Category: সারাদেশ

  • সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন যত টাকা বেতন বাড়লো সরকারি চাকরিজীবীদের

    সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন যত টাকা বেতন বাড়লো সরকারি চাকরিজীবীদের

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এবারই প্রথম গ্রেড অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিছনের গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি হারে এ ভাতা পাবেন, আর সামনের গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন কম হারে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী:
    – ১ থেকে ৩য় গ্রেড: মূল বেতনের ১০%।
    – ৪ থেকে ১০ম গ্রেড: মূল বেতনের ২০%।
    – ১১ থেকে ২০ম গ্রেড: মূল বেতনের ২৫%।

    – সর্বনিম্ন বেতন বৃদ্ধি ৪,০০০ টাকা।
    – সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধি ৭,৮০০ টাকা।
    কোনো চাকরিজীবী ৪,০০০ টাকার কম মহার্ঘ ভাতা পাবেন না।

    মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হওয়ার পর, আগের সরকারের দেওয়া ৫% বিশেষ প্রণোদনা সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

    পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই মহার্ঘ ভাতা পাবেন। ইনক্রিমেন্টের সময় এটি মূল বেতনের সঙ্গে যোগ হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্ধিত ভাতার অর্থায়নের জন্য উন্নয়ন বাজেট কমানো হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গেই এ ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান নিশ্চিত করেছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট হারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ২০১৫ সালের পে-স্কেলের পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। কিন্তু এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণে গঠিত কমিটি জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর আওতায় মহার্ঘ ভাতার প্রযোজ্যতা ও প্রাপ্যতার বিষয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ করেছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্ধিত ভাতার অর্থায়নের জন্য উন্নয়ন বাজেট কমানো হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গেই এ ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান নিশ্চিত করেছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট হারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ২০১৫ সালের পে-স্কেলের পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। কিন্তু এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণে গঠিত কমিটি জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর আওতায় মহার্ঘ ভাতার প্রযোজ্যতা ও প্রাপ্যতার বিষয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ করেছে।

  • ব্রেকিং নিউজ: রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা!

    ব্রেকিং নিউজ: রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা!

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন চলছে।সূত্রটি বলছে, সর্বপ্রথম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনিই এবার রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হতে পারেন। খুব শিগগিরই এমন ঘোষণা আসবে।

    বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লেখাপড়া শেষ করে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২০১১ সালের মার্চে মৃত্যুবরণ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন।ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেসরকারিভাবে ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়েছে

  • জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বার্তা!

    জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বার্তা!

    দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার রাত সোয়া ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

    ভাষণের শুরুতেই ড. ইউনূস দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন যে, সদ্য সমাপ্ত এই নির্বাচন ভবিষ্যতে দেশের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি ‘উৎকৃষ্ট উদাহরণ’ হয়ে থাকবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে দেশ এক মহাবিপদ থেকে মুক্ত হয়েছিল। অচল দেশকে সচল করার যে কঠিন দায়িত্ব ছাত্রনেতারা তার ওপর অর্পণ করেছিলেন, ১৮ মাস নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে আজ তিনি সেই দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছেন।

    দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বত্র এক মহাসংকট ছিল। দুর্নীতিবাজ ও অনুগত কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ায় কাকে বিশ্বাস করবেন তা ছিল এক বড় প্রশ্ন। গত ১৮ মাসে তার সরকার সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন—এই তিনটি মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে এক নতুন গণতান্ত্রিক যুগের সূচনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ড. ইউনূস বিজয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং যারা পরাজিত হয়েছেন তাদের ওপরও প্রায় অর্ধেক ভোটারের আস্থা রয়েছে, যা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার প্রেরণা দেবে। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    পরিশেষে অধ্যাপক ইউনূস বলেন যে, একটি স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশে ফেরার যে অঙ্গীকার তারা করেছিলেন, তা পালনে কোনো প্রচেষ্টার ঘাটতি ছিল না। মঙ্গলবার নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের এই যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে। সাফল্যের বিচারের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি নতুন বাংলাদেশের জন্য সবার মঙ্গল কামনা করেন।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন যে ২ জন

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন যে ২ জন

    সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বর্তমানে দুইজন নেতা বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে জানা গেছে, দলীয় অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং সংসদীয় প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে এই দুই নেতাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বরং সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত। তিনি দীর্ঘদিন দলের অভ্যন্তরীণ নীতি-প্রক্রিয়া ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যোগাযোগ নীতিমালা ও জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

    অপরদিকে নেত্রকোনা-৪ আসনের বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সরকারের স্বরাষ্ট্র নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বিশেষ দক্ষতা রাখেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আধুনিকায়ন ও দক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করতে পারে।

    বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, দলীয় নেতৃত্ব উভয় প্রার্থীর কার্যক্রম, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভ্যন্তরীণ সমর্থন পর্যবেক্ষণ করছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারকে স্থিতিশীল ও কার্যকর করার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচনের চেষ্টা চলছে। দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে না।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া কেবল ব্যক্তির প্রশাসনিক ক্ষমতা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয় সমর্থন এবং জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এই পদে দায়িত্ব নেওয়া নেতা সরকারের আইনশৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবেন।

    দলীয় সূত্র আরও জানাচ্ছে, উভয় প্রার্থীই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনার জন্য নিজ নিজ পরিকল্পনা ও কৌশল প্রস্তুত রেখেছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সরকারের নিরাপত্তা নীতি এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই পদে নিযুক্ত নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

  • যেভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করছেন তারেক রহমান, জানা গেল মূল খবর

    যেভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করছেন তারেক রহমান, জানা গেল মূল খবর

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নাম দিয়ে বিভিন্ন তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব তালিকা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ, জল্পনা ও আলোচনা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব তালিকার অধিকাংশই অনুমাননির্ভর এবং প্রকৃত তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    বিশ্বস্ত দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে চূড়ান্ত করছেন তারেক রহমান। তিনি বিষয়টি নিজের একক এখতিয়ারে রেখেছেন এবং দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ নেতার সঙ্গেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেননি। যদিও দু-একজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সীমিত পরিসরে পরামর্শ করেছেন, তারা দলের চেয়ারম্যানের ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী দলটি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। দুটি আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে এবং একটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রায় দুই দশক পর বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ায় নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মন্ত্রিসভার তালিকাকে পার্টি চেয়ারম্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সিক্রেট ফাইল’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, চূড়ান্তভাবে কারা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানেন শুধুমাত্র দলীয় প্রধান। ফলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত সম্ভাব্য তালিকাগুলো নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে না।

    সূত্র আরও জানিয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে অনেকেই মন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ নিজেদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং দলীয় অবদান তুলে ধরছেন। কেউ আবার সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে সরাসরি দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করার সুযোগ সীমিত থাকায় অধিকাংশ নেতা অপেক্ষার কৌশল নিয়েছেন।

    এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন—এ বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। আমাকে এখনো এ বিষয়ে কোনো ফোন দেওয়া হয়নি। ফোন পেলে তখন বিস্তারিত বলতে পারব।” তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তালিকা প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর এবং চূড়ান্ত তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে মন্ত্রিসভা গঠন। ফলে এই তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত থাকবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পরই স্পষ্ট হবে কারা নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাচ্ছেন।

  • নারীরা বিনা জামানতে ২৫ লাখ টাকা করে ঋণ পাবেন

    নারীরা বিনা জামানতে ২৫ লাখ টাকা করে ঋণ পাবেন

    নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পাবনায় নারী উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ২৫ লাখ ঋণ দেওয়া হবে। সিএমএসএমই নারী উদ্যোক্তা খাতে জেলার ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে মাত্র ৫ পার্সেন্ট সুদে এ ঋণ বিতরণ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহীর নির্বাহী পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন খান সোমবার পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নারী উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানান।

    সোনালী ব্যাংক পাবনার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রশান্ত কুমার পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহীর পরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন, মহাব্যবস্থাপক মো. শওকত জামান। সোনালী ব্যাংক পাবনা প্রধান শাখার ইনচার্জ উপ-মহাপরিদর্শক মো. আবিদুর রহমানের সঞ্চালনায় সহকারী মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম, জেলার ৩৯টি তফসিলি বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ শতাধিক নারী উদ্যোক্তা কর্মশালায় অংশ নেন।

  • ক্ষমতা হস্তান্তরের পর কী করবেন ড. ইউনূস! এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায়?

