ভোটের আগে কেন নির্বাচনী রিমাইন্ডার দিচ্ছে মেটা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ভোটের আগে একটি বিশেষ নোটিফিকেশন কার্ড দেখাচ্ছে ব্যবহারকারীদের। নীল-সাদা রঙের ওই কার্ডে বড় অক্ষরে লেখা, ‘গেট রেডি টু ভোট ইন বাংলাদেশ’। নিচে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ ছবিটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফেসবুকের এই কার্ডে মূলত চারটি তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, এটি একটি নির্বাচন সংক্রান্ত রিমাইন্ডার। দ্বিতীয়ত, এতে নির্বাচনের তারিখ উল্লেখ আছে। তৃতীয়ত, ব্যবহারকারীকে অফিসিয়াল তথ্য দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আর চতুর্থত, নিচে একটি সংখ্যা ‘৫৪৯৮৫’ দেখানো হয়েছে, যা অনেকের কৌতূহলের কারণ হয়েছে।

ফেসবুকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা কোনো ভোটার তালিকা বা সরকারি পরিসংখ্যান নয়। বরং এটি একটি এনগেজমেন্ট কাউন্ট, যা দিয়ে দেখানো হচ্ছে, কতজন মানুষ ইতোমধ্যে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

এই কার্ডটি কেন দেখাচ্ছে? ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার নীতিমালা থেকে এর উত্তর পাওয়া যায়। মেটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুসরণ করে থাকে। এর নাম ইলেকশন ইনফরমেশন সেন্টার বা নির্বাচন তথ্যকেন্দ্র। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নির্বাচনকে ঘিরে গুজব বা ভুয়া তথ্যের বিস্তার কমানো।

মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যবহারকারীর লোকেশন বা আইপি ঠিকানার ভিত্তিতে বোঝা যায় যে, তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন। যেহেতু বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন, তাই বাংলাদেশভিত্তিক ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নোটিফিকেশন দেখানো হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীর নাম উল্লেখ করা হলেও এটি কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়; বরং একটি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল বার্তা।

কার্ডটিতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীদের নিয়ে যাওয়া হয় ফেসবুকের ইলেকশন ইনফরমেশন সেন্টারে। সেখানে নির্বাচন কমিশন ও অনুমোদিত সরকারি সূত্র থেকে নেওয়া তথ্য দেখানো হয়। সাধারণত ভোটের তারিখ, ভোটার নিবন্ধন, ভোটার আইডি যাচাই এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ সংক্রান্ত প্রাথমিক নির্দেশনা সেখানে পাওয়া যায়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *