খাবার খেলে অনেকে সহজে হজম করতে পারেন না। ঠিকমতো খাবার হজম না হওয়া সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস, অ্যাসিডিটি ভেবে গুরুত্ব দেন না। তবে এর পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এটি সাধারণ গ্যাসের সমস্যা নাও হতে পারে। এমন সমস্যা আইবিএস (IBS) এর ইঙ্গিত দেয়।
আইবিএস কী?
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, IBS (Irritable Bowel Syndrome) একটি ‘chronic functional gastrointestinal disorder’। এই সমস্যায় অন্ত্রের গঠন স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরে কিছু সমস্যা দেখা যায়। যার কারণে দেখা দেয় পেট ব্যথা, গ্যাস, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ।
চিকিৎসকদের মতে আইবিএস প্রাণঘাতী নয় এবং এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় না। কিন্তু দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে তা রোগীর দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থেকে আইবিএস হতে পারে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (NIDDK) অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১০–১৫ শতাংশ মানুষ আইবিএস এর উপসর্গে ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হলে সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকে।
কী কী খেলে আইবিএস নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
আইবিএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্লুটেন যুক্ত খাবার ( আটা, ময়দা যুক্ত), দুধের খাবার বাদ দিতে হবে। দই খেতে পারেন। গ্রিক ইয়োগার্ট খাওয়া ভালো। খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার, ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত খাবার। নন সুইট ফ্রুট যেমন পেয়ারা, আপেল, কলা লেবু খেতে পারেন। ড্রাই ফ্রুট (কাজু, চিনাবাদাম,খেজুর) না খাওয়াই ভালো।
আইবিএসের সমস্যা থাকলে তেল যুক্ত খাবার খাওয়া কমাতে হবে। উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খেতে হবে। সিম্পল কার্বোহাইড্রেট খেতে হবে। সব ধরনের শাক পাতা খেতে পারেন। ওটস খাওয়া যেতে পারে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে। তিন মাস বা ৬ মাস এইভাবে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন করলে অনেকের ক্ষেত্রে আইবিএস পুরোপুরি ঠিক হয়ে যায়।

Leave a Reply