    ক্ষমতা হস্তান্তরের পর কী করবেন ড. ইউনূস! এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায়?

    আর একদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে নিজ নিজ কাজে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি একথা জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন হয়ে গেলে নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তার সঙ্গে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং গৌরবের সঙ্গে নব-নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাবো। আমরা এই শুভ মহুর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

    তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা লক্ষ্য করছি—একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে সন্দেহ, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই—নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা, জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি—সতর্ক থাকুন, দায়িত্বশীল থাকুন। যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার করবেন না। গুজবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সচেতনতা ও সত্য। নির্বাচন নিয়ে যারা বিগত মাসগুলিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল, তারা সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তারা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

    ‘আপনারা সকল প্রকার অপপ্রচার থেকে নিজেদের মুক্ত রাখুন। তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন। নির্বাচনবন্ধু হটলাইন— ৩৩৩- এতে ফোন করে সঠিক খবর জেনে নিন। এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।’

    ×

  • শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে জয়ের বার্তা

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে জয়ের বার্তা

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে নির্বাচন, নেতৃত্ব ও বড় দলগুলোর ভবিষ্যৎ ঘিরে।

    শনিবার জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমান পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগ–এর অবস্থান তুলে ধরেন।

    জয় বলেন, প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে প্রশাসনিক চাপে নির্বাচনের বাইরে রাখা হলে সেখানে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা রাজনীতিতে ফিরবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি জানান, এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত; পরিবার থেকে কোনো চাপ নেই। একই সঙ্গে তিনি নিজে সরাসরি রাজনীতিতে নামার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও উল্লেখ করেন।

    আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অতীত ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে জয় বলেন, একতরফা ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে গত দেড় বছরের সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সমান বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

    অন্যদিকে, নির্বাচনে জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংবাদ সম্মেলনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করার কথা জানান।

    সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও আইনি প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

  • ছায়া মন্ত্রিসভা কী, কিভাবে কাজ করে? জানুন বিস্তারিত

    ছায়া মন্ত্রিসভা কী, কিভাবে কাজ করে? জানুন বিস্তারিত

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। দলটি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। তবে জোটবদ্ধভাবে পেয়েছে ২১২টি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন।

    আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফ্রেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিতে যাচ্ছে।

    এদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবার দেখা যেতে পারে নতুন গণতান্ত্রিক চর্চার। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করতে পারে ১১ দলীয় বিরোধী জোট। এরই মধ্যে ওই জোটের দু-একজন নেতার পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

    ছায়া মন্ত্রিসভা আসলে কী?

    ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো বিরোধী দলের গঠিত একটি ‘বিকল্প মন্ত্রিসভা’ কাঠামো, যেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ দায়িত্ব পালন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি, কার্যক্রম ও ব্যয় পর্যালোচনা করে সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    এ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়েস্টমিনস্টার ধারার গণতন্ত্রে।

    বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

    বাংলাদেশের সংবিধানে ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে কোনও বিধান নেই। ফলে এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকাকালে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু নেতাকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক দায়িত্ব দিলেও তা স্থায়ী বা সুসংগঠিত কাঠামো পায়নি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সংসদীয় চর্চার সীমাবদ্ধতার কারণে এ ব্যবস্থা কার্যকর রূপ পায়নি।

    কেন আলোচনায়?

    সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির ভেতরে শক্তিশালী ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। অনেকের মতে, একটি সক্রিয় ছায়া মন্ত্রিসভা থাকলে— নীতিগত বিতর্ক আরও কাঠামোবদ্ধ হতো, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব নিয়মিত উপস্থাপিত হতো এবং সংসদে জবাবদিহিতা বাড়তো।

    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে যদি সংসদীয় সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর একটি রাজনৈতিক অনুশীলনে পরিণত হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।

    ছায়া মন্ত্রিসভা- বাংলাদেশে এখনও একটি ধারণা; তবে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার হলে এটি বাস্তব কাঠামোতেও রূপ নিতে পারে।

  • মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ভোলার দুই হেভিওয়েট নেতা

    মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ভোলার দুই হেভিওয়েট নেতা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন সরকার গঠন এবং শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করা হতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা চলছে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে। কারা মন্ত্রী হচ্ছেন, কারা কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন—এসব নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলার রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে তুমুল আলোচনা। স্থানীয় বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নেতাকর্মীদের দাবি, ভোলার দুই প্রভাবশালী নেতা এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

    তাঁরা হলেন—মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। ভোলার রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে হাফিজ উদ্দিন ও পার্থ ভোলা জেলা বিএনপি ও বিজেপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় বিভিন্ন বৈঠক, কর্মীদের আড্ডা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ।

    দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য এই দুই নেতা নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন এবং তাঁদের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত।

    হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম: অভিজ্ঞ নেতা ও পরীক্ষিত মন্ত্রী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩(লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

    তিনি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একজন নেতা। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পরিচিতি বিবেচনায় এবারও তিনি মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন।

    আন্দালিভ রহমান পার্থ: জোট রাজনীতির শক্তিশালী মুখ বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১ (ভোলা সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

    তিনি এর আগেও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আইন পেশায় তাঁর অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

    দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোট এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে এবার তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন।

    সম্ভাব্য মন্ত্রণালয় নিয়েও আলোচনা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শুধু মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নয়, বরং কোন মন্ত্রণালয় পেতে পারেন—তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
    দলীয় সূত্রগুলো বলছে, হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পেতে পারেন— পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয় অথবা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় অন্যদিকে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের জন্য সম্ভাব্য মন্ত্রণালয় হিসেবে আলোচনায় রয়েছে— কৃষি মন্ত্রণালয় অথবা আইন মন্ত্রণালয়

    উল্লেখ্য, ভোলা একটি নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জেলা হওয়ায় পানিসম্পদ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ভোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কৃষি ও আইন মন্ত্রণালয়ও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিজেপি সভাপতির প্রত্যাশা: “ভোলার উন্নয়নে পার্থর মন্ত্রী হওয়া জরুরি”

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব রাইসুল আলম বলেন, “ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ,মন্ত্রী হোক এটা আমরা চাই এ ছাড়া ভোলাবাসীরও দাবি এটি, এই জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর মন্ত্রী হওয়া দরকার। তিনি এই দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য। তিনি আরও বলেন, পার্থ মন্ত্রী হলে ভোলার অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

    বিএনপির এই নেতা আরো বলেন আমাদের ভোলার এই দুই নেতা মন্ত্রী হলে ভোলার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলবে ইনশাআল্লাহ, ভোলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জেলা ছাত্রদল নেতা নুর মোহাম্মদ রুবেল বলেন ভোলার সন্তান মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রী হলে তাঁদের মাধ্যমে ভোলার শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

    এলাকার মানুষের ভালো-মন্দ এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা থাকবে। এতে উপকূলীয় জেলার উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলেও আমি মনে করছি। আমি তাঁদেরকে সাধুবাদ জানাই। মিঃ রুবেল আরও বলেন, উপকূলীয় জেলার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন, যোগাযোগ সংকট, স্বাস্থ্যসেবা এবং চরাঞ্চলের অবহেলিত অবস্থা। এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে মন্ত্রিসভায় ভোলার প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোলাবাসীর প্রত্যাশা: উন্নয়নের গতি বাড়বে

    ভোলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি ভোলার এই দুই নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তবে জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের পথ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে— নদীভাঙন রোধ চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো নির্মাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পাঞ্চল গঠন এসব ক্ষেত্রে ভোলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

    অপেক্ষা নতুন মন্ত্রিসভার ঘোষণা সব মিলিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর পর ভোলার রাজনীতিতে আশাবাদের নতুন আলো দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞ ও জাতীয়ভাবে পরিচিত দুই নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রী হলে উপকূলীয় জেলা ভোলার উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। এখন ভোলাবাসীর দৃষ্টি ঢাকার দিকে—নতুন মন্ত্রিসভায় সত্যিই কি ভোলার এই দুই নেতা স্থান পাচ্ছেন?