Category: সারাদেশ

  • ইনকিলাব মঞ্চের জাবের গুলিবিদ্ধ

    ইনকিলাব মঞ্চের জাবের গুলিবিদ্ধ

    রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি।

    ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, ‘জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জুমা ও শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে।’

    জানা গেছে, জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন বলে দাবি করা হয়।

    শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    এদিকে, আবদুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ‘শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন এবং জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’ একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব।’

  • ভোটের আগে কেন নির্বাচনী রিমাইন্ডার দিচ্ছে মেটা

    ভোটের আগে কেন নির্বাচনী রিমাইন্ডার দিচ্ছে মেটা

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ভোটের আগে একটি বিশেষ নোটিফিকেশন কার্ড দেখাচ্ছে ব্যবহারকারীদের। নীল-সাদা রঙের ওই কার্ডে বড় অক্ষরে লেখা, ‘গেট রেডি টু ভোট ইন বাংলাদেশ’। নিচে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ ছবিটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ফেসবুকের এই কার্ডে মূলত চারটি তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, এটি একটি নির্বাচন সংক্রান্ত রিমাইন্ডার। দ্বিতীয়ত, এতে নির্বাচনের তারিখ উল্লেখ আছে। তৃতীয়ত, ব্যবহারকারীকে অফিসিয়াল তথ্য দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আর চতুর্থত, নিচে একটি সংখ্যা ‘৫৪৯৮৫’ দেখানো হয়েছে, যা অনেকের কৌতূহলের কারণ হয়েছে।

    ফেসবুকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা কোনো ভোটার তালিকা বা সরকারি পরিসংখ্যান নয়। বরং এটি একটি এনগেজমেন্ট কাউন্ট, যা দিয়ে দেখানো হচ্ছে, কতজন মানুষ ইতোমধ্যে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

    এই কার্ডটি কেন দেখাচ্ছে? ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার নীতিমালা থেকে এর উত্তর পাওয়া যায়। মেটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুসরণ করে থাকে। এর নাম ইলেকশন ইনফরমেশন সেন্টার বা নির্বাচন তথ্যকেন্দ্র। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নির্বাচনকে ঘিরে গুজব বা ভুয়া তথ্যের বিস্তার কমানো।

    মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যবহারকারীর লোকেশন বা আইপি ঠিকানার ভিত্তিতে বোঝা যায় যে, তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন। যেহেতু বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন, তাই বাংলাদেশভিত্তিক ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নোটিফিকেশন দেখানো হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীর নাম উল্লেখ করা হলেও এটি কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়; বরং একটি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল বার্তা।

    কার্ডটিতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীদের নিয়ে যাওয়া হয় ফেসবুকের ইলেকশন ইনফরমেশন সেন্টারে। সেখানে নির্বাচন কমিশন ও অনুমোদিত সরকারি সূত্র থেকে নেওয়া তথ্য দেখানো হয়। সাধারণত ভোটের তারিখ, ভোটার নিবন্ধন, ভোটার আইডি যাচাই এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ সংক্রান্ত প্রাথমিক নির্দেশনা সেখানে পাওয়া যায়।

  • যমুনা অভিমুখে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ

    যমুনা অভিমুখে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ

    নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা অভিমুখে বিক্ষোভ করছেন সরকারি কর্মচারীরা।

    এর আগে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ মিলিত হন আন্দোলনকারীরা। এতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি এবং পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দপ্তর ও অফিসের কর্মচারীরা অংশ নেন।

    আরও পড়ুন- ‘সংখ্যালঘু মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিএনপির রেকর্ড সবচেয়ে ভালো’

    সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, ‘কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণভাবে এবং কর্মচারী শৃঙ্খলাবিধির মধ্য থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের গেজেট প্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় কর্মসূচি আরো জোরদার করা হয়েছে।’

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কিছুদিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। তবে এর আগেই নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

    আন্দোলনরত নেতারা জানান, দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সারা দেশে একযোগে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণাও দেয়া হয়।

  • এইমাত্র পাওয়াঃ ৩০ আসনে বিতর্কিত প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বিএনপির, লিস্টসহ দেখুন

    এইমাত্র পাওয়াঃ ৩০ আসনে বিতর্কিত প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বিএনপির, লিস্টসহ দেখুন

