নতুন ‘আশার আলো’ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য

নতুন পে কমিশনের সুপারিশে বেতন বাড়ার আশায় দিন গুনছেন দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে নাভিশ্বাস ওঠা কর্মচারীদের জন্য এই ঘোষণা ‘আশার আলো’ হয়ে এলেও, এর বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পে কমিশনের মূল সুপারিশগুলো:

সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে:

* সর্বনিম্ন ধাপ: বর্তমান বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

* সর্বোচ্চ ধাপ: বর্তমান ৭৮ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

* অন্যান্য সুবিধা: বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশন ও বৈশাখি ভাতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

কর্মচারীদের প্রত্যাশা ও শঙ্কা:

অবসরপ্রান্তিক কর্মচারী জমির উদ্দিন শেখের মতো অনেকেই এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সন্তানদের পড়াশোনা আর সংসারের খরচ মেলাতে যারা হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি বড় অবলম্বন। তবে সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বেতন বাড়ার সাথে সাথে যদি বাড়িভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম পাল্লা দিয়ে বাড়ে, তবে এই বাড়তি আয়ের সুফল ভোগ করা সম্ভব হবে না।

সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি খাতের উদ্বেগ:

সরকারি বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় ভুগছেন বেসরকারি খাতের কর্মী ও সাধারণ মানুষ। দেশের ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেসরকারি খাতে হওয়ায়, সেখানে কোনো বেতন কাঠামো নিশ্চিত না করে কেবল সরকারি খাতে বেতন বাড়ানো জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও কঠিন করে তুলবে বলে তাদের ধারণা। তাদের দাবি, বেসরকারি খাতের জন্যও একটি ন্যূনতম মজুরি নীতিমালা থাকা জরুরি।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ:

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, রাজস্ব আদায় কম এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা থাকায় এই বিশাল ব্যয়ের চাপ সরাসরি বাজারের ওপর পড়তে পারে। বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এই বেতন বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকার ইতোমধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রেখেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কবে থেকে শুরু হবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সবাই।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *