Author: News Editor

  • ৫% সুদে ৩০ লাখ টাকা লোন, কিস্তি শুরু দেড় বছর পর

    ৫% সুদে ৩০ লাখ টাকা লোন, কিস্তি শুরু দেড় বছর পর

    পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট কেনায় জামানত ছাড়াই ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ঋণ দেবে ব্যাংক। এই ঋণের সুদহার পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা সার্কুলারে পরিবেশবান্ধব খাতে বিদ্যমান ৪০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় ফ্ল্যাট কেনায় ঋণের বিষয়টি নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট কেনার ঋণে ১৮ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন। অর্থাৎ কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে দেড় বছর পর থেকে। ব্যক্তির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ইউনিট সমন্বিত বহুতল বিশিষ্ট পরিবেশবান্ধব আবাসন নির্মাণেও ঋণ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আবাসন কোম্পানি ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। কোম্পানির জন্যও সুদহার, ঋণের মেয়াদ ও গ্রেসপিরিয়ড হবে অভিন্ন।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়, পরিবেশবান্ধব খাতে চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এতদিন চার শতাংশ সুদে তহবিল পেত। এখন পাবে তিন শতাংশ সুদে। ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ সুদে ঋণ দেবে।

    এক্ষেত্রে পাঁচ বছরের কম মেয়াদি ঋণে সর্বোচ্চ সুদ হার হবে পাঁচ শতাংশ, পাঁচ থেকে আট বছরের কম মেয়াদে সাড়ে পাঁচ শতাংশ এবং আট বছরের বেশি মেয়াদে ছয় শতাংশ।

    এছাড়া পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় বনায়ন (সামাজিক, সমন্বিত বা কৃষি), ছাদের কৃষি বা উল্লম্ব চাষ বা বাগান, বায়োফ্লক মাছ চাষ, জৈব চাষ, খাঁচায় মাছ চাষ, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনেও ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো।

  • ফের নতুন মন্ত্রিপরিষদে শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা

    ফের নতুন মন্ত্রিপরিষদে শপথের জন্য ডাক পেলেন যারা

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্য শপথ নিয়েছেন। বিএনপির সংসদীয় দল দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে। বিকালেই নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করবেন তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবন সংসদ সদস্যের শপথের আনুষ্ঠানিকতার পর বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

    এদিকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সালাউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, জহির উদ্দিন স্বপন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এহসানুল হক মিলন, শরীফুল আলম, মীর শাহে আলম। তারা ইতোমধ্যে ফোন পেয়েছেন।

    এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন, টেকনোক্র্যাট কোটায় আরও ফোন পেয়েছেন হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক।

    তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন জাকারিয়া তাহের (সুমন), এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ফরহাদ হোসেন আজাদ।

    বিএনপির জোট থেকে জোনায়েদ সাকী ও নুরুল হক নুর মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    আরও অনেকেই ডাক পেয়েছেন। তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিপরিষদ ৫০ সদস্যের হতে পারে।

    সংসদীয় দলের সভায় বিএনপির এমপিরা কেউ ডিউটি ফ্রি গাড়ি নেবেন না, সরকারিভাবে কোনো প্লট নেবেন না এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • জানেন এবার হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম যত হলো?

    জানেন এবার হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম যত হলো?

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এবং সাময়িক সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ফিউচার ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে লেনদেন হয়।

    পরে ডব্লিউটিআইয়ের দাম আরও বেড়ে ১.১৬ ডলার বা ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৬.৩৫ ডলারে দাঁড়ায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

    নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, উত্তেজনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা কম। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র বৃদ্ধি চান না। সামরিক পদক্ষেপ হলেও তা সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি হতে পারে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি মঙ্গলবার সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছিল। জলপথটি পুরোপুরি চালু হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • হঠাৎ সব শিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরু’রি নির্দে’শনা!

    হঠাৎ সব শিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরু’রি নির্দে’শনা!

    দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত ফির বোঝা কমাতে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই নীতিমালায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনরায় ‘পুনঃভর্তি ফি’ আদায় করা যাবে না।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলোকে অবশ্যই ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত টিউশন ফির বাইরে নতুন কোনো অজুহাতে বা খাত তৈরি করে বাড়তি অর্থ আদায় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেকোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির জন্য পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান যৌথভাবে দায়ী থাকবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব লেনদেন সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ফি, দান বা অনুদান সরাসরি ব্যাংক হিসাব অথবা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের (SPG) মাধ্যমে জমা দিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে নগদ অর্থ গ্রহণ করা হলেও তা দুই কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং হিসাব খাতের কোনো পরিবর্তন বা নতুন খাত সংযোজন করতে হলে অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ও আর্থিক অস্বচ্ছতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    বহুল প্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্তের পথে। বেতন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে নতুন স্কেল কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়েছে।
    সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা এরইমধ্যে চূড়ান্ত করেছে।

    আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন জমার পর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    এবারের পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপারিশমালা অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থাকলেও তা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে, যাতে বেতন বৈষম্য কমে আসে।

    নতুন এই বিশাল বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যয়ের সংস্থান নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি আংশিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
    উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় ১০ বছর পর নতুন এই বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল

    পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল

    সরকারি কর্মচারীদের প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেলের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে নতুন সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

    গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান তিনি। তিনি জানান, কর্মচারীরা পে স্কেল পাবেন।

    কিন্তু নতুন এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বৈঠকে পে স্কেল বাস্তবায়নের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।

    সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উপসচিব মো. আব্দুল খালেক এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক এম এ হান্নানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

    বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান এম এ হান্নান।

    প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাতে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু বলেছেন, তাই আপনারা ধীরে ধীরে পে স্কেল পাবেন। তবে এখনই সব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, কিছু সময় লাগবে। আপনারা ধৈর্য ধরুন।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠিত হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়।

    এদিকে, নবম পে স্কেল কার্যকরের দাবিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
    গত ২০ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটির সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামোগত বৈষম্য নিরসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন পে স্কেল প্রণয়নের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এতে আরো উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে প্রণীত অষ্টম পে স্কেলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি, আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে স্কেল না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ বেড়েছে।

    সংগঠনের নেতাদের দাবি, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে ছয় সদস্যের একটি পরিবারের ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা মতে, বাস্তব বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি।

    সরকারের আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

    ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান।
    একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবিপত্র উপস্থাপন করবেন।
    ৩. পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ, মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
    সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানায়, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু না হলে ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • বদলে গেছে স্বর্ণের বাজার

    বদলে গেছে স্বর্ণের বাজার

    সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (রোববার, ১ মার্চ) থেকে মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হবে নতুন দামে।

    সবশেষ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা ও ১১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

    এর আগে, সবশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকেই।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২২ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

    স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার বাড়ানো রয়েছে রুপার দামও। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২০ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৩ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

  • ঘোষণা করা হলো ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ

    ঘোষণা করা হলো ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ

    চলতি বছরের পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেই হিসেবে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে।

    শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।

    ইমেরাতস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী এবার রমজান মাস ৩০ দিনের হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে এর পরদিন অর্থাৎ ১৯ মার্চ শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

    আরবি শাওয়াল মাসের চাঁদ জন্ম নেয়ার সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করে আল জারওয়ান বলেন, ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দুবাই সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। ওইদিন সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তের উপরে অবস্থান করবে। যদি আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতা অনুকূলে থাকে, তবে ওই সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ২০ মার্চ শুক্রবার শাওয়াল মাসের প্রথম দিন বা ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে।

    আল জারওয়ান আশা প্রকাশ করেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ এবার রমজানের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাস শুরুর বিষয়ে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

    তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতি বছরের মতো এবারও চাঁদ দেখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে। ধর্মীয় ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

    সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের এক দিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ শুরু হয়। সেই হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ২০ মার্চ ঈদ হলে বাংলাদেশে ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • খামেনি হত্যাকাণ্ডের আগমুহূর্তে কী ঘটেছিল

    খামেনি হত্যাকাণ্ডের আগমুহূর্তে কী ঘটেছিল

    তেহরানের কেন্দ্রস্থলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়–কমপ্লেক্সে রোববার (১ মার্চ) ভোররাতে কী ঘটেছিল-তা নিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্থানীয় সময় রোববার ভোরের প্রথম প্রহরে তার কার্যালয়ে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময়ই ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়। এটি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরকারি কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্স-যা সাধারণভাবে বেইত-এ রাহবারি নামে পরিচিত। এখান থেকেই সর্বোচ্চ নেতা দাপ্তরিক কাজ, নিরাপত্তা বৈঠক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিচালনা করেন।

    ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি তার দাপ্তরিক কক্ষে নীতিগত ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কিছু নথি পর্যালোচনা করছিলেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি ছোট দলও কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিল। ভোরের দিকে প্রাসাদ এলাকায় স্বাভাবিক নিরাপত্তা বলয় বজায় ছিল এবং বাইরের চলাচল ছিল সীমিত।হামলার ঠিক আগে রাজধানী তেহরানের আকাশে অস্বাভাবিক বিকট শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আঘাতটি ছিল অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক।

    হামলার পরপরই প্রাসাদ কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা ছিল একটি সমন্বিত সামরিক অভিযান। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তখনো পাওয়া যায়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। খামেনি হত্যাকাণ্ড দেশটির নেতৃত্ব কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ইরানে হামলা: কেন শুরু সংঘাত, কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

    ইরানে হামলা: কেন শুরু সংঘাত, কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

    ইরানে হামলা: কেন শুরু সংঘাত, কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দুই পক্ষের এই তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

    কী ঘটেছে ইরানে?
    শনিবার সকাল প্রায় ৯টা ২৭ মিনিটে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে ইরানের বার্তা সংস্থা। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রথমে ইসরায়েল ঘোষণা দেয় যে তারা ইরানের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে “বড় ও চলমান সামরিক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “Operation Epic Fury”।

    কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?
    তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট, জোমহুরি এলাকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদরদপ্তরের আশপাশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কেরমানশাহ, কোম, তাবরিজ, ইসফাহান, ইলাম, কারাজ ও লোরেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

    হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ব্যাখ্যা
    দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিজেদের জন্য হুমকি বলে দাবি করে আসছে। তারা বলছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করব এবং নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করব।” তিনি ইরানের সেনাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় তারা “নিশ্চিত মৃত্যুর” মুখোমুখি হবে।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তাদের অভিযানের নাম “Lion’s Roar” এবং এটি “যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে।”

    ইরানের পাল্টা জবাব
    ইরান প্রথমে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সাইরেন বেজে ওঠে বিভিন্ন শহরে। পরে কাতারের আল উদেইদ, কুয়েতের আল-সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করেও হামলার খবর পাওয়া যায়।

    ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি “চূর্ণবিচূর্ণ জবাব” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

    বিশ্ব প্রতিক্রিয়া
    ওমান জানায়, তাদের মধ্যস্থতায় চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা এই সংঘাতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলে আখ্যা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

    যুক্তরাজ্য বলেছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না, তবে তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছে।

    পরিস্থিতি অনিশ্চিত
    হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীরভাবে পড়বে।