৪১ জনের চমকপ্রদ তালিকা! নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন?

ভোটযুদ্ধের পর্দা নেমেছে, এখন সামনে দেশ পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর বঙ্গভবন ও গুলশানজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অন্দরমহলে ঘুরে বেড়ানো সম্ভাব্য ৪১ সদস্যের তালিকায় যেমন অভিজ্ঞ ও দেশবরণ্য নেতাদের নাম রয়েছে, তেমনি জায়গা পেতে পারেন রাজপথে সক্রিয় তরুণ এবং প্রযুক্তি-সচেতন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও।

তালিকার শীর্ষে আছেন বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতৃত্বদানকারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় পরিচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। আইনি ও সাংবিধানিক বিষয় মোকাবিলায় মন্ত্রিসভায় অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদও থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

দীর্ঘ দেড় দশক রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাদের বড় দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে পারেন তারেক রহমান। এই তালিকায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ফিরে আসা সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দলের দুঃসময়ে সক্রিয় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নামও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতুল্লাহ বুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর নামও শোনা যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চমক আসতে পারে জোটের শরিক দল ও তরুণ নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তিতে। গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী এবং ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নাম তালিকায় রয়েছে। তরুণদের মধ্যে ইশরাক হোসেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও আবু আশফাকের মতো নেতাদেরও সম্ভাব্য নীতিনির্ধারক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা ও বিশেষজ্ঞ কোটায় আলোচনায় আছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

দলীয় সূত্র বলছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের লক্ষ্যে দীপেন দেওয়ান, সাচিং প্রু চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মতো নেতাদের রাখা হতে পারে, যা পাহাড় ও সমতলের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। নারীদের মধ্যে শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল ও তাহসিনা রুশদীর লুনার নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। পেশাজীবী কোটায় আলোচনায় আছেন চিকিৎসক নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে উল্লেখ্য, এই ৪১ সদস্যের তালিকাটি এখনো কেবল দলীয় অন্দরমহলের আলোচনা ও গুঞ্জনের পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান যদি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে এই তালিকা থেকে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, তবে সেটি হতে পারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন সবার চোখ বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে—শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব নিচ্ছেন, তা জানার অপেক্ষায় পুরো জাতি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *