নির্বাচনের ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র নয় দিন বাকি থাকায় দেশজুড়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও নানা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে কয়েকটি এলাকায় প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন হওয়ার তিন দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎসবের আমেজ। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সরকার বরাবরের মতোই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যেই আবার আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যু।

সূত্র জানায়, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। মূলত গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলেও তখন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। এবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ত্যাগ করবেন। প্রথমে তারা জাপানে যাবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (বিজেপিএ) স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এরপর সেখান থেকেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সে দেশ থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এই সুবিধা মিললে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানিও বাড়বে।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নির্ধারিত তারিখ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হবে।

পাল্টা শুল্কের হার কত হতে পারে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে ২০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে একই হার কার্যকর আছে, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে আরও বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হলেও ৯ ফেব্রুয়ারির আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ ছাড়া এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

Jahan

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *