ফের সংশোধন: সাপ্তাহিক ছাড়াও বছরে ছুটি দাঁড়ালো যতদিনে

চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি সংশোধন করে প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) বাদ দিয়ে বছরে মোট ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ দিন।

সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি রাখা হয়েছে পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। এই ছুটি আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ২৬ দিন চলবে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সংশোধিত ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা সুলতানার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, শিক্ষাবর্ষ ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ করতে বছরের শুরুতেই এই ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শিক্ষাপঞ্জি ও পরীক্ষার সময়সূচি

প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন: ৫ মে-১৭ মে

দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন: ১৭ আগস্ট-৩০ আগস্ট

তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন: ১ ডিসেম্বর-১০ ডিসেম্বর

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা: ২০-২৩ ডিসেম্বর

শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর

দীর্ঘকালীন ছুটি

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস: ১৯ ফেব্রুয়ারি-২৬ মার্চ (২৬ দিন)

পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ: ২৪ মে-৪ জুন (১০ দিন)

দুর্গাপূজা: ১৮ অক্টোবর-২২ অক্টোবর (৫ দিন)

যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন ও শীতকালীন অবকাশ: ২০-২৯ ডিসেম্বর (৮ দিন)

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছুটি

মাঘী পূর্ণিমা (১ ফেব্রুয়ারি), শবে বরাত (৪ ফেব্রুয়ারি), শিবরাত্রি ব্রত (১৫ ফেব্রুয়ারি), ইস্টার সানডে (৫ এপ্রিল), বৈসাবি উৎসব (১২ এপ্রিল), চৈত্র সংক্রান্তি (১৩ এপ্রিল), বাংলা নববর্ষ (১৪ এপ্রিল), আষাঢ়ী পূর্ণিমা (২৯ জুলাই), জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস (৫ আগস্ট), আখেরি চাহার সোম্বা (১২ আগস্ট), ঈদে মিলাদুন্নবী (২৬ আগস্ট), ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম (২৪ সেপ্টেম্বর), শ্যামাপূজা (২৫ অক্টোবর) এবং বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর)।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন বা সংবর্ধনার জন্য বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া যাবে না। সংবর্ধিত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানোও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ভর্তি কার্যক্রম বা অন্যান্য পরীক্ষার প্রয়োজনে ছুটির দিনেও বিদ্যালয় খোলা রাখা যাবে।

এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর ও বাংলা নববর্ষ এই জাতীয় দিবসগুলো সব বিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *