Author: News Editor

  • ফের নতুন মন্ত্রিপরিষদে শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা

    ফের নতুন মন্ত্রিপরিষদে শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্য শপথ নিয়েছেন। বিএনপির সংসদীয় দল দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে। বিকালেই নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করবেন তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবন সংসদ সদস্যের শপথের আনুষ্ঠানিকতার পর বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

    এদিকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সালাউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, জহির উদ্দিন স্বপন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এহসানুল হক মিলন, শরীফুল আলম, মীর শাহে আলম। তারা ইতোমধ্যে ফোন পেয়েছেন।

    এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় আরও ফোন পেয়েছেন হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক।

    তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন জাকারিয়া তাহের (সুমন), এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ফরহাদ হোসেন আজাদ।

    বিএনপির জোট থেকে জোনায়েদ সাকী ও নুরুল হক নুর মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    আরও অনেকেই ডাক পেয়েছেন। তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিপরিষদ ৫০ সদস্যের হতে পারে।

    সংসদীয় দলের সভায় বিএনপির এমপিরা কেউ ডিউটি ফ্রি গাড়ি নেবেন না, সরকারিভাবে কোনো প্লট নেবেন না এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • শিক্ষকদের বাড়তি বেতন-ভাতা সুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

    শিক্ষকদের বাড়তি বেতন-ভাতা সুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

    রমজান মাসজুড়ে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ছুটির প্রজ্ঞাপন কবে জারি হবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনার অনুলিপি পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিঠি জারি করা হতে পারে।

    রমজানে স্কুল বন্ধ রাখা হবে, নাকি এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল করা হবে—তা নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা নির্দেশনার বিষয়ে অবগত থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। আগামী সোমবার বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে।

    রোববার দুপুরে বিচারপতি বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পুরো রমজান মাসে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

    আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল এবং অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

    রিট আবেদনের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিশ পাঠানো হয়।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রথা চালু রয়েছে, যা আইন, নীতি ও রীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কিছু করা যায় না এবং ১৫২(১) অনুচ্ছেদে ‘আইন’ বলতে প্রথা ও রীতিকেও বোঝানো হয়েছে। সে বিবেচনায় রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলা হয়।

    নোটিশে আরও বলা হয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত ও শ্রেণিকক্ষে অংশ নিয়ে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হতে পারে, ফলে ধর্মীয় অনুশীলনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি রমজানে বিদ্যালয় খোলা থাকলে শহরাঞ্চলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    নোটিশের জবাব না পাওয়ায় পরবর্তীতে রিট দায়ের করা হয়।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর

    এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর

    আসন্ন ঈদুল ফিতর থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা বা বোনাস পেতে পারেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী।

    জানা গেছে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব তাড়াতাড়ি শতভাগ বোনাস পাবেন শিক্ষকরা। এটা রমজানের ঈদ থেকেও হতে পারে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। এই ভাতা শতভাগ করা হবে।’

    তবে কবে নাগাদ উৎসব ভাতা শতভাগ করা হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি শিক্ষামন্ত্রী।

    জানা গেছে, নীতিমালায় শতভাগ উল্লেখ করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। এজন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে।

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০০৪ অনুযায়ী, শিক্ষকরা এক মাসের মূল বেতনের ২৫ শতাংশ বোনাস পান। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বোনাস পান ৫০ শতাংশ।

    বিগত ১৭ বছর ধরে এই বৈষম্য নিরসনে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা।

    ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’ জারির পর শতভাগ বোনাস পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় শতভাগ উৎসব ভাতা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালার ‘শিক্ষক ও কর্মচারীদের (স্কুল ও কলেজ) বেতন-ভাতা নির্ধারণ’ অনুচ্ছেদের ১১.৭-এর ‘ঙ’ অংশে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন/বোনাসের নির্ধারিত অংশ/উৎসব ভাতার নির্ধারিত অংশ/বৈশাখী ভাতার নির্ধারিত অংশ সরকারের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫/সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে অথবা সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে মিল রেখে করতে হবে।’

  • কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

    কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই অবস্থান করছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও তিনি আপাতত সেখানেই আছেন।

    জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন মাস যমুনায় থাকার সুযোগ থাকলেও সেটি ছেড়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যমুনা পরিদর্শন করেছে।

    অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, যমুনায় তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং সাজাচ্ছেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও। মাস খানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন, তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথের পর থেকেই তিনি যমুনায় বসবাস করছেন।

    ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী গণমাধ্যমে জানান, ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, মূলত ইউনূস সেন্টারে ফেরার কাজ ও নথিপত্র গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, এছাড়াও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন, তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হতে পারে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঠিক হয়নি।

    বিদেশ থেকেও সফরের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথায় তিনি সশরীরে যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন সে ব্যাপারেও কাজ করছেন তিনি।

    যমুনায় ড. ইউনূসের আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে কম্পাউন্ডের ভেতরেই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন প্রতিদিন। নাশতার পর সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরু করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান, তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়।

    সংশ্লিষ্ট আরও একজন গণমাধ্যমে বলেন, তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, যারাই দেখা করতে চায়, তাদের যেন সুযোগ দেয়া হয়। আগে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এখন তিনি সবার কথা শুনতে চান। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কেউ অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা শুনতে চান, কেউ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান, আবার কেউ পেশাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার এক সহযোগী।

    সব কিছু শেষে ড. ইউনূসের মনোযোগ এখন পরিবারের দিকে। অফিসের কাজ শেষে তিনি অসুস্থ স্ত্রীর পাশেই থাকছেন এবং বিকেলে ৫টার দিকে তিনি আরেক দফা হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা কাটছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে এছাড়া মেয়ের দুই বিড়াল ‘মিনু’ ও ‘কায়রো’র সঙ্গেও সময় কাটে তার।

    জানা গেছে, এরইমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তিনি তার সরকারের মেয়াদকালেই পাসপোর্টটি ছেড়েছেন। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন তিনি।

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার অনেকে এরইমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

    স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা সপ্তাহখানেক আগে পাসপোর্ট ছেড়েছেন। বাকিরাও ভোটের আগে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দেশ শাসনের পরে ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন অধ্যাপক ইউনূস।

    এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

  • এবার বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলো ভারত

    এবার বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলো ভারত

    জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের অবনতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে টানাপোড়েন আরও বাড়ে। তবে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের আগমনের পর ঢাকা–নয়া দিল্লি সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

    এ প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০ ফেব্রুয়ারির সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় নয়া দিল্লি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

    তিনি জানান, সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। একইসঙ্গে ভারতের সংসদের স্পিকার ওম বিরলা পার্লামেন্টারি সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক শক্তিশালী হলে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন আরও টেকসই হবে।

    নয়া দিল্লি জানায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন, নদীর পানি বণ্টন ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব—বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনীতি ও ইন্দো-প্যাসিফিক প্রেক্ষাপটে—আরও বেড়েছে। ফলে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অব্যাহত থাকবে।

    কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের পুনর্ব্যক্ত অঙ্গীকার ইতিবাচক সংকেত দিলেও ঘোষণার বাস্তবায়নই হবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রকৃত পরীক্ষা।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর!

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর!

    দেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী পবিত্র রমজানের ঈদ থেকেই তারা মূল বেতনের শতভাগ উৎসব ভাতা পেতে পারেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সম্প্রতি স্পষ্ট করেছেন যে শিক্ষকদের বর্তমান উৎসব ভাতার হার ১০০ শতাংশে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষকরা মূল বেতনের মাত্র ২৫ শতাংশ এবং কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ বোনাস পেয়ে আসছিলেন। এই চরম বৈষম্য নিরসনে ২০২১ সালের এমপিও নীতিমালার আলোকে নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে তবে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আসন্ন ঈদের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া।

    জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ভাতা প্রদানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। মন্ত্রণালয়ের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াই এবার এক সফল পরিণতির দিকে যাচ্ছে।

  • স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণা শীঘ্রই

    স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণা শীঘ্রই

    সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার কে হবেন, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবারের সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিভিন্ন মহলে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

    আগামী ২৬ তারিখের মধ্যে স্পিকারের নাম ঘোষণা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

    দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনজীবী অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ে দক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা তাকে স্পিকার পদের আলোচনায় এগিয়ে রাখছে।

    তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত। সাংবিধানিক, নির্বাচন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার সমন্বয় বিবেচনায় এনে তার নাম আলোচনায় এসেছে।

    যদিও দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
    অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রবীণ নেতা ড. আবদুল মঈন খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নরসিংদী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রবীণ এ নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে জনমনে।

    আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে ড. মঈন খানও হতে পারেন সংসদের স্পিকার।
    বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য নরসিংদী-২ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার বাবাও সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হয়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা, রুলিং প্রদান এবং বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে অভিজ্ঞ আইনজীবীর ভূমিকা কার্যকর হতে পারে।

    রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমুখী আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। আবার অনেকে বলছেন, স্পিকার পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংসদীয় সমীকরণ ও দলীয় কৌশলের ওপর।

    ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার তা হচ্ছে না।

  • বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ!

    বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ!

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কযুদ্ধ এক নতুন মোড় নিয়েছে যা বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের কঠোর পাল্টা শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও দমে যাননি এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। বরং আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি এখন বিশ্বব্যাপী ঢালাও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

    বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গা হলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ। ট্রাম্পের আগের ঘোষণার পর বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯ শতাংশ শুল্কের একটি বিশেষ চুক্তি হয়েছিল। এখন আদালতের রায়ে আগের শুল্ক কাঠামো বাতিল হয়ে যাওয়ায় ওই ১৯ শতাংশের চুক্তিটিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। চুক্তিটি যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় তবে বাংলাদেশ নতুন ঘোষিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের আওতায় পড়বে। আপাতদৃষ্টিতে শুল্কের হার কম মনে হলেও এই নীতিগত অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

    বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে শুল্কের হারের চেয়েও বড় সমস্যা হলো স্থিতিশীলতার অভাব। যখন কোনো দেশের বাণিজ্য নীতি ঘনঘন পরিবর্তিত হয় তখন মার্কিন ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদী কার্যাদেশ দিতে ভয় পান। নীতিগত নিশ্চয়তা না থাকলে বড় আমদানিকারকরা বিকল্প উৎসের সন্ধান করেন যা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে ধস নামাতে পারে। এই দোদুল্যমান অবস্থা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।

    আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর ট্রাম্প এখন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। এই আইনের অধীনে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যরীতির অজুহাতে শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছেন। তার এই জেদি মনোভাব প্রমাণ করে যে তিনি মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও নিশ্চিত করেছেন যে প্রশাসন নতুন এই আইনি পথে শুল্ক কার্যকর করার জন্য কাজ শুরু করেছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই বললেই চলে। বিশ্লেষকরা মনে করেন মার্কিন বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে এখন নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করা জরুরি। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পণ্যের মান বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া এই বৈশ্বিক শুল্কযুদ্ধ মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

  • পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে, সুসংবাদ নাকি দুঃসংবাদ? জেনে নিন

    পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে, সুসংবাদ নাকি দুঃসংবাদ? জেনে নিন

    নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও সরব হয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্যপরিষদ। সংগঠনটি বলছে, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রজাতন্ত্রের প্রায় ২২ লাখ কর্মচারীর মুখে হাসি ফোটাতে হবে। দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

    শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সদস্য সচিব মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ ওয়ারেস আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা বেতন কাঠামোতে বৈষম্যের শিকার। ২০১৫ সালে ঘোষিত অষ্টম পে-স্কেলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়, তা এখনো নিরসন হয়নি।

    নেতারা জানান, আবেদন-নিবেদন, স্মারকলিপি ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বহুবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অতীতে কোনো সরকার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেনি বলে দাবি তাদের। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে দুই দফায় নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ছয় সদস্যের একটি পরিবার চালাতে গিয়ে কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। তাই বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল এখন সময়ের দাবি।

  • তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী হচ্ছেন যিনি!

    তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী হচ্ছেন যিনি!

    প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী শপথের আগে একটি আসন ছেড়ে দেন তিনি। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই ‘ভিআইপি’ আসনে ধানের শীষের পরবর্তী কান্ডারি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে এখন গোটা উত্তরবঙ্গে চলছে টানটান উত্তেজনা। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সব নির্বাচনেই এখানে বিএনপি একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে, বিশেষ করে প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবার এই আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।

    তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান কিংবা মেয়ে জাইমা রহমানকে এই আসনে প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক মেয়র এ কে এম মাহবুবুর রহমান এবং সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদারসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, বগুড়া জিয়া পরিবারের আসন হিসেবে পরিচিত; তাই এখানে পরিবারের কেউ নাকি স্থানীয় কোনো যোগ্য নেতা মনোনয়ন পাবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বগুড়া-৬ আসনটি বরাবরই বিএনপির জন্য সম্মান ও আস্থার প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমান এই আসনে বিশাল জয় পাওয়ায় এখন উপনির্বাচনেও জিয়া পরিবারের উত্তরসূরিদের দেখার প্রত্যাশা করছেন সাধারণ ভোটাররা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার চায়ের আড্ডায় ডা. জুবাইদা রহমান এবং জাইমা রহমানের নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। নেতাকর্মীদের মতে, তারা প্রার্থী হলে জিয়া পরিবারের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।

    পরিবারের বাইরেও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ সাইফুল ইসলাম ও মওদুদ হোসেন আলমগীরের মতো দক্ষ নেতাদের নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। দলের হাইকমান্ড স্থানীয় জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দিলে এদের মধ্য থেকেও কেউ পেয়ে যেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত টিকিট।

    বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের মতে, দল এখন জনবান্ধব সংস্কারে ব্যস্ত। তবে তফসিল ঘোষণার পর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মর্যাদাপূর্ণ আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।