Category: সারাদেশ

  • নতুন পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট, গ্রেডভেদে যে হারে বাড়বে বেতন

    নতুন পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট, গ্রেডভেদে যে হারে বাড়বে বেতন

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের প্রক্রিয়া গত ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। তবে এ-সংক্রান্ত গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। এরই মধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রাথমিক খসড়ায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানের মতো সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে এবার গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই গেজেট জারি করা হবে।

    প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর রয়েছে।

    সরকারি সূত্র জানায়, নতুন ইনক্রিমেন্ট কাঠামো প্রণয়নের আগে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন।

    জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি হওয়া উচিত। একইসঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার তুলনামূলক বেশি হওয়া প্রয়োজন।

    এদিকে জাতীয় বেতন কমিশন চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করলেও তা কমিয়ে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইভাবে সন্তানদের শিক্ষা ভাতাও কমিশনের প্রস্তাবিত ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলে মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কয়েকটি ভাতার হার কিছুটা কমানো হচ্ছে। তবে বর্তমানের তুলনায় সব ধরনের ভাতাই বাড়বে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে শুধু নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সরকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বিভিন্ন ভাতাসহ তার মোট প্রাপ্তি প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন পে স্কেলে ওই গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে ভাতাসহ মোট প্রাপ্তি বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

    একইভাবে ১৯তম থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই বেতন ও ভাতা বাড়বে। তবে বেতন কাঠামোয় ভারসাম্য বজায় রাখতে উচ্চ গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতাসহ কয়েকটি ভাতা বর্তমানে মূলত ১০ম বা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরাই পান। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নতুন ভাতা কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।

  • মোটরসাইকেলে সিসিভেদে বছরে যত টাকা কর দেওয়া লাগবে

    মোটরসাইকেলে সিসিভেদে বছরে যত টাকা কর দেওয়া লাগবে

    সারা দেশে চলাচলকারী মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে কর দুই হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে।

    এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রাইভেটকার, জিপ ও সিএনজি অটোরিকশার মতো ব্যাটারিচালিত রিকশার পাশাপাশি সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপরও দুই হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে কর দুই হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সবশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০।

    যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সড়ক আইনে মোটরসাইকেল বৈধ বাহন। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যানবাহনের মতো এই বাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ যুক্তিযুক্ত, তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতে করজালের কলেবর বাড়বে। যারা কর দিচ্ছে, তাদের ওপর চাপ কমবে।

    তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় অগ্রিম আয়কর আরোপের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কৌশলী হওয়া উচিত। কেননা এরই মধ্যে রাজধানীর সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত এসব স্বল্পগতির বাহন চলাচল করছে। এগুলোর কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। যার আর্থিক ক্ষতি হয়তো অগ্রিম আয়কর আরোপে সরকার যে রাজস্ব আদায় করবে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হবে। এ অবস্থায় অগ্রিম আয়কর আরোপের আগে অটোরিকশার সংখ্যা ও সড়কের সঙ্গে মানানসই বাহন নির্ধারণ জরুরি।

    জানা যায়, বর্তমানে মোটরসাইকেল চালকদের অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। শুধু এককালীন নিবন্ধন ফি ও ২ বছর পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি এক হাজার ১৫০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট চার হাজার ৬০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। ১২৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি ২,৩০০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট ৯ হাজার ২০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়।

    বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, গাড়ির মালিকদের প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় নির্দিষ্ট হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়, যা বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় মূল করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। একইভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল মালিকরা অগ্রিম আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবেন।

  • ভিসা আবেদনকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

    ভিসা আবেদনকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

    বিদেশে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট ও বিনিয়োগসংক্রান্ত নথিতে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কিউআর কোড যুক্ত করতে হবে। নথি যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করতে এ নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    মঙ্গলবার (১২ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে।

    সার্কুলারে বলা হয়, বিদেশি দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন ব্যাংক নথি জমা দিতে হয়। তবে এসব নথি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ভিসা প্রক্রিয়ায় সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি ডিজিটালভাবে দ্রুত যাচাইয়ের সুবিধা চালু করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কিউআর কোড স্ক্যান করলে গ্রাহকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখা যাবে। এর মধ্যে থাকবে-

    এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তথ্য অন্তত ছয় মাস সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা যাচাইযোগ্য অবস্থায় রাখতে হবে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    সাজু/নিএ

  • পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল কাতার

    পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল কাতার

    জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে কাতার। দেশটির ক্যালেন্ডার হাউসের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে (বুধবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কাতার নিউজ এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খালেজ টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার ক্যালেন্ডার হাউসের নির্বাহী পরিচালক ড. ফয়সাল আল-আনসারি জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মে (সোমবার) ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাস শুরু হবে। সেই হিসেবে ২৭ মে ঈদুল আজহার প্রথম দিন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন চাঁদ ১৬ মে (শনিবার) সন্ধ্যায় জন্ম নিলেও সূর্যাস্তের আগে তা দেখা যাবে না। দোহা সময় রাত ১১টা ২ মিনিটে চাঁদের জন্ম হবে, যা সূর্যাস্তের অনেক পরে হওয়ায় ওই দিন আরব বা ইসলামী কোনো দেশে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।

    এ কারণে ১৮ মে সোমবারকে জিলহজ মাসের প্রথম দিন ধরা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ২৭ মে বুধবার কোরবানির ঈদ হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
    তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব প্রকাশ করা হলেও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণত চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়।

  • ব্যাংকে না গিয়েই মিলবে ঋণ, চালু হচ্ছে ৫০ হাজার টাকার ই-লোন

    ব্যাংকে না গিয়েই মিলবে ঋণ, চালু হচ্ছে ৫০ হাজার টাকার ই-লোন

    দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

    সোমবার (১১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ এবং গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে। নতুন এ ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন এবং এর মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস।

    এতে আরও বলা হয়, ই-ঋণের সুদের হার ব্যাংক বাজারভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নেওয়া হলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ।

    ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধসহ পুরো কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে হবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধা পাবেন না বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল কিংবা আগাম ঋণ পরিশোধ ফিসহ সব তথ্য গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

    সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ই-লোন কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এ সেবা চালু করতে হবে।

  • আজ ঢাকার অবস্থা ভয়াবহ খারাপ!

    আজ ঢাকার অবস্থা ভয়াবহ খারাপ!

    বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে উঠে এসেছে ভারতের দিল্লি। তবে দূষণ মাত্রার দিক থেকে তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। রবিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

    তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা দিল্লির বায়ুর মানের স্কোর হচ্ছে ২১২ অর্থাৎ সেখানকার বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

    একই স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে পাকিস্তানের লাহোর। তালিকায় ২০১ স্কোরে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকার বাতাসও ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। এ ছাড়া চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা, যার স্কোর হচ্ছে ১৮৮ ও সেনেগালের ডাকার ১৮০ স্কোরে পঞ্চম অবস্থানে উঠে আসে। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

    ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

  • কখন চালু হচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা, যা জানা গেল

    কখন চালু হচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা, যা জানা গেল

    কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পুরোদমে ভিসা সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।পোশাক ডিজাইন

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য ঠিক করেছে।

    গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। তখন ঢাকার পক্ষ থেকে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা।

    বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগসহ সব ভিসা কেন্দ্র কার্যকর রয়েছে। এ অবস্থায় দিল্লির পক্ষ থেকেও দ্রুত একই ধরনের পদক্ষেপ চেয়েছে ঢাকা।

    এ প্রসঙ্গে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে আমাদের কিছু কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছিল, যা ফেব্রুয়ারিতে আবার চালু করা হয়েছে।’

    গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই প্রতিনিধিদলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও ছিলেন।

    ২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লি সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উভয় পক্ষে ভিসাপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লি অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি সংযোগসহ অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ দেবে। এমনকি আগামী সপ্তাহগুলোতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।Politics

    সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার (ইরান) যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানিসংকট দেখা দিলে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করেছে ভারত।

    নয়াদিল্লির সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত বছর উদ্ভূত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও তা কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে আবার শুরু করার চেষ্টা চলছে। একটি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা সেবা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

    শিগগিরই বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত দ্রুতই পুরোদমে ভিসা সেবা চালু করবে।

    নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি কার্যক্রম আবার শুরু হওয়ার পর গত দুই মাসে ভারতের নাগরিকদের ১৩ হাজারের বেশি ভিসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে সীমান্ত পারাপারের মতো ভিসাও রয়েছে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ভারতের নাগরিকেরা মূলত নয়াদিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাই থেকে ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসার জন্য বেশি আবেদন করেন। অন্যদিকে কলকাতা ও আগরতলার কনস্যুলার সেকশনে পারিবারিক কারণে আবেদনের বড় একটি অংশ জমা পড়ে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে আসা বিদেশি পর্যটকদের ২০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি। এর মধ্যে চিকিৎসা, ব্যবসা এবং বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি, যাঁদের প্রধান গন্তব্য পশ্চিমবঙ্গ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার মানুষ ভারতে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা সামান্য কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৫০ হাজারে।পোশাক ডিজাইন

    তবে ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে।

  • জানেন রড-সিমেন্টের দাম কমে কত হলো?

    জানেন রড-সিমেন্টের দাম কমে কত হলো?

    অবকাঠামো তথা নির্মাণ খাতের কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে রড–সিমেন্টসহ বিভিন্ন উপকরণের চাহিদা কমে গেছে। ফলে দেশের বাজারে এসব পণ্যের উৎপাদন ও দাম—দুটিই কমেছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, রডের দাম গত এক বছরে প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। ব্যবসায়ী ও উৎপাদকেরা বলছেন, নির্মাণ খাতের প্রধান উপকরণ রডের দাম গত বছর লাখ টাকা ছাড়িয়েছিল। এই বছরের আগস্টে সরকারের পটপরিবর্তনে পরপর অবকাঠামো খাতে ধীরগতি দেখা দেয়। তাতে কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হন উদ্যোক্তারা। রডের মতো চাহিদা কমছে নির্মাণের আরেক বড় উপকরণ সিমেন্টের। তাতে অবশ্য সিমেন্টের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, রড ও সিমেন্ট এখন যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে আর কমার সুযোগ নেই। কারণ, নতুন করে ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এবং বাড়তি সুদহারের কারণে উৎপাদন খরচ আরেক দফা বাড়বে। উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের নির্মাণ খাতে গত কয়েক বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল মূলত সরকারি প্রকল্পের ওপর ভর করে। নির্মাণসামগ্রীর মোট চাহিদার অন্তত ৬০ শতাংশ বিক্রি হতো সরকারি খাতে। কিন্তু দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। চলমান প্রকল্পগুলোতে স্থবিরতা শুরু হয়। এটিই চাহিদা কমার সবচেয়ে বড় কারণ।

    ইস্পাত খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অবশ্য বলছেন, মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে এখন চাহিদা সামান্য বেড়েছে। মূলত ব্যক্তি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর ভর করে এই চাহিদা বেড়েছে। তবে সব মিলিয়ে নির্মাণ খাতের জন্য এই মৌসুম ভালো যাচ্ছে না। জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) সভাপতি ও জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্মাণ উপকরণের চাহিদা সবচেয়ে বেশি কমেছে সরকারি ও আবাসন কোম্পানিগুলোর প্রকল্পে। ব্যক্তি খাতে চাহিদা সেভাবে প্রভাব পড়েনি। তবে বছরের শেষ দিকে এখন চাহিদা সামান্য বাড়লেও তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। রডের বাজারে বিএসআরএম, আবুল খায়ের, জিপিএইচ ও কেএসআরএম—এই চার কোম্পানির অংশীদারি সবচেয়ে বেশি। দেশের বাজারে চারটি কোম্পানির প্রতি টন রড বিক্রি হয় প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায়। এক সপ্তাহে টনপ্রতি এক হাজার টাকা বেড়ে এই দরে উন্নীত হয়েছে। এটি অবশ্য গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর বাইরে ঢাকার আনোয়ার ইস্পাত, চট্টগ্রামের মোস্তফা হাকিম গ্রুপের এইচঅ্যান্ডএম স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাতসহ বিভিন্ন কোম্পানির রডের দামও গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।

