দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিকল্পনার পর বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের লক্ষ্যনির্ভর হামলা রাতের আঁধারে পরিচালিত হলেও এবার দিনের শুরুতেই হামলা চালানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি কম্পাউন্ডে খামেনির অবস্থান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় সেখানে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে যেতে পারেননি খামেনি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কম্পাউন্ডটিকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় খামেনি ভূগর্ভস্থ একটি বাঙ্কারে অবস্থান করছিলেন। লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস নিশ্চিত করতে ভারী গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়।
একই সময়ে তেহরানের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ও লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানা গেছে। তবে ইরানি সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিরাপদ রয়েছেন।
ইরান জানিয়েছে, হামলায় দেশটির তিন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা—আলি শামখানি, আজিজ নাসিরজাদেহ এবং মুহাম্মদ পাকপৌর নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে অবস্থান করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার টিম পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ইরান আগেই বিকল্প নেতৃত্ব নির্ধারণ করে রেখেছিল। এই হত্যাকাণ্ড চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথ কতটা বদলে দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।









