Author: News Editor

  • দেশজুড়ে সরকারের জরুরি অধ্যাদেশ জারি!

    দেশজুড়ে সরকারের জরুরি অধ্যাদেশ জারি!

    চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। রবিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই ঐতিহাসিক গেজেট প্রকাশিত হয়, যা সোমবার আইন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

    এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গেজেটে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকার কর্তৃক প্রত্যয়িত হলে, পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মামলা বাতিল করে তাঁদের অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। একইসাথে ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত কোনো নতুন মামলা দায়েরের পথও বন্ধ করা হয়েছে।

    অধ্যাদেশটিতে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ এবং ‘অপরাধমূলক অপব্যবহারের’ মধ্যে একটি সুষ্পষ্ট পার্থক্য টানা হয়েছে। যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তবে তা সরাসরি আদালতে না গিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে পাঠাতে হবে। কমিশন তদন্তের পর যদি মনে করে যে সেই ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে।

    বিপরীতে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের বদলে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তবে কমিশন সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে এবং প্রচলিত আইনে বিচার চলবে। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন, যা ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং অন্য যেকোনো আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।

  • প্রজ্ঞাপন জারি করে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা

    প্রজ্ঞাপন জারি করে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

  • নির্বাচন কি স্থগিত হচ্ছে, যা জানাল কমিশন

    নির্বাচন কি স্থগিত হচ্ছে, যা জানাল কমিশন

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে বা আইনি জটিলতায় প্রার্থিতা বাতিল হলে ওই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার বিধান রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর সংশোধিত বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমন পরিস্থিতিতে নতুন তফশিল ঘোষণা করবে।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিলের আইনি বিধান

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭(১) অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন কিংবা অনুচ্ছেদ ৯১ক ও ৯১ঙ অনুযায়ী কারও প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করবেন। আইন অনুযায়ী, নির্বাচন বাতিল হলে কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং কমিশন নতুন নির্বাচনি তফশিল ঘোষণা করবে।

    এছাড়া যারা আগের তফশিলে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র বা জামানতের টাকা জমা দিতে হবে না বলেও জানিয়েছে ইসি।

    নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, আইনে যেহেতু বলা আছে বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে তফশিল বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই তফশিলে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, উনি এখনো বৈধ প্রার্থী হননি। এছাড়া খালেদা জিয়ার অবস্থা বিবেচনায় বিএনপি উনার আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে। কাজেই এটা নিয়ে সমস্যা হবে না বলে আমার মত।

    নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়টা নিয়ে আমাকে আরপিও দেখে বলতে হবে।

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর তিনটি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়। আসনগুলোতে বিএনপির পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থীও মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

  • এইমাত্র পাওয়াঃ ৩০ আসনে বিতর্কিত প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বিএনপির, লিস্টসহ দেখুন

    এইমাত্র পাওয়াঃ ৩০ আসনে বিতর্কিত প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বিএনপির, লিস্টসহ দেখুন

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিতর্কিত ও সমালোচিত প্রার্থীদের বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    সভায় সিলেট-৬, নেত্রকোনা-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, জামালপুর-২, কুষ্টিয়া-৪, সিরাজগঞ্জ-৩ এবং চট্টগ্রাম-১২ ও ১৩সহ অন্তত ৩০টি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব আসনের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সমালোচিত হওয়ার অভিযোগ তুলে নেতারা মত দেন।

    গত ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই অর্ধশতাধিক আসনে ‘মনোনয়ন বিদ্রোহ’ দেখা দেয়। বাকি ৬৩টি আসনেও মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বড় পরিকল্পনা করছে বিএনপি। ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যেখানে জেন-জি প্রজন্মসহ সমাজের সব শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচি ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী চলবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রসঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসযোগ্য, আধুনিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সাতটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি—জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী, ক্রীড়া ও ধর্ম। ক্ষমতায় গেলে এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা লিফলেটের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ঘোষিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

  • বাংলাদেশকে এক কথায় না বলে দিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড

    বাংলাদেশকে এক কথায় না বলে দিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড

    বিগত ১৬ বছরে দেশ থেকে পাচার হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিদেশে পাচার হওয়া কালো টাকার খোঁজে আন্তর্জাতিক আইনগত সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রভাবশালী তিন রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড—বাংলাদেশের প্রস্তাবিত পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তিতে আপাতত ‘না’ বলে দিয়েছে।

    তিন রাষ্ট্রের অনীহা ও বিকল্প প্রস্তাব
    অর্থপাচার মামলার প্রমাণ সংগ্রহ এবং টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ এই দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে চেয়েছিল। তবে দেশ তিনটি সরাসরি চুক্তিতে না গিয়ে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিকল্প পদ্ধতি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং জটিল, যা পাচার করা অর্থ উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলতে পারে।

    পাচার হওয়া অর্থের ভয়াবহ পরিসংখ্যান
    সরকারি শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের শত শত সম্পদের সন্ধান মিলেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে সাবেক মন্ত্রীদের নামে শতাধিক সম্পত্তির অভিযোগ উঠেছে, যার একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্রিটিশ সংস্থা এনসিএ (NCA) জব্দ করেছে।

    ১৯ দেশে দুদকের চিঠি: কার কী অবস্থা?
    মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটির তথ্যমতে, ১৯টি দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে।

    সহমত জানিয়েছে: সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও হংকং।

    নীরব রয়েছে: কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড।

    ড. ইউনূসের লন্ডন সফর ও উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা
    পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে গত জুনে লন্ডন সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান। ব্রিটিশ সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দেশটির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সম্মতি মেলেনি।

    টিআইবি’র পর্যবেক্ষণ
    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করছে, আইনি চুক্তিতে এই অনীহা হয়তো ইচ্ছাকৃত বিলম্ব বা অন্য কোনো স্বার্থের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে চুক্তি না হলেও বিকল্প পথে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়াই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এই পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • মেয়েদের যে আট ভুলের কারনে হচ্ছে স্তন ক্যান্সার! সাবধান

    মেয়েদের যে আট ভুলের কারনে হচ্ছে স্তন ক্যান্সার! সাবধান

    বর্তমানে সারা বিশ্বের মহিলাদের কাছেই স্তন ক্যান্সার একটি আতঙ্কের নাম। আর এর প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইদানীং ক্যানসারের প্রচলিত ওষুধে কাজ হচ্ছে না। প্রচলিত বেশির ভাগ কেমোথেরাপিও এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাই স্তন ক্যান্সার দিনে দিনে আরও চিন্তা বাড়াচ্ছে চিকিৎসকদের।

    কিন্তু জানেন কি? দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের ভুলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়? আসুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই ৮টি খারাপ অভ্যাসের কথা, যেগুলো স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

    ১। স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার না করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

    স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    ২। সারাক্ষণ ব্রা পরে থাকার কারণে ঘাম হবার অসুবিধে, আর্দ্রতা জমে থাকা, সব মিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ঘরে থাকার সময় টুকুতে ব্রা ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

    ৩। প্লাস্টিকের বক্সে খাবার রাখা এবং বিশেষত সেটিতেই ওভেনে গরম করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিতে পারে। এর চেয়ে কাঁচের পাত্র ব্যবহার করুন। আর প্লাস্টিক ব্যবহার করতে চাইলে তা ফুড গ্রেড কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

    ৪। ঘামের দূর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন প্রায় সবাই! কিন্তু এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন কী কী উপাদান আছে এতে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ডিওডোরেন্ট যেহেতু আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তাই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া বিশেষ জরুরি।

    ৫। চুল পেকে যাওয়া বা হাল ফ্যাশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চুলে নানা রঙের ব্যবহার, যেটিই হোক না কেন, দোকান থেকে সস্তার চুলের রং কিনে আনবেন না। এতে চুল তো পড়ে যেতে পারেই, সেই সঙ্গে এতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারণে হতে পারে স্তন ক্যান্সারও। তাই ভালও ব্র্যান্ডের ভেষজ চুলের রং ব্যবহার করুন।

    আর সবচেয়ে ভাল হয় মেহেন্দি ব্যবহার করতে পারলে। মেহেন্দি একদিকে যেমন চুলের জন্যে ভাল, সেই সঙ্গে এতে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

    ৬। ঘরের দূর্গন্ধ দূর করতে এয়ার ফ্রেশনারের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু এতে থাকা প্যাথালেট নামক প্লাস্টিসাইজিং রাসায়নিক যা সুগন্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে, তার সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

    এর চেয়ে ফুটন্ত জলেতে এক টুকরো দারচিনি ফেলে দিন। এবার দেখুন, ঘরময় কি সুগন্ধই না ছড়াচ্ছে! আলমারির কাপড়চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে নেপথলিন তো আমরা ব্যবহার করেই থাকি। অনেকে আবার বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনে, সিঙ্কেও নেপথলিন ফেলে রাখেন।

    কিন্তু এটি পুরোটাই ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরী, যা কেবল পোকামাকড়কে দূরেই রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। এর চেয়ে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন। একই উপকার পাবেন।

    রান্নাঘরের সিঙ্ক বা কেবিনেট যে রঙিন তরল ক্লিনার দিয়ে আপনি পরিস্কার করছেন, তাতে থাকা কেমিকেল কেবল আপনার স্তন ক্যান্সারই নয়, মাইগ্রেন ও অ্যালার্জির প্রকোপও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কেমিকেলযুক্ত এই ক্লিনার ব্যবহার না করে ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে পরিস্কার করতে পারেন।

  • নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

    নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। এবার এই ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে করা সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তিনি। প্রেস সচিব বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। যা আগেই ঘোষণা করা হয়। আজকে উপদেষ্টা পরিষদ সভায় ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। আর ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। শ্রমিকরা তিন দিন ছুটি পাবেন।’

    তিনি বলেন, ‘আজকের সভায় ১৩টি এজেন্ডা ছিল। বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের আইন রোহিত আইন খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরেশন-২০২৬ এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব। শফিকুল বলেন, ‘জুয়া প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের প্রস্তাব নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনও হয়েছে।’

    ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ-২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড-২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জুয়া প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬ এ ১৯ প্রকারের জুয়াকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, অপরাধ অনুযায়ী ১৫ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা এবং দণ্ড ১০ বছর। ম্যাচ ফিক্সিংসহ এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এই আইন।’ তথ্য অধিকার আইনে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রতিবেদন কীভাবে করা হবে, সেই বিষয়েও বলা হয়েছে। তথ্য অধিকার সংরক্ষণ করবে এই আইন।’

  • নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পাবে না যেসব প্রতিষ্ঠান

    নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পাবে না যেসব প্রতিষ্ঠান

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। যা আগেই ঘোষণা করা হয়। আজকে উপদেষ্টা পরিষদ সভায় ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। আর ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। শ্রমিকরা তিন দিন ছুটি পাবেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে করা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। তবে কিছু প্রতিষ্ঠার নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আওতার বাইরে থাকতে পারে। যেমনটা ঈদসহ কিছু ছুটিতে হয়ে থাকে।

    সেগুলো হলো-

    ১. জরুরি পরিষেবা (Emergency Services): বিদ্যুৎ (Electricity), পানি (Water), গ্যাস ও জ্বালানি (Gas and Fuel), ফায়ার সার্ভিস (Fire Service), এবং বন্দরগুলোর কার্যক্রম (Port Activities)।

    ২. যোগাযোগ ও পরিচ্ছন্নতা: টেলিফোন ও ইন্টারনেট (Telephone and Internet), ডাকসেবা (Postal Services), পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট যানবাহন।

    ৩. চিকিৎসাসেবা (Healthcare Services): সকল হাসপাতাল (Hospitals), জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন।

    ৪. জরুরি অফিস: যেসব অফিসের কাজ সরাসরি জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

  • পেটের এই লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের ইঙ্গিত! কখন সতর্ক হবেন?

    পেটের এই লক্ষণ হতে পারে ক্যানসারের ইঙ্গিত! কখন সতর্ক হবেন?

    পেটে ব্যথা, বদহজম, গ্যাস বা অস্বস্তি অনেকেই হালকা সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, এই ছোট উপসর্গগুলোই কোলন ক্যানসার বা পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। সময়মতো শনাক্ত না করলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়।

    কেন পাকস্থলীর ক্যানসার বিপজ্জনক?
    পাকস্থলীর ক্যানসার শুরুতে স্পষ্ট উপসর্গ দেখায় না। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যানসারের চিকিৎসায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু সময়মতো শনাক্তকরণ এখনও একটি বড় বাধা। শুরুতে পেটের হালকা অস্বস্তি, হজমের সমস্যা বা অল্প ওজন কমে যাওয়া—এইসবই অনেক সময় সাধারণ সমস্যা মনে হয়।

    সতর্ক হওয়ার জন্য লক্ষ্য রাখুন
    যদি নিচের উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
    দীর্ঘদিন ধরে পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
    নিয়মিত বদহজম, গ্যাস বা পেট ফুলে থাকা
    হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা খাবারে আগ্রহ কমে যাওয়া
    মলের সঙ্গে রক্ত দেখা
    কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দীর্ঘ সময় চলা

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই উপসর্গগুলোকে সাধারণ সমস্যার মতো দেখলেই সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

    ঝুঁকি কমানোর জন্য দৈনন্দিন অভ্যাস
    পাকস্থলী ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে কিছু অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ:
    প্রতিদিন ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
    পর্যাপ্ত পানি পান করা
    নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা
    পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা

    এছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান বা অত্যধিক প্রসেসড খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত। সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি, যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

    পেটের হালকা সমস্যা কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে উপসর্গ যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা সাধারণ চিকিৎসায় সারে না, তাহলে এটি বড় রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ থেকেও বাঁচার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে।

  • ভাতা নিয়ে বড় সুখবর! জানুন কারা কী পাবেন

    ভাতা নিয়ে বড় সুখবর! জানুন কারা কী পাবেন

    আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ মোট ১৫টি কর্মসূচিতে ভাতার হার বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতাকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বয়স্ক ভাতায় উপকারভোগী বাড়ল এক লাখ
    সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। এছাড়া ৯০ বছরের ঊর্ধ্বে ২ লাখ ৫ হাজার ব্যক্তি মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

    বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা বাড়ছে
    বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কর্মসূচির আওতায় থাকা ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক ১ হাজার টাকা করে পাবেন।

    প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষাবৃত্তিতে পরিবর্তন
    প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১ হাজার টাকা করে পাবেন। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার।

    এদিকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হার ৫০ টাকা বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা ও বৃত্তি বৃদ্ধি
    অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জন করা হয়েছে। মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে।

    এছাড়া অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৩৩৮ জন করা হয়েছে। বৃত্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    পাশাপাশি ৫ হাজার ৪৯০ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    গুরুতর রোগীদের সহায়তা বাড়ল
    ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে আক্রান্ত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। এককালীন চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে সম্প্রসারণ
    মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা করে ভাতা পান।

    খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে যুক্ত হলো নতুন পরিবার
    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবার ৫ লাখ বাড়িয়ে মোট ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রতিটি পরিবার মাসে ৩০ কেজি চাল কেজি প্রতি ১৫ টাকা দরে ছয় মাস পর্যন্ত পায়।

    মুক্তিযোদ্ধা ও জেলেদের ভাতায় পরিবর্তন
    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে।

    এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানি ভাতা এবং ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

    ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার প্রস্তাবও সভায় গৃহীত হয়েছে।