তেহরানের কেন্দ্রস্থলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়–কমপ্লেক্সে রোববার (১ মার্চ) ভোররাতে কী ঘটেছিল-তা নিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্থানীয় সময় রোববার ভোরের প্রথম প্রহরে তার কার্যালয়ে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময়ই ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়। এটি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরকারি কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্স-যা সাধারণভাবে বেইত-এ রাহবারি নামে পরিচিত। এখান থেকেই সর্বোচ্চ নেতা দাপ্তরিক কাজ, নিরাপত্তা বৈঠক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিচালনা করেন।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি তার দাপ্তরিক কক্ষে নীতিগত ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কিছু নথি পর্যালোচনা করছিলেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি ছোট দলও কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিল। ভোরের দিকে প্রাসাদ এলাকায় স্বাভাবিক নিরাপত্তা বলয় বজায় ছিল এবং বাইরের চলাচল ছিল সীমিত।হামলার ঠিক আগে রাজধানী তেহরানের আকাশে অস্বাভাবিক বিকট শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আঘাতটি ছিল অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক।
হামলার পরপরই প্রাসাদ কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা ছিল একটি সমন্বিত সামরিক অভিযান। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তখনো পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। খামেনি হত্যাকাণ্ড দেশটির নেতৃত্ব কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply