Author: News Editor

  • এইমাত্র: রোজার মাসে স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন ঘোষণা

    এইমাত্র: রোজার মাসে স্কুল ছুটি নিয়ে নতুন ঘোষণা

    রো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে।

    সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

    নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়ত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখবার অভ্যাস হতে দূরে থাকার সম্ভাবনা দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। রমজান মাসে স্কুল বন্ধ না রাখলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

    সম্প্রতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগের বছরের তুলনায় ১২ দিন ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসের প্রায় পুরোটা সময় বিদ্যালয় খোলা থাকবে, যা নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    অন্যদিকে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এবার ১২ দিন ছুটি কমেছে। শবে মেরাজ, জন্মাষ্টমী, আশুরাসহ বেশ কয়েকটি দিনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসের অর্ধেকের বেশি সময় স্কুল খোলা রাখা হবে। তবে সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজের ছুটির তালিকার তথ্য অনুযায়ী- এতে ৭২ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পবিত্র রমজান মাসের পুরো সময় কলেজ বন্ধ থাকবে।

  • স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন

    স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, স্পিকার পদে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রবীণ তিনজন নেতার নাম আলোচনায় আছে। এছাড়া ডেপুটি স্পিকার পদে তিনজন এবং সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে। এরপর থেকেই আলোচনা উঠেছে- কে হচ্ছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিপ হুইপ। জানা গেছে, এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই।

    তবে এই পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্লিন ইমেজের নেতা হিসাবে তাকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরে আলোচনায় রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। জানা গেছে, এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনাই বেশি।

    এদিকে, ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম। তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে তারেক রহমান বেছে নেবেন তা নিশ্চিত নয়। তবে এই তিনজনই দলের ভেতরে ও বাইরে সমান জনপ্রিয়। মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায়ও তারা এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা হয়নি। ক্লিন ইমেজের অধিকারী আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং আন্দালিব রহমান পার্থর নাম না থাকায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এছাড়া সংসদের সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ-সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ-সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর নাম শোনা যাচ্ছে।

    বিএনপি সূত্র বলছে, দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনায় স্পিকার পদে ড. আবদুল মঈন খানের নাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে প্রবীণ এ নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমনে। মঈন খানের বাবা ড. আবদুল মোমেন খান জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।

    অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও নির্বাচনি আইন বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকার কারণেও স্পিকার পদের আলোচনা তাকে এগিয়ে রাখছে। তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    এদিকে, স্পিকার পদে জন্য কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এম ওসমান ফারুকের নামও আলোচনায় এসেছে। সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থায় কর্মকর্তা ও পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

    রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হয়।

    এদিকে, জয়নুল আবদিন ফারুক ৬ বারের সংসদ-সদস্য। নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ছিলেন তিনি। ফলে এবার সরকারদলীয় সম্ভাব্য চিফ হুইপ হিসাবে তার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে বরকত উল্লাহ বুলু ৫ বারের সংসদ সদস্য। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টা ছিলেন। এবারও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনা ছিলেন বুলু। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় এখন তার নামও চিফ হুইপ পদে আলোচনায় আছে।

  • সারা দেশে আ.লীগের অফিস খোলার প্রশ্নে যা বললেন মির্জা ফখরুল

    সারা দেশে আ.লীগের অফিস খোলার প্রশ্নে যা বললেন মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

    সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিসগুলো খোলা হচ্ছে—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী? উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা আমরা চাইনি এবং যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেভাবেই এটাকে দেখা হবে সব জায়গায়।’

    তিনি বলেন, নয়াপল্টনে বিএনপির এ কার্যালয় থেকে বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করা হয়; যার নের্তৃত্বে ছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

    তিনি আরও বলেন, এ কার্যালয় থেকে দেওয়া কর্মসূচিগুলো জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সঠিক সময়ে সরকারি নিয়ম মেনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কতগুলো নিয়মকানুন আছে সরকারি। সরকারি এবং যেসব প্রথা আছে, সেগুলো কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে সরকারের তরফ থেকে একটি সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

    জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি কাদের মনোনয়ন দেবে, এমন প্রশ্নোত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, রাজনীতি ও দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে যরা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

  • দিল্লিতে মাহদীর সঙ্গে হোটেলে থাকা ওই নারীর বিষয়ে যা জানা গেল

    দিল্লিতে মাহদীর সঙ্গে হোটেলে থাকা ওই নারীর বিষয়ে যা জানা গেল

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গিয়েছিলেন পর্তুগালের ভিসা নিতে। দিল্লিতে থাকার সময় তার সঙ্গে এক নারীও ছিলেন। ওই নারী তার আত্মীয় ছিল বলে জানা যায় বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে।

    পরে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে ভারতের দিল্লি থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাহদী হাসান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার অভিযোগ, তিনি ভারতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে একটি বেসরকারি সংস্থার দপ্তরে মঙ্গলবার সকালে প্রথম দেখা যায় মাহদী হাসানকে। তার পাশে এক নারীও বসেছিলেন। ওই বেসরকারি সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের হয়ে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে।

    মাহদী এবং তার পাশে বসা নারী পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করতে গিয়েছিলেন।

    পর্তুগালের ভিসা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের দিল্লিতে আসতে হয়, সে জন্য ভারতীয় ভিসা লাগে। জানা গেছে, বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাস মাহদী হাসানকে ভিসা দিয়েছিল।

    মাহদী হাসান এবং তার সঙ্গে আসা এক নারী নয়াদিল্লি রেল স্টেশনের কাছাকাছি পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। কনট প্লেসের ওই ভিসা কেন্দ্রে অপেক্ষা করার সময়ে কেউ তার ভিডিও রেকর্ড করে নেয়। সেই ব্যক্তি যে কে, সেটা কেউ জানাতে চাননি। তবে তিনি যে মাহদী হাসানকে চিনতে পেরেছিলেন, এটা নিশ্চিত।

    ভিডিও রেকর্ডকারী ব্যক্তিও সেখানে ভিসা নিতেই গিয়েছিলেন। তবে সেই ব্যক্তি পর্তুগালের জন্য নয়, অন্য কোনো দেশের ভিসা পাওয়ার আবেদন জানাতে গিয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ মাহদী হাসানকে চিহ্নিত করা যায়। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে খবর পেয়ে যাই। সেই সময়েই পর পর তার কাছে ভারতীয় আর বাংলাদেশের নানা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। সেই সব ফোন কারা করছিল, সেটা বলব না, কিন্তু তখনই মাহদী হাসান আন্দাজ করে যে কোথাও একটা গণ্ডগোল হয়েছে।

    একটি সূত্র জানায়, একটা নতুন দেশে এসে, যেখানে তাকে কেউ চেনে না – তার কাছে হঠাৎ করে কেন এত অজানা নম্বর থেকে ফোন আসবে! এটা তাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। অন্যদিকে কর্মকর্তারা তার ওপরে নজর রাখা শুরু করেন।

    অন্য সূত্রটি বলছে, ওই ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি প্রথমে পুরোনো দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় গিয়েছিলেন।

    বিবিসি বাংলাকে একটি সূত্র জানায়, বেলা দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তার (মাহদী) কাছে বাংলাদেশ থেকে কেউ জানায় যে সে চিহ্নিত হয়ে গেছে। তখন সে নিশ্চিত হয় যে অজানা নম্বরগুলো থেকে কারা, কেন ফোন করছিল। এরপরেই সে দিল্লিতে কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিল আশ্রয়ের সন্ধানে। কেউই তাকে থাকতে দিতে রাজি হয়নি।

    বিবিসি বাংলা যে দুজনের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের একজন জানিয়েছেন, মাহদী হাসান দিল্লি থেকেই ভিসা নিয়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার সঙ্গে যে নারী ছিলেন, তিনি মাহদীর এক আত্মীয়।

  • সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর!

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর!

    ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা টানা ৫ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন। তবে সামান্য কৌশলী হয়ে মাত্র একদিনের বাড়তি ছুটি নিতে পারলেই এই অবকাশ টানা ৭ দিনে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে সরকারিভাবে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত মোট ৫ দিন ঈদের ছুটি নির্ধারিত আছে।

    ঈদের ছুটির ঠিক আগেই ১৭ মার্চ রয়েছে শবে কদরের নির্ধারিত ছুটি। মাঝে শুধু ১৮ মার্চ (বুধবার) একটি কর্মদিবস বাকি থাকে। কোনো সরকারি চাকরিজীবী যদি ওই একদিনের নৈমিত্তিক ছুটি ম্যানেজ করতে পারেন, তবে তিনি ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

    ঈদের আমেজ কাটতে না কাটতেই ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রয়েছে স্বাধীনতা দিবসের সাধারণ ছুটি। এর পরপরই ২৭ ও ২৮ মার্চ (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে কেউ যদি ঈদের ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ—এই দুই দিন অতিরিক্ত ছুটি নিতে পারেন, তবে তিনি ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের এক দীর্ঘ অবকাশ যাপন করার সুযোগ পাবেন।

    এই সম্ভাব্য দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে এখনই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বুকিং এবং ঘরমুখী মানুষের মধ্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

  • বিদ্যালয়ের ছুটি আবারও সংশোধন, দেখুন তালিকা

    বিদ্যালয়ের ছুটি আবারও সংশোধন, দেখুন তালিকা

    সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা আবারও সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার।

    রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক ছুটি, বিভিন্ন জাতীয় দিবস, ধর্মীয় উৎসব এবং একাডেমিক কার্যক্রমের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নতুন তালিকা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সংশোধিত ছুটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    তালিকা দেখুন এখানে…

     

  • অফিস নিয়ে সরকারের কড়াকড়ি নির্দেশ জারি

    অফিস নিয়ে সরকারের কড়াকড়ি নির্দেশ জারি

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (প্রশাসন) কামরুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

    অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ‘নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা, ২০১৯’-এর বিধানসমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানানো যাচ্ছে যে উক্ত বিধিমালার আওতায় নিম্নোক্ত কর্মকাণ্ডসমূহ অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    (ক) বিনা অনুমতিতে কর্মে অনুপস্থিতি;
    (খ) বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ,
    (গ) বিলম্বে অফিসে উপস্থিতি।

    এ অবস্থায় সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কর্মদিবসে সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। অফিস সময়ে শেষ হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ (পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট এবং রমজান-পরবর্তী সময় বিকেল ৫টার) পূর্বে কেউ নিজ দপ্তর ত্যাগ করবে না।

    এ ছাড়া অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অফিস চলাকালীন সময়ে দাপ্তরিক বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ অনুবিভাগের প্রধান (যুগ্ম সচিব/সলিসিটর)-এর পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর তফসিল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত ‘অফিস ত্যাগের রেজিস্টার’-এ এন্ট্রি প্রদান এবং ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করে তবেই অফিস ত্যাগ করতে হবে।

    এতে আরও বলা হয়, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে, অফিস ত্যাগ করলে বা বিলম্বে উপস্থিত হলে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • কে হচ্ছেন স্পিকার, আলোচনায় যাদের নাম

    কে হচ্ছেন স্পিকার, আলোচনায় যাদের নাম

    আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশনেই নির্ধারিত হবে সংসদের অভিভাবক বা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার। এই আলোচনা এখন সব মহলে।

    সূত্রগুলো জানাচ্ছে, স্পিকার পদের জন্য বিএনপির প্রবীণ ও অভিজ্ঞ তিন নেতার নাম এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

    তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে এমন খবর ছড়িয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মঈন খানের স্পিকার হওয়ার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। অনেকটা নিশ্চিত তিনিই পরবর্তী স্পিকার হচ্ছেন।

    মৌখিকভাবে মঈন খানের নাম কর্মকর্তাদের কাছে আলোচিত হচ্ছে। এ ছাড়া ডেপুটি স্পিকার পদে তিনজন এবং সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হন। তিনি ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক ও সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খানের সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা তাকে এই পদের জন্য শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।

    এর পরই আলোচনায় রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এই প্রবীণ আইনজীবীর সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ও সংসদীয় কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে আলোচনার টেবিলে রেখেছে।

    ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য তিনজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন—লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং নোয়াখালী-১ আসনের ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এই তিন নেতাই দলের ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা না হওয়ায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন, তবে এখন তাদের মধ্য থেকেই কাউকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে সরকারি দলের চিপ হুইপ পদের জন্য দুই অভিজ্ঞ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন—নোয়াখালী-২ আসনের ৬ বারের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এবং নোয়াখালী-৩ আসনের ৫ বারের সংসদ সদস্য বরকতউল্লা বুলু। জয়নুল আবদিন ফারুক ইতিপূর্বে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার সম্ভাবনাকে অনেকে জোরালো মনে করছেন।

    গত রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গঠিত এই সরকারে ইতিমধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগের পালা।

    বিএনপি সূত্র মতে, ড. মঈন খান এখনো সরকারের কোনো পদে যুক্ত না হওয়ায় তাকে স্পিকার করার সম্ভাবনা বেশি। তার বাবা ড. আবদুল মোমেন খানও জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তা দেখতে এখন ১২ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

  • এমপির গাড়িবহরের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, মায়ের আহাজারি

    এমপির গাড়িবহরের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, মায়ের আহাজারি

    কক্সবাজারে সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বিকালে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশুটির নাম খালেদ বিন ওয়ালিদ (৮)। সে বদরখালী ইউনিয়নের আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকার প্রবাসী আমান উল্লাহর ছেলে। শিশুটি স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। আজ কুতুবদিয়া সফরে যান তিনি। সফর শেষে বিকালে সড়কপথে পেকুয়া থেকে চকরিয়ার বদরখালী হয়ে মহেশখালী ফিরছিলেন। এ সময় তার গাড়িবহরে আট থেকে ১০টি গাড়ি ছিল।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৫টার দিকে সংসদ সদস্যের গাড়িবহর বদরখালীর আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকা পার হওয়ার সময় বহরের একটি গাড়ি শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। শিশুটির মা সুমাইয়া বেগম তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বদরখালী মাদ্রাসা গেট এলাকায় সড়কের মাঝখানে একটি ডাম্প ট্রাক দিয়ে সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেন। এ সময় সংসদ সদস্যকে বহনকারী গাড়িটি বদরখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত চলে যায়। সেখান থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে আটকে পড়া গাড়িগুলো স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সহযোগিতায় ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যান সংসদ সদস্য।

    সন্ধ্যায় শিশুটির মায়ের আহাজারির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় নিথর পড়ে আছে মৃত ছোট্ট সন্তান। মা তাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। কখনও মুখে হাত বোলাচ্ছেন, কখনো গায়ে। বারবার ডেকে বলছেন, ‘উঠ বাবা…উঠ…।’

    এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয়ের গাড়িবহরের একটি গাড়ির চাপায় শিশুটি মারা গেছে। ইতিমধ্যে চাপা দেওয়া গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমি এখনও বদরখালী আছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আছে।’

  • কোন রক্তের গ্রুপের মানুষের ক্যান’সারের ঝুঁ’কি বেশি হয়!

    কোন রক্তের গ্রুপের মানুষের ক্যান’সারের ঝুঁ’কি বেশি হয়!

    ক্যানসার বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এর মধ্যে বেশিরভাগই স্তন, ফুসফুস, কোলন, মলদ্বার ও প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ক্যানসার এমন একটি রোগ যেখানে শরীরের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় ও শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিভিন্ন কারণে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে অনিয়মিত জীবনযাপন, তামাক-অ্যালকোহল সেবন, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও বায়ুদূষণ ক্যানসারের অন্যতম ঝুঁকির কারণ।

    এর পাশাপাশি বয়স, লিঙ্গ, জাতিগত, পারিবারিক ইতিহাস ও জেনেটিক্সের মতো অপরিবর্তনযোগ্য কারণেও ক্যানসার হতে পারে। এমনকি রক্তের ধরনের ওপর নির্ভর করে আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি আছে কি না। প্রাথমিক গবেষণায় একটি নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপ ও অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে একটি সংযোগ পাওয়া গেছে।

    রক্তের বিভিন্ন গ্রুপ বা প্রকারভেদ আছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস (এনএইচএস) বলছে, ৪টি প্রধান রক্তের গ্রুপের মধ্যে আছে- ও, এ, বি ও এবি। রক্তের গ্রুপ আসলে পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। প্রতিটি গ্রুপ আরএইচডি পজিটিভ বা আরএইচডি নেগেটিভ হতে পারে।

    রক্তের ধরনের সঙ্গে ক্যানসারের কী সম্পর্ক আছে?

    বেশ কিছু গবেষণায় কিছু নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপকে ক্যানসারের ঝুঁকির সাথে যুক্ত করা হয়েছে। প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘এ’ রক্তের গ্রুপের তুলনায় ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষদের মধ্যে সব ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিই পরিসংখ্যানগতভাবে বেশি।

    আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষের মধ্যে পাকস্থলী ও মূত্রাশয় ক্যানসারের ঝুঁকিঅন্যদের চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি।

    জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের জার্নালে প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এ, বি ও এবি গ্রুপের মানুষের মধ্যে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে ‘ও’ গ্রুপের মানুষের কম।

    সমীক্ষা অনুসারে, ‘ও’ গ্রুপের তুলনায় ‘এ’ রক্তের গ্রুপের মানুষের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ বেশি। আর ‘এবি’ গ্রুপের ৫১ শতাংশ ও ‘বি’ গ্রুপের ৭২ শতাংশ বেশি ঝুঁকি আছে ক্যানসারের।

    অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে কী ও এর লক্ষণ কী কী?

    অগ্ন্যাশয় ক্যানসার তখনই ঘটে, যখন অস্বাভাবিক কোষগুলো অগ্ন্যাশয়ের ভেতরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়। যা হজমের তরল উৎপাদনে সাহায্যকারী অঙ্গ। এটি অগ্ন্যাশয়ের অঞ্চলকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

    মায়ো ক্লিনিকের মতে, অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের বেশ কিছু লক্ষণ আছে যেমন-

    >> পেটে ব্যথা যা আপনার পিঠে ছড়িয়ে পড়ে
    >> ক্ষুধা ও ওজন কমে যাওয়া
    >> ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হওয়া (জন্ডিস)
    >> হালকা রঙের মল
    >> গাঢ় রঙের প্রস্রাব
    >> অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
    >>রক্ত জমাট ও
    >> ক্লান্তি।