দেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু; নতুন যে বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ

রাজপথ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সর্বত্রই এখন নির্বাচনী স্লোগানের গুঞ্জন। জুলাইয়ের রক্তঝরা অভ্যুত্থানের পর ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই জনপদে আবারও বেজে উঠেছে পরিবর্তনের সুর। উত্তপ্ত রাজপথ পেরিয়ে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। চারদিকে সাজ সাজ রব, প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে, আর সাধারণ মানুষের চোখে নতুন ভোরের প্রত্যাশা।

তবে এবারের নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নয়; আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজরদারিতেও রয়েছে ঢাকার রাজপথ। গণতন্ত্রের এই অগ্নিপরীক্ষায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারবে কি না—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বিশ্বমঞ্চে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বহুল আলোচিত জুলাই সনদে গণভোট। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

সম্প্রতি জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটির অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, জাতিসংঘ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। একই সঙ্গে তিনি নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই মত প্রকাশ করতে পারে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পান।

এই আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যেই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ে কমনওয়েলথ একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছে। ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদোর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের এই দলে রয়েছেন আইন, গণমাধ্যম ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। দলটি শুধু ভোটগ্রহণ নয়, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দিক মূল্যায়ন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই যাত্রায় এবারই প্রথম বড় পরিসরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথের সতর্ক নজরদারি মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়—বরং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মর্যাদার এক নতুন পরীক্ষা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *