শরীরে কৃমি বাসা বেঁধেছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে

প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু—উভয়ের শরীরেই কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটায় থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম, টেপওয়ার্ম ও হুকওয়ার্ম। পিনওয়ার্ম ও থ্রেডওয়ার্মের মতো কিছু কৃমির ডিম এতটাই সূক্ষ্ম যে খালি চোখে দেখা যায় না এবং বাতাসের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

শরীরে কৃমি ঢোকে যেভাবে

দূষিত খাবার ও পানি, অপরিষ্কার হাত, মাটি কিংবা সংক্রমিত মল-মূত্রের মাধ্যমে কৃমির ডিম বা লার্ভা শরীরে প্রবেশ করে। অনেক সময় খোলা পায়ে হাঁটা বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেশি সময় কাটালেও ত্বকের মাধ্যমে কৃমি ঢুকতে পারে।

এ ছাড়া খাওয়ার আগে হাত না ধোওয়া, অপরিশোধিত দুধ পান করা, সবজি ভালোভাবে না ধুয়ে রান্না করা, অপরিষ্কার সুইমিং পুলে গোসল করা কিংবা পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শেও কৃমির সংক্রমণ হতে পারে।

কৃমি শরীরের যে ক্ষতি করে

অন্ত্রে প্রবেশ করে কৃমি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়। ফলে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, বমিভাব ও চুলকানির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নিলে কৃমির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে মারাত্মক জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কৃমি যকৃত ও ফুসফুসে সিস্ট বা গুটি তৈরি করতে পারে। ফুসফুসে পৌঁছালে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা এবং মস্তিষ্কে পৌঁছালে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।

যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কৃমি আছে

১. ক্ষুধা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া: কৃমি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। ফলে কারও ক্ষুধা কমে যায়, আবার কারও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষিত হয়ে যাওয়ায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

২. ওজন কমে যাওয়া ও সার্বক্ষণিক ক্লান্তি: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে এবং সব সময় ক্লান্ত লাগে, তবে তা অন্ত্রের কৃমির লক্ষণ হতে পারে।

৩. মলের সঙ্গে কৃমি দেখা যাওয়া: মলত্যাগের সময় ছোট সাদা কৃমি দেখা যাওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি স্পষ্ট লক্ষণ। অনেক সময় কৃমি খুব ছোট হওয়ায় চোখে নাও পড়তে পারে। তবে মলে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

৪. ঘন ঘন পেটব্যথা: কোনো কারণ ছাড়াই বারবার পেটে মোচড় বা খিঁচুনির মতো ব্যথা হলে সতর্ক হতে হবে। খাওয়ার পর বা খালি পেটে ব্যথা বাড়লে তা কৃমির সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।

৫. ত্বকের সমস্যা ও পায়ুপথে চুলকানি: কৃমি থেকে নির্গত বিষাক্ত উপাদান রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা অ্যালার্জি দেখা দেয়। বিশেষ করে পায়ুপথের আশপাশে চুলকানি হওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *