Category: সারাদেশ

  • আমার মৃত্যুর পেছনে যে আছে, আমি তার কঠিন শাস্তি চাই আব্বু

    আমার মৃত্যুর পেছনে যে আছে, আমি তার কঠিন শাস্তি চাই আব্বু

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় চিরকুট লিখে আন্নিশা আক্তার মুনিয়া খাতুন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। ইতিমধ্যে তার চিরকুটটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৪ মে) ওই চিরকুটটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চিরকুটের সে লিখেছে, ‘আব্বু আম্মু আমাকে তোমরা মাফ করে দিও। আমি ইচ্ছা করে মরতে চাই নাই। আমাকে মরতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, আমাকে বাঁচতে দিলো না। আমি তোমাদের কথা না শুনে, এমনি একজনকে বিশ্বাস করে ভুল করেছি। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র নীরব দায়ী। বরাদয়দহ দক্ষিণ পাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে নীরব। আমাকে ভয় দেখিয়েছিলো।

    আমি যদি ওর কথা মতো না চলি, আমার ভিডিও সবার কাছে দিয়ে দেবে। আমি না করে দেওয়ায় ভিডিও অন্য একজনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাই আমার এ পথ ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। আমার মৃত্যুর পেছনে যে আছে, আমি তার কঠিন শাস্তি চাই আব্বু। তুমি ওকে ছেড়ে দিও না। আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। আব্বু দোয়া কইরো আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করে দেয়।’ এর আগে গত শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে আন্নিশা আক্তার মুনিয়া খাতুন। সে ওই এলাকার শিক্ষক রইস উদ্দিনের মেয়ে এবং চান্দাইকোনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    ঘটনার পর স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়। পরে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো পায়নি। শুনেছি আজ একটি মানববন্ধন হয়েছে। পরিবার এখনো মামলা করেনি। পরিবার যদি মামলা করে, অবশ্যই আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো। চিরকুট আমাদের কাছেও আছে।

  • পে-স্কেল: শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে যা বলছে মন্ত্রণালয়

    পে-স্কেল: শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে যা বলছে মন্ত্রণালয়

    নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে করা পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। প্রথম ধাপে আসন্ন জুলাই থেকে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি পাবে। প্রশ্ন উঠেছে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পাবে কিনা সেটি নিয়ে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনও বৃদ্ধি পাবে। যদিও সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনুদান দেয়; তবুও তাদের বেতনও বৃদ্ধি পাবে। সেভাবেই অর্থ বরাদ্দের পথে হাঁটছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    নিজ আসনেও বিপুল ভোটে হারলেন মমতানিজ আসনেও বিপুল ভোটে হারলেন মমতা
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নবম পে-স্কেলের সুবিধা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও পাবেন। বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের পুরো বেতন সরকার না দিলেও একটি অংশ সরকারের পক্ষ থেকে পেয়ে থাকেন। এর ফলে পে-স্কেলের সুযোগ-সুবিধা তারাও পাবেন।

    সোমবার (৪ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ধাপে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এই ৫০ শতাংশ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী হবে না। কমিশন মূল বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছে সেটির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ করার পর যে অর্থ হয়, সেই অর্থের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সূত্রটি।

  • ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, বর্ণনায় উঠে এলো ভয়াবহ তথ্য

    ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, বর্ণনায় উঠে এলো ভয়াবহ তথ্য

    ‘মসজিদের বারান্দায় দুইজনকে ডেকে কোলে নিয়ে বলতো- এটা আমার আম্মু, ওটা আমার বউ। হুজুর মাঝখানে বসতো আর আমাদের দুইপাশে বসাইতো। আর বলতো- এটা আমার আম্মু, ওটা আমার বউ। কাকে বউ বলছে ওটা ঠিক মনে নেই। আগে শুধু টাকা দিত, আদর করত, আম্মু আম্মু বলে ডাকত। গায়ে হাত দিয়ে বলতো এগুলো আদর। নিজের কোলে বসাইতো তারপর বলতো এগুলো আদর। ওই মসজিদের বারান্দায় কোলে বসিয়ে রাখতো। টাকা দিয়ে বলতো- এগুলো দিয়ে মজা খেতে। আমি বলতাম লাগবে না, জোর করে দিত। কখনো ১০০ টাকা, ৫০ টাকা বা ২০ টাকা দিত। আর মাঝে মাঝে বলতো- কিছু লাগলে ওনার কাছে বলতে।’

    এভাবেই বিকৃত যৌনাচারের বলি হওয়া ১২ বছরের শিশুটি তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানায় ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদকের কাছে। ধর্ষণের শিকার শিশুটি এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শারীরিক জটিলতায় বর্তমানে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় মেয়েটির মা আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। মামলা দায়ের করার ১১ দিন হলেও এখনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে মামলার দ্বিতীয় আসামি মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তিনি সম্পর্কে আসামির আপন ভাই। ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কখনো মসজিদের বারান্দায় কোলে বসিয়ে, কখনো মাদরাসার রুমে আটকে রেখে চলেছে এই নিষ্ঠুরতা। শিশুটি যখন চিৎকার করার চেষ্টা করেছে, তখন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক তার মুখ চেপে ধরেছে। এমনকি মামার কাছে বিচার দেওয়ার কথা বলে ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই নির্যাতন আড়াল করে রাখা হয়েছে। তবে এ ঘটনার শিকার শুধু এই একটি শিশুই নয়, তার সহপাঠী তানিয়াও (ছদ্মনাম) একইভাবে এই লালসার শিকার হয়েছে বলে শিশুটি জানায়। শিক্ষক যখন এমন ভক্ষক হয়ে দাঁড়ায়, তখন আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সোমবার (৪ মে) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বড়বাড়ী ভগবৎপুর এলাকায় ২০২২ সালে হযরত ফাতেমাতুজ জোহরা (র.) কওমি মহিলা মাদরাসাটি স্থাপিত হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর তখন মাদরাসা পরিচালক ও শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পাশাপাশি তিনি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করতেন। ওই মসজিদ ও মাদরাসার মাঝে শুধু ৫-৬ ফুট প্রস্থের একটি পায়ে হাঁটা পথ রয়েছে। এ পথটিই মসজিদ ও মাদরাসার মাঝের ব্যবধান। যা সাধারণত এলাকার মানুষের চোখে পড়ে না।

    মাদরাসা অঙ্গণ

    স্থানীয় মসজিদের বারান্দার উত্তর পার্শ্বে ছোট টিনের বেড়া দেওয়া একটি কামরা রয়েছে যেটি মসজিদের ইমামের বসবাসের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওই রুমেই এই শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে জানা গেছে। শিশুটি তার বর্ণনায় বলে, ‘এখান (বাড়ি) থাইকা গেলে তারপরে আমাদের মাদরাসায় সারাক্ষণ পড়ায়। তারপরে ১টা বাজে টিফিন খাওয়ার সময় দেয়। টিফিন খাই এরপর আমাদের ২টা বা ৩টার দিকে ছুটি দেয়। ছুটি হইলে তারপরে আমাকে সবার আগে বলে- মসজিদে মানুষ নামাজ পড়বে, মসজিদটা ঝাড়ু দিয়া যাইতে। তারপরে ঝাড়ু দিতে গেলে বলে- আমার বিছানাটাও একটু ঝাড়ু দিয়া দেও। তারপরে রুম ঝাড়ু দিতে গেলে দরজাটা লাগায় ফালায়। আমারে যে সময় ধরছে ওই সময় আমি চিৎকার চেঁচামেচি করছি। কিন্তু আমার মুখের মধ্যে ধরছিল। উনি একদিন ধরছে মাদরাসায় আর একদিন মসজিদের বারান্দায়।’ মাদরাসাটিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনের স্থাপনা। যা চতুর্দিক থেকে টিনের বেষ্টনী দিয়ে রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে ভেতরের কিছুই দেখা যায় না। গেট দিয়ে ঢোকার পর ডান পাশে একটি ছোট কামরা। যেটি দিয়ে ঢুকে দুইটি দরজা পার হলেই হুজুরের বিশ্রামের জায়গাটি চোখে পড়ে। ছোট দুইটি রুম যেগুলোর আয়তন ১০ ফুট বাই ১৫ ফুট হতে পারে। বড় রুমটি ১৫ ফুট বাই ৩০ ফুট হতে পারে। তবে ক্লাসরুমের ভেতরে পাশের রুমে সঙ্গে সংযোগের জন্য আলাদা দরজা রয়েছে। মাদরাসায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিশ্রামাগার শিশুটি আরও জানায়, প্রথম ধর্ষণের ২-৩ দিন পর তাকে পর্যায়ক্রমে ৩ থেকে ৪ বার ধর্ষণ করা হয়।

    শিশুটির ভাষ্যমতে, ‘মসজিদের রুমের মধ্যেও আবার মাদরাসায়ও সে খারাপ কাজ করছে। আরও ভয় দেখাইছে, কাউরে বলিস না। আমার মামারে তো আমি ভয় পাই- উনি জানে। বাড়িতে মানে আমার মামার কাছে বললে তো আমারে মারবে। তারপরে আবার হুজুরও মারবে বলে ভয় দেখাইছে। তানিয়ার সঙ্গে এরকম কয়বার করছে, ওইটা ও বলত আমার কাছে। পরে ওরা ঢাকা গেছে গা।’ শিশুটির মা বলেছেন, ‘আমি তো বাড়িতে থাকি না। আমার মেয়ে থাকতো আমার মা-বাবার কাছে। মাদরাসায় দিছি ভালোর লাইগা, পড়ার জন্য। কিন্তু ওই হুজুরে এইরকম করল আমার মেয়ের সঙ্গে। ছোট মানুষ বুঝে না, হ্যার লগে এই কামডা করছে।’ শিশুটিকে নিয়ে তার পরিবার মদন ‍উপজেলার হাসপাতাল রোডে অবস্থিত স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের চেম্বারে যান। সেখানেই অন্তঃসত্ত্বা বিষয়টি তারা নিশ্চিত হন। তবে উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আরও উদ্বেগজনক তথ্য জানান। ডা. সায়মা বলেন, অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির গর্ভে থাকা শিশুর বয়স প্রায় ২৭ সপ্তাহের বেশি (প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস)। শিশুটির বয়স ১২ বছর, উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম এবং ওজন মাত্র ২৯ কেজি। শিশুটির সরু কোমরের তুলনায় গর্ভস্থ বাচ্চার মাথার মাপ অনেক বেশি। এটি বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    শিশুটির মা আরও বলেন, ‘ওর পড়াশুনা চলার সময় আমার সঙ্গে কিছুদিন সিলেটে ছিল। তখন ওই হুজুর মাঝে মাঝে ফোন দিত। দিয়ে জানতে চাইতেন- আমার মেয়ে কেমন আছে। আমি কয়েকদিন পরে বাড়িতে আসি, তো আসার পরে ওর কাছে শুইলে আমি দেখলাম, ওর পেটটা একটু বড়। তারপরও আমি এসব ভাবি নাই। ভাবছি, ছোট মানুষের লগে আর কেউ করব এই কাম! তো আমি ডাক্তারের কাছে গেলাম, ডাক্তার কইল ছয় মাসের প্রেগন্যান্ট। পরে আমার মেয়েরে চাপ দিছি। বলি- এই ঘটনা কার লগে করছস? কয়- আমার লগে সাগর হুজুর এমন করছে। সাগর হুজুর কিন্তু ওই দিন থেকেই ভাগছে যেদিন আমি সিলেট থেকে এলাকায় আসছি। ওই দিন থেকেই সাগর হুজুর পলাতক। তো ওর ভাই মামুন মিয়ারে বললাম, ওর ভাই বলে আমরা এইডা সমাধান কইরা ফেলি। যেটা হইছে, হইছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতে চাইলাম কীভাবে সমাধান করবেন? তিনি বললেন- টাকা পয়সা দিয়ে সমাধান করব? আমি বললাম- আমার লোকজনদের সঙ্গে বসে তারপর বুঝব। কিন্তু তারা লোকজন নিয়ে সমাধান করতে বসতে রাজি না। তারা গোপনে সমাধান করতে চায়। তখন আমি বললাম- আমি গোপন সমাধান করতে চাই না। তারপরে গিয়ে আমি মামলা করলাম।’

    তদন্তে ঘটনাস্থলে পুলিশ এ ঘটনায় স্থানীয়রা বলছেন, এতে আমাদের এলাকারও বদনাম হয়েছে। বিশেষ করে ওই হুজুর স্থানীয় মসজিদের ইমাম থাকায় বিষয়টি আরও আলোচনায় উঠেছে। ঘটনার পর মামলা দায়ের এর আগে থেকেই পলাতক রয়েছেন মামলার আসামি আমান উল্লাহ সাগর। বাড়িতে গিয়ে তার মাকে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিও আপনাদের মতো মানুষের মুখে মুখে শুনছি। আমার সঙ্গে কোনো ধরনের কথা হয় নাই। আমি মা, যদি আমার পুত সত্য থাকে তাহলে আইবো। আর যদি অসত্য থাকে, তাহলে আল্লাহ কোনো জায়গায় নিয়া বিচার করুক। মানুষ বিচার করুক। আমার আর এই পুতেরে নিয়া কোনো দাবি নাই।

    এদিকে ঘটনা জানাজানির পর অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর পলাতক থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যেখানে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এসবের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত না। এর আগে সে ঢাকায় তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ছিল। তার বর্তমান বাবা কিন্তু তার সৎ বাবা। এই মেয়ের চলাফেরা সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। সে হিজাব পরত না, বোরকা পরত না। আমরা যখন জানতে চাইলাম তুমি এভাবে চলাফেরা কেন কর জানতে পারি- মেয়েটা তার নানার সঙ্গে রাতে ঘুমায়। সে কিন্তু মাদরাসায় আসতে চায়নি। মেয়েটি জানিয়েছিল, তার নানা তাকে জোর করে মাদরাসায় দিয়েছে। মেয়েটার মাকেও আমরা বলেছি যে, আপনার মেয়েকে আমরা কন্ট্রোল করতে পারছি না। তার মা মেয়েকে ঠিক না করে বলল, মেয়েকে অন্যখানে নিয়ে যাব। তারপর মেয়েকে নিয়ে সিলেটে চলে যায়। সেখান থেকে এসে বলে এই অবস্থা। আমি শোনার পর থেকে সহ্য করতে পারছি না। আমারও পরিবার আছে। আমি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল। আপনারা তদন্ত করে দেখেন। অপরাধীকে শাস্তি দেন। আমি আপনাদের কাছে শুধু এই কথাগুলো বলব যে, আল্লাহ তাআলার বিচারের ওপরে যদি শ্রদ্ধাশীল থাকেন, এই বিশ্বাস করেন, তাহলে আমাকে নিয়ে আর এরকম কাজ করবেন না। আপনারা সঠিক তদন্ত করে সঠিক অপরাধী খুঁজে বের করুন। আমি আপনাদের সামনে আর কথা বলতে পারতেছি না। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক বলেন, এমন ঘটনায় আমরা যারা হাফেজ এবং মাওলানা রয়েছি তারা এখন বাইরে গেলে, অনেকে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করছে। যেগুলো শুনতে অবশ্যই আমাদের ভালো লাগে না। একজনের কারণে এভাবে সবাইকে দোষারোপ করা উচিত নয়। যে দোষী তার শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা কখনো এ ধরনের কাজকে সমর্থন করি না। স্থানীয় সুতিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, ১৫ বছর ধরে এই স্কুলের শিক্ষকতা করছি। আমার স্কুলেই পাক-প্রাথমিকে ছাত্রী ছিল এই শিশুটি। এমন ঘটনা শুনে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা হয়েছে এটি মেনে নিতে পারছি না।

    কাইটাইল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোহেল রানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মেয়েটি শুরু থেকে একজনের নামেই অভিযোগ করে আসছে। এখন পর্যন্ত সে অন্য কারোর নাম মুখে আনেনি। যদি ওই হুজুর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকেন তাহলে এলাকাবাসীর মতো আমিও চাই আইনের মাধ্যমে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। একটি ভিডিওতে দেখলাম সাগর শিশুটির নানার দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে। যেটি আসলে গ্রহণযোগ্য না। কারণ তার সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আমরা এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তোভোগী শিশুর মা থানায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মামলা রুজু করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে আসামি ধরার জন্য আমরা মাঠে নেমেছি। এখনো আসামি ধরতে পারিনি। কারণ ২৩ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলা হওয়ার আগে থেকেই আসামি পলাতক। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। এই মামলার সংক্রান্ত বিষয়ে ভুক্তভোগীকে কেউ যদি হুমকি দেয় আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

    প্রসঙ্গত, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমাতুজ জোহরা (র.) মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদরাসায় তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন তাদের ছেড়ে নিরুদ্দেশ রয়েছেন। মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানা-নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

    সূত্র : ঢাকা পোস্ট

  • মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভিডিও বার্তায় যা বললেন অভিযুক্ত শিক্ষক

    মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভিডিও বার্তায় যা বললেন অভিযুক্ত শিক্ষক

    নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

    ​মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা পরিবার ত্যাগ করার পর তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মাদরাসার পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর তাকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

    ​সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, তিনি এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন এবং এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। মেয়েটি অনিয়মিতভাবে মাদরাসায় আসত এবং তার আচরণ ও চলাফেরা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। মেয়েটি তার নানার সাথে থাকত এবং দীর্ঘ পাঁচ-ছয় মাস আগে মাদরাসা ছেড়ে চলে যায়। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করতে তিনি ডিএনএ টেস্ট ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

    ​শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার। তিনি জানান, শিশুটি বর্তমানে প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে, যা তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

    মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী সব ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

  • সারাদেশে কতদিন থাকবে ঝড়-বৃষ্টি, জানালো আবহাওয়া অফিস

    সারাদেশে কতদিন থাকবে ঝড়-বৃষ্টি, জানালো আবহাওয়া অফিস

    আগামী পাঁচ দিন দেশের আট বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

    এতে আরো বলা হয়েছে, সাগরে লঘুচাপ বিরাজ করছে এবং এই লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

    এর প্রভাবে মঙ্গলবার রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া, বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।Geographic Reference

  • পুলিশে ডিআইজি-এসপি পদে বড় রদবদল

    পুলিশে ডিআইজি-এসপি পদে বড় রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৩৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারিকৃত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের আদেশ দেওয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার (ডিআইজি) মো. জিললুর রহমানকে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে আরএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এসবির ডিআইজি মোহা. ফয়েজুল কবির।

    এছাড়া, ডিআইজি মো. মোশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদপ্তরে এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামকে টুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়েছে। ডিআইজি মো. আশিক সাঈদকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে সিআইডির মো. আবুল বাশার তালুকদারকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এবং ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সানা শামীনুর রহমানকে সিআইডিতে পদায়ন করা হয়েছে।

    পুলিশের জেলা পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল ইসলামকে নৌ-পুলিশে বদলি করা হয়েছে এবং তার স্থলে এপিবিএন-২- এর এসপি মো. মিজানুর রহমানকে পঞ্চগড়ের নতুন এসপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাটের এসপি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রেলওয়ে পুলিশের শাহনাজ বেগম ।

    পাবনা জেলার এসপি মো. আনোয়ার জাহিদকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করে তার স্থলে জনাব মো. মফিজ উদ্দিনকে পাবনার এসপি করা হয়েছে । এছাড়া নীলফামারী, নড়াইল, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর, ঝালকাঠি এবং ফেনী জেলাতেও নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিএমপি ও কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার পদের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • পেনশনধারীদের জন্য বড় সুখবর

    পেনশনধারীদের জন্য বড় সুখবর

    দীর্ঘ এক দশক পর দেশে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এতে উপকৃত হওয়া ছাড়াও এতে পেনশনভোগীদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের ভাতা ও মাসিক পেনশনে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

    জানা গেছে, যাদের বর্তমান মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, পে-স্কেল অনুযায়ী তাদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হতে পারে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য এই বৃদ্ধি প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

    এছাড়া নতুন এ পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের জন্য নতুন করে চিকিৎসা ভাতা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের নিচে বয়সীদের জন্য ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

    বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত পুনর্গঠিত পে-স্কেল কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

  • সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি

    সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি

    সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এতে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে বিমানে বিদেশ ভ্রমণকালে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১।

    আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্ব-শাসিত, সংবিধিবদ্ধ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব বা সমপর্যায়ের সব কর্মকর্তা এই নির্দেশের আওতায় পড়বেন।

    এর আগে, ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগ জারি করা অফিস স্মারকের অনুচ্ছেদ ২১(খ)-এ সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকালে বৈদেশিক মুদ্রায় দৈনিক ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিধান ছিল। নতুন এই আদেশে সেই বিধানের পরিবর্তন এনে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    পরবর্তী কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে জানিয়ে এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের উপসচিব র. হ. ম. আলাওল কবির আদেশটিতে স্বাক্ষর করেছেন।

  • নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত ধরা হয়েছে?

    নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত ধরা হয়েছে?

    সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়।

    তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বর্তমান ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজন হতে পারে আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

    বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও বেতন কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।

    তিনটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য বিএনপি সরকার গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এ কমিটিই তিন ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করবে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। তবে গ্রেড রাখা হয়েছে আগের মতো ২০টি। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮, যা আগে ছিল ১:৯ দশমিক ৪। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য ২০ ধাপের বাইরে আলাদা ধাপ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়ে পরে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হবে।

  • দুই বোন একে অপরের স্বামীর সঙ্গে থাকতে চান, আদালতে চাঞ্চল্য

    দুই বোন একে অপরের স্বামীর সঙ্গে থাকতে চান, আদালতে চাঞ্চল্য

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্টের গ্বালিয়র বেঞ্চে এক অস্বাভাবিক পারিবারিক ঘটনা ঘিরে আদালতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুই সহোদর বোন একে অপরের স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তারা আদালতের কাছে নিজেদের স্বামী পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছেন।

    ঘটনার সূত্রপাত একটি হেবিয়াস কর্পাস আবেদনের মাধ্যমে। দতিয়ার এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ও কন্যাকে তার ভায়রাভাই অপহরণ করেছেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেয় অভিযুক্তসহ সংশ্লিষ্টদের হাজির করতে।

    পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে ‘অপহৃতা’ হিসেবে উল্লেখিত নারী জানান, তিনি স্বেচ্ছায় বোনের স্বামীর কাছে গেছেন এবং তার সঙ্গেই থাকতে চান। তিনি আরও বলেন, নিজের স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয় এবং ইতোমধ্যে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের জন্য মামলাও করেছেন।

    অন্যদিকে, অপর বোন আদালতে জানান, তিনিও নিজের স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে অনিচ্ছুক এবং বোনের স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান। এ সময় দুই বোনই পারস্পরিক সম্মতিতে একে অপরের স্বামী বদল করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

    মামলার শুনানিতে বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এটি অপহরণের বিষয় নয়, বরং পারিবারিক বিরোধ। আদালত আরও জানান, তারা চাইলে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

    শেষ পর্যন্ত হেবিয়াস কর্পাস আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।