যার নীলনকশা

    দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিকল্পনার পর বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের লক্ষ্যনির্ভর হামলা রাতের আঁধারে পরিচালিত হলেও এবার দিনের শুরুতেই হামলা চালানো হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি কম্পাউন্ডে খামেনির অবস্থান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় সেখানে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে যেতে পারেননি খামেনি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কম্পাউন্ডটিকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় খামেনি ভূগর্ভস্থ একটি বাঙ্কারে অবস্থান করছিলেন। লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস নিশ্চিত করতে ভারী গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়।

    একই সময়ে তেহরানের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ও লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানা গেছে। তবে ইরানি সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিরাপদ রয়েছেন।

    ইরান জানিয়েছে, হামলায় দেশটির তিন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা—আলি শামখানি, আজিজ নাসিরজাদেহ এবং মুহাম্মদ পাকপৌর নিহত হয়েছেন।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে অবস্থান করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার টিম পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ইরান আগেই বিকল্প নেতৃত্ব নির্ধারণ করে রেখেছিল। এই হত্যাকাণ্ড চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথ কতটা বদলে দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।