যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। তবে একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জীবিত দাবি করে কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, খামেনি সাহারা মরুভূমিতে অবস্থান করছেন—এমন দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে বলা হয়, তিনি এখনও জীবিত এবং সাহারায় অবস্থান করছেন।
ফ্যাক্ট-চেকিংয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ভাইরাল ছবিটি সাম্প্রতিক নয়; এটি ২০১৪ সালের একটি পুরোনো ছবি। বর্তমান ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ‘অপপ্রচার’ বা ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে কঠোর বার্তা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা, উত্তেজনা না বাড়ানো, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে আহ্বান জানাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, চীন ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা এবং ওই তেলের বড় অংশই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পণ্যও এই রুট ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর ফলে কয়েকটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানি সাময়িকভাবে এ পথে চলাচল স্থগিত করে।

Leave a Reply