Category: সারাদেশ

  • ৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন ক্যানসারে ভুগছেন

    ৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন ক্যানসারে ভুগছেন

    কিডনি ক্যানসারকে চিকিৎসকরা নীরব ঘাতক বলে অভিহিত করেন। কারণ, অনেক সময় শরীরে রোগটি বাসা বাঁধলেও শুরুতে কোনো বিশেষ উপসর্গ দেখা দেয় না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে যা খেয়াল করলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শনাক্ত হলে এই ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

    ১. প্রস্রাবে রক্ত আসা:

    কিডনি ক্যানসারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে হেমেচুরিয়া বলা হয়। এ সময় প্রস্রাবের রঙ লাল, গোলাপি বা বাদামি হতে পারে। অনেকে ব্যথাহীন বলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।

    ২. পিঠের নিচের দিকে স্থায়ী ব্যথা:

    সাধারণ পিঠব্যথার চেয়ে এটি কিছুটা আলাদা। কোনো চোট বা আঘাত ছাড়াই যদি পিঠের নিচের দিকে বা এক পাশে স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হয় এবং সময় বাড়ার সাথে সাথে ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে, তবে তা কিডনিতে টিউমারের সংকেত হতে পারে।

    ৩. অকারণে ওজন কমে যাওয়া:

    খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই যদি শরীর থেকে দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। ক্যানসারের প্রভাবে শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে ক্ষুধা কমে যায় এবং শরীর দ্রুত ওজন হারায়।

    ৪. শরীরে চাকা বা ফোলাভাব:

    কিডনির পাশে বা পাঁজরের নিচে যদি কোনো চাকা বা ফোলাভাব অনুভব করেন, তবে সেটি অবহেলা করবেন না। স্পর্শ করলে অনেক সময় শক্ত চাকা অনুভব করা যায়। যদিও সব চাকা ক্যানসার নয়, তবে এটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

    ৫. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা:

    কিডনি ক্যানসার শরীরের লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে বাধা দেয়, যার ফলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তি বা অবসাদ কাটতে না চায়, তবে তা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি ক্যানসারের চিকিৎসা প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু করলে সাফল্যের হার অনেক বেশি। তাই উপরের লক্ষণগুলোর কোনো একটি দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

  • বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্তের পথে। বেতন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে নতুন স্কেল কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়েছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা এরইমধ্যে চূড়ান্ত করেছে।

    আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন জমার পর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    এবারের পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপারিশমালা অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থাকলেও তা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে, যাতে বেতন বৈষম্য কমে আসে।

    নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যয়ের সংস্থান নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি আংশিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
    উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় ১০ বছর পর নতুন এই বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • এলপি গ্যাসের দাম কমল

    এলপি গ্যাসের দাম কমল

    ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দাম কমানোর নতুন ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

    এখন থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

  • বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন নারী, ঘটনা কী?

    বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন নারী, ঘটনা কী?

    ভোলার তজুমদ্দিনে এক সন্তানের জননী (২৫) কে কীর্তনের মেলা থেকে তুলে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই নারী আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রাকিব নামের এক যুবককে আটক করেছে।

    ভুক্তভোগীর মা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চাঁদপুর ইউনিয়নের দড়িচাঁদপুর শায়েস্তাকান্দি গ্রামের ওই নারী আড়ালিয়া গ্রামে অনীল বাবাজীর তিরোধান উৎসব (কীর্তন) অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাত ৯টার দিকে পরিচিত অটোরিকশাচালক রাকিব, শাকিল ও রাসেল বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে তারা শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া ধোপাবাড়ির মোড় এলাকায় নিয়ে তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ভোররাতে দাসপাড়া এলাকায় ওই নারীকে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, রাকিব, শাকিল ও রাসেল নামের তিন যুবক তার মেয়েকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইকবাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে।

    এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

  • চাকরিজীবীদের জন্য ঈদের ছুটি নিয়ে বড় সুখবর

    চাকরিজীবীদের জন্য ঈদের ছুটি নিয়ে বড় সুখবর

    আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। তবে অতিরিক্ত এক দিনের ছুটি নিতে পারলে এই ছুটি বেড়ে টানা সাত দিনে পরিণত হতে পারে।

    সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের জন্য মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সরকারিভাবে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত ঈদের ছুটি থাকবে। এর আগে ১৭ মার্চ শবে কদরের সরকারি ছুটি রয়েছে। মাঝের দিন ১৮ মার্চ (বুধবার) ছুটি নিতে পারলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের অবকাশ উপভোগ করতে পারবেন।

    এছাড়া ঈদের পরপরই ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) স্বাধীনতা দিবসের ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে। যদি কেউ ঈদের পর ২৪ ও ২৫ মার্চ নৈমিত্তিক ছুটি নেন, তাহলে টানা ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি ভোগ করা সম্ভব হবে।

  • ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বড় আপডেট, ৪ তথ্য দিলেই মিলবে নগদ সহায়তা

    ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বড় আপডেট, ৪ তথ্য দিলেই মিলবে নগদ সহায়তা

    ‘ফ্যামিলি কার্ড’—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল এই কর্মসূচি। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে দলটি। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিতে জোর প্রস্তুতি চলছে।

    প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দিলে এক অর্থবছরে মোট ব্যয় (ক্যাশ-আউট চার্জসহ) প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা হতে পারে। কর্মসূচির বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করতে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে কর্মসূচি নিতে চায়। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় ও দ্বৈততা এড়ানোর মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব ধরা হয়েছে। এতে নতুন করে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।

    বর্তমানে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য সমন্বয় করে নতুন কার্ডে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্ড পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদের সুপারিশ প্রয়োজন হবে।

    গ্রামের চরম দরিদ্র পরিবার, নিম্নআয়ের মানুষ, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া ১৫–১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী—বিশেষত নারী অভিবাসীর পরিবার এবং শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবারও অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে।

    একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। বিদ্যমান কিছু কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা একযোগে এ সুবিধা পাবেন না—এমন বিধিনিষেধও থাকবে।

    মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশের দেয়ালবিশিষ্ট ঘরে বসবাসকারী পরিবার, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। ভূমিহীন বলতে বোঝাবে—যাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, তবে কৃষিনির্ভর। যাদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা আছে কিন্তু কৃষিযোগ্য জমি নেই, তারাও এ শ্রেণিতে পড়বে।

    কারা পাবেন না

    একই পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। যেসব পরিবার ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে এবং সমন্বয়ের বাইরে থাকবে, তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। এছাড়া সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে তথ্য যাচাই করে দ্বৈততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের বাদ দেওয়া হতে পারে।

    নগদ সহায়তা ও ডিজিটাল পদ্ধতি

    ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ করা হবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা–সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করে পাইলট প্রকল্প চালুর প্রস্তাব রয়েছে। নিবন্ধনের জন্য এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইউনিয়নের নাম প্রয়োজন হবে। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে ইতোমধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে এনআইডি, মোবাইল বা ব্যাংক হিসাব দিয়ে দ্বৈততা যাচাই সম্ভব।

    জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসির আইএমইআই ডাটাবেজ, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার এবং এমপিও শিক্ষক ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে যাচাই করা হবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ পাঁচটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পাবলিক) পদ্ধতিতে সরাসরি অর্থ পাঠানো ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে।

    অর্থের সংস্থান

    ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির ১০ লাখ ৪০ হাজার উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির পল্লী অঞ্চলের ২৫ লাখ নারী অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ লাখ ৬ হাজার উপকারভোগী যুক্ত করলে প্রায় ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে মোট প্রায় ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা সমন্বয়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলে বাকি অর্থ সরকারকে বরাদ্দ দিতে হবে।

    প্রাথমিকভাবে ৮টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, পরবর্তী ৭–১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ এবং এরপর চার দিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান এনআইডি-সংযুক্ত ডাটাবেজ ব্যবহার করা গেলে ঈদের আগেই কার্ড বিতরণ সম্ভব হতে পারে।

  • সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি ও অফিস ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদের এসব চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ এর নির্দেশ মোতাবেক সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অধীন দপ্তর/সংস্থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে।‌

    মাঠ পর্যায়ের সব অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণক্রমে কর্মস্থল ত্যাগ করতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে

    প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে

    মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ উপদেষ্টার মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (মির্জা আব্বাস), নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাহদী আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের। মাহদী আমিন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, ছিলেন মুখপাত্র। রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ও ডা: জাহেদ উর রহমানকে পলিসি ও স্ট্র্যাটেজির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই ১০ জনকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

  • নতুন দায়িত্ব পেয়ে যা বললেন সারজিস

    নতুন দায়িত্ব পেয়ে যা বললেন সারজিস

    আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। দায়িত্ব পেয়েই কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই তথ্য জানা যায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হলো।

    নবগঠিত কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে জায়গা পেয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। এই কমিটিতে সকল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ এক্স অফিসিও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন ও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং জেলার নেতৃবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

    পরে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড; যারা প্রার্থী হতে চান, প্রস্তুতি নিন। আমরা আসছি আপনার খোঁজে…।’

  • জানেন এবার হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম যত হলো?

    জানেন এবার হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম যত হলো?

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এবং সাময়িক সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ফিউচার ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হয়।

    পরে ডব্লিউটিআইয়ের দাম আরও বেড়ে ১.১৬ ডলার বা ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৬.৩৫ ডলারে দাঁড়ায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

    নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, উত্তেজনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা কম। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র বৃদ্ধি চান না। সামরিক পদক্ষেপ হলেও তা সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি হতে পারে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি মঙ্গলবার সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছিল। জলপথটি পুরোপুরি চালু হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।