Category: সারাদেশ

  • নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার সময়সূচী জানা গেলো!

    নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার সময়সূচী জানা গেলো!

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। আজ শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বঙ্গভবনে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন এবং এর মাধ্যমে প্রায় দুই যুগ পর দেশে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে।

    নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। মিত্রদের আসনসহ তাদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংসদ নেতা নির্বাচনের মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে সরকার চাইলে আগামীকাল বা পরশুর মধ্যেও শপথ আয়োজনের পূর্ণ প্রস্তুতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রয়েছে।

    বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছে যে, নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এই শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য যে, বঙ্গভবনে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

  • ৪১ জনের চমকপ্রদ তালিকা! নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন?

    ৪১ জনের চমকপ্রদ তালিকা! নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন?

    ভোটযুদ্ধের পর্দা নেমেছে, এখন সামনে দেশ পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর বঙ্গভবন ও গুলশানজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অন্দরমহলে ঘুরে বেড়ানো সম্ভাব্য ৪১ সদস্যের তালিকায় যেমন অভিজ্ঞ ও দেশবরণ্য নেতাদের নাম রয়েছে, তেমনি জায়গা পেতে পারেন রাজপথে সক্রিয় তরুণ এবং প্রযুক্তি-সচেতন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও।

    তালিকার শীর্ষে আছেন বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতৃত্বদানকারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় পরিচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। আইনি ও সাংবিধানিক বিষয় মোকাবিলায় মন্ত্রিসভায় অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদও থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

    দীর্ঘ দেড় দশক রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাদের বড় দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে পারেন তারেক রহমান। এই তালিকায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ফিরে আসা সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দলের দুঃসময়ে সক্রিয় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নামও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতুল্লাহ বুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর নামও শোনা যাচ্ছে।

    সবচেয়ে বেশি চমক আসতে পারে জোটের শরিক দল ও তরুণ নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তিতে। গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী এবং ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নাম তালিকায় রয়েছে। তরুণদের মধ্যে ইশরাক হোসেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও আবু আশফাকের মতো নেতাদেরও সম্ভাব্য নীতিনির্ধারক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা ও বিশেষজ্ঞ কোটায় আলোচনায় আছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    দলীয় সূত্র বলছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের লক্ষ্যে দীপেন দেওয়ান, সাচিং প্রু চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মতো নেতাদের রাখা হতে পারে, যা পাহাড় ও সমতলের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। নারীদের মধ্যে শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল ও তাহসিনা রুশদীর লুনার নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। পেশাজীবী কোটায় আলোচনায় আছেন চিকিৎসক নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

    তবে উল্লেখ্য, এই ৪১ সদস্যের তালিকাটি এখনো কেবল দলীয় অন্দরমহলের আলোচনা ও গুঞ্জনের পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান যদি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে এই তালিকা থেকে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, তবে সেটি হতে পারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন সবার চোখ বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে—শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব নিচ্ছেন, তা জানার অপেক্ষায় পুরো জাতি।

  • রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আছেন যারা

    রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আছেন যারা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে । দলটির গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রায় সবাই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আগেই স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে।

    এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা চলছে। দলটির তিন প্রবীণ নেতা ও অরাজনৈতিক এক জন এ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছে।

    সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতির পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। এছাড়া তিনি অতীতেও কোনো মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীত্ব পাননি। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। একমাত্র কুয়েতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

    এই ব্যতিক্রমী কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা তাকে পারদর্শী হিসেবে বিবেচিত করেছে রাষ্ট্রপতি পদে। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত এই প্রবীণ নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদ দিয়ে সেই বিশ্বস্ততার পুরষ্কার হিসেবে সম্মানিত করার আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র বলছে, তার দীর্ঘদিনের অবদান ও নেতৃত্ব বিএনপির অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অপরদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতি পদে রাখা নিয়ে বিএনপিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তিনি গত তিন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এমন আলোচনাও ছিল।

    এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই প্রকাশিত হবে, যার পরই সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী নামও আলোচনায় এসেছে।

  • ১৭ বছর পর ক্ষমতায়! কার হাতে যাবে কোন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়?

    ১৭ বছর পর ক্ষমতায়! কার হাতে যাবে কোন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়?

    দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এখন সবার দৃষ্টি নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে। গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর শুরু হবে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে।

    বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় কতজন সদস্য থাকবেন এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন—এ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, তবে একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে এসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে চায় বিএনপি।

    দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়ে দলীয় মহলে আলোচনা চলছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি অতীতে বিএনপি সরকারের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবিরকেও সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকায় রাখা হচ্ছে।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর নাম আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব থেকেও নতুন কোনো মুখ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে কার হাতে যাবে, তা জানতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

  • সন্ধ্যায় জামায়াত আমির, রাতে এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

    সন্ধ্যায় জামায়াত আমির, রাতে এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাতে যাবেন।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দলীয় একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    দল জানিয়েছে, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে এবং রাত ৮টায় নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান।

    এবারের নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। জোটের শরিক দলগুলো আরও ৩টি আসন পেয়েছে। ফলে আগামী সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২।

    উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঢাকা ও বগুড়া—এই দুটি আসন থেকেই বিজয়ী হয়েছেন।

  • নতুন মন্ত্রিসভায় আলোচনায় যারা

    নতুন মন্ত্রিসভায় আলোচনায় যারা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় প্রধান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—এমন প্রত্যাশার মধ্যেই এখন দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

    দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

    দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।

    স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান-কে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার আলোচনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

    এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু-র নামও সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে শোনা যাচ্ছে।

    বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ‘জাতীয় সরকার’ ধারণার প্রেক্ষাপটে মিত্র দল থেকেও প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে। জোনায়েদ সাকি ও আন্দালিভ রহমান পার্থ-কে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া বিএনপির প্রতীকে নির্বাচিত শাহাদাত হোসেন সেলিমের নামও আলোচনায় রয়েছে।

    দলীয় সূত্র বলছে, ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ নেতা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় আছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অভিজ্ঞ কাউকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতে দেশ-বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারী হিসেবে যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবারের মন্ত্রিসভা খুব বড় করা হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে।

    নবনির্বাচিত সংসদ ও নতুন সরকার ঘিরে এখন দেশজুড়ে আলোচনা। নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে কেমন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, সেদিকেই সবার নজর।

    কক্সবাজার-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে তা জানতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।

  • বঙ্গভবন না হয়ে, কোথায় হচ্ছে মন্ত্রিসভার শপথ!

    বঙ্গভবন না হয়ে, কোথায় হচ্ছে মন্ত্রিসভার শপথ!

    মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। এবার এর ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে।

    প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই শপথ অনুষ্ঠান হবে। একই দিন সকালে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বিএনপির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো, ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।

    জাতীয় সংসদ হলো গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দেড় বছর ধরে জাতীয় সংসদ না থাকলেও সংসদ ভবনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিসভার শপথও সেখানে হচ্ছে।

    গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ব্যক্তিদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সাধারণত জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

    জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, আপাতত ১৭ তারিখ শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের আগে গতকাল দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে সর্বোচ্চ আগামী তিন–চার দিনের মধ্যে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, বঙ্গভবনে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ শপথ পড়াবেন। তবে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বঙ্গভবন নয়, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ।

  • পেটের ক্যা’ন্সারের ৫টি ভয়ংকর ধরণ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে

    পেটের ক্যা’ন্সারের ৫টি ভয়ংকর ধরণ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে

    পেটের ক্যান্সার শুনলেই অনেকের মনে হয় এটি কোনো সাধারণ রোগ, যা সহজেই চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পেটের ক্যান্সারের ধরন, বৃদ্ধি ও উপসর্গ অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় আলাদা, এবং কিছু ক্যান্সার অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু বিরল কিন্তু আক্রমণাত্মক ক্যান্সার রয়েছে, যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।

    অ্যাডেনোকার্সিনোমা: সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
    পেটের ক্যান্সারের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই অ্যাডেনোকার্সিনোমা। এটি পাকস্থলীর শ্লেষ্মা ও হজমরস উৎপাদনকারী কোষ থেকে উদ্ভূত হয়। অ্যাডেনোকার্সিনোমার দুটি ধরন রয়েছে:

    ইনটেস্টাইনাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ডিফিউজ অ্যাডেনোকার্সিনোমা দ্রুত ও অনিয়মিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা তরুণরাও আক্রান্ত হতে পারে।
    প্রধান উপসর্গ: অল্প খাবার খেয়ে পেট ভরা, হজমে সমস্যা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা ও অজানা ওজন হ্রাস।

    পাকস্থলীর লিম্ফোমা: ইমিউন সিস্টেমে আঘাত
    লিম্ফোমা সাধারণত লিম্ফ নোডে হলেও পাকস্থলীতেও শুরু হতে পারে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসাযোগ্য।

    এমএএলটি লিম্ফোমা ধীরে বাড়ে এবং এক জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকে।

    ডিফিউজ লার্জ বি-সেল লিম্ফোমা গুরুতর ও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
    উপসর্গ: বারবার পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন হ্রাস, বুকজ্বলা ও বমি।

    জিআইএসটি: বিরল কিন্তু মারাত্মক
    গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল স্ট্রোমাল টিউমার (জিআইএসটি) পাকস্থলীর দেয়ালের স্নায়ুকোষ থেকে উদ্ভূত হয়। প্রাথমিক সময়ে উপসর্গ নেই, কিন্তু বড় হলে পেটে ব্যথা, রক্তমিশ্রিত মল, অবসাদ ও ওজন কমে যাওয়া দেখা যায়। লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ ও অস্ত্রোপচার কার্যকর।

    কারসিনয়েড টিউমার: নীরব ঘাতক
    প্রাথমিকভাবে উপসর্গহীন, তবে পরবর্তী সময়ে পেটের ক্র্যাম্প, মলত্যাগের পরিবর্তন, ত্বক লাল হওয়া, ডায়রিয়া, ওজন হ্রাস ও বমি হতে পারে। ছোট টিউমার এন্ডোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সরানো যায়, বড় বা ছড়িয়ে পড়া ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন।

    স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা: বিরল ও আক্রমণাত্মক
    পেটের সবচেয়ে বিরল ক্যান্সার। পাকস্থলীতে গ্রন্থিযুক্ত কোষে আলসার ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হয়। উপসর্গ: বারবার পেটব্যথা, রক্তস্বল্পতা ও অকারণে ওজন হ্রাস। চিকিৎসায় বড় অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপি প্রয়োজন।

    পেটের ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। সব ধরনের ক্যান্সারের বৃদ্ধি ও চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। কিছু ধীরে বাড়ে, আবার কিছু হঠাৎ ভয়াবহ আকার নেয়। তাই অল্প উপসর্গ দেখলেই দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা করলে জীবন রক্ষার সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি পায়।

  • হ্যাঁ ভোটের বিজয়ে দেশের চাবি হিসেবে যা যা পেতে যাচ্ছে জনগণ!

    হ্যাঁ ভোটের বিজয়ে দেশের চাবি হিসেবে যা যা পেতে যাচ্ছে জনগণ!

    গণভোটে বিপুল জনসমর্থনের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদন পাওয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনা ও সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। নতুন এই রায়ের ফলে দেশের সংবিধানে একগুচ্ছ মৌলিক সংস্কার যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা নাগরিক অধিকার, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ের মাধ্যমে ৪৭টি সাংবিধানিক সংশোধনের প্রস্তাব কার্যকর করার পথ খুলে যায়। সংশোধনগুলোর লক্ষ্য—রাষ্ট্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং জনগণকেন্দ্রিক করা।

    নাগরিক পরিচয় ও ভাষায় বড় পরিবর্তন
    নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলার পাশাপাশি দেশে প্রচলিত সব মাতৃভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পাবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয় “বাঙালি” থেকে পরিবর্তন করে “বাংলাদেশী” করা হবে।

    সংবিধান সংশোধন ও জরুরি ক্ষমতায় নতুন নিয়ম
    এখন থেকে সংবিধান সংশোধনের জন্য নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলে গণভোটের প্রয়োজন হবে। জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রেও শুধু প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট হবে না—মন্ত্রিসভা ও বিরোধী দলের সম্মতি লাগবে।

    রাষ্ট্রের মূলনীতি ও নাগরিক অধিকার
    রাষ্ট্রের মূলনীতিতে যুক্ত হচ্ছে—সামাজিক সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার অধিকার সংবিধানে যুক্ত হচ্ছে এবং কোনো সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করতে পারবে না।

    ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন কাঠামো
    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

    সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট—উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং নিম্নকক্ষে নারীদের সংরক্ষিত আসন ধাপে ধাপে ১০০-তে উন্নীত করা হবে। ডেপুটি স্পিকার হবেন বিরোধী দল থেকে এবং সংসদ সদস্যরা দলীয় নির্দেশনার বাইরে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা পাবেন।

    বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
    বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে বিচারক নিয়োগ, বিভাগভিত্তিক হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    পাবলিক সার্ভিস কমিশন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ কমিটি গঠন করা হবে, যাতে একক কর্তৃত্বের সুযোগ না থাকে।

    জনপ্রশাসন সংস্কার ও নতুন বিভাগ
    প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের জন্য স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। বিদ্যমান পিএসসিকে সাধারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই তিন ভাগে বিভক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন করে কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

    গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের এই বিজয় কেবল একটি সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নতুন সরকার এসব সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে—কারণ সংশোধিত সংবিধানেই নাগরিক অধিকার সুরক্ষার দৃঢ় কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • শিবিরের সেই সাহসী সিয়ামের ওপর হা’মলা, মধ্যরাতে জানালেন ডাকসু ভিপি

    শিবিরের সেই সাহসী সিয়ামের ওপর হা’মলা, মধ্যরাতে জানালেন ডাকসু ভিপি

    ‘জুলাইযোদ্ধা’ ফেনীর সেই সাহসী সিয়ামের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ এনে করা সাদিক কায়েমের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
    জুলাইযোদ্ধা ছাত্রশিবিরের ফেনী শাখার সিয়াম একাই সেদিন সন্ত্রাসী আওয়ামী, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। অথচ আজ তার ওপর হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের একজন নারী শিক্ষার্থীর পরিবারের ওপর হামলা ও তাদের বাড়ি ছাড়া করছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা কেবল পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য।

    দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা, আক্রমণ শুরু করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা যে নৃশংস হামলা পরিচালনার মাধ্যমে তাদের বিজয় উৎসব উদযাপন করছে! দেশবাসীকে সাথে নিয়ে এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।