Category: সারাদেশ

  • রমজানে অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

    রমজানে অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

    রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ১৮ অথবা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানের গণনা শুরু হবে। রমজান মাসকে সামনে রেখে অন্যান্য বছরের মতো এবারও সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র রমজান মাসে সাহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস চলবে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

    শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে বহাল থাকবে।

    তবে ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক বিভাগ, রেলওয়ে, হাসপাতাল, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো জনস্বার্থ বিবেচনায় তাদের নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী অফিস সময়সূচি নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে।

    এদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও এর আওতাধীন সব কোর্টের অফিস সময়সূচি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারণ করবে।

  • নির্বাচনের পরপরই দেশ ছাড়তে পারেন আইজিপি

    নির্বাচনের পরপরই দেশ ছাড়তে পারেন আইজিপি

    পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বাহারুল আলম কূটনৈতিক মর্যাদার (লাল) পাসপোর্ট বদল করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চান। সম্প্রতি তিনি সরকারি পাসপোর্ট সমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন।

    তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে খোদ আইজিপির পাসপোর্ট সমর্পণের এ খবরে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ ৮ মাস বাকি থাকতে কেন তিনি এখনই সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চান তা নিয়ে সচিবালয়সহ পুলিশ সদর দপ্তরেও নানা আলোচনা ডালপালা মেলছে।

    এদিকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন প্রাপ্তির বিধিনিষেধ ছাড়াই খুব সহজে সরকার সংশ্লিষ্টরা যাতে লাল পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে পারেন সেজন্য সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সংশোধন করে স্পষ্টীকরণের নামে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে এ সরকারের আমলে ইতোঃপূর্বে জারি করা বিধিনিষেধ সাবেক সরকারের কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য বহাল রেখে বর্তমান সরকারের জন্য শিথিল করা হয়েছে।

    সূত্র জানায়, বাহারুল আলম নিজেই তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর জন্য পত্র দেন। এ বিষয়ে অনাপত্তি (এনওসি) চেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

    এতে বলা হয়-‘আমি বাহারুল আলম ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাংলাদেশ, আমার ব্যবহৃত কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণপূর্বক সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। বর্ণিত কূটনৈতিক পাসপোর্টের পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য অনাপত্তি সনদ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।’

    রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া বিশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বাহারুল আলমকে অবসর থেকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তাকে পুলিশ প্রধান হিসাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

    চলতি বছর ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে। এর আগে ৭ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি মইনুল ইসলাম ৩০তম আইজিপি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুক্তির বর্ধিত মেয়াদ পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাতিল না করলে বাহারুল আলমের আরও ৮ মাস স্বপদে বহাল থাকার কথা। অথচ মেয়াদপূর্তির অনেক আগে পুলিশ প্রধানের সরকারি পাসপোর্ট সমর্পণের খবরে স্বাভাবিকভাবে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরের কাছে এমন আশঙ্কা করেন, নির্বাচনের পরপরই তিনিও দেশ ছাড়তে পারেন। কেননা, নির্বাচনের আগেই তাকে সরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক দল থেকে জোর দাবি তোলা হয়। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আনুকূল্যে নির্বাচন পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে সৃষ্ট এই প্রেক্ষাপটে আইজিপির পাসপোর্ট সমপর্ণের একটি বিশেষ যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।

    এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার আইজিপির হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন পাঠানো হলে তিনি পালটা প্রশ্ন করে লেখেন ‘কি প্রশ্ন উঠেছে।’ এরপর প্রতিবেদক জানতে চান, ‘অনেকে বলছেন আপনি হয়তো নির্বাচনের পর তড়িঘড়ি করে দেশ ছাড়তে পারেন। এ কারণে সাধারণ পাসপোর্ট নিয়ে রাখছেন।’ তবে পরে তিনি আর কোনো প্রত্যুত্তর দেননি।

  • শরীরে কৃমি বাসা বেঁধেছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে

    শরীরে কৃমি বাসা বেঁধেছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে

    প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু—উভয়ের শরীরেই কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটায় থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম, টেপওয়ার্ম ও হুকওয়ার্ম। পিনওয়ার্ম ও থ্রেডওয়ার্মের মতো কিছু কৃমির ডিম এতটাই সূক্ষ্ম যে খালি চোখে দেখা যায় না এবং বাতাসের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

    শরীরে কৃমি ঢোকে যেভাবে

    দূষিত খাবার ও পানি, অপরিষ্কার হাত, মাটি কিংবা সংক্রমিত মল-মূত্রের মাধ্যমে কৃমির ডিম বা লার্ভা শরীরে প্রবেশ করে। অনেক সময় খোলা পায়ে হাঁটা বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেশি সময় কাটালেও ত্বকের মাধ্যমে কৃমি ঢুকতে পারে।

    এ ছাড়া খাওয়ার আগে হাত না ধোওয়া, অপরিশোধিত দুধ পান করা, সবজি ভালোভাবে না ধুয়ে রান্না করা, অপরিষ্কার সুইমিং পুলে গোসল করা কিংবা পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শেও কৃমির সংক্রমণ হতে পারে।

    কৃমি শরীরের যে ক্ষতি করে

    অন্ত্রে প্রবেশ করে কৃমি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়। ফলে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, বমিভাব ও চুলকানির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নিলে কৃমির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে মারাত্মক জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কৃমি যকৃত ও ফুসফুসে সিস্ট বা গুটি তৈরি করতে পারে। ফুসফুসে পৌঁছালে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা এবং মস্তিষ্কে পৌঁছালে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।

    যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কৃমি আছে

    ১. ক্ষুধা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া: কৃমি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। ফলে কারও ক্ষুধা কমে যায়, আবার কারও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষিত হয়ে যাওয়ায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

    ২. ওজন কমে যাওয়া ও সার্বক্ষণিক ক্লান্তি: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে এবং সব সময় ক্লান্ত লাগে, তবে তা অন্ত্রের কৃমির লক্ষণ হতে পারে।

    ৩. মলের সঙ্গে কৃমি দেখা যাওয়া: মলত্যাগের সময় ছোট সাদা কৃমি দেখা যাওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি স্পষ্ট লক্ষণ। অনেক সময় কৃমি খুব ছোট হওয়ায় চোখে নাও পড়তে পারে। তবে মলে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

    ৪. ঘন ঘন পেটব্যথা: কোনো কারণ ছাড়াই বারবার পেটে মোচড় বা খিঁচুনির মতো ব্যথা হলে সতর্ক হতে হবে। খাওয়ার পর বা খালি পেটে ব্যথা বাড়লে তা কৃমির সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।

    ৫. ত্বকের সমস্যা ও পায়ুপথে চুলকানি: কৃমি থেকে নির্গত বিষাক্ত উপাদান রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা অ্যালার্জি দেখা দেয়। বিশেষ করে পায়ুপথের আশপাশে চুলকানি হওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

  • নারীদের স্ত’নে ব্যথা কেন হয়, হলে কী করবেন জেনে নিন

    নারীদের স্ত’নে ব্যথা কেন হয়, হলে কী করবেন জেনে নিন

    স্তনে ব্যথা অনুভব করলে অধিকাংশ নারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভাবেন, স্তন ক্যানসার না তো আবার! কিন্তু স্তনে ব্যথা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। নানা কারণে স্তনে ব্যথা হতে পারে।

    কেন ব্যথা হয়-

    মাসিক চলাকালে বা আগে–পরে নারীদের স্তনে ব্যথা স্বাভাবিক। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এ ব্যথা হয়। পিরিয়ড শেষ হলে ব্যথা থাকে না।

    গর্ভধারণের সময় নারীরা স্তনে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। সাধারণত গর্ভধারণের তৃতীয় মাসে ব্যথা শুরু হয়। কারণ, তখন স্তনের আকার বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় স্তনের ওপর নীল শিরা দেখা যায়। এর কারণ তখন অনেক বেশি পরিমাণে রক্তপ্রবাহ হয় এবং হরমোনের অনেক পরিবর্তন ঘটে।

    নারীদের স্তনে প্রদাহজনিত সমস্যার ফলে স্তনে ব্যথা হতে পারে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের আক্রমণে এটি হয়ে থাকে। এ ব্যথায় জ্বর আসতে পারে। এ সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    অনেক সময় স্তনে একধরনের সিস্ট হয়, যার ভেতর তরলজাতীয় পদার্থ থাকে। এর নাম ব্রিজ সিস্ট। স্তনের গ্রন্থি বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় এই সিস্ট দেখা যায়। এর কারণে ব্যথা হয়। সিস্ট অনুভব করতে পারলে যত দ্রুত সম্ভব স্তনবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

    সন্তান জন্মদানের পর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও স্তনে ব্যথা হতে পারে। এ সময় পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। শিশুকে দুধ খাওয়ানোর আগে ও পরে স্তন পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। কারণ, এতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

    স্তনে ঘা বা ইনফেকশন থেকে স্তনে ব্যথা হতে পারে। স্তনের নিপলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। এতে প্রচণ্ড ব্যথা ও ফোড়ার মতো হয়।

    স্তন ক্যানসার দীর্ঘদিন পার হলে স্তনসহ বুকের পাঁজর ও পেশিতে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত শুরুর দিকে কোনো ব্যথা থাকে না।

    প্রতিকার ও করণীয়-

    স্তনের মাপ অনুযায়ী ব্রা পরুন। ছোট মাপের আঁটসাঁট ব্রা এড়িয়ে চলুন।

    কম চর্বিযুক্ত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করবেন।

    দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ই১ (থায়ামিন) ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান।

    খুব ব্যথা হলে পিরিয়ডের আগে–পরে ব্যথা কমানোর ওষুধ খাওয়া যায়।

    চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ড্যানাজোলের প্রয়োগ করা যায়।

    ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ও লবণ কম খাওয়া উচিত।

    এরপরও স্তনে মৃদু ব্যথার সঙ্গে চাকা অনুভব করা, নিঃসরণ বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম, রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা

  • ৩ টি লক্ষণ থাকলে কখনো সন্তান হবে না

    ৩ টি লক্ষণ থাকলে কখনো সন্তান হবে না

    সন্তান জন্মদানে সক্ষমতা নারী ও পুরুষ উভয়ের শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ বা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এই লক্ষণগুলো উপেক্ষা করলে প্রজনন সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

    ১. নারীদের গর্ভধারণে ঝুঁকির ৩ প্রধান লক্ষণ

    নারীর দেহে এই তিনটি লক্ষণ দীর্ঘমেয়াদী হলে তা প্রজননতন্ত্রে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে:

    ১. দীর্ঘমেয়াদী তলপেটে ব্যথা:

    তলপেটে ক্রমাগত বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা অনুভব করা, বিশেষত সেই ব্যথা যদি পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়—তাহলে তা জরায়ুতে কোনো সমস্যা, যেমন ‘এন্ডোমেট্রিওসিস’ বা অন্য কোনো রোগের কারণে হতে পারে। এই ধরনের ব্যথা জরায়ুর কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

    ২. পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) এর লক্ষণ:

    হঠাৎ করে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, মুখে পুরুষের মতো লোম গজানো (হিরসুটিজম), ঘাড় ও বগলের নিচের অংশ কালো হয়ে যাওয়া, এবং ব্রণ বৃদ্ধি—এগুলো পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) এর লক্ষণ। PCOS ডিম্বাণু নিঃসরণে বাধা দেয় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

    ৩. অনিয়মিত ঋতুচক্র (পিরিয়ড):

    যদি কোনো নারীর ঋতুচক্র ২১ দিনের কম সময়ে বা ৪০ দিনের বেশি সময়ে হয়, অথবা পিরিয়ড একেবারেই অনিয়মিত হয়, তবে তা হরমোনের গুরুতর ভারসাম্যহীনতার (যেমন—এস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন, এফএসএইচ, এলএইচ হরমোনের পরিবর্তন) লক্ষণ। অনিয়মিত ঋতুচক্র ডিম্বাণুর গুণগত মান ও পরিমাণ হ্রাস করে, যা গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

    ২. পুরুষদের প্রজনন সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষণ

    পুরুষদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মদানে প্রধান বাধা হলো শুক্রাণুর সমস্যা। তবে কিছু বাহ্যিক লক্ষণ এই সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে:

    ১. তলপেট বৃদ্ধি ও পেশীর শিথিলতা:

    হঠাৎ করে তলপেটে মেদ জমা, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি এবং পেশী (মাসেলস) দুর্বল বা শিথিল হয়ে যাওয়া (লুজ হওয়া)। এই লক্ষণগুলো প্রায়শই টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত।

    ২. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া:

    বিশেষ করে অণ্ডকোষে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেওয়া, যা শুক্রাণুর উৎপাদন বা গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে।

    ৩. যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস ও চুল পড়া:

    স্ত্রীর প্রতি আকাঙ্ক্ষা বা যৌন মিলনে আগ্রহ কমে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস দেখা দেওয়া এবং অস্বাভাবিক হারে চুল পড়া বা দাড়ি কমে যাওয়া। এগুলো শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা নির্দেশ করে এবং পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।

    ৩. বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও করণীয়

    উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

    * নারীদের জন্য: অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। দ্রুত গর্ভধারণের জন্য চেষ্টা করলে তিন মাস আগে থেকে ফলিক এসিড, ভিটামিন ই ও ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান অপরিহার্য।

    * পুরুষদের জন্য: স্ত্রীর পিরিয়ড স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও ৬ মাস নিয়মিত চেষ্টার পরেও যদি সন্তান না হয়, তবে সিমেন অ্যানালাইসিস (Semen Analysis) পরীক্ষা করে শুক্রাণুর পরিমাণ ও গতি যাচাই করা যেতে পারে। পুষ্টিকর খাদ্য (ভিটামিন ই, ডি, জিঙ্ক) গ্রহণ, ধূমপান ও মধ্যপান পরিহার করা, এবং রাতের খাবারে ভাতের পরিবর্তে প্রোটিন (ডিম/মাংস/মাছ) ও ফলমূল রাখা শুক্রাণুর মান উন্নত করতে সহায়তা করে।

  • সোনার দামে ফের বড় পতন, ভরিতে কমলো কত?

    সোনার দামে ফের বড় পতন, ভরিতে কমলো কত?

    দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

    শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

    বিস্তারিত আসছে…

  • বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্তের পথে। বেতন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে নতুন স্কেল কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়েছে।

    সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা এরইমধ্যে চূড়ান্ত করেছে।

    আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন জমার পর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    এবারের পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপারিশমালা অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থাকলেও তা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে, যাতে বেতন বৈষম্য কমে আসে।

    নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যয়ের সংস্থান নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি আংশিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
    উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় ১০ বছর পর নতুন এই বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • হঠাৎ বাংলাদেশীদের ভিসা দিচ্ছে না ইউরোপের যেসব দেশ

    হঠাৎ বাংলাদেশীদের ভিসা দিচ্ছে না ইউরোপের যেসব দেশ

    বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। কিন্তু সেই স্বপ্নের দরজায় এখন কার্যত কড়া তালা। ইউরোপ, আমেরিকা থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—হঠাৎ কেন এই ভিসা সংকট, আর এর দায় আসলে কার?

    সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা কিংবা ভ্রমণের সুযোগ পেয়েও বহু বাংলাদেশি শেষ পর্যন্ত ভিসা না পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, সব ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পরও আবেদন বাতিল হচ্ছে, অথচ এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হচ্ছে না। এতে ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বাড়ছে।

    একই ধরনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রেও। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তারা ভিসা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি বেড়েছে বলে মনে করছেন আবেদনকারীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা না পাওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার। শিক্ষাগত সনদ, কাজের অভিজ্ঞতা কিংবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জাল করে জমা দেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশিদের ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারী হিসেবে চিহ্নিত করছে। দ্বিতীয়ত, ভিসার শর্ত ভেঙে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার ঘটনা, যা ব্যক্তির পাশাপাশি পুরো দেশের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো এখন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুশাসনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক ও বায়োমেট্রিক যাচাই আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর হয়েছে।

    শ্রমবাজারেও ভিসা সংকট স্পষ্ট। সৌদি আরব ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ বা সীমিত করেছে। জাপান ও সিঙ্গাপুরে কিছু দক্ষ কর্মী গেলেও সংখ্যাটি খুবই কম। শিক্ষার্থী ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

    ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে এক লাখ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়। গত আট বছরে শুধু ইউরোপ থেকেই ফিরেছেন অন্তত চার হাজার বাংলাদেশি।

    সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়—ভিসা জটিলতায় বিদেশ যেতে না পারার দায় কার? ব্যক্তি, দালাল নাকি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের জন্য এককভাবে কাউকে দায়ী করা যায় না। ভুয়া কাগজপত্র, অবৈধ অবস্থান এবং দুর্বল সুশাসন—সব মিলিয়েই বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্ট আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। যতদিন এই বাস্তবতা বদলাবে না, ততদিন বিদেশযাত্রার স্বপ্ন আটকে থাকবে ভিসা জটিলতার বেড়াজালে।

  • সাধারণ সমস্যা নাকি ক্যান্সার? ফুসফুস ক্যান্সারের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

    সাধারণ সমস্যা নাকি ক্যান্সার? ফুসফুস ক্যান্সারের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

    ফুসফুস ক্যান্সার বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ ধরা পড়লে ফুসফুস ক্যান্সারের মতো জটিল অসুখ থেকেও সুস্থ হওয়া সম্ভব।

    দুর্ভাগ্যবশত, অনেক সময় এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা মনে করে আমরা উপেক্ষা করি। এতে রোগের প্রগতি দ্রুত হয় এবং ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ফুসফুস ক্যান্সারের কিছু সাধারণ উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

    দীর্ঘস্থায়ী কাশি
    ফুসফুস ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো দীর্ঘস্থায়ী কাশি। শুরুতে হালকা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাড়তে থাকে এবং প্রায় প্রতিদিনই দেখা দিতে পারে। সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে অবহেলা করলে বিপদ বাড়তে পারে।

    কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা
    কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। কফের সঙ্গে লালচে রক্ত দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। এটি ফুসফুসের ভেতরে ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে।

    শ্বাসকষ্ট ও বুকের ব্যথা
    ফুসফুসে ক্যান্সার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সামান্য হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজের সময় হাঁপ ধরে যাওয়া, বুক ভার লাগা বা দম নিতে অসুবিধা হওয়া হতে পারে। এছাড়া কাশির সময় বা বিশ্রামের সময় বুকে ব্যথাও অনুভূত হতে পারে।

    অকারণে ওজন হ্রাস ও খিদে কমে যাওয়া
    খাবারের প্রতি অনীহা, আগের তুলনায় কম খাওয়া বা দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। প্রায় সব ধরনের ক্যান্সারেই এই উপসর্গ দেখা যায়।

    চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, এই ধরনের কোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো সচেতনতা এবং চিকিৎসা ফুসফুস ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
    সচেতন থাকুন, স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হোন।

  • বাবার ধ…র্ষ…ণে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে, অতঃপর…

    বাবার ধ…র্ষ…ণে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে, অতঃপর…

    ভারতের মুম্বাইয়ের কাফ প্যারেড এলাকায় এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণী (২০) ধর্ষণের পর গর্ভবতী হওয়ার লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত ও ১৭ জন সন্দেহভাজন পুরুষের ডিএনএ পরীক্ষার পর জানা গেছে, ওই তরুণীর ধর্ষক অন্য কেউ নন, বরং তার নিজের জন্মদাতা বাবা। খবর এনডিটিভির।

    ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের সেপ্টেম্বরে। ওই তরুণী কথা বলতে বা শুনতে না পারায় তার ওপর চলা দীর্ঘদিনের পাশবিক নির্যাতন আড়ালেই ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় তিনি তার দাদির কাছে ইশারায় পেটে অস্বস্তির কথা জানান। তিনি বুঝিয়েছিলেন, তার পেটে যেন ‘পোকামাকড় কামড়াচ্ছে’। এরপর তাকে মুম্বাইয়ের কামা অ্যান্ড আলব্লেস হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তরুণীটি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

    হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও ভাষা ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে শুরুতে বিপাকে পড়ে। তরুণীর বাবা শুরুতে কোনো আইনি অভিযোগ করতে রাজি হননি। মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়েও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরবর্তীতে একজন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে দীর্ঘ কাউন্সেলিং করার পর তরুণীটি ইশারায় তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

    তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ওই তরুণীর বাবা ও আরও ১৬ জন প্রতিবেশীসহ মোট ১৭ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ ও রক্ত সংগ্রহ করে। সংগৃহীত নমুনাগুলো তরুণীর গর্ভস্থ ভ্রূণের জেনেটিক ডেটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। গত ২৭ জানুয়ারি ডিএনএ ল্যাব থেকে আসা রিপোর্টে দেখা যায়, ১৭ জনের মধ্যে কেবল তরুণীর বাবার ডিএনএর সঙ্গেই ভ্রূণের নমুনার মিল পাওয়া গেছে।

    ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক ব্যক্তি ও এক কিশোরকে আটক করা হয়েছিল, তাদের বিষয়েও তদন্ত চলছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো এক সময়ে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।