    শীর্ষস্থানীয় রড উৎপাদনকারী কোম্পানি বিএসআরএম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) তপন সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে রড বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে চলেছে। যেমন ডলারের দর ১২২ টাকা থেকে বেড়ে ১২৬–১২৭ টাকায় উন্নীত হয়েছে। আবার সুদের হারও বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় রডের দাম আর কমার সুযোগ নেই। চাহিদা কমায় রডের কাঁচামালের আমদানিতে প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করেছে। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে নির্মাণ মৌসুম শুরু হয়, যা চলে মার্চ–এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়কে বিবেচনায় রেখেই সাধারণত উদ্যোক্তারা কাঁচামাল আমদানি বাড়িয়ে দেন। কিন্তু এবার নির্মাণ মৌসুম শুরু হওয়ার পর চাহিদা পতনের কারণে এখন আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার কমছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমদানির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রডের কাঁচামাল আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ। এরপর প্রবৃদ্ধি কমে যায়।রডের মতো সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিও কমেছে। গত অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানি হয় প্রায় ৮১ লাখ টন। চলতি অর্থবছরে একই সময়ে আমদানি হয়েছে প্রায় ৭৪ লাখ টন। সে হিসাবে এক বছরে সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ৯ শতাংশ। জানতে চাইলে প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিরুল হক বলেন, ‘চাহিদা কমায় সিমেন্টের কাঁচামালের আমদানি কমছে। আমাদের ধারণা, সিমেন্টের চাহিদা কমার এই হার ১৫ শতাংশ হবে।’

  • চেক লেখার সময় এই কাজটি করলে সর্বস্বান্ত হতে পারেন

    চেক লেখার সময় এই কাজটি করলে সর্বস্বান্ত হতে পারেন

    টাকার লেনদেনের জন্য যে জিনিসটি সব থেকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য এবং নিরাপদ বলে মনে করা হয়, সেটি হল চেক। যতই নিরাপদ হোক, চেক সই করে কাউকে দেওয়ার সময়ে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। না হলে সেই চেক বাতিল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।
    যাকে টাকা দেবেন তার নাম চেক-এ লিখতে হয়। কিন্তু সেই নাম লেখার সময়েও খুব সাবধানতা বজায় রাখা উচিত। ধরুন অমিত রায় নামক কারোর নাম লিখলেন। নাম ও পদবীর মধ্যে বুঝে ফাঁকা জায়গা রাখুন। না হলে অমিতকে অমিতা বানিয়ে ফেলতে খুব একটা সমস্যা হবে না। এই ধরনের জালিয়াতি থেকে বাঁচতে, যাকে টাকা দিচ্ছেন তার নামের পাশে তার অ্যাকাউন্ট নম্বরটিও যুক্ত করে দিন।

    যাকে টাকা দেবেন তার নাম লেখা হলে, তার নামের পাশে একটি লাইন টেনে দিন।

    • ‘বেয়ারার চেক’ কাউকে দিলে অবশ্যই ‘বেয়ারার’ অপশনে টিক দিয়ে দিন। ধরুন আপনি কারোকে ‘বেয়ারার চেক’ দিচ্ছেন, যদি সেই চেক-এ যদি ‘বেয়ারার’ অপশনে টিক না দেন তা হলে ওই চেক থেকে যে কেউ টাকা তুলে নিতে পারবেন।

    • চেকের উপরে লিখে দিন এসি-পেয়ি। তা হলে যাকে চেক দিচ্ছেন, শুধু তার অ্যাকাউন্ট থেকেই ওই চেক ভাঙানো যাবে।

    • চেক-এর অ্যামাউন্ট বসানোর পরে অবশ্যই ‘/-‘ এই চিহ্ন দেবেন। তাতে কোনও ভাবেই অতিরিক্ত কোনও সংখ্যা বসিয়ে কেউ জালিয়াতি করতে পারবেন না। প্রতিটি সংখ্যার মধ্যে যেন কোনও ফাঁকা জায়গা না থাকে।

    • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ে যে স্বাক্ষর করছেন, সেই স্বাক্ষরটিই চেক দেওয়ার সময়ে করবেন। আপনি যদি কোনও কোম্পানির হয়ে টাকা দেন, তাহলে কোম্পানির সিলের ছাপ দিয়ে দিন।

    • চেক-এ যদি ভুল কিছু লিখে থাকেন, তাহলে সেই ভুল লেখার উপরে বা নিচে স্বাক্ষর করে দিন।

  • ‘যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’ নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউট

    ‘যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’ নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউট

    জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করে সোজা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

     

    রোববার (১০ মে) নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    এসময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে- শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনে এমন নির্দেশনার বিষয়টি উঠে আসে।’

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। সবচেয়ে আবেগের জায়গা হচ্ছে ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডে আবেগাপ্লুত হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ।’

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের এ মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি, ইন্ডিভিজুয়াল রেসপন্সিবিলিটি ও টার্গেটেড কিলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৮ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।’