Category: সারাদেশ

  • জেনে নিন অধিক স’হবাস করলে কি ক্ষতি হয়, অনেকেই জানেন না

    জেনে নিন অধিক স’হবাস করলে কি ক্ষতি হয়, অনেকেই জানেন না

    মাত্রাতিরিক্ত কোনো জিনিসই ভালো না। সহবাস করার ক্ষেত্রে ও তেমন। আবে হায়াতও অধিক পান করা ভালো নয়, অন্যথায় এটা বিষ হয়ে যায়। অতিরিক্ত কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক বর্ণিত মহব্বতই প্রশংসা যোগ্য।

    সুতরাং সর্বক্ষেত্রেই মধ্যম্পন্থা অবলম্বন করা চাই। বিশেষ করে সুস্বাদু ও মজাদার বস্তু খাওয়ার মাঝে কখনোই অতিরিক্ত করা ঠিক নয়। অধিক সহবাসের কারণে গর্ভধারণের শক্তিও হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা অধিক সহবাসে পুরুষের বীর্য ও মহিলার ধাতু পাতলা হয়ে যায়। যুবক-যুবতীরা তাদের যৌবনকালে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে দিওয়ানা হয়ে সহবাসের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে অমূল্য সম্পদ বীর্যকে নষ্ট করে ফেলে। তাদের খেয়ালই নেই যে, এক ফোটা বীর্য সত্তুর ফোটা রক্তের নির্যাস। এক ফোটা বীর্য উৎপাদন হতে সত্তর ফোটা রক্ত ব্যয় হয়। এই দামী জিনিসকে মাত্রাতিরিক্ত সহবাস করে নষ্ট করে দিচ্ছে। এক সময় তাদের অবস্থা এমন হয় যে, মাথায় হাত দিয়ে কাঁদতে হবে।

    অবশেষে কোনোভাবে সহবাসের জন্য বিভিন্ন হেকিম-ডাক্তারদের স্মরণাপন্ন হয়ে ওষুধের মাধ্যমে সহবাস করতে হবে। অথচ নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সহবাস করলে তাকে এসব জ্বালা সহ্য করতে হবে না। নিজেকে ধিক্কার ও দিতে হবে না কোনো দিন।

  • কেন থামছে না স্বর্ণের দাম, জানা গেল পেছনের কারণ

    কেন থামছে না স্বর্ণের দাম, জানা গেল পেছনের কারণ

    দেশে স্বর্ণের বাজারে একের পর এক রেকর্ড দাম সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্ন জাগিয়েছে— স্বর্ণের ভরি কি খুব শিগগিরই ৩ লাখ টাকা ছাড়াবে? আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাসে প্রথমবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়ানোর পর দেশের বাজারেও তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

    সর্বশেষ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষিত দরে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে স্বর্ণের ভরি ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানো এখন আর অসম্ভব কোনও কল্পনা নয়। তবে এর গতি ও সময় নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের অবস্থান এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার ওপর।

    বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার, স্থানীয় কাঁচামাল (তেজাবি স্বর্ণ) ও কর কাঠামোর সম্মিলিত প্রভাবেই এই উচ্চতায় পৌঁছেছে দেশীয় স্বর্ণের দাম।

    আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশীয় বাজারে রূপান্তর

    আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয় ডলার প্রতি আউন্স হিসাবে। ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে যখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে, তখন ডলারের বাজারদর গড়ে ১২০ টাকা ধরলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের টাকার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ লাখ টাকা।

    এক আউন্সে থাকে ৩১.১০৩৫ গ্রাম স্বর্ণ। আর বাংলাদেশের প্রচলিত হিসাবে এক ভরি স্বর্ণের ওজন ১১.৬৬৪ গ্রাম। সে হিসাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ হাজার ডলার দরের স্বর্ণের প্রতি ভরির মৌলিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি।
    তবে আন্তর্জাতিক দরের এই মৌলিক মূল্যের সঙ্গে দেশীয় বাজারে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় যুক্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে— স্থানীয় বাজারে তেজাবি (রিফাইন্ড) স্বর্ণের দাম, স্বর্ণ আমদানির খরচ ও ঝুঁকি প্রিমিয়াম, ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি কর, বাজার ব্যবস্থাপনা ও মজুত ব্যয়। সব ব্যয় যোগ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

    দেড় বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি

    পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আশপাশে। সেখান থেকে দেড় বছরের ব্যবধানে দাম বেড়ে এখন ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে—অর্থাৎ এই সময়ে ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

    এই বৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে আন্তর্জাতিক বাজারের লাগাতার ঊর্ধ্বগতির কারণে। একই সময়ে দেশে ডলারের উচ্চ বিনিময় হার ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিও দাম বাড়ার পথ সুগম করেছে।

    কেন থামছে না দাম

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে যে কারণগুলো কাজ করছে—ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার নিয়ে সংশয় ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা—সেগুলোর দ্রুত অবসান হচ্ছে না। ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের সংশোধনের সম্ভাবনা আপাতত কম।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডলার বাজারে চাপ অব্যাহত থাকায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের মতো স্বর্ণের দামও ঊর্ধ্বমুখী থাকছে। এর প্রভাব পড়ছে বিয়ের মৌসুম ও খুচরা বাজারে।

    প্রধান তিন কারণে বাড়ছে স্বর্ণের দাম

    অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই দ্রুত ঊর্ধ্বগতির পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে।

    প্রথমত, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপে নিরাপত্তা উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বড় শক্তিগুলোর পারস্পরিক টানাপোড়েন বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়।

    দ্বিতীয়ত, সুদের হার কমার প্রত্যাশা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রানীতি শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। সাধারণত সুদের হার কমলে বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানতের রিটার্ন কমে যায়। ফলে স্বর্ণের মতো বিকল্প বিনিয়োগের চাহিদা বেড়ে যায়।

    তৃতীয়ত, ডলারের দুর্বলতা। ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠে, যা বৈশ্বিক চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েন ও ইউরোর বিপরীতে ডলারের দরপতন স্বর্ণবাজারকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

    এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক স্বর্ণ ক্রয়ও বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে চীন টানা ১৪ মাস ধরে স্বর্ণ কিনে যাচ্ছে। একইসঙ্গে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ– ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড বিনিয়োগ প্রবাহ স্বর্ণের দামকে আরও ওপরে ঠেলে দিচ্ছে।

    বিশ্ববাজারে রেকর্ড, দেশের বাজারে চাপ

    আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের উল্লম্ফনের প্রভাব সরাসরি পড়ে দেশের বাজারে। বাজুস আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় এনে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে বাজুস সর্বশেষ ঘোষণায় ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাঁড়ায় ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। একইসঙ্গে ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম যদি ৫ হাজার ডলারের ওপরে স্থিতিশীল থাকে বা আরও বাড়ে, তাহলে দেশের বাজারে নতুন করে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হবে।

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান টানাপোড়েন এবং ভেনিজুয়েলা ঘিরে সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

    খাদ্যদ্রব্য বাজার
    এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘‘ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট দ্রুত সমাধান না হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনিজুয়েলা ও ইরানের চলমান টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।’’

    ডা. শাহীন আরও জানান, স্বর্ণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে স্বর্ণের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কমতে কমতে প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ খাত এড়িয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, কিংবা ভেনিজুয়েলা সংকটের মতো ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের প্রতি চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়।’’

    শিক্ষা ঋণ
    ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার নিম্নমুখী থাকলেও স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কারণ, সুদের হার কমলে অন্যান্য বিনিয়োগের রিটার্ন কমে যায় এবং ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর সরাসরি প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজার হয়ে দেশের বাজারেও পড়ে।’’

    সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

    স্বর্ণের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর। বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণের ব্যবহার কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। অনেক পরিবার গয়নার ওজন কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ স্বর্ণ কেনার সিদ্ধান্তই পিছিয়ে দিচ্ছেন।

    একইসঙ্গে স্বর্ণভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা, কারিগর ও জুয়েলারি শিল্পেও মন্দাভাবের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও স্বর্ণের বাজারে এখন চরম মন্দাভাব। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের গয়নার ক্রেতা কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আগে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা উপহার হিসেবে স্বর্ণের গয়না দেওয়ার যে প্রচলিত রীতি ছিল, তা এখন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। দুই হাজার, পাঁচ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকায় ভালো মানের একটি গয়না তৈরি করে উপহার দেওয়ার সুযোগ এখন আর নেই।

    পাবনার স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “যেভাবে স্বর্ণের দাম বাড়ছে, তাতে আগামী তিন মাসের মধ্যেই প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম তিন লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে।” তিনি জানান, স্বর্ণের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় দেশে স্বর্ণ কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে গত এক বছরে স্বর্ণের বেচাবিক্রি অন্তত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

    তার ভাষায়, “পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন নতুন করে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা খুবই কম। যারা দোকানে আসছেন, তাদের বেশিরভাগই পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি না করে তা দিয়ে নতুন গয়না তৈরি করাচ্ছেন।”

    আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমিত ঘোষ বলেন, ‘‘সামগ্রিকভাবে অন্যান্য ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভালো থাকলে স্বর্ণের কেনাবেচাও স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে সার্বিক মন্দাভাব বিরাজ করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়।’’ তিনি বলেন, “স্বর্ণের দাম যত বাড়ছে, দেশীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ততই সংকটে পড়ছেন। উচ্চ দামের কারণে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বেচাবিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।”

    অর্থনীতির জন্য কী বার্তা দিচ্ছে স্বর্ণের দাম

    বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত। সাধারণত যখন মুদ্রাস্ফীতি, আর্থিক অস্থিরতা বা রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ে, তখনই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অর্থাৎ স্বর্ণের এই উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে— বিশ্ব অর্থনীতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

    ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম বছরে ৬৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।

    তাহলে কি ভরি ৩ লাখ টাকা ছুঁবে?

    বিশেষজ্ঞদের অভিমত—বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা, ডলারের দুর্বলতা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে স্বর্ণের ভরি ৩ লাখ টাকা ছোঁয়ার আলোচনা আরও জোরালো হবে।

    তবে তারা এটাও বলছেন, যদি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে, ডলার শক্তিশালী হয় বা সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকে—তাহলে স্বর্ণের দামে সাময়িক সংশোধন বা স্থিতিশীলতা আসতে পারে।

    সব মিলিয়ে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু গয়নার বাজারের গল্প নয়, এটি বৈশ্বিক ও দেশের অর্থনীতির ভেতরের চাপ, অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের মানসিকতারই প্রতিফলন। তাই প্রশ্নটি এখন আর শুধু কৌতূহলের নয়—স্বর্ণের ভরি ৩ লাখ ছাড়াবে কিনা, সেটিই হয়ে উঠেছে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ইঙ্গিতের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

  • পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবরের কথা জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ সভা শেষ হয়।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সূত্র অনুযায়ী, যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

    এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে পেনশন ও বেতন কাঠামোর নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি পেনশনভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।

  • নির্বাচন কি স্থগিত হচ্ছে, যা জানাল কমিশন

    নির্বাচন কি স্থগিত হচ্ছে, যা জানাল কমিশন

    নির্বাচন কি স্থগিত হচ্ছে, যা জানাল কমিশন

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে বা আইনি জটিলতায় প্রার্থিতা বাতিল হলে ওই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার বিধান রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর সংশোধিত বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমন পরিস্থিতিতে নতুন তফশিল ঘোষণা করবে।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিলের আইনি বিধান

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭(১) অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন কিংবা অনুচ্ছেদ ৯১ক ও ৯১ঙ অনুযায়ী কারও প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করবেন। আইন অনুযায়ী, নির্বাচন বাতিল হলে কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং কমিশন নতুন নির্বাচনি তফশিল ঘোষণা করবে।

    এছাড়া যারা আগের তফশিলে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র বা জামানতের টাকা জমা দিতে হবে না বলেও জানিয়েছে ইসি।

    নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, আইনে যেহেতু বলা আছে বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে তফশিল বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই তফশিলে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, উনি এখনো বৈধ প্রার্থী হননি। এছাড়া খালেদা জিয়ার অবস্থা বিবেচনায় বিএনপি উনার আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে। কাজেই এটা নিয়ে সমস্যা হবে না বলে আমার মত।

    নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়টা নিয়ে আমাকে আরপিও দেখে বলতে হবে।

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর তিনটি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়। আসনগুলোতে বিএনপির পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থীও মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

  • ৫% সুদে ৩০ লাখ টাকা লোন, কিস্তি শুরু দেড় বছর পর

    ৫% সুদে ৩০ লাখ টাকা লোন, কিস্তি শুরু দেড় বছর পর

    পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট কেনায় জামানত ছাড়াই ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ঋণ দেবে ব্যাংক। এই ঋণের সুদহার পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা সার্কুলারে পরিবেশবান্ধব খাতে বিদ্যমান ৪০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় ফ্ল্যাট কেনায় ঋণের বিষয়টি নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট কেনার ঋণে ১৮ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন। অর্থাৎ কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে দেড় বছর পর থেকে। ব্যক্তির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ইউনিট সমন্বিত বহুতল বিশিষ্ট পরিবেশবান্ধব আবাসন নির্মাণেও ঋণ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আবাসন কোম্পানি ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। কোম্পানির জন্যও সুদহার, ঋণের মেয়াদ ও গ্রেসপিরিয়ড হবে অভিন্ন।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়, পরিবেশবান্ধব খাতে চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এতদিন চার শতাংশ সুদে তহবিল পেত। এখন পাবে তিন শতাংশ সুদে। ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ সুদে ঋণ দেবে।

    এক্ষেত্রে পাঁচ বছরের কম মেয়াদি ঋণে সর্বোচ্চ সুদ হার হবে পাঁচ শতাংশ, পাঁচ থেকে আট বছরের কম মেয়াদে সাড়ে পাঁচ শতাংশ এবং আট বছরের বেশি মেয়াদে ছয় শতাংশ।

    এছাড়া পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় বনায়ন (সামাজিক, সমন্বিত বা কৃষি), ছাদের কৃষি বা উল্লম্ব চাষ বা বাগান, বায়োফ্লক মাছ চাষ, জৈব চাষ, খাঁচায় মাছ চাষ, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনেও ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো।

  • বিএনপিতে রদবদল: তারেক রহমানের একান্ত সচিব ও প্রেস সচিব হলেন যারা

    বিএনপিতে রদবদল: তারেক রহমানের একান্ত সচিব ও প্রেস সচিব হলেন যারা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংগঠনিক কার্যক্রম ও শীর্ষ নেতৃত্বের দাপ্তরিক যোগাযোগে নতুন গতি আনতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সচিবালয়ে নতুন একান্ত সচিব এবং প্রেস সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে।

    শনিবার (বা আজকের তারিখ) দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়েছে।

    কারা পেলেন নতুন দায়িত্ব?

    দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজের সমন্বয়ের জন্য একান্ত সচিব হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে। অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি ও প্রচারণার দায়িত্ব সামলাবেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত মুখ।

    সচিবালয় পুনর্গঠনের গুরুত্ব

    রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা এই নিয়োগকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সংস্কারের একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের প্রধান নেতৃত্বের দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও পেশাদার ও নির্ভুল করা প্রয়োজন। নতুন প্রেস সচিব হিসেবে একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিককে যুক্ত করায় গণমাধ্যমের সাথে দলের তথ্যের আদান-প্রদান আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    একই সঙ্গে, একান্ত সচিবের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক সমন্বয় ও দাপ্তরিক কাজগুলো আরও সুশৃঙ্খল হবে। মূলত দলের আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানের এই সচিবালয় পুনর্গঠন অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

  • মি’লনের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলে সঠিক ফল জানা যাবে

    মি’লনের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলে সঠিক ফল জানা যাবে

    গর্ভধারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে আমাদের। বিশেষ করে যারা মা হতে চাইছেন, তাদের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত হয় অপেক্ষার। মিলনের ঠিক কতদিন পর একজন নারী গর্ভবতী হতে পারেন বা কতদিন পর পরীক্ষা করালে সঠিক ফল পাওয়া যাবে, তা জানার আগ্রহ থাকে প্রায় সব নারীরই। গর্ভাবস্থার সুখবর পাওয়া সব নারীর জন্যই আনন্দের খবর। এরপর আসে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনও। সেই খবর কখন সঠিকভাবে জানা যাবে, চলুন জেনে নেওয়া যাক-