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিতর্কিত ও সমালোচিত প্রার্থীদের বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    সভায় সিলেট-৬, নেত্রকোনা-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, জামালপুর-২, কুষ্টিয়া-৪, সিরাজগঞ্জ-৩ এবং চট্টগ্রাম-১২ ও ১৩সহ অন্তত ৩০টি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব আসনের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সমালোচিত হওয়ার অভিযোগ তুলে নেতারা মত দেন।

    গত ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই অর্ধশতাধিক আসনে ‘মনোনয়ন বিদ্রোহ’ দেখা দেয়। বাকি ৬৩টি আসনেও মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বড় পরিকল্পনা করছে বিএনপি। ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যেখানে জেন-জি প্রজন্মসহ সমাজের সব শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচি ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী চলবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রসঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসযোগ্য, আধুনিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সাতটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি—জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী, ক্রীড়া ও ধর্ম। ক্ষমতায় গেলে এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা লিফলেটের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ঘোষিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

  • পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    পে-স্কেলের সভা শেষে এলো বড় সুখবর

    নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের সভা শেষ হয়েছে। সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবরের কথা জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ সভা শেষ হয়।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্তরের পেনশনভোগীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সূত্র অনুযায়ী, যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

    এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে পেনশন ও বেতন কাঠামোর নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি পেনশনভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।

  • ২১ আসন, বিএনপির ঘাঁটিতে বড় ভাগ বসাতে পারে জামায়াত

    ২১ আসন, বিএনপির ঘাঁটিতে বড় ভাগ বসাতে পারে জামায়াত

    বরিশালের ২১টি আসনে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার এখন তুঙ্গে। ভোটের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অস্থিরতা-সহিংসতা। একসময়ের ঘাঁটি বরিশাল বিভাগে বিএনপি এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে। বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে অর্ধেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার। এ ছাড়া দুটি আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    বরিশাল: এই জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি। এর মধ্যে বরিশাল-১, বরিশাল-৪ এবং বরিশাল-৫ আসন রয়েছে।

    বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে বিএনপিকে। এখানকার ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ২০০১ সালে এমপি থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া ১/১১-তে স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি।’ প্রায় প্রতিদিনই এই আসনে সোবাহানের সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠছে।

    বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের শূন্য মাঠে বিএনপির শরফুদ্দীন সান্টুর জয়ের হিসাব জটিল করে তুলেছে দলের একদল নেতা-কর্মী। বানারীপাড়া উপজেলার সহসভাপতি গোলাম মাহবুব ও পৌর কৃষক দলের আ. গাফফার হোসেনসহ কয়েক শ নেতা-কর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তাঁরা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। মনোনয়নবঞ্চিত দুই কেন্দ্রীয়সহ বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু ও সাবেক ছাত্রদল নেতা দুলাল হোসেন এ পর্যন্ত এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে নেই।

    বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে এবার বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির (জাপা) তিনবারের সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু (লাঙল)। কারাবন্দী টিপুর জন্য গণসংযোগ করছেন তাঁর মেয়ে। জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী। তিনি বারবার এই আসনের এমপি হয়েছেন।

    বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজীব আহসান এবার ধানের শীষের প্রার্থী। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার আটঘাট বেঁধে নেমেছেন। জেলায় জয়ের সম্ভাবনা হিসেবে জামায়াত এই আসনটি ১ নম্বরে রেখেছে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আজ ৬ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দীগঞ্জে সমাবেশ করার কথা। ভোটারদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার পতনের পর চরে গরু ও ফসল লুট এবং দখলের জন্য বিএনপির ইমেজ (ভাবমূর্তি) সংকটে রয়েছে।

    বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (হাতপাখা)। হাতপাখার ভোট বেড়েছে বলে জানান ফয়জুলের মিডিয়া সেলের প্রধান নাসির উদ্দিন নাইস। তবে সরোয়ারের ঘনিষ্ঠ সহচর আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, এই আসনে বারবার সরোয়ারকে ভোট দিয়ে জনগণ নির্বাচিত করেছেন। গত বুধবার তারেক রহমানের সফরে তাঁদের সাংগঠনিক অবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মো. মাহমুদুন্নবী। ফয়জুল করিমের দাবি, বরিশাল ৫ ও ৬ আসনে আওয়ামী লীগের নিরীহ ভোটাররা তাঁকে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তিনি মামলা ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

    পটুয়াখালী: এই জেলার চারটি আসনের মধ্যে দুটিতে সহজ জয় পেতে পারে বিএনপি। তবে পটুয়াখালী-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মজবুত অবস্থানে রয়েছেন।

    পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকি-মির্জাগঞ্জ) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং ১০ দলীয় জোটের এবি পার্টির প্রার্থী ডা. মেজর (অব.) ওহাব মিনার। সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী সহজে জয় পাবেন।

    পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে পাঁচজন প্রার্থী। এর মধ্যে মূল লড়াই হবে জামায়াতের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং বিএনপির শহিদুল আলম তালুকদারের। সাধারণ জনগণ মনে করেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আসনটিতে। জামায়াতের প্রার্থী তরুণদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারকে হারানো কঠিন। জামায়াত মনে করে, এখানে জয়ের সম্ভাবনা বেশি। এই আসনের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে আজ ৬ ফেব্রুয়ারি বাউফলে আসছেন জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান।

    পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুর ও বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝামেলা হয়েছে। আসনটি অধিকতর সংঘাতপ্রবণ হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে সেনা মোতায়েন রয়েছে। হাসান মামুনের পক্ষে ভেতরে-ভেতরে কাজ করছেন দলটির সাধারণ নেতা-কর্মীদের একাংশ।

    (পটুয়াখালী-৪-এ (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী) বিএনপির প্রার্থী এ বি এম মোশারফ হোসেন। এই আসনে জামায়াতে সদ্য যোগদানকারী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানও আছেন। তবে এ বি এম মোশারফ বেশ শক্ত প্রার্থী এখানে।

    ভোলা: দ্বীপজেলা ভোলার চারটি আসনের মধ্যে ভোলা-১ এবং ভোলা-২ আসনে ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বরাবরই শক্ত অবস্থানে বিএনপি।

    ভোলা-১ (সদর) আসনে প্রার্থী চারজন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী আন্দালিভ রহমান পার্থর গরুর গাড়ি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপির জোটের প্রার্থী পার্থ ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে থাকলেও দলটির একাংশ দাঁড়িপাল্লার দিকে ঝুঁকে গেছে। যে কারণে সহজেই আসনটিতে পার্থ বিজয়ী হতে পারবেন না বলে মনে করেন ভোটাররা।

    ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম। এই আসনটি সংঘাতপ্রবণ এলাকা। তবে ৫ আগস্টের পর বিএনপির ইমেজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে দাঁড়িপাল্লার কাছে।

    ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) আসনে প্রার্থী পাঁচজন। বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম। তবে আসনটিতে সহজেই বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবেন বলে ভোটাররা মনে করেন।

    ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা): মোট প্রার্থী সাতজন। এর মধ্যে মূল লড়াই হবে ধানের শীষের নুরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামের অধ্যাপক মোস্তফা কামালের।

    ঝালকাঠি: ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে প্রার্থী সাতজন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষের রফিকুল ইসলাম জামাল এবং দাঁড়িপাল্লার ভাইরাল হওয়া ড. ফয়জুল হকের মধ্যে। এই আসনটি থেকে ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর ছিটকে পড়ায় বিএনপিতে একাধিক গ্রুপিং (পক্ষ) দেখা দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চান বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ দিয়ে শক্ত প্রার্থী হওয়া ফয়জুল হক।

    ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসনে আটজন প্রার্থী। এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, দাঁড়িপাল্লার শেখ নেয়ামুল করিম এবং হাতপাখার ড. সিরাজুল ইসলাম সিরাজির। ঝালকাঠির আইনজীবী মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, এই আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টুর সহজ জয় হতে পারে। অন্যদিকে ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়ত বেশ শক্ত অবস্থানে আছে।

    বরগুনা: উপকূলীয় এলাকা বরগুনার দুটি সংসদীয় আসনে কখনোই বিএনপি বিজয়ী হতে পারেনি। এবার আসন দুটি দখলে মরিয়া দলটি।

    বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোট চারজন। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষের নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং হাতপাখার মো. ওলি উল্লাহর মধ্যে। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, এই আসনটিতে তাদের প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।

    বরগুনা-২ (বামনা-বেতাগী-পাথরঘাটা) আসনে নয়জন প্রার্থী রয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের মো. নুরুল ইসলাম মনি ও দাঁড়িপাল্লার ডা. সুলতান আহমেদ।

    পিরোজপুর: এই জেলার তিনটি আসনের মধ্যে দুটিই সাঈদীর পুত্ররা দখলে নিতে চান। পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ও জামায়াতের মাসুদ সাঈদীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

    পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-নেছারাবাদ-কাউখালী) আসনে প্রার্থী ছয়জন। বিএনপির সোহেল সুমন মঞ্জুর এবং জামায়াতের শামিম সাঈদী ভোটের মাঠে তৎপর।

    পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে ছয়জন প্রার্থী। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির রুহুল আমিন দুলাল এবং হাতপাখার ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীর মধ্যে। তবে উপজেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে এবারও ডা. ফরাজী জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে—বলছেন সাধারণ ভোটাররা।

  • ব্রেকিং নিউজ: যাদের ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    ব্রেকিং নিউজ: যাদের ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত ১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। যেসব কলকারখানা এই ছুটি কার্যকর করবে, তারা চাইলে পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে শ্রমিকদের দিয়ে একদিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

    এইর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) এমনিতেই সাধারণ ছুটি থাকে। ভোটের পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি আছে। এর ফলে নির্বাচন উপলক্ষ্যে টানা কয়েক দিন ছুটি থাকছে।

  • এবার আরেক বিএনপি প্রার্থীর কপাল পুড়ল

    এবার আরেক বিএনপি প্রার্থীর কপাল পুড়ল

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পর এবার বিএনপির আরেক প্রার্থীর কপাল পুড়েছে। কুমিল্লা-১০ আসনে (লালমাই-নাঙ্গলকোট) প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির মনোনীত মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অভিযোগকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী। ইসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

    গত ২০ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিল করায় হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া।

    আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। এরপর গত ১৮ জানুয়ারি বিকালে নির্বাচন কমিশন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল করে।

    এর আগে গতকাল (২১ জানুয়ারি) কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট খারিজ করেন হাইকোর্ট।

    গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিক বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন একই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।

    হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ ছিল, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এনসিপি প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে। ইসির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। আবেদনে তিনি ইসির ওই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন, কিন্তু উচ্চ আদালত তার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

  • এইমাত্র: রোজার মাসে স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন ঘোষণা

    এইমাত্র: রোজার মাসে স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন ঘোষণা

    পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে।

    সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

    নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়ত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখবার অভ্যাস হতে দূরে থাকার সম্ভাবনা দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। রমজান মাসে স্কুল বন্ধ না রাখলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

    সম্প্রতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগের বছরের তুলনায় ১২ দিন ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসের প্রায় পুরোটা সময় বিদ্যালয় খোলা থাকবে, যা নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    অন্যদিকে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এবার ১২ দিন ছুটি কমেছে। শবে মেরাজ, জন্মাষ্টমী, আশুরাসহ বেশ কয়েকটি দিনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসের অর্ধেকের বেশি সময় স্কুল খোলা রাখা হবে। তবে সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী- এতে ৭২ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পবিত্র রমজান মাসের পুরো সময় কলেজ বন্ধ থাকবে।

  • ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে না- প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে যা জানা গেলো

    ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে না- প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে যা জানা গেলো

    সম্প্রতি অনলাইনে দাবি প্রচার করা হয়েছে, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা’।
    ফ্যাক্টচেক

    রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত ২৮ জানুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টার ভিন্ন বিষয়ে বক্তব্যের ভিডিও প্রচার করে আলোচিত দাবি করা হয়েছে।

    আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে সংযুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে গত ২৮ জানুয়ারিতে প্রকাশিত মূল ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, ‘আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে চার দিনের ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’। এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।’

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রচেষ্টাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। তবে কোথাও তিনি বলেননি যে ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করা হলো’।

    বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
    পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও নির্বাচন বাতিল করার দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    বরং, অতি সম্প্রতি গত ১ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের (ইউরোচেম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এবং ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে তা নানা সময়ে তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও গত ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

    সুতরাং, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।

    সূত্র: রিউমর স্ক্যানার