Author: News Editor

  • ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন যে ৩ উপদেষ্টা!

    ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন যে ৩ উপদেষ্টা!

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার তৎপরতা ছিল—এমন অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তত তিনজন উপদেষ্টা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বিলম্ব করতে চেয়েছিলেন এবং আরেকজন সুবিধাবাদী অবস্থান নেন।

    শুরুর দিকে দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুস। তবে পরে একাধিক সংস্কার প্রস্তাব সামনে আসে, যা সমালোচকদের মতে সময় বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হয়েছে। উপদেষ্টাদের যুক্তি ছিল—তড়িঘড়ি নির্বাচন দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

    অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, নির্বাচন বিলম্বের আড়ালে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং পছন্দের শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। এ সময় “মব সন্ত্রাস” বা সহিংসতার পরিবেশকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ধারাবাহিক সহিংসতায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়ে, যদিও সেনাবাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে বড় অস্থিরতা এড়ানো গেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    বিদেশি কূটনৈতিক মহলেও নির্বাচন বিলম্বের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল—এমন আলোচনা রয়েছে। একই সময়ে নিয়মিত সন্ধ্যাকালীন বৈঠক, অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা, বিদেশ সফর, জনমত জরিপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেও পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    লন্ডনে একটি বৈঠক ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। দাবি ওঠে, সেটিকে প্রশাসনকে দুর্বল করার প্রচারণার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলেও নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা পুরোপুরি থামেনি বলে অভিযোগ।

    তবে জনচাপ ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের দিকেই অগ্রসর হতে হয়। ভোটের দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হলে সম্ভাব্য “প্ল্যান বি” থেকে সরে আসা হয় বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ ও বিশ্লেষণ বিভিন্ন মহলের আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে উঠে এসেছে; সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে।

    সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=TupStXea2M4

  • ভারতীয় ভিসা নিয়ে সুখবর

    ভারতীয় ভিসা নিয়ে সুখবর

    বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুতই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। তিনি জানান, বর্তমানে সীমিত আকারে চালু থাকা ভিসা ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালুর জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনিরুদ্ধ দাস বলেন, বর্তমানে মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা চালু থাকলেও পর্যটনসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা বন্ধ রয়েছে। তবে এসব ভিসা পুনরায় চালুর জন্য জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব ধরনের ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম দ্রুতই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম সীমিত করা হয়। মেডিকেল ভিসা ছাড়া অধিকাংশ ভিসা বন্ধ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। দুই দেশের জনগণই এই ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের মূল অংশীদার। ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  • ফ্যামিলি কার্ডে পাওয়া যাবে নগদ টাকা, অগ্রাধিকার পাবেন যারা

    ফ্যামিলি কার্ডে পাওয়া যাবে নগদ টাকা, অগ্রাধিকার পাবেন যারা

    দেশের পাঁচ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন।

    নির্বাচনের আগে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গঠনের অঙ্গীকারে দেওয়া বিএনপির ৯ দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছিল অন্যতম প্রতিশ্রুতি। সে সময় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে এই কর্মসূচি চালু করা হবে। এর আওতায় প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং ধাপে ধাপে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।

    সভায় কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে নগদ অর্থ দেওয়া হবে। কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র পরিবার ও নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

    পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ধাপে ধাপে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে হতদরিদ্র পরিবার, পরে দরিদ্র পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    বিএনপি সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাতেও প্রত্যেক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার বলছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করা হবে।

    গঠন করা হয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি

    ইতোমধ্যে ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রীকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

    কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—

    ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন
    সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণ
    প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় কার্যক্রম চালু
    নারীদের জন্য বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা তা পর্যালোচনা
    জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডার সংযুক্ত করে ডিজিটাল এমআইএস তৈরির সুপারিশ
    আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এর মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া
    সরকারের লক্ষ্য, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু করা।

    রাজনৈতিক বিবেচনা নয়

    সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে না। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীও থাকবে না। এই কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের কাছে পৌঁছে যাবে। এটি দেওয়া হলেও চলমান ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে।

    সরকারের ভাষ্য, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়িয়ে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

  • জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, কোন পদে কে

    জামায়াতের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, কোন পদে কে

    আগামী তিন বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নতুন কমিটিতে আবারও সেক্রেটারি জেনারেল পদ পেয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া কমিটিতে ৫৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় শূরা কমিটি ও ৮৮ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ কমিটি গঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক ভার্চুয়ালি বৈঠকে নেতাদের পরামর্শে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা সশরীরে বৈঠকে অংশ নেন।

    নতুন কমিটিতে চারজন নায়েবে আমির ও সাত জনকে সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশকে ১৪টি ভাগে বিভক্ত করে সাংগঠনিক কাজে গতি আনতে অঞ্চল পরিচালক পদ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ নভেম্বর ডা. শফিকুর রহমানকে জামায়াতের আমির নির্বাচন করার তিন মাস পর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করল দলটি।

    ভার্চুয়ালি বৈঠকে জামায়াতের আমির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সঙ্গে পরামর্শ করে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতাদের নির্বাচিত করেন ও তাদের শপথ পরিচালনা করেন।

    কমিটির চারজন নায়েবে আমির হলেন- এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম।

    সাত জন সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হলেন- মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

    ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যরা হলেন- এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (এমপি), মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা এ টি এম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন (এমপি), অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ (এমপি), অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মো. মোবারক হোসাইন, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি), মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি), ড. মোহাম্মাদ রেজাউল করিম।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে নারী সদস্য রয়েছেন ২১ জন। আর ৫৯ জন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যদের মধ্যে নারী সদস্য ১৭ জন।

    ৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা এটিএম মাছুম, কমিশনার অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন ও মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার।

    সারাদেশে ১৪টি অঞ্চলের পরিচালক হলেন- মাওলানা আবদুল হালিম (রংপুর-দিনাজপুর), এটিএম আজহারুল ইসলাম (বগুড়া), মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (রাজশাহী), মোবারক হোসাইন (কুষ্টিয়া-যশোর), অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ (খুলনা), অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল (বরিশাল), অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন (ময়মনসিংহ), মিয়া গোলাম পরওয়ার (ঢাকা মহানগর), সাইফুল আলম খান মিলন (ঢাকা উত্তর), আবদুর রব (ঢাকা দক্ষিণ), ড. হামিদুর রহমান আযাদ (ফরিদপুর), অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (সিলেট), মাওলানা এটিএম মাছুম (কুমিল্লা-নোয়াখালী) ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান (চট্টগ্রাম)।

  • ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?

    ৮ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়াও, বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

    নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টাদের মধ্যে আটজনের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    প্রজ্ঞাপনে অনুযায়ী মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাহদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন এ বণ্টন আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে আলোচনায় যেসব বিএনপি নেত্রী

    সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে আলোচনায় যেসব বিএনপি নেত্রী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। বিএনপির শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

    জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। কে কোন আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে জোর আলোচনা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে। এখন সবার নজর সেই ঘোষণার দিকেই।

    সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। এছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন।

    বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চায় ইসি। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    বিএনপি সূত্রে জানা যায়, এবারের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির নেত্রীরা। কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগ নেত্রীই এবার মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

    সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রয়েছেন যারা

    বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন। এছাড়া কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদের নামও আলোচনায় আছে।

    ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাসিমা আক্তার কেয়া, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগর। এছাড়া মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও আলোচনায় আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বনির্ভর সম্পাদক আসমা আজিজ আলোচনায় রয়েছেন।

    চট্টগ্রামে আলোচনায় আছেন

    বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন।

    চট্টগ্রাম নগর মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেসমিনা খানম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি, কিন্তু দল ছেড়ে যাইনি। নারী হয়েও বাসায় থাকতে পারিনি। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেছি। দল যদি নারীদের মূল্যায়ন করে, তাহলে চট্টগ্রামে অনেক নারী নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসবে।

    বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতি শুরু। এরপর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েছি। আজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। অনেক ত্যাগ শিকার করেছি। জেল-জুলুমসহ নানাভাবে দমন-পীড়ন ও নির্যাতিত হয়েছি। ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। এখন দল যদি আমাকে উপযুক্ত (সংরক্ষিত আসনে) মনে করে, তাহলে দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত হবে। আশা করি, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবেন।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, প্রাপ্ত আসনের বিপরীতে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী আমাদের দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। বিএনপিতে অসংখ্য যোগ্য নেত্রী রয়েছেন। তারা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্ধারণ করবেন কারা সংরক্ষিত নারী আসনে যাবেন। তবে এবার তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনা বেড়েছে।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস হলেন হাসনাত

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস হলেন হাসনাত

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভূঁইয়া।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস হলেন হাসনাত 

    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মু. তানভীর হাসান রুমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, উপদেষ্টা যত দিন পদে থাকবেন অথবা পিএস হিসেবে কাউকে রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করবেন, তত দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পিএস পদে বহাল থাকবেন।

  • জানা গেল খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার কারণ

    জানা গেল খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার কারণ

    সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের সময় আলোচিত ড. খলিলুর রহমান বিএনপি সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তার এই নিয়োগে অনেকের মতো দলটির নেতাকর্মীরাও অবাক হয়েছেন কিছুটা। বিএনপি সরকারের এই নিয়োগের কড়া সমালোচনা করছে বিরোধী দল।

    বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর হয়েছে।

    নানা আলোচনা চলছে ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন মহলে। কারণ, অন্তবর্তী সরকারের আঠারো মাসে অনেক সময়ই খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। বিএনপির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে খলিলুর রহমানকে মন্ত্রী করার পক্ষে বা বিপক্ষে, কোনো দিকেই কথা বলতে রাজি হননি।

    তবে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিক আলাপে বলেছেন, কূটনীতিতে খলিলুর রহমানের পেশাদারিত্ব আছে। বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র-চীন এবং প্রতিবেশী ভারতের যে অবস্থান, সেখানে বাংলাদেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলার ক্ষেত্রে পেশাদার ও দক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়োজন। তাকে সরকারে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেটি বিবেচনায় এসেছে বলে তারা মনে করেন।

    বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক সাবেক কূটনীতিক। তারা মনে করেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সে সময় বিএনপিও নির্বাচনের দিনক্ষণ চেয়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিল। ফলে এক ধরনের অস্থিরতা চলছিল।

    সেই পটভূমিতে গত বছরের জুন মাসে ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডন গিয়ে সে সময় সেখানে নির্বাসনে থাকা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যে বৈঠক থেকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা এসেছিল।

    তখন অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে খলিলুর রহমানও লন্ডন গিয়েছিলেন এবং বিএনপি নেতার সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

    সাবেক ওই কূটনীতিকেরা বলছেন, সেই লন্ডন বৈঠকের সময়ই খলিলুর রহমান বিএনপির সঙ্গে তার পুরোনো সম্পর্ক ঝালাই করে আসেন। তখন থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে খলিলুর রহমানের কথাবার্তা বা যোগাযোগ ছিল বলে তাদের ধারণা।

    তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান তার একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন খলিলুর রহমানকে। সে সময়ই বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে খলিলুর রহমানের একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

    খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারে থেকেই খলিলুর রহমান শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন, তিনি এমন একটি ধারণা দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তৈরি করতে পেরেছিলেন।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।

  • নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না ইমামের

    নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না ইমামের

    ফজরের নামাজ আদায় করিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্বারী মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান গোলাম মোস্তফা (৬০) নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত গোলাম মোস্তফা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। জজ কোর্টের সামনে পৌঁছালে সড়কে নির্মাণাধীন ড্রেনের পাশে রাখা বালুর স্তূপের সঙ্গে অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এতে ইমাম ও চালক সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম মোস্তফাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ছেলে সালমান ফারসি বলেন, সড়কের ওপর বালু ফেলে আংশিকভাবে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুর স্তূপে ধাক্কা দেয়। এতে তার বাবা পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। আহত অটোরিকশাচালকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।

    তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্যও দিয়েছে পুলিশ। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

    ওসি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দপ্তর

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে পেলেন কোন দপ্তর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টাদের মধ্যে আটজনকে দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরে বণ্টন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এর আগে গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ১০ জনকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। আজকের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে আটজনের জন্য নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মন্ত্রী পদমর্যাদার তিনজন উপদেষ্টাকে ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা হলেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। পাশাপাশি মন্ত্রী পদমর্যাদায় মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মাহদী আমিনকে একযোগে চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিচালনা করবেন।

    অপরদিকে, রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।