দেশজুড়ে জরুরি নির্দেশনা জারি!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও এর বড় ধরণের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ বুধবার (৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয় যে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তবে পবিত্র রমজানে জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রণালয় থেকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার এবং সব ধরণের অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি পাচার রোধে এবং কালোবাজারে ডিজেল-পেট্রল বিক্রি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় জনগণের ধৈর্য ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।

আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জ্বালানি সরবরাহে সাময়িকভাবে কাটছাঁট বা সমন্বয় করা হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছুটা প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অসাধু চক্র যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য খোলাবাজারে ড্রাম বা বোতলে ডিজেল ও পেট্রল বিক্রি বন্ধ করতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি পাচার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশ প্রশাসনকে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। রমজানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমাতে অপ্রয়োজনীয় বাতি নেভানো এবং এসি ব্যবহারে পরিমিতিবোধ বজায় রাখার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান উৎসের পাশাপাশি নতুন ও বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বিপিসি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *