Category: সারাদেশ

  • পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল

    পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল

    সরকারি কর্মচারীদের প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেলের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে নতুন সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

    গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান তিনি। তিনি জানান, কর্মচারীরা পে স্কেল পাবেন।

    কিন্তু নতুন এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বৈঠকে পে স্কেল বাস্তবায়নের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।

    সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উপসচিব মো. আব্দুল খালেক এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক এম এ হান্নানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

    বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান এম এ হান্নান।

    প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাতে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু বলেছেন, তাই আপনারা ধীরে ধীরে পে স্কেল পাবেন। তবে এখনই সব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, কিছু সময় লাগবে। আপনারা ধৈর্য ধরুন।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠিত হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়।

    এদিকে, নবম পে স্কেল কার্যকরের দাবিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
    গত ২০ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটির সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামোগত বৈষম্য নিরসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন পে স্কেল প্রণয়নের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এতে আরো উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে প্রণীত অষ্টম পে স্কেলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি, আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে স্কেল না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ বেড়েছে।

    সংগঠনের নেতাদের দাবি, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে ছয় সদস্যের একটি পরিবারের ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা মতে, বাস্তব বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি।

    সরকারের আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

    ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান।
    একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবিপত্র উপস্থাপন করবেন।
    ৩. পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ, মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
    সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানায়, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু না হলে ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • বদলে গেছে স্বর্ণের বাজার

    বদলে গেছে স্বর্ণের বাজার

    সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (রোববার, ১ মার্চ) থেকে মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হবে নতুন দামে।

    সবশেষ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা ও ১১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

    এর আগে, সবশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকেই।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২২ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

    স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার বাড়ানো রয়েছে রুপার দামও। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২০ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

  • ঘোষণা করা হলো ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ

    ঘোষণা করা হলো ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ

    চলতি বছরের পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেই হিসেবে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে।

    শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।

    ইমেরাতস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী এবার রমজান মাস ৩০ দিনের হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে এর পরদিন অর্থাৎ ১৯ মার্চ শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

    আরবি শাওয়াল মাসের চাঁদ জন্ম নেয়ার সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করে আল জারওয়ান বলেন, ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দুবাই সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। ওইদিন সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তের উপরে অবস্থান করবে। যদি আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতা অনুকূলে থাকে, তবে ওই সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ২০ মার্চ শুক্রবার শাওয়াল মাসের প্রথম দিন বা ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে।

    আল জারওয়ান আশা প্রকাশ করেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ এবার রমজানের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাস শুরুর বিষয়ে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

    তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতি বছরের মতো এবারও চাঁদ দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে। ধর্মীয় ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

    সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের এক দিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ শুরু হয়। সেই হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ২০ মার্চ ঈদ হলে বাংলাদেশে ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • খামেনি হত্যাকাণ্ডের আগমুহূর্তে কী ঘটেছিল

    খামেনি হত্যাকাণ্ডের আগমুহূর্তে কী ঘটেছিল

    তেহরানের কেন্দ্রস্থলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়–কমপ্লেক্সে রোববার (১ মার্চ) ভোররাতে কী ঘটেছিল-তা নিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্থানীয় সময় রোববার ভোরের প্রথম প্রহরে তার কার্যালয়ে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময়ই ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়। এটি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরকারি কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্স-যা সাধারণভাবে বেইত-এ রাহবারি নামে পরিচিত। এখান থেকেই সর্বোচ্চ নেতা দাপ্তরিক কাজ, নিরাপত্তা বৈঠক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিচালনা করেন।

    ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি তার দাপ্তরিক কক্ষে নীতিগত ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কিছু নথি পর্যালোচনা করছিলেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি ছোট দলও কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিল। ভোরের দিকে প্রাসাদ এলাকায় স্বাভাবিক নিরাপত্তা বলয় বজায় ছিল এবং বাইরের চলাচল ছিল সীমিত।হামলার ঠিক আগে রাজধানী তেহরানের আকাশে অস্বাভাবিক বিকট শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আঘাতটি ছিল অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক।

    হামলার পরপরই প্রাসাদ কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা ছিল একটি সমন্বিত সামরিক অভিযান। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তখনো পাওয়া যায়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। খামেনি হত্যাকাণ্ড দেশটির নেতৃত্ব কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ইরানে হামলা: কেন শুরু সংঘাত, কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

    ইরানে হামলা: কেন শুরু সংঘাত, কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

    ইরানে হামলা: কেন শুরু সংঘাত, কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দুই পক্ষের এই তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

    কী ঘটেছে ইরানে?
    শনিবার সকাল প্রায় ৯টা ২৭ মিনিটে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে ইরানের বার্তা সংস্থা। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রথমে ইসরায়েল ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে “বড় ও চলমান সামরিক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “Operation Epic Fury”।

    কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?
    তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জোমহুরি এলাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদরদপ্তরের আশপাশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কেরমানশাহ, কোম, তাবরিজ, ইসফাহান, ইলাম, কারাজ ও লোরেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

    হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ব্যাখ্যা
    দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিজেদের জন্য হুমকি বলে দাবি করে আসছে। তারা বলছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করব এবং নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করব।” তিনি ইরানের সেনাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় তারা “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হবে।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তাদের অভিযানের নাম “Lion’s Roar” এবং এটি “যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে।”

    ইরানের পাল্টা জবাব
    ইরান প্রথমে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সাইরেন বেজে ওঠে বিভিন্ন শহরে। পরে কাতারের আল উদেইদ, কুয়েতের আল-সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করেও হামলার খবর পাওয়া যায়।

    ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি “চূর্ণবিচূর্ণ জবাব” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

    বিশ্ব প্রতিক্রিয়া
    ওমান জানায়, তাদের মধ্যস্থতায় চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা এই সংঘাতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে আখ্যা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

    যুক্তরাজ্য বলেছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না, তবে তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছে।

    পরিস্থিতি অনিশ্চিত
    হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীরভাবে পড়বে।

  • খামেনি যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন, তাঁর উত্তরসূরি কে

    খামেনি যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন, তাঁর উত্তরসূরি কে

    যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার তিনি নিহত হন। তাঁর মেয়ে–নাতি–পুত্রবধূ–জামাতাও নিহত হয়েছেন হামলায়।

    সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

    এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।

    ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণকারী একজন ধর্মীয় পণ্ডিতের পুত্র আলী খামেনি ১৯৬২ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন।

    ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর আলী খামেনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংগঠিত করতে সহায়তা করেন।

    রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনি মারা গেলে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ-ধর্মযাজকদের একটি পরিষদ- আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে, সংবিধান পরিবর্তন করে তাকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুমতি দেয়। যদিও তিনি শিয়া ধর্মযাজকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা অর্জন করেননি।

    আয়াতুল্লাহ খামেনি তখন থেকেই ইরানের রাজনীতি এবং এর সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দৃঢ় দখল বজায় রাখেন। শাসক ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ দমন করেছেন তিনি।

    প্রতিবেদন বলছে, তিনি অন্য দেশের বিষয়েও ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘর্ষও ছিল। আলী খামেনি বারবার ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। খামেনির শাসনামলে ইরানের সাতজন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেন।

    এদিকে আলী খামেনির মৃত্যুর পর কে হবেন তাঁর উত্তরসূরি তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রয়টার্স বলছে, হামলার দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বলেছিল, যদি খামেনি অভিযানে নিহত হন, তাহলে তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বিপ্লবী গার্ডের কট্টরপন্থী ব্যক্তিত্বরা।

    সালাউদ্দিন/সাএ

    বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাল সরকার, কোনটির লিটার কত?

    জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাল সরকার, কোনটির লিটার কত?

    মার্চ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশিকায় এই তথ্য জানানো হয়।

    নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে যে দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে, মার্চ মাসেও সেই একই দাম কার্যকর থাকবে। সরকারের সংশোধিত ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’র আলোকে এই সমন্বয় করা হয়েছে।

    সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, মার্চ মাসজুড়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬.০০ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা দরে বিক্রি হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মূল্যহার যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুমোদিত। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই মার্চ মাসের এই দর ঘোষণা করা হলো।

  • সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে কীভাবে হত্যা করা হলো?

    সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে কীভাবে হত্যা করা হলো?

    ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছেন, ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সময় জাহের আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। তার আত্মহত্যার খবরে শোকের ছায়া নেমেছে শোবিজ অঙ্গনে।

    এদিকে, ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার কারণ জানিয়ে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন তার বান্ধবী নিলুফা ইয়াসমীন।

    পাঠকদের জন্য নিচে নিলুফার সেই পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-

    ইকরা আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের ফার্স্ট ফ্রেন্ড। ও আমার ক্লাসমেট ছিল। ওর আর আমার একই দিনে ক্লাস শুরু হয়। প্রথম দিনই আমি ওর সাথে বসেছিলাম ক্লাসে। ওর বাসা ছিল মোহাম্মদপুর, আর আমি থাকতাম ফার্মগেট।

    আসাদগেট থেকে দুজন একসাথে ক্যাম্পাসের বাসে যাওয়া আসা করতাম। আমার বাসে উঠলে মাথা ঘুরাতো এজন্য ইকরার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকতাম সারা রাস্তা। তারপর ইকরা, স্বর্না আর আমার ফ্রেন্ডশিপ শুরু। আমরা তিনজন একসাথে বসতাম অলওয়েজ। সবাই আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করত, আমাদের ক্ষ্যাপাতো তিন ‘ব্রেস্টফ্রেন্ড’ বলে।

    ইকরার একটা স্বভাব ছিল যে ও কখনো আমাকে আর স্বর্নাকে অন্য কারো সাথে তেমন মিশতে দিত না। ও চাইতো শুধু ওর ফ্রেন্ড হয়েই থাকি। এই একটা কারনে ইউনিভার্সিটির মাঝামাঝিতে গিয়ে ইকরা আমাদের সাথে না থাকলেও আমাদের আর তেমন স্ট্রং ফ্রেন্ডশীপ গড়ে উঠে নাই ক্লাসে কারো সাথে। ইকরার মোহাম্মদপুরের বাসায় আমি আর স্বর্না গিয়ে থাকছি, আন্টি আমাদের রান্না করে খাওয়াইছে।

    গণরুমে প্রথম উঠলাম ১০১ নম্বার রুমে। স্বর্না ছিল ১০২ নম্বার রুমে। তখন ইমু ছিল আমার বেডমেট। ইকরার বাসা ঢাকায় হওয়াতে ওকে গণরুমে সিট দেয়া হচ্ছিল না। আমি হল সুপারকে অনেক রিকুয়েস্ট করে ইকরাকে বানালাম আমার বেডমেট। ইমু দুই সিটের রুম পেয়ে চলে গেল। এরপর আমরা ২০১ নং গণরুমে চলে গেলাম। পাশাপাশি বেডে একটাতে থাকতাম আমি আর ইকরা, আরেক বেডে থাকত স্বর্না আর সানিয়া।

    ইকরা ছিল খুব ডেয়ারিং একটা মেয়ে। আমি বা স্বর্না যা করতে পারতাম না দুম করে ইকরা সেটা করে ফেলতো। ইকরা আর আলভি পড়ত রাইফেলসে। স্কুল লাইফ থেকেই ওদের প্রেম ছিল। আলভি মাঝে মাঝে আসতো ক্যাম্পাসে। ইকরা আমার বেডমেট হওয়াতে ইকরা আলভির অনেক কিছুই শেয়ার করত। বিশেষ করে ওদের ঝগড়া হলে ইকরা আমাকে অনেক ম্যাসেজ দেখাত যে ম্যাসেজগুলো দেখে কখনোই আমার মনে হইতো না বিন্দুমাত্র রেসপেক্ট ইকরার প্রতি তার ছিল।

    যাইহোক, এরপরের দুই বছরের ঘটনা ক্যাম্পাসের অনেকেই জানে, অনেকেই জানে না। সেসব লিখতে গেলে অনেক বড় হয়ে যাবে পোস্ট। ইকরা কখনো রিক্সা ভাড়া দিত না আমাদের সাথে রিক্সায় উঠলে, কারন ও টাকা সেভ করতো আলভীর সাথে ডেটে যাওয়ার জন্য। একটা মানুষকে পাওয়ার নেশা ওর মধ্যে এতই বেশি ছিল যে পড়ালেখাটা ওর কাছে মুখ্য বিষয় ছিল না। আল্টিমেটলি ইকরা ফেইল করল, রিপিট করল জুনিয়র ব্যাচের সাথে। ততদিনে ইকরা আলভির বিয়ে হয়েছে (কিভাবে বিয়ে হয়েছে তা আমি, স্বর্না, সানিয়া ছাড়া ক্যাম্পাসের হাতে গোনা ২/১ জন জানে হয়তো)।

    ইকরা জুনিয়র ব্যাচে যাওয়ার পরে আমাদের সাথে দূরত্ব বাড়ে। ও তখন হলেও থাকত না ঠিকমত। তখন পূজা হলো আমার বেডমেট। ইকরার সাথে আলভির বিয়ের আগেই আলভি একটা রিয়েলিটি শো-এর মাধ্যমে মিডিয়া জগতে পা রাখে। তখনও একবার ওদের সিরিয়াস ব্রেক আপ হইছিল, কেন হইছিলো সেটা আপনারা বুঝলে বুঝ পাতা, না বুঝলে তেজপাতা। অথচ ইকরা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়াতে কাজ করত। একুশে টিভিতে মুক্ত খবর পড়ত, আমাকে আর স্বর্নাকে অনেকবার একুশে টিভিতে নিয়ে গেছে।

    ইকরা অনেক আগে থেকেই সেলিব্রেটি ছিল। ইকরা চাইলে মিডিয়াতে আরও অনেক উপরে উঠতে পারত। ওর মধ্যে যথেষ্ট ট্যালেন্ট ছিল। ইকরা খুব ভাল করেই জানত মিডিয়া পাড়ায় কি হয়। কিন্তু বিয়ের পরে ওর জগতটা ছিল আলভীকে ঘিরেই এবং আলভীর ক্যারিয়ার সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়ে গেছে। এরপর বাচ্চা হইল। সোস্যাল মিডিয়াতে ওর নিয়মিত সুন্দর সুন্দর পোস্ট, ওদের এনিভার্সারিতে ওদের লাভস্টোরি লেখা, ভিডিও দেখে হাজার হাজার মানুষ প্রশংসা করত। বাট এইসব গল্পের পিছনেও অনেক গল্প ছিল যেগুলো অনেকেই জানত, অনেকেই জানতো না।

    আলভীকে বিয়ের ঠিক কয়েকদিন আগেও একবার টিএসসিতে ঝগড়া করার সময়ে ইকরা সেন্সলেস হয়ে গেছিল। ইকরা চাইলেই পারত রিজিককে নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে, হয়নি। কারন মেয়েরা আসলে স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে চায় না।

    আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না তবে এইটুকু বলতে পারি ইকরা সুইসাইড করার মত মেয়ে না। ওর লাইফে অনেক স্ট্রাগল ছিল। যেহেতু ওর বাবা মা আলাদা থাকত। ওর পুরো পৃথিবীতে ওর একটাই মানুষ ছিল আলভি। ওকে শুধু ভাঙতে পারতো এই একটা মানুষ। আমি বা আমরা অনেকেই জানিনা কেন ও এই ছেলের জন্য এত ক্রেজি ছিল। একটা মেয়ে সব ছেড়ে দিয়েছিল শুধু একজনের সাথে হ্যাপি থাকার জন্য। রিজিকের জন্মের পরে ও পুরো সংসারীই হয়ে গেছিল।

    ইকরাকে অনেকদিন আগেই মানসিকভাবে মেরে ফেলা হইছিল। শারীরিকভাবে ও নিজেকে মারছে নাকি ওকে মেরে ফেলা হইছে সেটা তদন্ত করা খুব জরুরী। একটা মানুষ সব এক্সপোজ করবে বলে পোস্ট দিলো এরপর সে গলায় ফাঁসি নিলো এটা আপনাদের কাছে রহস্যজনক মনে হয় না? যদিও তদন্ত হবে না জানি। কারন ইকরার ফ্যামিলিতে এমন কেউ নাই যে এসব নিয়ে লড়বে। ওর কোনো ভাই বোনও নাই। ও একমাত্র সন্তান ছিল।

    রিজিকের কথা ভেবে ইকরার আরও স্ট্রং থাকা উচিত ছিল। যদিও স্ট্রং মানুষেরাও মাঝে মাঝে স্ট্রং থাকতে পারে না। ১২ বছর আগেই ওর বুঝা উচিত ছিল যে একবারের জন্য বিশ্বাসঘাতক সে সব সময়ের জন্য বিশ্বাসঘাতক। ভালোবাসা দিয়ে কাউকে ভালো করা যায় না এটা ইকরা আজকে জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেল। আরও অনেক কিছুই প্রকাশ্যে আসবে অপেক্ষা করেন।

    আমি আর স্বর্না ইকরাকে মাঝে মাঝেই দোষ দিতাম ওর জন্য আমাদের কোনো বেস্ট ফ্রেন্ড হয় নাই বলে। বাট আজকে ইকরা সব দোষত্রুটির উর্ধ্বে চলে গেছে। মানুষ চলে গেলে তার সাথে সুখের স্মৃতিগুলোই বেশি মনে পড়ে।

    পূজার এক্সিডেন্টের পরে অনেক দিন সময় লেগেছিল আমার স্বাভাবিক হতে। যদিও ইকরার সাথে শেষ পর্যন্ত পূজার মত এতটা যোগাযোগ ছিল না আমার। কিন্তু ইকরার সাথে আমার অনেক গুড মেমরিজ আছে। শুধু ও নাই এটা মেনে নিতে কষ্ট হইতেছে।

    ইকরার আপডেট : কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাস্পাতালে নেয়া হচ্ছে। জানাজা হবে ময়মনসিংহতে। ইকরার দেশের বাসায়। আহ ইকরা!

  • এবার কঠোর হতে যাচ্ছে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

    এবার কঠোর হতে যাচ্ছে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

    অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—অপরাধী যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।

    এই বার্তা দলীয় পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামোইন, মাগুড়া, চাঁদপুর ও বরিশালে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে তৃণমূলেও সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

    জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বা জোরজবরদস্তি নয়—আইনের শাসনই হবে অগ্রাধিকার।

    রোববার পুলিশের সদ্য বিদায়ী মহাপরিদর্শক বাহরুল আলম মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন; এজন্য উর্ধ্বতন অনুমতির প্রয়োজন হবে না বলেও জানান।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের সেবায় কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা সহ্য করা হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার যে নজির দেখাচ্ছে, তা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষণার পাশাপাশি ধারাবাহিক প্রয়োগই নির্ধারণ করবে—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের এই কঠোর অবস্থান কতটা স্থায়ী হয়।

  • ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে এবার মধ্য ও উচ্চবিত্তদের জন্যও সুখবর

    ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে এবার মধ্য ও উচ্চবিত্তদের জন্যও সুখবর

    দেশের হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। প্রাথমিকভাবে ৬ ক্যাটাগরির নাগরিকদেরকে এ কর্মসূচির বাইরে রাখা হলেও পর্যায়ক্রমে সব শ্রেণির নাগরিককেই এ সুবিধার আওতাভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরাও পাবেন এই ফ্যামিলি কার্ড।

    শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ হলে প্রতি পরিবারে ৫ জন করে হলে সাড়ে ৪ কোটি পরিবার আছে। আমরা তথ্যগুলো সংগ্রহ করছি। প্রতিটি পরিবারের দরজায় দরজায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দুই থেকে আড়াই কোটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে। প্রথম দিকে হতদরিদ্র, তারপরে দরিদ্র এবং পরে নিম্নবিত্ত। পরে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরাও কার্ড পাবে। কার্ড পাওয়াটা সবার অধিকার।

    এর আগে, বেগম খালেদা জিয়ার মা বেগম তৈয়বা মজুমদার, বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও বড় বোন প্রয়াত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বেগম খুরশিদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করেন মন্ত্রী।

    এ সময় তিনি বলেন, এই জেলার উন্নয়নের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের অনেক অবদান রয়েছে। এই জেলার প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টান রয়েছে। যেকোনও সময় তিনি দিনাজপুর আসতে পারেন। এ ছাড়াও তিনি গতকাল শুক্রবার রাতে নবাবগঞ্জের ৭ বছরের শিশু হত্যার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।