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, মিলনের সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু গর্ভধারণ হয়ে যায় না। বরং পুরো প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় লাগে। সাধারণত, একটি শুক্রাণুর জরায়ুতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় দুই থেকে তিন দিন। এরপর সেই শুক্রাণু যদি ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়, তবেই তৈরি হয় ভ্রুণ। চিকিৎসকরা বলেন, গর্ভধারণের জন্য সময় লাগে তিন থেকে চারদিনের মতো।

    একটি শুক্রাণু গর্ভে বেঁচে থাকতে পারে পাঁচদিন পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে শুক্রাণু যদি ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে তবেই একজন নারী গর্ভবতী হন। অপরদিকে সময় পেরিয়ে গেলে আর গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে না।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন নারী যখন গর্ভবতী হন, তার কিছুদিনের মধ্যেই সেই নারীর শরীরে নানা লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। তবে
    গর্ভবতী কি না সেই পরীক্ষার করানোর আগে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত। পিরিয়ডের প্রথম তারিখ পার হয়ে গেলে তবেই পরীক্ষা করান।

    সবচেয়ে ভালো হয় পিরিয়ডের তারিখ পার হয়ে যাওয়ার ১০ থেকে ১৪ দিন পর পরীক্ষা করলে বেশি ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া পরীক্ষা করে নেওয়াই ভালো। এই পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে এরপর হাসপাতালে গিয়ে রক্তের পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এরপর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সে অনুযায়ী চলতে হবে।

  • পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবরের কথা জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ সভা শেষ হয়।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সূত্র অনুযায়ী, যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

    এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে পেনশন ও বেতন কাঠামোর নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি পেনশনভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।

  • নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির ৪ নেতা

    নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির ৪ নেতা

    রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪ নেতা।

    বিএনপির এই নেতারা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিল করার শেষ দিনে তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি।

    তারা হলেন- জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জল, জেলা যুবদল আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান স্বজন, কুয়ালালামপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মালয়েশিয়ার মালাক্কা শাখা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিলাত, আমেরিকা প্রবাসী আমিরুল ইসলাম মিঠু।

    তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি লাইভে এসে ভোটারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

    এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন উজ্জল বলেন, মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছিলাম। শেষপর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে নিজ দায়িত্বে রাজনৈতিক ঐক্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। কেউ মূল্যায়ন না করলেও নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে ব্যক্তিকে না, ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

    জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান স্বজন বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র জমা দিইনি।

    এ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক, জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী জেলা কমিটির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও বাঘা উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি আবদুস সালাম সুরুজ নিজ নিজ দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

    বাঘা ও চারঘাট উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৬ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ২৭৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৭ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৮৮ জন।

  • এইমাত্র পাওয়াঃ ৩০ আসনে বিতর্কিত প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বিএনপির, লিস্টসহ দেখুন

    এইমাত্র পাওয়াঃ ৩০ আসনে বিতর্কিত প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বিএনপির, লিস্টসহ দেখুন

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিতর্কিত ও সমালোচিত প্রার্থীদের বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    সভায় সিলেট-৬, নেত্রকোনা-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, জামালপুর-২, কুষ্টিয়া-৪, সিরাজগঞ্জ-৩ এবং চট্টগ্রাম-১২ ও ১৩সহ অন্তত ৩০টি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব আসনের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সমালোচিত হওয়ার অভিযোগ তুলে নেতারা মত দেন।

    গত ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই অর্ধশতাধিক আসনে ‘মনোনয়ন বিদ্রোহ’ দেখা দেয়। বাকি ৬৩টি আসনেও মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বড় পরিকল্পনা করছে বিএনপি। ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যেখানে জেন-জি প্রজন্মসহ সমাজের সব শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচি ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী চলবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রসঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসযোগ্য, আধুনিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সাতটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি—জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী, ক্রীড়া ও ধর্ম। ক্ষমতায় গেলে এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা লিফলেটের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ঘোষিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।