নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আশার আলো দেখালেন অর্থ উপদেষ্টা

দীর্ঘ এক দশক পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে গঠিত পে কমিশন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা শেষে গত ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন জমার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে সেই আশা অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।

অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়ে দেয়, নির্বাচন শেষে নির্বাচিত সরকারই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে। ফলে আপাতত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান স্পষ্টভাবে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল সংক্রান্ত কোনো গেজেট প্রকাশ করবে না। একইসঙ্গে তারা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বা বাস্তবায়নেও যাবে না।

তিনি আরও জানান, এই সরকারের মেয়াদে পে-স্কেল নিয়ে কোনো ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সবশেষ সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে জানান, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করে দিয়ে যাবে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন মূল বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর যে সুপারিশ করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ রাখা হবে।

পরবর্তী সরকার এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে কি না—এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অর্থ বরাদ্দ দিয়ে এবং সুপারিশ করে যাওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

বর্তমান সরকার কেন এখনই পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করছে না—এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশ করা সহজ বিষয় নয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয় কোন খাতে কত টাকা দেওয়া হবে। সে কারণেই সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভোটের আগেই নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছেন। টানা তিন দিন কর্মবিরতির পর বৃহস্পতিবারও কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এতে সরকারি দপ্তরগুলোতে কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

এছাড়া আগামীকাল মহাসমাবেশ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রার কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *