Author: News Editor

  • যাদের ঠিক মত বাথরুম হয় না বাঁচতে হলে জেনে রাখুন

    যাদের ঠিক মত বাথরুম হয় না বাঁচতে হলে জেনে রাখুন

    যাদের ঠিক মত বাথরুম হয় না বাঁচতে হলে জেনে রাখুন

    আজকাল প্রায় সব টয়লেটে হাই কমোড ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষেত্রে হাই কমোডের চেয়ে লো প্যান উপকারী। লো প্যানে যেভাবে বসতে হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সেটিকে বলে ‘স্কোয়াটিং পজিশন’ বা আসন করে বসা। মলত্যাগের সময় এভাবে বসা উপকারী। এতে পেটে জমে থাকা মল ভালোভাবে বের হয়ে যায়, পেট থাকে পরিষ্কার। কিন্তু বাড়িতে কোনো টয়লেটেই লো প্যানের ব্যবস্থা না থাকলে কী করা যায়? এ ক্ষেত্রে সমাধান হলো টয়লেট টুল। এই টুল কমোডে বসার সময় পা রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের টুল আজকাল অনলাইনে কেনা যায়। তবে টয়লেট টুল না পাওয়া গেলে সাধারণ একটি প্লাস্টিকের টুল হতে পারে এর বিকল্প। চাইলে কাঠ দিয়ে বানিয়েও নিতে পারেন। কমোডে বসা অবস্থায় পা দুটি টুলের ওপর রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, যাদের পা কমোডে বসা অবস্থায় ঝুলে থাকে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা বেশ উপকারী।

    ২. হাঁটুন
    বিশেষজ্ঞরা বলেন, সকালে হাঁটাহাঁটি করলে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে আসে

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, সকালে হাঁটাহাঁটি করলে বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে আসে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্পর্ক আছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মিনিট বাইরে হাঁটাহাঁটি করলে নির্মল বাতাস ও আলো আপনার মস্তিষ্কে পোঁছায়। আপনার শরীরের গতিবিধি মস্তিষ্কও অনুভব করতে পারে। আর এতে বিষণ্নতার মতো মানসিক সংকট কমে যায় অনেকাংশে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে রাখে কার্যকর ভূমিকা।

    ৩. প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান

    আজকাল অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান। হার্ভার্ড হেলথের মতে, যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) ভুগছেন, তাঁদের জন্য প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল বিশেষ উপকারী। প্রোবায়োটিক ক্যাপসুলকে তুলনা করা যেতে পারে খুব ঘন টক দইয়ের সঙ্গে। এসব ক্যাপসুল স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পরিপূর্ণ, যা আপনার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

    আজকাল অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খানছবি: পিক্সাবে
    ৪. ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট খান

    ম্যাগনেশিয়াম শুধু হাড়ের জন্যই উপকারী নয়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে আপনার পরিপাকতন্ত্রে কাজ করে দারুণভাবে। হেলথলাইনের প্রতিবেদন অনুসারে, ম্যাগনেশিয়াম সাইট্রেট অন্ত্রে পানি টেনে আনে বলে অন্ত্র শিথিল হয়। আর এতে মলত্যাগও হয় সহজ। আরও কিছু ভিটামিন আছে যেগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে উপকারী, যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৫, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন বি১।

    জিরা-পানির কী গুণ

    ৫. অপ্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ কমান

    বড় এক প্যাকেট আলুর চিপস আপনার পরিপাকতন্ত্রের ওপর ভীষণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরনের খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। শাকসবজি, শস্যজাতীয় খাবার, উপকারী মনো ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট ইত্যাদি বেশি পরিমাণে গ্রহণ করুন। ওয়েবএমডির মতে, জলপাই তেলে থাকে উপকারী চর্বি। অন্ত্রে এই চর্বির একটি আস্তরণ সৃষ্টি হলে খাদ্য সহজে চলাচল করতে পারে। আর অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাদ্য সহজে চলাচল করা মানেই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি।

    ৬. কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে থাকুন

    আপনাকে হয়তো দিনমান চেয়ারে বসেই কাজ করতে হয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ান। এই অভ্যাস আপনার পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখবে, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবেন। মার্কিন বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন স্মিথসোনিয়ানের মতে, কাজের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে উঠে দাঁড়ালে মুটিয়ে যাওয়া, ক্যানসার, রক্তসংবহনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ ও বিপাকের বিভিন্ন সমস্যার আশঙ্কা কমে যায়।

    রোজ সকালে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ছবি: পেক্সেলস
    ৭. সকালে লেবু-পানি খান

    রোজ সকালে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ঠান্ডা পানি ও লেবুতে থাকা সাইট্রাস একত্র হয়ে আপনার পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য সারিয়ে তোলে। এই পানীয় দিনে দুবার খেতে পারেন, পেটের ভেতরের ‘গাড়িঘোড়া’ দ্রুতগামী হবে এবং ‘যানজট’ও হবে দূর।

  • তরুণদের মলদ্বারে বাসা বাঁধছে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার! জেনে নিন ৫ সতর্কবার্তা

    তরুণদের মলদ্বারে বাসা বাঁধছে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার! জেনে নিন ৫ সতর্কবার্তা

    সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের (Colorectal Cancer) হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে এটি মূলত মধ্যবয়সী বা বৃদ্ধদের রোগ হিসেবে ধরা হতো। তবে আধুনিক জীবনধারা, অস্বাস্থ্যকর খাবার, কম শারীরিক কার্যকলাপ ও মানসিক চাপ তরুণদেরও ঝুঁকিতে ফেলছে।

    এই ৫ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হোন
    1. মলদ্বারে রক্ত বা অস্বাভাবিক পদার্থ দেখা
    রক্তমিশ্রিত মল, কালচে বা পাথুরে পদার্থ দেখা মানে প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।

    2. দীর্ঘমেয়াদী পেটের ব্যথা বা ফোলা
    ক্রমাগত পেট ফোলা, খিঁচুনি বা ব্যথা থাকলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

    3.হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত ওজন কমা
    খাবার ঠিক মতো খাওয়ার পরও ওজন কমছে? এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।

    4. পেটের চলাচলে পরিবর্তন
    দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলমুক্তিতে অসামঞ্জস্য দেখা দিলে পরীক্ষা করা উচিত।

    5.ধীরগতিতে ক্লান্তি ও দুর্বলতা
    অকারণ ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ঘুমানুরোধী অবস্থা ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
    গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা বলছেন, যদি এই কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে ডাক্তারি পরীক্ষা দ্রুত করানো প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা গেলে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাযোগ্য।

  • নেতানিয়াহু ‘নিহতের’ খবর, যা জানাল ইসরাইলি মিডিয়া

    নেতানিয়াহু ‘নিহতের’ খবর, যা জানাল ইসরাইলি মিডিয়া

    ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির সোমবারের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, চলমান ইসরাইল-ইরান সংঘাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আহত বা নিহত হয়েছেন, এমন একটি অনুমান প্রচার করা হচ্ছে।

    এই রিপোর্টে নেতানিয়াহুর ওপর কোনো হামলার প্রমাণ বা কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে বলা হয়নি, বরং এটি একাধিক পরোক্ষ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হয়েছে। যেমন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপের অভাব, তার বাড়ির আশেপাশে নিরাপত্তা বাড়ানোর খবর (হিব্রু ভাষার মিডিয়ায় রিপোর্ট), জারেড কুশনার ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ-এর ভ্রমণ স্থগিত হওয়া এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপের একটি ফরাসি রিপোর্ট, যেটিতেও আলাপের সঠিক তারিখ উল্লেখ করেনি নিউজ এজেন্সিটি।

    তাসনিমের রিপোর্ট আরও ভর করেছে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার এর দ্বিতীয়-হাতের দাবির ওপর, যা রাশিয়ান মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে বলা হয় ইরান নেতানিয়াহুর গোপন আশ্রয়ে বোমা হামলা করেছে এবং তার ভাই এই হামলায় নিহত হয়েছে। তাসনিম নিউজ নিজেই উল্লেখ করেছে যে, এই অনুমান সরকারিভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

    রিপোর্টটি ইরানি এবং প্রো-ইরানি তথ্য যুদ্ধের পরিচিত ধাঁচের সঙ্গে মেলে, যেখানে সাধারণ জনগণের তথ্যকে নাটকীয় গল্পের সঙ্গে যুক্ত করে একটি লুকানো ঘটনার প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হয়। তাসনিমকে সাধারণত ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত বা কাছাকাছি বলা হয় এবং মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এটিকে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

    প্রকাশ্য তথ্য এই গুজবের মূল দাবিকে প্রমাণ করে না। নেতানিয়াহু ৭ মার্চ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন, যা প্রধানমন্ত্রী দপ্তর প্রকাশ করেছে। এছাড়াও ইসরাইল সরকারের প্রধান পোর্টালও তালিকাভুক্ত করেছে যে তিনি ৬ মার্চ বিয়ারশেবাতে একটি ধ্বংসস্তুপ পরিদর্শন করেছিলেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্বাধীন রিপোর্টগুলোও তার জনসাধারণের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেছে, যেমন ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপ, যা এলিসি দ্বারা রিপোর্ট করা হয়েছিল এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট ৫ মার্চ এটি কভার করেছিল।

    ইরানি দাবির উত্তর

    এটি প্রথমবার নয় যে ইরান নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে দাবি করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি সেনাবাহিনী বলেছিল যে নেতানিয়াহু ভাগ্য অস্পষ্ট, একটি কথিত হামলার পর যেটিকে নেতানিয়াহুর অফিস গুজব বা মিথ্যা সংবাদ হিসেবে বাতিল করেছে।

    সিনহুয়া ২ মার্চও রিপোর্ট করেছে যে, নেতানিয়াহুর অফিসের কাছে বসবাসকারীরা কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রভাব দেখেননি।

    দ্রুত পরিবর্তনশীল সংঘাতে নতুন ভিডিও না থাকা, অস্পষ্ট সরকারি বিবৃতি, বা কোনো অতিথির ভ্রমণ পরিকল্পনার পরিবর্তন দ্রুত ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উপাদান হয়ে ওঠে। তাসনিমের সাম্প্রতিক রিপোর্ট থেকে এটিই বোঝা যায়, বিষয়টি প্রমাণ নয়, কেবল অনুমান।

    ইসরাইলের জনজীবন, যুদ্ধকালে শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা প্রায়ই পরিবর্তিত হয় এবং আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ সাধারণত লিখিত আকারে প্রকাশিত হয়। তাই কোনো হত্যাকাণ্ড বা গুরুতর আহত হওয়ার প্রমাণ এটি নয়। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য সরকারি সূত্র তাসনিম নিউজের তত্ত্বটি নিশ্চিত করেনি।

    ইসরাইলি গণমাধ্যমে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন গুজব দাবি করা হলেও নেতানিয়াহুর বর্তমান অবস্থান এবং ওই যুক্তিগুলো যে সত্য নয় তার পক্ষেও কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।

    এমনকি সোমবার (৯ মার্চ) নেতানিয়াহু ইসরাইলের ন্যাশনাল হেলথ অপারেশন সেন্টার পরিদর্শন করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তবে প্রতিবেদনের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে দুটি পুরনো ছবি। যেগুলো মূলত ৩ ও ৫ মার্চ দুটি ভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা হয়েছিল।

    সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

  • যুদ্ধবিরতির জন্য চীন-রাশিয়া ও ফ্রান্সের আবেদন, যে শর্ত দিল ইরান

    যুদ্ধবিরতির জন্য চীন-রাশিয়া ও ফ্রান্সের আবেদন, যে শর্ত দিল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইরানের প্রথম শর্ত হলো— তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো আগ্রাসন চালানো যাবে না।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এরপর ইরান পালটা হামলা হিসেবে ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।

    এতে করে যুদ্ধটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধ হবে। যুদ্ধ কয়েকদিনের মধ্যেও থেমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের পরিসংখ্যান বলছে, চলমান এই সংঘাতের ফলে বিশ্বের আনুমানিক ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ১৯৫৬-৫৭ সালের সুয়েজ খাল সংকটের সময়ের রেকর্ডের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ।

    ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন মুখপাত্র রোববার জানিয়েছেন, তেহরান এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও ‘কৌশলগত স্বার্থের’ ওপর হামলা চালাতে তাদের সামরিক সক্ষমতার ৬০ শতাংশ ব্যবহার করছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • ৮৭ নেতার একযোগে পদত্যাগ

    ৮৭ নেতার একযোগে পদত্যাগ

    দলের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে আদর্শিক অবস্থান মিলছে না উল্লেখ করে রাঙামাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ ৮৭ জন একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

    সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ সভায় উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমাসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সব সদস্য গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্র রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

