পবিত্র রমজান মাস প্রায় শেষ দিকে। ভোরে সাহরি খেয়ে দিনভর পানাহার থেকে বিরত থেকে সন্ধ্যায় মাগরিবের ওয়াক্তে খাবার গ্রহণ করাকেই রোজা বলে। রোজা হচ্ছে নিজেকে সংযম রাখা ও আত্মশুদ্ধির সেরা উপায়। এ সময় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নামাজ আদায় করা হয়। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ-স্বাভাবিক মুসলিমদের জন্য রোজ রাখা আবশ্যক। এ জন্য রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা রোজা রাখেন।
রমজানে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য রোজা রাখা হলেও নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। টানা দীর্ঘদিন রোজা থাকার কারণে অনেক মেয়ে বা নারীদেরই ইউরিন ইনফেকশন বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউআইটি) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে উদ্বিগ্ন থাকেন তারা।
নারীদের এই ইউরিন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর ফরাজী হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান জান্নাতুল ফেরদৌস। এ ব্যাপারে তিনি বলেন―
রোজায় অধিকাংশ সময় পানি কম পান করা এবং দীর্ঘ সময় প্রস্রাব ধরে রাখা হয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া জমে যায়। এছাড়াও ডিহাইড্রেশনের জন্য এবং হাইজিন ঠিক না রাখার কারণে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এ পুষ্টিবিদ বলেন, এসব ক্ষেত্রে প্রথমে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করা, বারবার প্রস্রাব তাগিদ হওয়া, প্রস্রাবের রং ঘোলা বা দুর্গন্ধ হওয়া, তলপেটে ব্যথা এবং এমনকি জ্বরও হতে পারে। এ থেকে মুক্তির জন্য ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত অন্তত দুই থেকে আড়াই লিটার পরিমাণ পানি পান করতে হবে।
ইফতারে চিনিযুক্ত খাবার, স্বাস্থ্যঝুঁকি জানেন? সতর্ক করে যা বললেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ
ইউরিন ইনফেকশন থেকে পরিত্রাণে সবার আগে নিজেকে সচেতন থাকতে হবে। এ ব্যাপারে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান চালিয়ে যেতে হবে। ব্যস্ততা বা অলসতার জন্য কখনো প্রস্রাব চেপে রাখা যাবে না। হাইজিন রক্ষার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত চিনি বা কোল্ড ড্রিংকস পান থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকাই শ্রেয়।
এছাড়া ইফতারের রকমারি পদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখতে হবে। সবুজ শাক-সবজি, রঙিন ফলমূল, ডাবের পানি, লেবুর পানি, শসা, তরমুজ এবং প্রোবায়োটিক হিসেবে দই রাখতে পারেন। এসব খাবার শরীরের জন্য উপকারী। পাশাপাশি ভাজাপোড়া ও প্রোসেসড ফুড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলেন এ পুষ্টিবিদ।
সবশেষ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, রোজার সময় তীব্র ব্যথা বা জ্বর হলে সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। এ ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মত সচেতন হলে ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব। রোজার সময় পানির ঘাটতি যেন না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জন্য সচেতন ও সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Reply