Category: সারাদেশ

  • বিএনপি কি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করবে? যা জানা গেল

    বিএনপি কি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করবে? যা জানা গেল

    বিএনপির নতুন সরকার এ মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়া বা ওই পদে পরিবর্তনের চিন্তা করছে না। রাষ্ট্রপ্রধানের পদে পরিবর্তনের প্রশ্নে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলেই সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানাচ্ছে। তবে ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন প্রশ্নে নানা আলোচনা চলছে রাজনীতিতে। এমনকি বিএনপির কারা রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, অনেক নাম দিয়েও খবর হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। সামাজিক মাধ্যমেও রয়েছে অনেক নাম নিয়ে আলোচনা। দলটির নেতা-কর্মীদেরও অনেকে ধারণা করছেন, রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে।

    যদিও বিএনপির নীনিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদের এখনো অনেকটা সময় বাকি আছে। ফলে সংবিধান অনুযায়ী এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয় নেই। তারা এই প্রশ্নও করছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্ন কেন তোলা হচ্ছে? প্রসঙ্গত, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্বে আসেন মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু মেয়াদ রয়েছে, সেখানে মো. সাহাবুদ্দিন যদি পদত্যাগ না করেন অথবা তাকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনগত সুযোগ নেই। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে আলোচনায় আসছে, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি সরকার চাইলেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে, সেটা তারা করবে কিনা।

    আসলে কী করবে বিএনপি

    রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্নে বিএনপির শীর্ষ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখনো তাদের শীর্ষ পর্যায়ের অন্য নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা করেননি বলে জানা গেছে।
    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আরেকজন নেতার বক্তব্য হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর সেই আন্দোলনের নেতৃত্বের একটা আংশ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি তুলেছিল। বিএনপি নেতাদের অনেকের ধারণা, সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের একটা অংশও ওই দাবির পেছনে ছিল। সে সময় সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা উল্লেখ করে বিএনপি প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবির বিপক্ষে।

    তখন তাদের যুক্তি ছিল, রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হলে দেশে সংবিধান ও আইন বহির্ভূত একটা অরাজকতা বা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। কোনো কোনো মহল সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল। সেই উদাহরণ টেনে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ওই নেতা জানান, বিএনপি এবং তাদের সরকার এখন পর্যন্ত সংবিধান সমুন্নত রাখার পুরোনো অবস্থানেই আছে। বিএনপি নেতৃত্ব নতুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনসহ সামনে চলার ক্ষেত্রে সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলছেন। সে অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আগামী ১২ই মার্চ। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এখন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই ভাষণেরও বিরোধিতা করছে। তারা রাষ্ট্রপতিকে সংসদে অভিশংসন বা অপসারণের দাবিও তুলেছে। তাদের যুক্তি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠিত হচ্ছে। সেই সংসদে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলের রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে পারেন না। এনসিপির এই অবস্থানের প্রতি সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীরও সমর্থন রয়েছে বলে দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, এনসিপি ও জামায়াতের এমন অবস্থান পুরোনো ও রাজনৈতিক। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই তাদের এই অবস্থান ছিল রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে। বিএনপি অবশ্য এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের ওই অবস্থানকে আমলে নিচ্ছে না। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    এর মানে বিএনপি সরকার এখনই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের পথে যাচ্ছে না এবং পরিবর্তন করতে চাইলে সেজন্য সময় নেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সরকারের ভেতরেও এ নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা নেই বলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন। আর বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান যেহেতু দলের বা সরকারের অন্য নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা করেননি। ফলে তারা সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখার পুরোনো অবস্থানেই থাকার কথা বলছেন। কিন্তু ভিন্নমতও আছে বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সেখানে ভিন্ন রাজনীতির কাউকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বহাল রেখে সংবিধান সমুন্নত রাখার বিষয়টি তাদের কাছে যৌক্তিক নয়। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারই সংবিধান সমুন্নত রাখবে এবং বিএনপি চাইলেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। তবে যারা আপাতত রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন চান না, তারা চান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন তাদের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির মেয়াদ থাকে। আপাতত রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন না করার চিন্তার পেছনে এটি অন্যতম যুক্তি হিসেবে আসছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শপথ নেন গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি, তাকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রস্তুতি যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়ার বিরোধীতা করছে এনসিপিসহ বিভিন্ন দল।

    কিন্তু বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংসদের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ এখন প্রস্তুত। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণে কি থাকবে, তা সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করতে হয়।

    অর্থ্যাৎ যখন যে রাজনৈতিক সরকার থাকে, সংসদের প্রথম অধিবেশনে বা বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণে সেই সরকারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতিরা সেভাবেই ভাষণ দিয়েছেন সংসদে। শুধু ব্যতিক্রম করেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে তাদের প্রথম সরকারে এসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে। তিনি পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতি থাকার সময় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে তৎকালীন সরকার অনুমোদিত ভাষণ পড়তেন। তিনি ভাষণের শেষে গিয়ে দু’একটি বাক্য নিজ থেকে বলতেন এবং সেটাই শিরোনাম হতো সংবাদ মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের সেই সরকারের একপর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, এর পেছনে বিভিন্ন কারণের মধ্যে সংসদে বিচারপতি আহমদের স্বাধীনভাবে দু’একটি বাক্য বলার বিষয়টিও অন্যতম কারণ ছিল। যা নিয়ে সে সময় অনেক আলোচনাও হয়েছে।

    এখন বিএনপি সরকার সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার ব্যাপারে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাতেই নতুন সরকার সংবিধানের বিরোধীতাকারীদের জন্য একটা বার্তা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। তারা বলছেন, আগের রাষ্ট্রপতিকে বহাল রেখে বিএনপি সরকার তাদের যাত্রার প্রথম পর্যায়ে সংসদ গঠন করাসহ সাংবিধানিক কাজগুলো সেরে নিতে চাইছে। একইসঙ্গে সংবিধান সমুন্নত রাখার যে কথা দলটি বলে আসছে, সেই অবস্থানে থাকার ব্যাপারেও একটা বার্তা দেওয়া হচ্ছে বিরোধীদের প্রতি। কিন্তু এমন অবস্থান নিয়ে বিএনপির ভেতরেও প্রশ্ন আছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যায় কখন প্রথমত রাষ্ট্রপতির পদে থাকা ব্যক্তি নিজে থেকে পদত্যাগ করলে ওই পদ শূন্য হবে। তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো বাধা থাকে না। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ থাকতে হবে। এই অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে যা বলা আছে, সাধু ভাষায় ওই অংশ হুবহু তুলে ধরা হলো––

    ৫২। ১. এই সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাইতে পারিবে; ইহার জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করিতে হইবে; স্পিকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হইতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হইতে পারিবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকিলে স্পিকার অবিলম্বে সংসদ আহ্বান করিবেন।

    ২. এই অনুচ্ছেদের অধীন কোনো অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করিতে পারিবেন।

    ৩. অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকিবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকিবে। এছাড়া সংবিধানে বলা হয়েছে, শারীরিক ও মানসিক অসামর্থের কারণে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়। তখন সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়।

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ, ২০২৪ সালের ২২শে অক্টোবরের ছবি, সে সময় ওই দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি বিএনপি কী অভিশংসনের পথে যাবে? অভিশংসন বা অপসারণ-এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ওপর বর্তায় বলে উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলছেন, এ মুহূর্তে এই দুই পথের কোনো পথই অনুসরণ করতে চান না তারা।

    সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন নিজ থেকে পদত্যাগ করলে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন। প্রসঙ্গত, ভোটের আগে গত ডিসেম্বর মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া একটি সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি ‘অপমানিত বোধ করছেন’। রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হয় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। সংবিধান অনুযায়ী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে অভিশংসনের প্রয়োজন হয় না। ১২ই মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবেন।

    তবে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রশ্নে তার সেই আগের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন বক্তব্য এসেছে এখন। সম্প্রতি একটি পত্রিকায় তার একটি সাক্ষাতকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিএনপি যদি মনে করে, তারা নিজেদের মতো রাষ্ট্রপতি চায়, সে ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘যদি তারা মনে করে আমি থাকি, তাহলে আমি থাকব। আর যদি বলে যে, সরে যাওয়া ভালো; তাহলে আমি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাব।’

    এদিকে, যদিও বিএনপি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কেউ কেউ বলছেন, অভিশংসন বা অপসারণের পথে যেতে চান না তারা। কিন্তু সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের জন্য সংবিধানে থাকা যে কোনো উপায়ই ব্যবহার করতে পারে। সেখানে কোনো বিতর্ক কিংবা দায় এড়াতে অভিশংসন বা অপসারণের সেই পথে না গিয়েও বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য বলতে পারে। তাতে জটিলতা দেখেন না বিএনপি নেতাদেরই অনেকে। সরকারের কোনো দায়িত্বে নেই, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এমন একজন নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আরও দুই বছর রয়েছে। এত লম্বা সময় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতিকে রাখা হবে, এটাও মনে করেন না তাদের অনেকে।

    অন্যদিকে, সরকার ও বিএনপির নেতাদের যারা সংবিধান সমুন্নত রাখতে মো. সাহাবুদ্দিনকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপাতত বহাল রাখার কথা বলছেন, তাদের অবশ্য ভিন্ন একটা হিসাব-নিকাশ আছে। সেটি যদি এভাবে বলা যায় যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংবিধান সংশোধন করে তিন মাস মেয়াদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত আনতে হবে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখছেন বিএনপির ওই নেতারা। কারণ, বিএনপি সরকার এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করলে, তার মেয়াদও পাঁচ বছর পর এই সরকারের মেয়াদের সঙ্গে শেষ হবে। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে তখন বিএনপির রাষ্ট্রপতি থাকবে না। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেহেতু নির্বাচিত হবে না, সে সময় রাষ্ট্র প্রধানের পদে নির্বাচিত ব্যক্তি না থাকলে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক সংকট হতে পারে।

    সেজন্য বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যাতে একটা যথাযথ সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতির মেয়াদ থাকে, সেটি চান সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অনেকে।
    এমন প্রেক্ষাপটে মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে বহাল রেখে তার মেয়াদ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা তার আগেও তাকে পরিবর্তনের সাংবিধানিক উপায় বিএনপির হাতে আছে।
    ফলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এখনই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রশ্নে চিন্তিত নন বলে মনে হয়েছে। তবে বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্নে তাদের শীর্ষ নেতা যেহেতু তার চিন্তা বা মনোভাব এখনো প্রকাশ করেননি। ফলে নতুন জাতীয় সংসদ যাত্রা শুরুর পর বিষয়টিতে দল ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে যে, মো. সাহাবুদ্দিনই রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপাতত বহাল থাকছেন নাকি পরিবর্তন আসবে।

    উল্লেখ্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি সরকারের শপথ পড়িয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাত মাস আগে ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের পর ওই সরকারের প্রধানমন্তী-মন্ত্রীদের শপথ পড়িয়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ পড়ান বর্তমান রাষ্ট্রপতি। সর্বশেষ ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর তিনি শপথ পড়ান তারেক রহামানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে।-বিবিসি

  • সোমবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

    সোমবার টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার কিছু এলাকায় সোমবার (৯ মার্চ) ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। রোববার (৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির আখাউড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জহির আব্বাস খান।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার আখাউড়া-১ উপকেন্দ্রের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ কাজের জন্য ৪,৫ ও ৬ নং ফিডারের আওতায় জেলার সদর উপজেলার শ্যামনগর,বরিশল, চান্দি, কোড্ডা। আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর, করুয়াতলী আমোদাবাদ, আনোয়ারপুর, চানপুর ও কল্যাণপুর। মোগড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর। ধরখার ইউনিয়নের বনগজ। দক্ষিণ ইউনিয়নের হীরাপুর। আখাউড়া পৌরসভার গোবিন্দ টেক, রুপনগর, টানপাড়া ও দূর্গাপুর। বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল, কাশিনগর, নলগড়িয়া, দৌলতবাড়ি, চাওরা, উথারিয়াপাড়া, মেরাশানি, নোয়াবাদি, রামধননগর, শ্রীপুর ও খিরাতলা এলাকায় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কাজ শেষ হলে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে লাইন চালু হতে পারে।

    রমজান মাসে সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে জহির আব্বাস খান।

  • ভারতের কাছে জ্বালানি সহায়তা চাইলো বাংলাদেশ!

    ভারতের কাছে জ্বালানি সহায়তা চাইলো বাংলাদেশ!

    দেশের জ্বালানি খাতের চলমান সংকট নিরসনে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) এবং আসামের নুমলীগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল)-এর কাছ থেকে চার মাসে ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের জন্য আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। আজ রবিবার (৮ মার্চ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    একাধিক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরিভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে আগামী চার মাসের মধ্যে ৫০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    ভারতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ডিজেল আমদানির চুক্তি সম্পন্ন হলে তা দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রমতে, জ্বালানি সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে খুব দ্রুতই এই ডিজেল বাংলাদেশে আসা শুরু হবে।

    সুত্র : চ্যানেল টুয়েন্টিফোর

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে জরুরি নির্দেশ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে জরুরি নির্দেশ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত ১০ দফা নির্দেশনা জারি করেছে মাউশি।

    মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা হতে বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ সংক্রান্ত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ)-এর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিনামূল্যে একদিনের প্রশিক্ষণ সম্পাদনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উক্ত কার্যক্রম নিম্নোক্তভাবে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো: প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শিরোনাম: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’; শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাউশি ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি স্ব স্ব ভেন্যুতে বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত ও নির্ধারিত স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষকগণের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ অনুযায়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ১ দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করবেন; প্রশিক্ষণ পরবর্তী দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রম নিয়মিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট- ২(গ) -এর ‘বাস্তবায়ন ও মনিটরিং নির্দেশনা’ অনুসারে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি মনিটরিং পুল গঠন করবে;

    ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট-২ এ অন্তর্ভুক্ত পরিচালনা ও বাস্তবায়ন গাইডলাইনের কাউন্সেলিং সেবা প্রদানসহ অবশিষ্ট নির্দেশনাগুলো শিক্ষার্থীদের দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রমের সাথে প্রয়োজন অনুসারে বাস্তবায়িত হবে; প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট- ২ ও ৪ এ বর্ণিত নীতিমালা অনুসারে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনিটরিং পুল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মনিটরিং পুলের কার্যাবলি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল এবং পরিচালনা ও বাস্তবায়ন গাইডলাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর বাইরের কোনো কার্যক্রমের সাথে কোনো অবস্থাতেই সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না; স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনিটরিং পুল প্রতি বছর নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করবেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বেশি হলে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাচ আকারে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে; অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অভিভাবকদেরকে এই প্রশিক্ষণ সম্পর্কে অবহিতকরণের অংশ ‘হিসেবে কোনো- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন মনে করলে, ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট-৪(১)(৩) অনুযায়ী প্রয়োজনবোধে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের
    আওতায় এনে কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে;

    প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ সংশ্লিষ্ট অঞ্চল/জেলা/থানা/উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন সমন্বয় করবেন। তাছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে প্রয়োজনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কো-অর্ডিনেটর (মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) সাইকোলজিস্ট (যোগাযোগ : ০১৮৯২০০৯৯১৪ ও ই-মেইল : (totalfitness@quantummethod.org.bd) এর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন; প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে এবং প্রশিক্ষণ পরবর্তী দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রমের মনিটরিং পুলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ স্কাউটস (স্কাউটস- স্কুল পর্যায়ে ও রোভার স্কাউটস- কলেজ পর্যায়ে) সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত থাকবে।বাং

  • এই সিদ্ধান্তের ফলে ঈদের ছুটি থাকবে টানা যতদিন

    এই সিদ্ধান্তের ফলে ঈদের ছুটি থাকবে টানা যতদিন

    আগামী ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ছুটির বিষয়ে এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি মন্ত্রিপরিদ বিভাগ।

    তবে ছুটির তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

    বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আগামী ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত একটানা সাত দিন ছুটি থাকছে।
    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। চলতি বছর রমজান ৩০ দিন ধরে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদ হবে ২১ মার্চ।

    চলতি বছরের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঈদের দিন সাধারণ ছুটি। ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ২২ ও ২৩ মার্চ ঈদের আগে-পরে দুই দিন করে মোট চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। সে হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ঈদের ছুটি আগে থেকেই মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। তবে ঈদের আগে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার শবেকদরের ছুটি রয়েছে।

    এরপর ঈদের নির্ধারিত ছুটি শুরু হওয়ার আগে মাঝখানে এক দিন (১৮ মার্চ) অফিস খোলা ছিল। তাই ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটির মাধ্যমে টানা সাত দিনের ছুটির ব্যবস্থা করল সরকার। এখন ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে ১৭ মার্চ, চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত।

  • ঈদের ছুটি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করল সরকার

    ঈদের ছুটি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করল সরকার

    আসন্ন শবেকদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটি একদিন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রবিবার (৮ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র প্রকাশ করা হয়।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এ বি এম আবু বাকার ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত ছুটির মধ্যবর্তী ১৮ মার্চ ২০২৬ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, এই ছুটির দিনে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

    ফলে শবেকদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির সুযোগ পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছুটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২ ও ২৩ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১৭ মার্চ পবিত্র শবেকদরের ছুটি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেষ কর্মদিবস হবে ১৬ মার্চ। ঈদের ছুটি শেষে ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস খোলা থাকবে।

    এরপর আবার রয়েছে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সাধারণ ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ঈদের ছুটির পরেও টানা তিন দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

  • বড় ব্যবধানে কমানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম

    বড় ব্যবধানে কমানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম

    সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে বড় ব্যবধানে কমানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শনিবার (৭ মার্চ) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সবশেষ নির্ধারিত দামে।

    সবশেষ বুধবার (৪ মার্চ) সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ৯ হাজার ২১৪ টাকা ও ৬৪১ টাকা কমানো হয়েছে।বাংলাদেশের রাজনীতি

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

    সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

    এর আগে, সবশেষ গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকেই।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১৩ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

    স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে এবার কমানো রয়েছে রুপার দামও। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২২ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৮ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

  • হঠাৎ বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কত হলো জানেন?

    হঠাৎ বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কত হলো জানেন?

    যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের চলমান যুদ্ধকে ঘিরে দাম বাড়তে পারে—এ আশঙ্কায় চাহিদার চেয়ে বেশি তেল কিনতে শুরু করেছেন ভোক্তারা। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে এখনো সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি হলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনছেন। এতে বাজারে চাপ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, শাহজাদপুর, দক্ষিণ বনশ্রী ও মেরাদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ দোকানেই পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও এক বা দুই লিটারের বোতল সীমিত পরিমাণে মিললেও অনেক দোকানে সেটিও নেই।

    শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, তার প্রয়োজন ছিল দুই লিটারের একটি বোতল। কিন্তু আশপাশের কয়েকটি দোকান ও বাজার ঘুরেও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে হয়েছে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানান, স্বাভাবিক সময়ে তিনি ডিলারের কাছ থেকে দিনে ৮–১০ কার্টন তেল আনতেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে তা কমে দুই–তিন কার্টনে নেমে এসেছে। এতে বাজারে বোতলজাত তেলের সংকট তৈরি হয়েছে।

    বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তেল সরবরাহ তুলনামূলক কম। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্রেতা আশঙ্কা থেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। ফলে বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। কারওয়ান বাজারে কয়েকটি ডিলারের দোকানে বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা সেখানে ভিড় করছেন। তবে অনেকেই চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। মগবাজার এলাকার বিক্রেতা মো. পলাশ গণমাধ্যমে বলেন, আগে যেখানে চার কার্টন তেল নিতেন, এখন ডিলার এক কার্টনের বেশি দিচ্ছে না।

    বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডিলার পর্যায়েও দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাঁচ লিটারের বোতল সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা থাকলেও আগে ডিলারের কাছ থেকে এটি প্রায় ৯৩০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন অনেক দোকানদারকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এতে খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা কমে গেছে। এদিকে বোতলজাত তেলের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে গত চার দিনে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে ১৯৮–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দামও বেড়ে কেজিতে প্রায় ১৭০ টাকায় পৌঁছেছে।

    তবে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সরবরাহ সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত তেল সরবরাহ করছেন এবং উৎপাদনেও কোনো ঘাটতি নেই। রমজানকে সামনে রেখে অতিরিক্ত তেল আমদানিও করা হয়েছে। সিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ সাহা গণমাধ্যমে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান সরবরাহ কমায়নি। তবে এলসি–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু ছোট কোম্পানি তেল আমদানি করতে পারছে না। পাশাপাশি রমজানে চাহিদা বৃদ্ধি এবং কিছু মানুষের মজুদের কারণেও বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, বাজারে সরবরাহ–সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

  • জানেন এবার হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম যত হলো?

    জানেন এবার হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম যত হলো?

    জানেন এবার হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম যত হলো?

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এবং সাময়িক সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ফিউচার ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হয়।

    পরে ডব্লিউটিআইয়ের দাম আরও বেড়ে ১.১৬ ডলার বা ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৬.৩৫ ডলারে দাঁড়ায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

    নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, উত্তেজনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা কম। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র বৃদ্ধি চান না। সামরিক পদক্ষেপ হলেও তা সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি হতে পারে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি মঙ্গলবার সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছিল। জলপথটি পুরোপুরি চালু হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ৩ সেনা কর্মকর্তা

    রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ৩ সেনা কর্মকর্তা

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ঊর্ধ্বতন ৩ কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিতে তাদের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যস্ত করেছে সরকার। 

    বুধবার (৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেতে যাওয়া সেনা কর্মকর্তারা হলেন- মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।

    এনসিপির সঙ্গে বৈঠক আপাতত হচ্ছে না মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
    উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনগুলোয় বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর (সেনাবাহিনী) এই ৩ কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগের নিমিত্ত তাদের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলো।

    জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।