    পদত্যাগকারীরা জানান, জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে তারা দলে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার মাধ্যমে এনসিপি তার স্বকীয়তা ও আদর্শ থেকে সরে এসেছে। দলটির বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তাদের আদর্শিক অবস্থান মিলছে না। এ কারণে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

    ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা বলেন, ১ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলার ৮৭ সদস্যের কমিটি ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমরা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    অসিম চাকমা বলেন, আজ থেকে আমি এনসিপি রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়কসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করছি।

    এ বিষয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর মাধ্যমে পদত্যাগের খবর পেয়েছেন। তবে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যে কমিটি থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়, ওই কমিটির কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র পাঠাতে হয়। তারা নিয়ম মেনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি-না, তা জানা নেই।

    27 0 0 0

  • মা/রা গেছেন নে/তানিয়াহু!

    মা/রা গেছেন নে/তানিয়াহু!

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের এক্সপোস্টের বরাত ছাড়া আর কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি। এক্সে গতকাল সোমবার স্কট রিটার বলেছিলেন, ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। এ সময় তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেন-গিভর। তিনি আহত হয়েছেন।’

    তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্ট করা হয়েছে, সেটি আদৌ স্কট রিটার ব্যবহার করেন কি না, কিংবা অ্যাকাউন্টটি ভুয়া কি না —এখনও নিশ্চিত নয়।

    ফার্সি ভাষার সংবাদমাদ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর উপর হামলার প্রমাণ বা কোনো ক্ষতির নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তার পরিবর্তে, বেশ কয়েকটি পরিস্থিতিগত বিষয় একত্রিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপগুলির অনুপস্থিতি, ইসরায়েলি মিডিয়ায় তার বাড়ির চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন, জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের একটি কথিত সফর স্থগিত করা এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের ফরাসি রেকর্ড, যেখানে কথোপকথনের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের রেকর্ড বলছে, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত কয়েকজনকে দেখতে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু।

    ইরানের সংবাদমাধ্যমে অবশ্য নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ নতুন কিছু নয়। এর আগে ২ মার্চ কয়েকটি ইরানি সংবাদাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন।

    তবে পরে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য ‘নিছকই গুজব’।

    সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট

  • কিডনি ক্যান্সার চুপিসারে বাড়ে, এই উপসর্গগুলো দেখলেই সতর্ক হোন

    কিডনি ক্যান্সার চুপিসারে বাড়ে, এই উপসর্গগুলো দেখলেই সতর্ক হোন

    কিডনি ক্যানসারকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ এটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শরীরে সক্রিয় থাকলেও কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। ফলে রোগটি শনাক্ত হয় দেরিতে, যখন অনেকটা এগিয়ে যায়। অথচ কিডনি ক্যানসার যদি প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে, তাহলে তা সফলভাবে চিকিৎসা করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। নিচে এমন পাঁচটি প্রাথমিক লক্ষণের কথা বলা হলো, যেগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, এসব উপসর্গ সবসময় ক্যানসারের কারণে হয় না অন্যান্য কারণেও হতে পারে।

    ১. প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেয়া

    কিডনি ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ও প্রথম লক্ষণ হলো মূত্রে রক্ত আসা। এটি হেমেচুরিয়া নামে পরিচিত। অনেক সময় প্রস্রাবের রং গোলাপি, লাল বা বাদামি হয়ে যায়। এটি মূলত টিউমার কিডনির ভেতরের ছোট রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করায় ঘটে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ব্যথাহীনভাবে হয় এবং কয়েকদিন পর আবার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না।

    তবে চিকিৎসকরা বলছেন, মূত্রে রক্ত আসা যেকোনো সময়েই গুরুত্বসহকারে নেয়া উচিত। এটি সংক্রমণ বা কিডনিতে পাথরের লক্ষণও হতে পারে। যদি এটি কিডনি ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

    ২. পিঠের নিচের দিকে বা পাশে স্থায়ী ব্যথা

    পিঠে ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা হলেও কিডনি ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা ভিন্ন ধরনের হয়। বিশেষ করে পাশের দিকে (ফ্ল্যাংক) বা পিঠের নিচে একটানা ব্যথা অনুভূত হয়। কোনো আঘাত বা চোট ছাড়াই যদি এই ব্যথা শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে তীব্রতা বাড়ে, তাহলে এটি উপেক্ষা না করে পরীক্ষা করানো দরকার।

    এ ধরনের ব্যথা হয় টিউমার আশপাশের টিস্যু ও স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে। ব্যথাটি স্বাভাবিক মাসল পেইনের মতো দ্রুত সেরে যায় না। যদি মূত্রের রঙ পরিবর্তনের সঙ্গে এই ব্যথাও দেখা দেয়, তাহলে তা কিডনিতে সমস্যা ইঙ্গিত করতে পারে।

    ৩. হঠাৎ ও অজানা কারণে ওজন কমে যাওয়া

    খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে পরিবর্তন না করেও যদি শরীরের ওজন দ্রুত কমে যেতে থাকে, তাহলে তা হতে পারে কিডনি ক্যানসারের সূচনা। ক্যানসার শরীরের হরমোন, বিপাকক্রিয়া এবং পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা তৈরি করে। এতে রুচি কমে যায় ও শরীর শক্তি হারাতে শুরু করে।

    বেশিরভাগ মানুষ ব্যস্ত জীবনযাপন বা মানসিক চাপে এমন ওজন কমার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তবে এটি যদি ক্লান্তি বা দুর্বলতার সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ৪. কিডনির আশপাশে চাকা বা ফোলাভাব

    কিডনি অঞ্চলে বা পাঁজরের নিচে যদি কোনো চাকা, ফোলাভাব বা মাংসপিণ্ড অনুভূত হয়, তাহলে তা হতে পারে টিউমারের লক্ষণ। অনেক সময় রোগীরা নিজেরাই স্পর্শ করলে এই চাকা টের পান, আবার চিকিৎসকরাও নিয়মিত চেকআপে তা ধরতে পারেন।

    তবে সব চাকা বা ফোলা ক্যানসারজনিত নয়—কিছু চাকা হতে পারে সিস্ট বা ফ্যাটের গঠনে। তবুও যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে স্ক্যান বা আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন, কারণ ক্যানসার হলে চাকা বা ফোলা ধীরে ধীরে বড় হয়।

    ৫. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি

    কিডনি ক্যানসার শরীরে রক্তকণিকা উৎপাদনের ব্যাঘাত ঘটায় এবং প্রদাহ তৈরি করে, যার ফলে রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) তৈরি হয়। এর ফলে রোগী অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করেন, যা দৈনন্দিন ক্লান্তির মতো সহজে কেটে যায় না।

    সাধারণ কাজকর্ম বা বিশ্রামের পরেও যদি অবসাদ না কাটে, আর এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা মূত্রে রক্ত দেখা দেয়ার মতো উপসর্গও থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসায় সাফল্যের হার অনেক বেশি থাকে।

    তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • রোজা অবস্থায় স′হবাস করে ফেললে কী করতে হবে: ইসলামের স্পষ্ট বিধান

    রোজা অবস্থায় স′হবাস করে ফেললে কী করতে হবে: ইসলামের স্পষ্ট বিধান

    নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
    আপনার জিজ্ঞাসার ২৮০৩তম পর্বে ই-মেইলের মাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানতে চেয়েছেন, রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করে ফেললে কী করতে হবে? অনুলিখন করেছেন মোহাম্মদ সাইফ আহমেদ।
    প্রশ্ন: রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করে ফেললে কী করতে হবে? এ ক্ষেত্রে কি ৬০ জন মিসকিন খাওয়াতে হবে, নাকি ৬০টি রোজা রাখতে হবে?
    উত্তর: রোজা থাকা অবস্থায় এমনটা হলে আপনাদের দুজনেরই খাওয়াতে হবে। প্রতিজনের জন্য ৬০ জন করে মোট ১২০ জন মিসকিনকে এক বেলা খাওয়াতে হবে। দুজনের পক্ষ থেকেই খাওয়াতে হবে। একজন খাওয়ালে হবে না। যেহেতু রমজান মাসে হরমত নষ্ট করছেন আপনারা, তাই আপনাদের কমপক্ষে ১২০ জনকে খাওয়াতেই হবে। সেই সঙ্গে দুজনকেই আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

  • রোজা অবস্থায় বী’র্যপাত হলে রোজা হবে কি?

    রোজা অবস্থায় বী’র্যপাত হলে রোজা হবে কি?

    রমজান মাসে রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং দৃষ্টি, চিন্তা ও আচরণকেও সংযত রাখা রোজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই জানতে চান—রোজা রেখে হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ বা অশ্লীল চিন্তা ও দৃশ্য দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজার ওপর কী প্রভাব পড়ে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে বিধান নিচে তুলে ধরা হলো।

    হস্তমৈথুন করলে কি রোজা ভেঙে যায়?

    রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত ঘটালে রোজা ভেঙে যায়। এটি একটি কবিরা গুনাহ এবং রোজার পবিত্রতা নষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে রমজানের পর ওই রোজার কেবল কাজা আদায় করতে হবে। তবে এর জন্য কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা) ওয়াজিব হয় না। তবে আল্লাহর কাছে তওবা করা আবশ্যক।

    স্বপ্নদোষ হলে কি রোজার ক্ষতি হয়?

    রোজা অবস্থায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নে যৌন কর্মকাণ্ড দেখার ফলে বীর্যপাত হলে, অথবা কোনো স্বপ্নের কথা মনে না থাকলেও ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত ঘটলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে থাকে। তবে ঘুম থেকে ওঠার পর দ্রুত গোসল করে পবিত্র হয়ে নেওয়া জরুরি।

    রোজা অবস্থায় অশ্লীল দৃশ্য দেখা বা অশ্লীল চিন্তা করার পাশাপাশি যদি হস্তমৈথুন করা হয় এবং বীর্যপাত ঘটে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

    তবে শুধু অশ্লীল চিন্তা করা বা অশ্লীল দৃশ্য দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা ভাঙবে না, যদিও এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।

    এ বিষয়ে তাবেঈ আলেম হজরত জাবের ইবনে জায়েদ (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর দিকে কামভাব নিয়ে তাকানোর ফলে যদি তার বীর্যপাত ঘটে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে কি না। তিনি বলেন, রোজা ভাঙবে না; সে তার রোজা পূর্ণ করবে।

    سُئِلَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ رَجُلٍ نَظَرَ إِلَى امْرَأَتِهِ فَأَمْنَى، قَالَ: يُتِمُّ صَوْمَهُ

    ‘হজরত জাবের ইবনে জায়েদকে জিজ্ঞাসা করা হলো—এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বীর্যপাত করেছে; তার রোজা কি ভেঙে গেছে? তিনি বললেন, না; সে তার রোজা পূর্ণ করবে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬২৫৯)

    কুরআনের নির্দেশনা

    রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন ও আত্মসংযম। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

    ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর—যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৩)

    যেসব কাজ সাধারণ অবস্থায়ই গুনাহ, রোজা অবস্থায় সেগুলো আরও গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই রোজার পূর্ণ সওয়াব অর্জনের জন্য দৃষ্টি, চিন্তা ও আচরণকে পবিত্র রাখা এবং এসব অনুচিত কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য অপরিহার্য।

  • ঈদে ৭ দিন ছুটি পাচ্ছেন না যারা, কী আছে প্রজ্ঞা’পনে!

    ঈদে ৭ দিন ছুটি পাচ্ছেন না যারা, কী আছে প্রজ্ঞা’পনে!

    সরকার আগামী ঈদুল ফিতর ও শবেকদর উদযাপনের জন্য ১৮ মার্চ (বুধবার) এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা এবারের ঈদে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি উপভোগ করবেন।

    রোববার (৮ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সব ধরনের সেবা ও প্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতায় থাকবে না।

    ছুটির আওতায় থাকা অফিসসমূহ:
    সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান
    বেসরকারি অফিসও ছুটি অনুসরণ করতে পারে, তবে তাদের নিজস্ব নীতি ও শ্রম আইন অনুযায়ী

    ছুটি পাবেন না নিম্নলিখিত সেবা:
    বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ
    ফায়ার সার্ভিস
    বন্দর কার্যক্রম
    পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
    টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা
    ডাক সেবা
    জরুরি চিকিৎসা সেবা ও হাসপাতাল কর্মী, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি পরিবহনকারী যানবাহন
    অন্যান্য জরুরি কার্যক্রমে নিয়োজিত অফিস ও কর্মী

    ব্যাংক ও আদালত:
    ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে
    আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানাবে

    বেসরকারি খাতের নির্দেশনা:
    শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্দেশনা প্রদান করবে

    সাধারণত, বাংলাদেশের সরকারি ছুটি বিষয়টি সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা-১৯৫৯ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নির্বাহী আদেশে ঘোষিত এই ছুটি মূলত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তাদের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী এটি পালন করে থাকে।